• ই-পেপার

ঠাকুরগাঁওয়ে মির্জা ফখরুল

শিল্পকারখানা প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা দেখতে দেশে আসছে চীনা প্রতিনিধিদল

পর্যটক টানতে ঢাকার বাইরে হাব করবে সরকার : অর্থমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
পর্যটক টানতে ঢাকার বাইরে হাব করবে সরকার : অর্থমন্ত্রী

পর্যটক টানতে ঢাকার বাইরে একটি ‘হাব’ তৈরির কথা বলেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, ‘ঢাকার বাইরে আমরা একটা হাব করছি, যেখানে থিয়েটার থেকে শুরু করে সব ধরনের এন্টারটেইনমেন্ট থাকবে। বিকালে গেলে যাতে, পুরো সন্ধ্যাটা কাটানো যায়। 

আজ শুক্রবার বিকালে বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন অর্থমন্ত্রী। আগের দিন বৃহস্পতিবার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট সংসদে উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু। বাজেটে সৃজনশীল অর্থনীতি উন্নয়নে প্রাথমিকভাবে ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। এ বরাদ্দ থেকে পর্যটন খাতও চাইলে অর্থ পাবে।

সৃজনশীল অর্থনীতির জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের সিএসআর খাত থেকে আরো ৫০০ কোটি টাকার তহবিল সংগ্রহ করার কথা বলেছেন অর্থমন্ত্রী।

বাংলাদেশে ‘ধর্মীয় পর্যটনের’ সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে ধর্মীয় পর্যটন হতে পারে। বৌদ্ধদের অনেক কিছু আছে। যারা এখানে আসবে, এগুলোকে আমরা কোনোদিন ‘রিস্টোর’ করিনি। কোনোদিন এই সাইটগুলোকে ওইভাবে ডেভেলপ করিনি। ওইখানে কোনো অবকাঠামো তৈরি করিনি। আমাদের এই তালিকার মধ্যে সেটাও আছে।’

তিনি বলেন, ‘বিদেশি পর্যটক আসে না, এর জন্য খুব বেশি চিন্তার কোনো কারণ নেই। দেশের যে পর্যটক আছে এদের যদি আমরা পরিচর্যা করতে পারি, আমাদের অর্থনীতিতে বিশাল একটা ভূমিকা রাখবে।’ 

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘সৃজনশীল অর্থনীতিতে যে কাজটা আমরা করতে চাচ্ছি, ঢাকাসহ দেশের সব জায়গায় এই সুযোগগুলো তৈরির জন্য একটা বড় উদ্যোগের কাজ শুরু করেছি। ৮০০ কোটি টাকা দিয়ে আমরা শুরু করছি এই কাজটা, যেটা কোনোদিন বাংলাদেশে কেউ চিন্তাও করেনি।’ 

দেশীয় সংগীতকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে আমির খসরু বলেন, ‘সুরের কোনো সীমানা নেই। আমরা সারা দুনিয়ার সব গান শুনছি না? এখন তো কোরিয়ান গান, কোরিয়ান থিয়েটার সব চলছে। আমরা এটাকে মনেটাইজ করতে পারিনি। আমাদের যে সুযোগগুলো আছে, এটাকে কাজে লাগানোর জন্য সৃজনশীল অর্থনীতিটা আমরা শুরু করেছি।’

আদ-দ্বীন হাসপাতাল ছেড়ে গেলেন ১৭৩ রোগী

অনলাইন ডেস্ক
আদ-দ্বীন হাসপাতাল ছেড়ে গেলেন ১৭৩ রোগী

লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্তের পর রাজধানীর মগবাজারের আদ্‌-দ্বীন হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে চলে গেছেন ১৭৩ জন রোগী। একই সঙ্গে হাসপাতালটিতে নতুন করে কোনো রোগী ভর্তি হয়নি বলে জানা গেছে। আজ শুক্রবার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে।

