• ই-পেপার

প্রতিশোধের প্রশ্নে মা-ভাই একই উত্তর দিতেন : প্রধানমন্ত্রী

বায়ুদূষণের শীর্ষে দিল্লি, আজ ঢাকার বায়ু মাঝারি মানের

অনলাইন ডেস্ক
বায়ুদূষণের শীর্ষে দিল্লি, আজ ঢাকার বায়ু মাঝারি মানের

জলবায়ু পরিবর্তন ও বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের জন্য বিশ্বে দিন দিন বাড়ছে বায়ুদূষণ। সেই তালিকায় আজ শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে ভারতের দিল্লি। যার বায়ুমান স্কোর ২২৭। অর্থাৎ সেখানে বায়ু খুবই অস্বাস্থ্যকর। এরপরের অবস্থানে রয়েছে উগান্ডার রাজধানী কাম্পালা। যার বায়ুমান স্কোর ১৭২। অন্যদিকে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা রয়েছে ২৫ নম্বরে। যার বায়ুর মান ৭১। অর্থাৎ ঢাকার বায়ুর মান আজ মাঝারি মানের।

রবিবার (৫ জুলাই) সকালে বায়ুর মান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্সের (আইকিউএয়ার) সূচক থেকে জানা গেছে এসব তথ্য।

এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্সের (আইকিউএয়ার) সূচক থেকে জানা যায়, পাকিস্তানের লাহোর রয়েছে তালিকার ৩ নম্বরে। যার বায়ুমান স্কোর ১৬৭। অর্থাৎ লাহোরের বায়ুমান অস্বাস্থ্যকর। এরপরের অবস্থানে রয়েছে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর রাজধানী কিনশাসা, ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তা, ইথিওপিয়ার রাজধানী আদ্দিস আবাবা, ইসরায়েলের জেরুজালেম, ইরাকের বাগদাদ।

আইকিউ এয়ারের স্কোর শূন্য থেকে ৫০-এর মধ্যে থাকলে বায়ুর মান ভালো বলে বিবেচিত হয়। ৫১ থেকে ১০০ হলে মাঝারি বা সহনীয় ধরা হয় বায়ুর মান। সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর হিসেবে বিবেচিত হয় ১০১ থেকে ১৫০ স্কোর। অন্যদিকে, ১৫১ থেকে ২০০ পর্যন্ত অস্বাস্থ্যকর হিসেবে বিবেচিত হয়। স্কোর ২০১ থেকে ৩০০ হলে খুবই অস্বাস্থ্যকর বলে বিবেচনা করা হয়। এ ছাড়া ৩০১-এর বেশি হলে তা দুর্যোগপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়।

সেনাবাহিনীর সুনাম আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সুবিদিত : রাষ্ট্রপতি

অনলাইন ডেস্ক
সেনাবাহিনীর সুনাম আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সুবিদিত : রাষ্ট্রপতি
সংগৃহীত ছবি

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সুনাম সুবিদিত বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। তিনি বলেছেন, জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল নির্ধারণে সবার আগে ‘বাংলাদেশ নীতি’ ধারণ করা হচ্ছে এবং এর মধ্য দিয়েই দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আধুনিক ও শক্তিশালী হবে।

রবিবার (৫ জুলাই) ঢাকা সেনানিবাসে প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন।

মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, সরকার সশস্ত্র বাহিনীকে আধুনিক চতুর্মাত্রিক বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর। জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল নির্ধারণে সবার আগে বাংলাদেশ নীতি ধারণ করা হচ্ছে। এই নীতির মধ্য দিয়েই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আধুনিক ও শক্তিশালী হবে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, সেনাবাহিনীর সুনাম আজ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সুবিদিত। প্রেসিডেন্ট রেজিমেন্ট গার্ডও তার অবিচ্ছেদ্য অংশ।

তিনি বলেন, প্রচলিত নিরাপত্তা ঝুঁকির পাশাপাশি এখন সাইবার হামলা, এআইয়ের অপব্যবহার এবং বিভিন্ন ধরনের নিরাপত্তা হুমকির চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে। এসব মোকাবিলায় প্রযুক্তি সক্ষমতা বৃদ্ধি ও কার্যকর কৌশলের বিকল্প নেই। 

