ময়মনসিংহের গৌরীপুর, ঈশ্বরগঞ্জ ও নান্দাইল উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে অন্তত ১০টি এলাকায় মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগে বেশকয়েকজন মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীদের বাড়িঘর ভাঙচুর ও বেধড়ক পিটুনি দিয়ে এলাকাছাড়া করার অভিযোগ উঠেছে। গত প্রায় এক সপ্তাহ থেকে শুরু করে আজ শুক্রবারও এমন খবর পাওয়া গেছে। সামাজিক য্গোাযোগ মাধ্যম অনেকের ফেইসবুকে ওই সব ভাঙচুরের ছবি আপলোডও করা হয়েছে। সালিশ দরবারে প্রকাশে বেদড়ক পিটুনি দেওয়া হচ্ছে মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীদের।
আজ শুক্রবার দুপুরে নান্দাইল উপজেলার সিংরুইল ইউনিয়নের উদং মধুপুর এলাকায় স্থানীয় একটি মসজিদের পাশেই অবাধে মাদকের ব্যবসা করছিলেন পাঞ্জু মিয়ার ছেলে আমীন মিয়া ও তার স্ত্রী ছামিলা খাতুন। বারবার বাধা দেওয়ার পরেও বন্ধ না করায় শুক্রবার দুপুরে ওই কথিত মাদক ব্যবসায়রি বাড়িতে যায় এলাকার যুব সমাজ। তারা বসতবাড়ি ভাঙচুর করে মাদক ব্যবসায়ী ও তার পরিবারকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়।
ওই এলাকার যুব সমাজের একজন মো. বিজয় ভুইয়া বলেন, ‘তাঁদের কারণে এলাকার যুবসমাজ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। আমীন মিয়া এলাকায় মাদকের ডিলার ও তাঁর স্ত্রী ছামিলা খাতুন মাদকসম্রাজ্ঞী হিসেবে এলাকায় পরিচিত। এলাকাবাসীকে বাঁচাতে এই দম্পতির ঘরবাড়ি উচ্ছেদ করা ছাড়া অন্য কোনো উপায় ছিল না।’
অন্যদিকে চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীদের কারও বাড়িঘর ভাঙচুর করে আসবাব পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, কাউকে সালিস বৈঠক করে কিংবা মারধর করে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এলাকার ‘সচেতন যুবসমাজের’ নামে হওয়া এসব ঘটনা প্রতিরোধে থানা-পুলিশকে তেমন কোনো ভূমিকা রাখতে দেখা যায়নি। কথিত ‘সচেতন যুবসমাজ’ মাদক ব্যবসায়ী সন্দেহে কাউকে পুলিশেও সোপর্দ করেনি।
‘মাদক ব্যবসায়ীদের উচ্ছেদে’ নেতৃত্ব দেওয়া ব্যক্তিদের ভাষ্য, যাঁদের বাড়িতে হামলা হয়েছে কিংবা যাঁদের মারধর করে এলাকা ছাড়তে বলা হয়েছে, তাঁরা এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাঁদের গ্রেপ্তার করলেও জামিনে বেরিয়ে তাঁরা আবার মাদকের কারবার চালান। তাঁদের কারণে এলাকার যুবসমাজ মাদকাসক্ত হয়ে যাচ্ছে। এ কারণে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ হয়ে এসব ঘটনা ঘটিয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঘটনার পর ভুক্তভোগী ব্যক্তি ও তাঁদের পরিবারের অনেককেই এলাকায় পাওয়া যায়নি। তাঁদের বাড়িতে গিয়ে ঘর তালাবদ্ধ দেখা গেছে। এ ব্যাপারে তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে তাদের স্বজনরা জানায়, একজনের অপরাধে অনেকেই বেকায়দায় পড়ছে।
এ বিষয়ে ময়মনসিংহ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(প্রশাসন ও অর্থ) মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন কালের কণ্ঠকে জানান, এমন ঘটনার কোনো তথ্য তাঁদের কাছে নেই। এ ব্যাপারে থানায় কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। খোজ নেওয়ার জন্য স্বস্ব ওসিদের নির্দেশ দেওয়া হবে। এলাকাবাসীও মাদক ব্যবসার অভিযোগে কাউকে থানায় সোপর্দ করেনি। তবে যাতে কেউ আইন হাতে তুলে নিতে না পারে, সে জন্য পুলিশকে তৎপরতা দেখানোর জন্য নির্দেশ দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।





