• ই-পেপার

ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করতে থাইল্যান্ডকে আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার

পূর্ব পাকিস্তানের জমিনের সবুজকে লালে রাঙাতে হবে

অনলাইন ডেস্ক
পূর্ব পাকিস্তানের জমিনের সবুজকে লালে রাঙাতে হবে

কিছু কিছু কথা বা উক্তি ইতিহাস হয়ে থাকে। কারণ সেগুলো কোনো এক বিশেষ ঘটনার বর্ণনাকে স্মরণ করিয়ে দেয়। আবার কিছু উক্তি বা কথা চিরন্তন হয়, কারণ সেগুলো একটি মানসিকতার পরিচয় বহন করে। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মেজর জেনারেল ফরমান আলীর উক্তি-‘ইপি’র (পূর্ব পাকিস্তান) জমিনের সবুজ লাল রঙে রাঙাতে হবে’-দ্বিতীয়টির অন্তর্ভুক্ত। ইতিহাসবিদেরা শেষ পর্যন্ত এ বাক্যের সঠিক প্রকৃত অর্থ বা প্রেক্ষাপট নিশ্চিত করতে পারেন কি না পারেন অথবা তা যতই বিতর্কের বিষয় হোক না কেন, কথাটি কিন্তু ইতিহাসে আলোচিত। কারণ এটি ১৯৭১ সালে পূর্ব পাকিস্তানে সংঘটিত মর্মান্তিক ট্র্যাজেডির প্রতীক হয়ে উঠেছে।

১৯৭১ সালে বাংলার সবুজ প্রান্তর সত্যিই রক্তে রঞ্জিত হয়েছিল। তবে তা কোনো ভাষণ বা কথার রূপে নয়, বরং তা ঘটেছিল সাধারণ মানুষের রক্ত ঝরার মধ্য দিয়ে, যারা একটি বর্বর সামরিক অভিযানের শিকার হয়েছিলেন। ছাত্র, শিক্ষক, পেশাজীবী, কৃষক, রাজনৈতিক কর্মী এবং অসংখ্য সাধারণ পরিবার একটি সংঘাতে আটকা পড়েছিল, যার শুরু হয়েছিল জনগণের গণতান্ত্রিক রায় অস্বীকার করার মধ্য দিয়ে এবং ইতি ঘটেছিল নতুন এক রাষ্ট্রের জন্মের মধ্য দিয়ে। তাই বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস কেবল জাতীয়তাবাদের ইতিহাস নয়, এটি গণতন্ত্রেরও ইতিহাস। 

১৯৭০ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত পাকিস্তানের প্রথম সাধারণ নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ আওয়ামী লীগকে নিরঙ্কুশ জনসমর্থন দিয়েছিল। যেকোনো গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় এ ফলাফলে  শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তা না করে পাকিস্তানের সামরিক শাসকগোষ্ঠী জনগণের সেই রায় মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানায়। জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত করার সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক সংকট তৈরি করে এবং ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে ‘অপারেশন সার্চলাইট’ শুরু হয়। এরপর যা ঘটে তা ছিল দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাসে সবচেয়ে অন্ধকারময় অধ্যায়ের একটি।

পাকিস্তান সেনাবাহিনী পূর্ব পাকিস্তানজুড়ে সাধারণ মানুষ এবং রাজনৈতিক বিরোধীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছিল তাদের প্রথম দিকের অন্যতম নিশানা। ছাত্র, শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী, পুলিশ সদস্য এবং সাধারণ নাগরিক-অনেকেই সেই অভিযানে নিহত হন। সারা দেশে একের পর এক গ্রামে হামলা চালানো হয়, জনপদে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং লাখো মানুষ নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হন। আর এই সহিংসতার প্রধান চালিকাশক্তি ছিল পাকিস্তান সেনাবাহিনী। তবে তারা একা এসব বর্বরতা চালায়নি।

এজন্য তারা তাদের স্থানীয় সহযোগী এবং সহায়ক বাহিনীর ওপর নির্ভর করেছিল, যার মধ্যে রাজাকার, আলবদর এবং আল-শামস বাহিনী ছিল উল্লেখযোগ্য। বিভিন্ন ঐতিহাসিক গবেষণা ও বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে যে জামায়াতে ইসলামী এবং তাদের তৎকালীন ছাত্রসংগঠন ইসলামী ছাত্রসংঘের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বহু ব্যক্তি এসব বাহিনীর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সে সময় জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল এবং অবিভক্ত পাকিস্তান অক্ষুণœ রাখার পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল। সামরিক কর্তৃপক্ষ এবং এসব সহযোগী গোষ্ঠীর পারস্পরিক সহযোগিতা বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বেদনাদায়ক অধ্যায়গুলোর একটি হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে।

