• ই-পেপার

উত্থাপিত বাজেট সম্পূর্ণ ‘ক্রিয়েটিভ’ : মির্জা ফখরুল

সম্পদ-বিবরণী প্রকাশ না করলে মিলবে না পে স্কেল—শর্ত চায় টিআইবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
সম্পদ-বিবরণী প্রকাশ না করলে মিলবে না পে স্কেল—শর্ত চায় টিআইবি
ফাইল ছবি

প্রস্তাবিত বাজেটে আপাতত কালো টাকা বৈধ করার সুযোগ না রাখায় সরকারকে সাধুবাদ জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

বাজেটে আগামী অর্থবছর থেকে ধাপে ধাপে নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। পে স্কেল বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সরকারি কর্মচারীদের সম্পদ-বিবরণী প্রকাশের দাবি জানিয়েছে টিআইবি।

বাজেট ঘোষণার প্রেক্ষিতে এক বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এ দাবি জানান। তিনি বলেন, ‘প্রস্তাবিত বাজেটে অসাংবিধানিক, বৈষম্যমূলক ও দুর্নীতিসহায়ক বিধান ‘কালো টাকা সাদা’ করার সুযোগ প্রদান না করা সরকারের দুর্নীতিবিরোধী নির্বাচনী অঙ্গীকারের স্বপক্ষে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা।’

অতীত অভিজ্ঞতায় দিয়ে টিআইবি পরিচালক জানান, দেখা যায়, পরবর্তী সময়ে বিনিয়োগ, কর্মসংস্থানসহ নানা অজুহাতে বিভিন্ন খাতে অর্থ বিলে এ সুযোগটি অব্যাহত রাখা হয়েছে। এক্ষেত্রে কোনোভাবেই বাজেটে কালো টাকা বৈধ করার অনৈতিক সুযোগটি আর ফিরে না আসে- এই প্রত্যাশা করেন তিনি।

সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন-কাঠামোর ঘোষণার কথা উল্লেখ করে ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘বেতন কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতনকাঠামো যেভাবে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত হয়েছে, তা প্রমাণ করছে এ বিষয়ে সরকারকে বাস্তবতার আলোকে কতটা কঠোর হিসাব নিকাশ করতে হয়েছে। এক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ আয়ের অন্য সকল খাতের পেশাজীবীদের মতো সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা দ্রব্যমূল্য তথা জীবনযাত্রার ব্যয়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হলে, তাদের সর্বোচ্চ পেশাগত উৎকর্ষ ও দুর্নীতিমুক্ত কর্মসম্পাদন অসম্ভব। এ জন্য ১১ বছরের ব্যবধানে আর্থিক সক্ষমতার কঠিন সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও প্রস্তাবিত বাজেটে বেতন বৃদ্ধির ঘোষণা যৌক্তিক বিবেচিত হয়েছে। তবে এ বরাদ্দের মাধ্যমে সরকারি কর্মজীবীদের পেশাগত উৎকর্ষের পাশাপাশি দুর্নীতিমুক্ত কর্মসম্পাদনের প্রত্যাশিত সুফল পেতে হলে নতুন পে-স্কেল প্রযোজ্য হওয়ার শর্ত হিসেবে, সংশ্লিষ্ট কর্মজীবীদের সম্পদ-বিবরনী প্রকাশের বাধ্যবাধকতা নিশ্চিত করতে হবে।’

অর্থাৎ যে সকল সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী নিজের ও পরিবারের নির্ভরশীল সদস্যদের আয় ও সম্পদের হিসাব বাৎসরিক ভিত্তিতে হালনাগাদ করা সাপেক্ষে বাধ্যতামূলকভাবে চর্চা করবেন, শুধু তাদের জন্যই নতুন পে-স্কেল প্রযোজ্য হবে।

সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের ওপর প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে উল্লেখ্যযোগ্য সংখ্যক নিত্যপণ্য ও সেবার শুল্ককর ছাড় দেওয়ার যে প্রস্তাবসমূহ করা হয়েছে, তা সাধুবাদ পাওয়ার যোগ্য উল্লেখ করে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক। 

বাজেট বাস্তবায়ন-প্রক্রিয়ায় সুশাসন নিশ্চিতের সুস্পষ্ট কোনো আলোচনা বা পথরেখা নেই জানিয়ে প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপনায়, সে বিষয়টির উল্লেখ না থাকা হতাশাজনক বলে মনে করে টিআইবি।