সম্প্রতি ছয় শিশুর মৃত্যুর ঘটনার পর বৃহস্পতিবার (১২ জুন) হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিল করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হাসপাতালের রোগীদের অন্যত্র স্থানান্তরের জন্য ২৪ ঘণ্টা সময় বেঁধে দেওয়া হয়।

এরপর থেকেই চিকিৎসাধীন রোগীরা ধীরে ধীরে অন্য হাসপাতালের দিকে যেতে শুরু করেন। জানা গেছে, বর্তমানে সেখানে এখনো প্রায় ২৪৩ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

তবে আইসিইউ, এনআইসিইউ, এইচডিইউ ও সিসিইউতে থাকা সংকটাপন্ন রোগীদের স্থানান্তর নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন রোগীদের স্বজনরা। তাদের মতে, এসব রোগীকে অন্য হাসপাতালে নেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে, লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য আপিল করার ঘোষণা দিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তাদের দাবি, জনস্বার্থ ও রোগীদের সেবার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে হাসপাতালটির স্বাভাবিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সরকারের কাছে পুনর্বিবেচনার আবেদন করা হবে এবং ইতিবাচক সিদ্ধান্তের আশা করা হচ্ছে।

সংসদ নির্বাচনে পরাজিত মোতাহার হলেন ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান

অনলাইন ডেস্ক
সংসদ নির্বাচনে পরাজিত মোতাহার হলেন ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে ২৭ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত মোতাহার হোসেন তালুকদারকে নবগঠিত ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (মউক) চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাতে এক প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার তাকে এ দায়িত্ব দেয়।

প্রজ্ঞাপন অনুসারে, মোতাহার হোসেন তালুকদারকে যোগদানের তারিখ থেকে এক বছরের জন্য ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান (গ্রেড-২) পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। জনস্বার্থে এ আদেশ জারি করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।

এ বিষয়ে মোতাহার হোসেন তালুকদার বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আমার ওপর যে বিশ্বাস রেখেছেন এবং ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান হিসেবে আমাকে দায়িত্ব দিয়েছেন, সেই মান রাখতে কাজ করে যাব। তিনি আগেও জনগণের রাজনীতি করার জন্য আমাকে সুযোগ দিয়েছিলেন।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা ময়মনসিংহবাসীর জন্য কিছু কাজ করতে চাই। এই শহরটাকে একটা পরিকল্পিত শহর এবং ব্রহ্মপুত্র নদের ওই পারে যে এলাকাটা আছে, সেটাকেও কাজে লাগিয়ে মানুষের মনমত একটা সুন্দর শহর গড়তে চাই। আমরা একটা পরিকল্পিত নগরী এবং মনোরম সিটি গড়তে চাই, যেটা দৃষ্টিনন্দন ও মানুষের নজর কাড়বে। বাইরে থেকে যেকোনো লোক ময়মনসিংহ শহরে আসবে কিংবা ময়মনসিংহ জেলায় ঢুকবে, তখন বুঝবে যে এটা ময়মনসিংহ। এ রকম একটা সিটি আমরা প্রতিষ্ঠা করবো ইনশাআল্লাহ।’

উল্লেখ্য, ময়মনসিংহ-২ আসনে ১১ দলীয় জোটের খেলাফত মজলিশের প্রার্থী মুহাম্মদুল্লাহর কাছে হেরে যান বিএনপি প্রার্থী মোতাহার হোসেন। মুহাম্মদুল্লাহ পেয়েছিলেন এক লাখ ৪৪ হাজার ভোট। আর বিএনপি প্রার্থী পেয়েছিলেন এক লাখ ১৭ হাজার ভোট।