এ সহায়ক বাহিনীগুলো পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে স্থানীয় তথ্য প্রদান ও নানা ধরনের সহায়তা প্রদান করত। স্বাধীনতায় সমর্থন দিচ্ছে এমন সন্দেহভাজন ব্যক্তি-যাদের মধ্যে রাজনৈতিক কর্মী, বুদ্ধিজীবী এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষও ছিল- চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে তারা সহায়তা করত। বিশেষ করে যুদ্ধের শেষ পর্যায়ে, ১৯৭১ সালের ডিসেম্বরে পরিকল্পিতভাবে বাঙালি বুদ্ধিজীবীদের অপহরণ ও হত্যাকান্ডে তাদের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত মর্মান্তিক। সেসব শিক্ষক, চিকিৎসক, সাংবাদিক এবং চিন্তাবিদকে হারানো কেবল যুদ্ধকালীন একটি ট্র্যাজেডি ছিল না; এটি ছিল পৃথিবীর মানচিত্রে ভূমিষ্ঠ হতে যাওয়া নতুন একটি রাষ্ট্রের ভিত্তিকে দুর্বল করে দেওয়ার একটি হীন প্রচেষ্টা।

বাংলাদেশের জন্য এ ইতিহাস কোনো বিমূর্ত রাজনৈতিক বিতর্ক নয়। এটি এমন এক জাতির সম্মিলিত স্মৃতির অংশ, যে জাতি স্বাধীনতার জন্য অকল্পনীয় মূল্য দিয়েছে।

তবে ১৯৭১ সালের শিক্ষা শুধু মুক্তিযুদ্ধের ঘটনাপ্রবাহের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বাংলাদেশের জন্ম হয়েছিল কারণ এ দেশের মানুষ কর্তৃত্ববাদী শাসনকে প্রত্যাখ্যান করেছিল। এই রাষ্ট্রের সৃষ্টি হয়েছে কারণ একটি জনগোষ্ঠী তাদের ভাষা, জাতিসত্তা, রাজনৈতিক অধিকার এবং গণতান্ত্রিক সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান প্রদানের দাবি করেছিল। ফলে মুক্তিযুদ্ধ শুধু বহিরাগত আধিপত্যের বিরুদ্ধে একটি সংগ্রাম ছিল না; এটি ছিল সেই মৌলিক নীতির জন্যও একটি সংগ্রাম, যার ভিত্তিতে একটি সরকারের বৈধতা আসে জনগণের সম্মতি থেকে। সেই নীতি আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। বাংলাদেশের রাজনৈতিক অভিযাত্রার সবচেয়ে বড় পরিহাস সম্ভবত এটাই যে, কর্তৃত্ববাদের বিরুদ্ধে সংগ্রামের মধ্য দিয়ে জন্ম নেওয়া একটি দেশকেই বারবার গণতান্ত্রিক চর্চার প্রশ্নে নানা সংকটের মুখোমুখি হতে হয়েছে। 

বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন সরকার পড়েছে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে দুর্বল করা, রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র সংকুচিত করা এবং ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করার মতো অভিযোগের মুখে। স্বাধীনতা আন্দোলনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের ভূমিকা দেশের জাতীয় ইতিহাস থেকে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই। ১৯৭১ সালে দলটির নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের আত্মত্যাগ বাংলাদেশের ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে রয়েছে। তবে ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার অর্থ এই নয় যে, কোনো দল বা সরকার চিরদিনের জন্য সমালোচনার ঊর্ধ্বে উঠে যাবে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সমালোচকদের এই অভিমত যে, আওয়ামী লীগ সরকারের বিভিন্ন মেয়াদে দলটি ধীরে ধীরে মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গণতান্ত্রিক চেতনা থেকে সরে এসেছে। 