বটবাহিনী দেশের জন্য বড় হুমকি

অনলাইন ডেস্ক
বটবাহিনী দেশের জন্য বড় হুমকি

বাংলাদেশের জন্য এ মুহূর্তে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কী? এর উত্তরে অনেকেই বলবেন অর্থনৈতিক সংকট মোকাবেলা, কেউবা বলবেন আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি। কিন্তু আমাদের সবার অলক্ষ্যে একটি নতুন হুমকি দানা বাঁধছে। আমরা এ হুমকি অনুভব করছি প্রতি মুহূর্তে, নতুন এ আপদ আমাদের রাষ্ট্র, সমাজ এবং পারিবারিক জীবনকে করে তুলছে দুর্বিষহ, কিন্তু আমরা এ সংকট থেকে উত্তরণের পথ খুঁজতে পারছি না। আমরা মনে করছি এটাই নিয়তি। বলছি, সোশ্যাল মিডিয়ায় বটবাহিনীর কথা।

ইন্টারনেট ও স্মার্টফোনের সহজলভ্যতায় বাংলাদেশে গত এক দশকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এ ডিজিটাল দুনিয়া এখন শুধু মতপ্রকাশের ক্ষেত্রই নয়, রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার, জনমত নির্মাণ, বাণিজ্যযুদ্ধ-এমনকি চরিত্রহননের এক নতুন ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।

সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ দাবি করেছেন, দেশের সাইবার জগতের মোট ট্রাফিকের ৬০ থেকে ৭০ শতাংশই বট বা কৃত্রিম কার্যকলাপ।

তিনি বলেছেন, এ বাস্তবতা না বুঝে সাইবার বুলিং বা অনলাইন প্রতিক্রিয়া বিশ্লেষণ করলে ভুল সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর ঝুঁকি থেকেই যায়। সাম্প্রতিক সময়ের অনলাইন ট্রাফিক বিশ্লেষণের তথ্য তুলে ধরে রেহান আসিফ আসাদ বলেন, অনলাইনে মন্তব্য, প্রতিক্রিয়া ও ইন্টারঅ্যাকশনের বড় অংশই প্রকৃত ব্যবহারকারীর নয়। অর্গানিক বনাম নন-অর্গানিক ট্রাফিক আলাদা করতে না পারলে সমস্যার মূল জায়গা চিহ্নিত করা কঠিন।

এ বটবাহিনী এখন এতটাই শক্তিশালী যে, তারা রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আক্রমণ করছে। সরকারের গুরুত্বপূর্ণ এবং ভালো সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ভুয়া জনমত তৈরি করছে। যেকোনো স্বনামধন্য ব্যক্তির বিরুদ্ধে পরিকল্পিত মিথ্যা অপপ্রচার চালিয়ে তার ভাবমূর্তি নষ্ট করছে। নারীদের অবমাননা করে তাদের জীবন বিপন্ন করছে। এরা সংখ্যায় খুব বেশি নয়, কিন্তু তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার করে এরা তাদের পক্ষে একটা বায়বীয় অনুগত বাহিনী তৈরি করে, যারা জনগণ নয় বট বা রোবট।

বট আসলে কী?

বট শব্দটা এসেছে রোবট থেকে। এটি মূলত একটি সফটওয়্যার প্রোগ্রাম, যা ইন্টারনেটে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মানুষের মতো আচরণ করার জন্য তৈরি করা হয়। যখন কয়েক হাজার বা লক্ষাধিক ভুয়া প্রোফাইলকে একটি নির্দিষ্ট উদ্দেশে ব্যবহার করা হয়, তখন তাকে বলা হয় বট আর্মি বা বটবাহিনী। যেমন, নির্দিষ্ট কাউকে গালি দেওয়া, প্রোপাগান্ডা ছড়ানো বা কারো প্রশংসা করা।