সামষ্টিক অর্থনীতির প্রায় সব সূচকই চাপের মুখে : সিপিডি

অনলাইন ডেস্ক
সামষ্টিক অর্থনীতির প্রায় সব সূচকই চাপের মুখে : সিপিডি

বর্তমানে সামষ্টিক অর্থনীতির প্রায় সব সূচকই চাপের মুখে রয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের সামষ্টিক অর্থনীতির লক্ষ্যমাত্রাগুলো অর্জন করাই সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে বলে মনে করছে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)।

শুক্রবার (১২ জুন) সকালে রাজধানীর গুলশানে হোটেল লেকশোরে ‘জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭: সিপিডির পর্যালোচনা’ অনুষ্ঠানে সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, বর্তমানে সামষ্টিক অর্থনীতির সূচকগুলো স্বস্তিদায়ক নয়। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কিছুটা বাড়লেও অন্যান্য সূচকে আশানুরূপ উন্নতি হয়নি। রপ্তানি আয় এবং রেমিট্যান্সের প্রবৃদ্ধি হলেও তা লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে যথেষ্ট নয়।

ড. ফাহমিদা খাতুন উল্লেখ করেন, আগামী অর্থবছরের জন্য জিডিপির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬.৫ শতাংশ। অথচ অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রাক্কলন অনুযায়ী বর্তমান অর্থবছরে এটি ৫ শতাংশ এবং বিবিএসের হিসাবে তা ৪ শতাংশের কিছু বেশি।

বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সরকারি বিনিয়োগ বাড়লেও বেসরকারি বিনিয়োগে মন্দাভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আগে যা ২৩-২৪ শতাংশ ছিল, বর্তমানে তা কমে ২১.৩ শতাংশে নেমে এসেছে।

মূল্যস্ফীতি প্রসঙ্গে তিনি জানান, বর্তমানে মূল্যস্ফীতি ৯.৪ শতাংশের ওপরে থাকলেও আগামী অর্থবছরের জন্য লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭.৫ শতাংশ।

এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কঠিন হবে উল্লেখ করে ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, মূলত খাদ্য ও জ্বালানি খাতের সরবরাহজনিত সমস্যার কারণে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আসছে না। জ্বালানির উচ্চমূল্য ও বৈশ্বিক সংকট এতে প্রভাব ফেলছে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে তিনি সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি এবং কার্যকর বাজার তদারকির ওপর জোর দেন।

বৈদেশিক খাতের কথা উল্লেখ করে সিপিডি জানায়, ২০২৭ সাল নাগাদ রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ৭.৯ শতাংশ এবং রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ১৫ শতাংশ ধরা হয়েছে। এ ছাড়া রিজার্ভ ৪১ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার যে লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে, তাকে ‘উচ্চাকাঙ্ক্ষী’ বলে অভিহিত করেছে সংস্থাটি। একইসঙ্গে ডলারের বিনিময় হার ১২৭ টাকা হওয়ার যে সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে, তা টাকার আরো অবমূল্যায়নের ইঙ্গিত দেয়।

বাজেট কাঠামো বিশ্লেষণ করে ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, জিডিপির তুলনায় ঋণের হার ৩৮.৬ শতাংশ। আইএমএফ-এর মতে এটি এখনও সহনশীল সীমার নিচে থাকলেও ঋণের স্থায়িত্বের ঝুঁকি ‘নিম্ন’ থেকে ‘মাঝারি’র দিকে যাচ্ছে।

তিনি জানান, বাজেট ঘাটতি মেটাতে বৈদেশিক ঋণ ও অনুদানের ওপর নির্ভরশীলতা গত বছরের তুলনায় ৩১.৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৪৭.৭ শতাংশ করা হয়েছে।

সিপিডি মনে করে, বাজেটে উন্নয়ন ব্যয় বাড়ানোর লক্ষ্যমাত্রা কর্মসংস্থান ও আয় বৃদ্ধির জন্য ইতিবাচক। তবে বর্তমান বাস্তবতায় এই লক্ষ্যমাত্রাগুলো অর্জন করাই হবে বড় চ্যালেঞ্জ। বাজেটের সফল বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা এবং বাস্তবায়নের দক্ষতা নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করে সংস্থাটি।

অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন–সিপিডির সম্মানীয় ফেলো প্রফেসর ড. মোস্তাফিজুর রহমান এবং সিনিয়র গবেষণা অ্যাসোসিয়েট হেলেন মাসিয়াত প্রিয়তিসহ সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

বাংলাদেশে পৌঁছেছেন ভারতের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী

অনলাইন ডেস্ক
বাংলাদেশে পৌঁছেছেন ভারতের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী
বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। পুরনো ছবি

ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বাংলাদেশে পৌঁছেছেন। আজ শুক্রবার সকালে বেনাপোল-পেট্রাপোল সীমান্ত দিয়ে সড়কপথে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে প্রবেশ করেন তিনি। স্ত্রী মৃণাল ত্রিবেদীকে সঙ্গে নিয়ে ঢাকায় আসার কথা রয়েছে তার।

দীনেশ ত্রিবেদী বিদায়ি হাইকমিশনার প্রণয় কুমার ভার্মার স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন। প্রণয় ভার্মা এরই মধ্যে ব্রাসেলসে ভারতের রাষ্ট্রদূত হিসেবে যোগ দিয়েছেন।

গত এপ্রিলে ভারতের সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও বিজেপি নেতা দীনেশ ত্রিবেদীকে (৭৫) বাংলাদেশে দেশটির নতুন হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। গত ৫৫ বছরে দুই দেশের সম্পর্কের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো রাজনীতিবিদকে ঢাকায় হাইকমিশনার হিসেবে পাঠাচ্ছে দিল্লি।

দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এবং বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি সম্পর্কে গভীর ধারণার কারণে তাকে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে পাঠিয়েছে ভারত সরকার।

৯০ শতাংশ মানুষের কাছে ‘৫-জি’ পৌঁছে দিতে চায় সরকার

অনলাইন ডেস্ক
৯০ শতাংশ মানুষের কাছে ‘৫-জি’ পৌঁছে দিতে চায় সরকার

আইসিটি এবং টেলিকম খাতকে আগামী দিনে বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকা শক্তি হিসেবে গণ্য করে দেশের ৯০ শতাংশ মানুষের কাছে ৫-জি পৌঁছে দেওয়া এবং ১০০ এমবিপিএস ব্রডব্যান্ড গতি নিশ্চিতের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপনের সময় এ সংক্রান্ত ঘোষণা দেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

বাজেট উপস্থাপনায় এ সম্পর্কে অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে আইসিটি এবং টেলিকম একটি বিপুল সম্ভাবনাময় সেক্টর। এ সেক্টর হতে পারে আগামীদিনে বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকা শক্তি। অথচ, বর্তমানে দেশের জিডিপিতে এ খাতের অবদান মাত্র ১-২ শতাংশ। যথাযথ পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে আগামী পাঁচ বছরে তা ১০ শতাংশে উন্নীত করা সম্ভব। এই ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ, ওয়ারলেস ও ওয়ারলাইন কানেক্টিভিটি সম্প্রসারণ, দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি, ওয়ান সিটিজেন-ওয়ান আইডি-ওয়ান ডিজিটাল ওয়ালেট ব্যবস্থা চালুকরণ, বিনিয়োগবান্ধব নীতি প্রণয়ন এবং ডিজিটাল অর্থনীতির বিকাশে প্রয়োজনীয় সব সহযোগিতা প্রদানের মাধ্যমে এ সেক্টরকে সরকার থ্রাস্ট (অগ্রাধিকার) সেক্টর হিসেবে গড়ে তুলতে অঙ্গীকারাবদ্ধ।

তিনি আরো বলেন, আইসিটি খাতের উন্নয়নের জন্য সাশ্রয়ী ও নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেটের কোনো বিকল্প নেই। থ্রাস্ট সেক্টর হিসেবে গড়ে তুলতে পর্যাপ্ত স্পেকট্রাম এবং ফাইবার বেইজড কানেক্টিভিটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইন্টারনেট সেবার মান উন্নয়ন ও বৈশ্বিক মানদণ্ড পৌঁছানোর লক্ষ্যে সরকার প্রয়োজনীয় নীতি প্রণয়নসহ ব্যাপক টেলিকম সংস্কার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এই লক্ষ্যে বিশেষ করে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে সাধারণ মানুষের কাছে সুলভ মূল্যে দ্রুতগতির ইন্টারনেট পৌঁছে দিতে সরকার ন্যাশনাল ফাইবার ব্যাংক স্থাপনসহ নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এরই মধ্যে ট্রেন ও বিমানবন্দরগুলোতে উচ্চ গতির ফ্রি ইন্টারনেট সুবিধা চালু করা হয়েছে, যার সুফল জনগণ ভোগ করছে।

এর আগে, বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে স্পিকার ড. হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বাজেট উত্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

বিকেল ৩টার দিকে কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হয় এই বাজেট অধিবেশন। তার আগে সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠকে ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট অনুমোদন দেওয়া হয়।