সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য প্রস্তাবিত নবম পে স্কেলের সুপারিশ আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অর্থমন্ত্রীর সম্মতি পাওয়ার পর অর্থ বিভাগ প্রস্তাবটি মন্ত্রিসভায় পাঠাবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে সোমবার (৬ জুলাই) অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের এক বৈঠকে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।
বৈঠক সূত্র জানায়, আগামী মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রস্তাবটি তোলা সম্ভব না হলে পরের সপ্তাহের বৈঠকে তা উপস্থাপনের কথা বলা হয়েছে।
সভা সূত্রে জানা গেছে, নবম জাতীয় বেতন কমিশনের প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে সরকারের জন্য চূড়ান্ত সুপারিশ তৈরির লক্ষ্যে গঠিত কমিটি আগামী সপ্তাহে আরেকটি সভায় বসবে। এরপর সচিব কমিটির সুপারিশ পরের সপ্তাহে মন্ত্রিসভায় উঠবে। তবে মন্ত্রিসভা চাইলে সুপারিশে পরিবর্তন, সংযোজন, বিয়োজন করতে পারবে। অনুমোদন মিললে গেজেট জারির পর নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হবে।
চলতি মাসের ১ তারিখ থেকে সরকারি চাকরিজীবীদের নবম বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। তবে কিভাবে বাস্তবায়ন হবে নতুন বেতন কাঠামো সে বিষয়ে একাধিক বৈঠক করেছে ‘জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫’।
চলতি অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে মূল বেতন এবং আগামী অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে বিভিন্ন ভাতা কার্যকরের পক্ষে মত দিয়েছেন কমিটির সদস্যরা। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে মন্ত্রিসভা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বর্তমান সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীর ক্রয়ক্ষমতা বাড়ানো। সে কারণে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য তুলনামূলক বেশি বেতন রাখার সুপারিশ আসতে পারে। অন্যদিকে, প্রথম থেকে নবম গ্রেডের কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি থাকলেও তা কিছুটা সীমিত হতে পারে। অর্থ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রথম থেকে নবম গ্রেড পর্যন্ত বেতন বাড়তে পারে ৬০-৭০ শতাংশ, আর ১০ম থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত ৯০-১০০ শতাংশ।
শুরুতে তিন ধাপে বাস্তবায়নের একটি পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। সেই পরিকল্পনায় চলতি অর্থবছরে নতুন মূল বেতনের ৫০ শতাংশ, পরের অর্থবছরে বাকি ৫০ শতাংশ এবং তার পরের বছরে বিভিন্ন ভাতা কার্যকরের চিন্তা ছিল।
তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এভাবে আংশিক বাস্তবায়ন করলে কর্মচারীদের প্রত্যাশিত আর্থিক সুবিধা কমে যেতে পারে। বিদ্যমান ইনক্রিমেন্টসহ অনেক কর্মচারীর বেতন নির্ধারণে জটিলতা দেখা দেওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে নতুন কাঠামোর সঙ্গে পুরোনো সুবিধা সমন্বয় করতে গিয়ে মোট আয় কমে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
এ কারণে নতুন মূল বেতন একবারে কার্যকর এবং বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, যাতায়াতসহ বিভিন্ন ভাতা ২০২৭-২৮ অর্থবছরে পুনর্নির্ধারণের বিকল্পটি আলোচনায় এসেছে। এতে নবম পে স্কেল কার্যত দুই ধাপে বাস্তবায়িত হবে— প্রথম ধাপে মূল বেতন, দ্বিতীয় ধাপে ভাতা।
তবে বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত নয়। মন্ত্রিসভার অনুমোদন ও প্রজ্ঞাপন জারির পরই বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি জানা যাবে।
নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে সরকারের সবচেয়ে বড় কারিগরি কাজগুলোর একটি হলো ইন্টিগ্রেটেড বাজেট অ্যান্ড অ্যাকাউন্টিং সিস্টেম হালনাগাদ করা। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন পরিশোধ, ইনক্রিমেন্ট, বকেয়া এবং বিভিন্ন আর্থিক সুবিধার হিসাব এই ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হয়।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, ধাপে ধাপে মূল বেতন কার্যকর করা হলে সফটওয়্যারে বেতন নির্ধারণ, ইনক্রিমেন্ট সমন্বয়, বকেয়া হিসাব ও ভাতা নিরূপণে জটিলতা বাড়তে পারে। এ কারণেই মূল বেতন এক ধাপে কার্যকরের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।
তবে শুধু সফটওয়্যার হালনাগাদ করলেই হবে না। প্রতিটি কর্মচারীর বর্তমান বেতন, ইনক্রিমেন্ট, পদ, গ্রেড ও অন্যান্য সুবিধা বিবেচনায় নিয়ে নতুন বেতন নির্ধারণ করতে হবে। হিসাব অফিসগুলোতে সেই তথ্য যাচাই, ডেটা এন্ট্রি এবং বেতন বিল প্রস্তুতের কাজও শেষ করতে হবে। ফলে পে স্কেল ১ জুলাই থেকে কার্যকর ধরা হলেও বর্ধিত বেতন ব্যাংক হিসাবে পৌঁছাতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে।
বাংলাদেশ সচিবালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী সংযুক্ত পরিষদের সভাপতি নুরুল ইসলাম বলেন, ‘‘পে স্কেল কোন পর্যায়ে আছে, কিভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে, সে বিষয়ে গেজেট হওয়ার আগে মন্তব্য করা ঠিক হবে না।’’