এরা মূলত দুই ধরনের হয়। অটোমেটেড এবং হিউম্যান ট্রল আর্মি। অটোমেটেড বা স্বয়ংক্রিয় বটগুলো সম্পূর্ণ কম্পিউটারচালিত। কোনো নির্দিষ্ট কি-ওয়ার্ড দেখলেই এরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে কমেন্ট করে। যেমন আপনি যদি নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তি বা দেশের নাম লিখে পোস্ট করেন, তাহলে প্রোগ্রাম করা বটগুলো সঙ্গে সঙ্গে সেখানে এসে আগে থেকে সেট করা কমেন্ট পেস্ট করে দেবে। বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যুক্ত বটগুলো আরো ভয়ংকর। এরা শুধু কপি-পেস্ট না করে মানুষের মতো করেই প্রাসঙ্গিক ও আলাদা আলাদা কমেন্ট লিখতে পারে। আর হিউম্যান ট্রল আর্মি আসলে মানুষ, কিন্তু ভুয়া আইডি ব্যবহার করে। এদের টাকা দিয়ে বা রাজনৈতিক উদ্দেশে নিয়োগ দেওয়া হয়। একেকজন মানুষ ১০-২০টি আইডি নিয়ন্ত্রণ করে। আর নির্দেশ পাওয়ামাত্রই কোনো নির্দিষ্ট লিংকে গিয়ে দলবেঁধে আক্রমণ করে। প্রযুক্তিগতভাবে এরা বট না হলেও সাধারণ মানুষের কাছে এরা বটবাহিনী নামেই বেশি পরিচিত। বটবাহিনী সাধারণত তিনটি কৌশলে কাজ করে। প্রথমত, কোনো একটি ঘটনা ঘটার পর জনমত কোন দিকে যাবে, তা এরা নিয়ন্ত্রণ করতে চায়। শত শত পজিটিভ বা নেগেটিভ কমেন্ট করে এরা সাধারণ মানুষের চিন্তাভাবনাকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করে। দ্বিতীয়ত, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সম্মানহানি করতে এদের লেলিয়ে দেওয়া হয়। হাজার হাজার ভুয়া আইডি থেকে যখন একই ভাষায় গালি বা অপবাদ দেওয়া হয়, তখন সাধারণ মানুষ সেটাকে সত্যি বলে ভ্রম করতে পারে। তৃতীয়ত, কোনো পেজ বা আইডি বন্ধ করে দেওয়ার জন্য এরা একসঙ্গে হাজার হাজার রিপোর্ট মারে। ফলে ফেসবুক বা অন্য মাধ্যমের অ্যালগরিদম বিভ্রান্ত হয়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আইডিটি ব্লক করে দেয়। মেটা বা ফেসবুকের ভাষায় এ ধরনের কাজকে কোঅর্ডিনেটেড ইনঅথেনটিক বিহেভিয়ার বলা হয়।

কীভাবে বট চেনা যায়?

বট শনাক্ত করার কিছু পেশাদার উপায় আছে। যেমন, কোনো নিউজ বা পোস্ট পাবলিশ হওয়ার মাত্র ৫ সেকেন্ডের মধ্যেই যদি ১০০ বা তার বেশি কমেন্ট চলে আসে, তবে বুঝতে হবে এটি বটের কাজ। একজন রক্তমাংসের মানুষের পক্ষে এত দ্রুত পড়ে কমেন্ট করা অসম্ভব। আবার ১০-১৫ জন আলাদা মানুষের কমেন্ট হুবহু একই হলেও বুঝতে হবে তা বটের কাজ। এ ছাড়া বটদের আইডিতে সাধারণত কোনো ব্যক্তিগত জীবন বা আসল পরিচয় থাকে না। প্রোফাইল পিকচার হয় কোনো সেলিব্রিটির ছবি, ফুল বা পাখির ছবি। টাইমলাইনে নিজস্ব কোনো পোস্টের বদলে কেবল শেয়ার করা পোস্ট থাকে এবং আইডির ফলোয়ার বা ফ্রেন্ডলিস্টে অস্বাভাবিকতা দেখা যায়।

দেশের জন্য হুমকি—

বটবাহিনী গণতন্ত্রের জন্য এখন বড় হুমকি। এরা সত্যকে মিথ্যা এবং মিথ্যাকে সত্য হিসেবে প্রচার করতে পারে। সরকারের কোনো ভালো সিদ্ধান্ত এরা পরিকল্পিত ভাবে বিতর্কিত করতে পারে। সরকারের কোনো দায়িত্বশীল ব্যক্তির কথা এরা বিকৃত করে প্রচার করে তাকে জনগণের কাছে হেয় প্রতিপন্ন করতে পারে। কোনো রাজনৈতিক ঘটনা, আন্দোলন কিংবা সংবেদনশীল সংবাদ প্রকাশের পর মুহূর্তেই হাজার হাজার অভিন্ন মন্তব্য, একই ধরনের ভাষা ও একই সুরের প্রচারণা চোখে পড়ে। এতে সাধারণ ব্যবহারকারীদের অনেকেই মনে করেন, যেন পুরো সমাজ একটি নির্দিষ্ট মতের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। অথচ বাস্তবে এ জনমতের ঢেউয়ের বড় অংশই কৃত্রিম।

কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সম্মানহানি করতে এদের লেলিয়ে দেওয়া হয়। হাজার হাজার ভুয়া আইডি থেকে যখন একই ভাষায় গালাগাল বা অপবাদ দেওয়া হয়, তখন সাধারণ মানুষ অনেক সময় বিভ্রান্ত হয়ে সেটাকে সত্যি মনে করে। একে অনেক সময় ইনফরমেশন ওয়ারফেয়ার বা তথ্যযুদ্ধ বলা হয়। আমাদের সমাজে ডিজিটাল মিডিয়া লিটারেসি বা তথ্য যাচাইয়ের সংস্কৃতি এখনো দুর্বল হওয়ায় বটনির্ভর প্রচারণা খুব সহজেই মানুষের আবেগ, রাজনৈতিক বিশ্বাস ও সামাজিক বিভাজনকে প্রভাবিত করতে পারে।

এ বটবাহিনীর আসল শক্তি শুধু প্রযুক্তি নয়, মানুষের মনস্তত্ত্ব। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যখন শত শত অভিন্ন মন্তব্য দেখা যায়, তখন সাধারণ ব্যবহারকারীর মনে এমন ধারণা তৈরি হয় যে এটাই হয়তো সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামত। মনোবিজ্ঞানে একে বলা হয় ‘ব্যান্ডওয়াগন ইফেক্ট’। রাজনৈতিক যোগাযোগের ভাষায় এর নাম ‘অ্যাস্ট্রোটার্ফিং’; অর্থাৎ কৃত্রিমভাবে এমন পরিবেশ তৈরি করা, যাতে মনে হয় এটি স্বতঃস্ফূর্ত জনমত। বাস্তবে এটি একধরনের ডিজিটাল প্রতারণা। এমনকি কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে মব তৈরির আগেও সোশ্যাল মিডিয়ায় তাকে বিতর্কিত বা হত্যাযোগ্য করার কাজটিও বট দিয়ে করা হয়।

বাংলাদেশে বটবাহিনীর দাপট—

বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এ কৌশল এখন ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রেই প্রথমে ডিপফেক বা বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট তৈরি করা হয়, পরে সেটিকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে বট ব্যবহার করা হয়। ফলে সত্য ও মিথ্যার সীমারেখা ক্রমশ অস্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ধীরে ধীরে এমন এক জায়গায় পরিণত হচ্ছে, যেখানে তথ্যের চেয়ে প্রোপাগান্ডা বেশি প্রভাবশালী। এ বট সংস্কৃতি সমাজে বিষাক্ততা বাড়াচ্ছে, মতপ্রকাশের পরিবেশ সংকুচিত করছে এবং তথ্যের প্রতি মানুষের আস্থা ধ্বংস করছে।

গণতন্ত্র শুধু ভোটের ওপর দাঁড়িয়ে থাকে না; এটি দাঁড়িয়ে থাকে মুক্ত মতপ্রকাশ, সত্য তথ্য এবং সচেতন নাগরিকের ওপর। হরতাল, সহিংসতা বা প্রতিপক্ষের কণ্ঠরোধ যেমন গণতন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর, তেমনি কৃত্রিম জনমত তৈরির এ ডিজিটাল সংস্কৃতিও সমান বিপজ্জনক। কারণ, এটি মানুষের স্বাধীন চিন্তাশক্তিকে প্রভাবিত করে এবং বিভ্রান্তিকে সত্যের বিকল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চায়। এই সংকট মোকাবেলায় কয়েকটি পদক্ষেপ জরুরি। প্রথমত, মেটা, গুগলসহ প্রযুক্তি কম্পানিগুলোকে বাংলা ভাষা ও স্থানীয় বাস্তবতা বোঝার সক্ষমতা বাড়াতে হবে। বাংলাদেশকে এখনই মেটা, গুগলসহ সব সোশ্যাল মিডিয়ার প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে চুক্তি করতে হবে। তারা যেন বাংলাদেশে অফিস করে সেজন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। এ প্রতিষ্ঠানগুলোকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে।