সীমান্তে শান্তি-স্থিতিশীলতা বজায় রাখার অঙ্গীকার বিজিবি-বিএসএফের

অনলাইন ডেস্ক
সীমান্তে শান্তি-স্থিতিশীলতা বজায় রাখার অঙ্গীকার বিজিবি-বিএসএফের

সীমান্তে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে পারস্পরিক সহযোগিতা আরো জোরদারে সম্মত হয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ)। দিল্লিতে বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে ৫৭তম মহাপরিচালক (ডিজি) পর্যায়ের সীমান্ত সম্মেলনে এ বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছায় দুই দেশ।

গত ৮ থেকে ১১ জুন বিএসএফ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলন শেষে যৌথ প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে।

আজ শুক্রবার যৌথ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী এবং ভারতীয় প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের (বিএসএফ) মহাপরিচালক প্রবীণ কুমার।

দুই সীমান্তরক্ষী বাহিনীর দীর্ঘস্থায়ী সহযোগিতা ও পারস্পরিক আস্থার প্রতিফলন ঘটিয়ে সম্মেলনটি সৌহার্দ্যপূর্ণ, ইতিবাচক ও ভবিষ্যতমুখী পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়।

বিএসএফ ও বিজিবির মধ্যকার সর্বোচ্চ পর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় ব্যবস্থার অংশ হিসেবে এ সম্মেলন বিদ্যমান সীমান্ত পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং সীমান্ত নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত পারস্পরিক উদ্বেগের বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বিবেচিত হয়।

আলোচনায় মাদক, অস্ত্র, জাল মুদ্রা, সোনা ও অন্যান্য নিষিদ্ধ পণ্যের চোরাচালানসহ আন্তঃসীমান্ত অপরাধ এবং অবৈধ সীমান্ত অতিক্রম ও মানবপাচার প্রতিরোধের কার্যকর উপায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

এ ছাড়া সীমান্ত এলাকায় প্রাণহানি, অবৈধ, অনিচ্ছাকৃত বা জোরপূর্বক সীমান্ত অতিক্রম, সীমান্ত অবকাঠামো নির্মাণ, সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনার বাস্তবায়ন, আস্থা-নির্মাণমূলক পদক্ষেপ এবং সীমান্তজুড়ে উদ্ভূত নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা নিয়েও আলোচনা করা হয়।

উভয় পক্ষ বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।

তারা সমন্বিত টহল আরো জোরদার করা, সতর্কতা বৃদ্ধি, তাৎক্ষণিক তথ্য আদান-প্রদান উন্নত করা এবং আন্তঃসীমান্ত অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে যৌথ প্রচেষ্টা আরও শক্তিশালী করতে সম্মত হয়েছে।
আন্তর্জাতিক সীমান্ত-সংক্রান্ত আইন ও বিধি সম্পর্কে সীমান্তবাসীকে সচেতন করা এবং সীমান্ত এলাকায় অবৈধ কার্যকলাপ প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।

উভয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী আন্তঃসীমান্ত অপরাধ, বিদ্রোহী কার্যকলাপ এবং সীমান্ত নিরাপত্তা বিঘ্নিত করে এমন যেকোনো কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতার নীতি অনুসরণের যৌথ অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।

পক্ষদ্বয় সম্মেলনের ফলাফলে সন্তোষ প্রকাশ করে নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ সীমান্ত নিশ্চিত করতে সহযোগিতা, পারস্পরিক আস্থা এবং পেশাগত সম্পৃক্ততা আরো জোরদারের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।

১১ জুন যৌথ আলোচনাপত্রে স্বাক্ষরের মাধ্যমে সম্মেলনটি ইতিবাচক পরিবেশে সমাপ্ত হয়। উভয় প্রতিনিধিদল আশা প্রকাশ করে, গৃহীত সিদ্ধান্ত ও সমঝোতাগুলো দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরো বাড়াবে এবং কার্যকর সীমান্ত ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি বাংলাদেশ-ভারত বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

পরবর্তী মহাপরিচালক পর্যায়ের সম্মেলন ২০২৬ সালের নভেম্বরে পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।