বিরোধী রাজনীতির পরিসর সংকুচিত হওয়া, গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজের একটি অংশের ওপর নানা ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের পারস্পরিক ভারসাম্য ও জবাবদিহির কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়া এবং নির্বাচনি প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন এসব বিষয় নিয়ে উদ্বেগ ব্যাপকভাবে প্রকাশিত হয়েছে তাদের শাসনামলে। এসব নিয়ে সমালোচনা ১৯৭১-এর বিরোধিতা হিসেবে দেখা উচিত নয়। বরং এর ভিত্তিতে রয়েছে এই বিশ্বাস যে, ১৯৭১ সালের যে মূল্যবোধের ভিত্তিতে বাংলাদেশের জন্ম, তা প্রত্যেক সরকারের ক্ষেত্রেই সমানভাবে প্রযোজ্য হওয়া উচিত। মুক্তিযুদ্ধ কোনো একটি রাজনৈতিক দলকে চিরকাল ক্ষমতায় থাকার অধিকার প্রতিষ্ঠা করেনি। বরং এটি প্রতিষ্ঠা করেছে জনগণের সেই অধিকার, যার মাধ্যমে তারা প্রত্যেক সরকারকে জবাবদিহির আওতায় আনতে পারে। 

এ কারণেই ২০২৪ সালের জুলাই গণ অভ্যুত্থান ঘিরে সংঘটিত রাজনৈতিক পরিবর্তনগুলো আদতেই বেশ গভীর ও সতর্ক বিশ্লেষণের দাবি রাখে। ইতিহাসের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার মতোই জুলাই ২০২৪-ও নানা ধরনের ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণের বিষয় হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও গোষ্ঠী এর কারণ ব্যাখ্যা করার, এতে নিজেদের অবদান সামনে আনার এবং এর লক্ষ্য ও আকাক্সক্ষার সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছে।  রাজনীতিতে এমন প্রতিযোগিতা অস্বাভাবিক নয়। তবে ইতিহাস আমাদের আরেকটি সতর্কবার্তাও দেয় যে, কোনো জনসম্পৃক্ত আন্দোলনের ওপর এককভাবে কোনো দল বা গোষ্ঠীর স্থায়ী মালিকানা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। 

একটি গণ অভ্যুত্থানের প্রকৃত শক্তি নিহিত থাকে সাধারণ মানুষের মধ্যে অর্থাৎ সেসব ছাত্রছাত্রী, শ্রমজীবী মানুষ, পরিবার এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে, যারা পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তায় বিশ্বাস করে আন্দোলনে অংশ নেয়। এ ধরনের আন্দোলনের তাৎপর্য কেবল রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর স্বার্থের মধ্যে সীমাবদ্ধ করে দেখা উচিত নয়। জুলাই ২০২৪-এর প্রকৃত মূল্যায়ন কেবল কোনো একটি রাজনৈতিক দলের সবচেয়ে বেশি কৃতিত্ব দাবি করতে পারার মতো ব্যাপারের ওপর নির্ভর করবে না। বরং তা নির্ভর করবে বাংলাদেশ আরও শক্তিশালী রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে কি না, জবাবদিহি নিশ্চিত করতে পারে কি না, নাগরিক স্বাধীনতা রক্ষা করতে পারে কি না এবং এমন একটি রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে পারে কি না, যেখানে মতভিন্নতাকে গণতন্ত্রের জন্য হুমকি নয়, বরং গণতন্ত্রেরই স্বাভাবিক ও অপরিহার্য অংশ হিসেবে দেখা হবে।

বিতর্কিত ঐতিহাসিক পটভূমি রয়েছে এমন রাজনৈতিক শক্তিগুলোকে ঘিরে আলোচনাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। একটি গণতান্ত্রিক সমাজ ইতিহাসকে উপেক্ষা করতে পারে না। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল যারা, তাদের ভূমিকা সততার সঙ্গে স্মরণ করতে হবে। একই সঙ্গে এটাও সত্য যে, গণতন্ত্র কেবল ইতিহাসের বিচারের ওপর নির্ভর করে টিকে থাকতে পারে না। এর ভিত্তি হতে হবে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান, কার্যকর আইন এবং সচেতন নাগরিকের অবাধ ও স্বাধীন সিদ্ধান্ত। বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাকালীন মূল্যবোধকে রক্ষার সবচেয়ে শক্তিশালী উপায় রাজনৈতিক বর্জন নয়; বরং এমন একটি আত্মবিশ্বাসী গণতন্ত্র গড়ে তোলা, যেখানে বিভিন্ন মত ও ধারণাকে খোলামেলাভাবে চ্যালেঞ্জ জানানো যায়।