দ্বিতীয়ত, সংঘবদ্ধ ডিজিটাল অপপ্রচার ও ট্রল ফার্মের বিরুদ্ধে কার্যকর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। অবিলম্বে এ আইন করা দরকার। না হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে গণতন্ত্র দুর্বল হবে। জনমত প্রাপ্তির উপায় যদি বাধাগ্রস্ত হয় তাহলে আইনের শাসন, ন্যায়বিচার মুখ থুবড়ে পড়বে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ডিজিটাল মিডিয়া লিটারেসি। স্কুল-কলেজ থেকেই তথ্য যাচাই, সমালোচনামূলক চিন্তা ও দায়িত্বশীল অনলাইন আচরণের শিক্ষা দিতে হবে। সরকারকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে এখনই, এ দেশে কি জনগণের অবাধ তথ্য প্রবাহ নিশ্চিত করা হবে না কি বটবাহিনীর কাছে জিম্মি হয়ে থাকবে তথ্য অধিকার।

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন

নতুন পে-স্কেল

বেতন কাঠামো ও সফটওয়্যার নিয়ে জটিলতা

অনলাইন ডেস্ক
বেতন কাঠামো ও সফটওয়্যার নিয়ে জটিলতা

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামোর (পে স্কেল) গেজেট এখনো প্রকাশ হয়নি। অথচ চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছেন। গেজেট না থাকায় বেতন কত বাড়বে, কোন ধাপে বাড়বে, ভাতা কবে যুক্ত হবে, অবসরপ্রাপ্তদের সুবিধা কীভাবে নির্ধারণ হবে—এসব প্রশ্নের কোনো স্পষ্ট উত্তর মিলছে না।

২০১৫ সালের অষ্টম জাতীয় বেতন স্কেল বাস্তবায়নের সময় অধিকাংশ কাজ ম্যানুয়ালি সম্পন্ন করা হয়েছিল। কিন্তু এখন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পুরো বেতন-ভাতা, ইনক্রিমেন্ট, পেনশন, গ্র্যাচুইটি, জিপিএফসহ প্রায় সব আর্থিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি) এবং আইবাস সফটওয়্যারের মাধ্যমে। ফলে ধাপে ধাপে বেসিক বেতন কার্যকর করতে গেলে সফটওয়্যার কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে হবে।

অর্থ মন্ত্রণালয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, নতুন বেতন কাঠামোর খসড়া রূপরেখা প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। তবে আর্থিক সক্ষমতা, প্রশাসনিক বাস্তবতা এবং ডিজিটাল বেতন ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য নিশ্চিত করে গেজেট জারি করতে চায় সরকার। সবকিছু ঠিক থাকলে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি থেকে শেষ সপ্তাহের মধ্যে গেজেট প্রকাশ হতে পারে। যদিও কার্যকারিতা ১ জুলাই থেকে গণনা করা হতে পারে। সে ক্ষেত্রে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বকেয়াসহ বেতন বৃদ্ধির সুবিধা পাবেন। সরকারি চাকরিজীবীদের বড় একটি অংশ বলছেন, সরকার বাস্তবায়নের ঘোষণা দিলেও গেজেট ছাড়া প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হচ্ছে না। প্রতিদিন বিভিন্ন দপ্তরে এবং গণমাধ্য প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে ‘গেজেট কবে’, ‘বেতন কত বাড়বে’, ‘অবসরপ্রাপ্তরা কী পাবেন’।

বিশেষ করে অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে উদ্বেগ সবচেয়ে বেশি। তারা এখন আর সরকারি দপ্তরের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নন। ফলে সরকারি কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্যও সহজে পান না। গণমাধ্যমের খবরে নির্ভর করেই তারা পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করছেন। অনেকে প্রতিদিন সাংবাদিকদের ফোন করে সর্বশেষ অগ্রগতি জানতে চাইছেন। আবার সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়লে মূল্যস্ফীতিতে এর প্রভাব কী হবে সেই বিষয়েও সাধারণ ভোক্তাদের উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষ করে সরকারি চাকরির বাইরে থাকা কোটি মানুষের উদ্বেগ নিত্যপণ্যের দাম বাড়া নিয়ে। তাদের আশঙ্কা, সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আরেক দফা সব জিনিসের দাম বাড়বে। ভোক্তাদের এই উদ্বেগ নিরসনে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের কৌশল নির্ধারণের কথা বলছেন অর্থনীতিবিদ ও বিশেষজ্ঞরা।

বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির আহ্বায়ক আব্দুল মালেক বলেন, আগের মতো এখন আর হাতে বেতন নির্ধারণের সুযোগ নেই। যদি প্রথম ধাপে ৫০ বা ৬০ শতাংশ বেসিক কার্যকর করা হয়, পরে আবার বাকি অংশ দেওয়া হয়, তাহলে একই কর্মচারীর জন্য একাধিকবার পে-ফিক্সেশন করতে হবে। এতে সফটওয়্যার পরিবর্তন, প্রশাসনিক জটিলতা এবং ভুল হওয়ার ঝুঁকি বাড়বে। তিনি বলেন, পদোন্নতি, বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট, টাইম স্কেল, নির্বাচন গ্রেড এবং অবসরজনিত সুবিধা নির্ধারণেও জটিলতা তৈরি হতে পারে।

পিআরএল শেষে চাকরি ছাড়তে যাওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্বেগ আরো বেশি। কারণ একজন কর্মচারীর পেনশন, গ্র্যাচুইটি, ছুটির নগদায়নসহ প্রায় সব সুবিধা শেষ প্রাপ্ত বেতনের ভিত্তিতেই নির্ধারিত হয়। আব্দুল মালেক আরো বলেন, ডিজিটাল বেতন ব্যবস্থায় অবসরপ্রাপ্তদের পাওনা দুই বা তিন ধাপে দেওয়ার কোনো ব্যবস্থা নেই। ফলে কেউ আংশিক বেতন বৃদ্ধি পেয়ে অবসরে গেলে পরবর্তী ধাপের সুবিধা পাবেন কিনা, সেটি বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়াবে। তিনি বিকল্প হিসেবে প্রস্তাব দেন, প্রথম ধাপেই শতভাগ মূল বেতন কার্যকর করে পে-ফিক্সেশন সম্পন্ন করা হোক। 

পরে বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা ও অন্যান্য ভাতা ধাপে ধাপে কার্যকর করা যেতে পারে। এতে সফটওয়্যার পরিবর্তনের প্রয়োজন কমবে এবং অবসরপ্রাপ্তরাও বৈষম্যের শিকার হবেন না। অর্থ মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র জানায়, উচ্চপর্যায়ের সচিব কমিটি ইতোমধ্যে নতুন বেতন কাঠামোর একটি রূপরেখা তৈরি করেছে। বর্তমানে এর আর্থিক প্রভাব, সফটওয়্যার সামঞ্জস্য এবং প্রশাসনিক দিক পর্যালোচনা করা হচ্ছে। সবকিছু ঠিক থাকলে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি বা শেষ সপ্তাহে গেজেট প্রকাশ হতে পারে। প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর সম্প্রতি যুগান্তরকে বলেন, দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনা করেই নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন করা হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ ১১ বছর পর সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধি সময়োপযোগী হলেও এর সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রভাব অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে সামাল দিতে হবে। এ প্রসঙ্গে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, সরকারি কর্মচারীদের ক্রয়ক্ষমতা বাড়াতে বেতন বৃদ্ধি প্রয়োজন। তবে একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতির ওপর সম্ভাব্য চাপ নিয়ন্ত্রণ এবং আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে।

এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মজিদ বলেন, সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধির যৌক্তিকতা রয়েছে। তবে শুধু সরকারি কর্মচারীদের নয়, সামগ্রিক বাজার পরিস্থিতিও বিবেচনায় নিতে হবে। কারণ বাজারে মূল্যস্ফীতির প্রভাব সবাইকে বহন করতে হয়। তাই নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের পাশাপাশি অর্থনীতির সহনশীলতা এবং বাজারে মূল্যস্ফীতি নিশ্চিত করাও জরুরি।

সাবেক অর্থ সচিব মাহবুব আহমেদ বলেন, মূল্যস্ফীতি বিবেচনায় নিলে এ মুহূর্তে বেতন বৃদ্ধি করাটা ঠিকই আছে। তবে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণেও সরকারের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ প্রয়োজন।