বাংলাদেশের ইতিহাসে নানা ধরনের বৈপরীত্য রয়েছে। যে জাতির জন্ম হয়েছিল কর্তৃত্ববাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার মধ্য দিয়ে, সেই জাতিকেই বিভিন্ন সময় কর্তৃত্ববাদী প্রবণতার সঙ্গে লড়াই করতে হয়েছে। যে আন্দোলন গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রাম করেছিল, সেই আন্দোলনের উত্তরাধিকার বহনকারী শক্তিকেই কখনো কখনো একই অধিকার সীমিত করার অভিযোগের মুখোমুখি হতে হয়েছে। বিশাল আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে গড়া একটি রাষ্ট্রেও আজ এ বিতর্ক ব্যাপকভাবে চলমান যে কীভাবে তার স্বাধীনতার চেতনাকে সবচেয়ে কার্যকরভাবে সংরক্ষণ করা যায়।

সম্ভবত এটিই একটি জাতি গঠনের অনিবার্য চ্যালেঞ্জ। স্বাধীনতা ইতিহাসের শেষ অধ্যায় নয়। প্রতিটি প্রজন্মকে নতুন করে সিদ্ধান্ত নিতে হয় যে, তারা কি সেই নীতিগুলো রক্ষা করবে যেগুলোর ভিত্তিতে রাষ্ট্রটির জন্ম হয়েছিল।

পাকিস্তানি জেনারেল ফরমান আলীর নামে প্রচলিত-‘ইপির সবুজকে লালে রাঙাতে হবে’-এ উক্তির উৎস বা প্রেক্ষাপট নিয়ে ঐতিহাসিক আলোচনা হয়তো ভবিষ্যতেও চলবে। কিন্তু ১৯৭১ সালের যে বৃহত্তর শিক্ষা, তা নিয়ে কোনো বিতর্কের অবকাশ নেই। সেই ট্র্যাজেডির সূচনা হয়েছিল তখন, যখন একটি সরকার জনগণের গণতান্ত্রিক রায় মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল এবং সংলাপের পরিবর্তে শক্তি প্রয়োগের পথ বেছে নিয়েছিল।  বাংলাদেশের আর কখনো সেই ভুলের পুনরাবৃত্তি করা উচিত নয়।  মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত উত্তরাধিকার মানে কোনো একটি রাজনৈতিক দলের অন্য দলের ওপর বিজয় নয়। এটি নিপীড়নের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের বিজয়ের ইতিহাস। 

এটি সেই বিশ্বাসের প্রতিফলন যে, সরকার জনগণকে নীরব করে দেওয়ার জন্য নয়, বরং তাদের সেবা করার জন্যই প্রতিষ্ঠিত হয়। বাংলার জমিনের সবুজ এ দেশের প্রতিটি মানুষের। সেই সবুজের রক্ষায় শুধু অতীত স্মরণ করলেই চলবে না; প্রতিদিন গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার এবং জবাবদিহির পক্ষে দৃঢ় অবস্থানও নিতে হবে। কারণ ১৯৭১ সালে যারা নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন, তাঁদের প্রতি সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা প্রদর্শন করার ব্যাপারটি শুধু বাংলাদেশের জন্মের ইতিহাস স্মরণেই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়, বরং তাঁরা যে আদর্শের জন্য লড়েছিলেন, সেই আদর্শ যেন আজও বাংলাদেশের রাষ্ট্র পরিচালনার ভিত্তি হয়ে থাকে-তা নিশ্চিত করার মধ্যেই নিহিত।

জলে গেছে জলাবদ্ধতা নিরসনের অর্থ

রাজধানীতে এক দশকে ব্যয় প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা সিটি করপোরেশনে দায়িত্ব হস্তান্তর হলেও অবস্থার পরিবর্তন হয়নি সমন্বিত পরিকল্পনা ছাড়া জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয় -অধ্যাপক আদিল মোহাম্মদ খান

অনলাইন ডেস্ক
জলে গেছে জলাবদ্ধতা নিরসনের অর্থ

ঘণ্টা-দুয়েকের মাঝারি বৃষ্টি হলেই মারাত্মক জলাবদ্ধতা তৈরি হয় রাজধানী ঢাকায়। এতে স্থবির হয়ে পড়ে যানবাহন চলাচল, থমকে যায় নগরবাসীর স্বাভাবিক জীবনযাপন। সড়কে আটকে থাকে অ্যাম্বুলেন্স, অফিসগামী মানুষকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা পোহাতে হয় ভোগান্তি। অথচ গত এক দশকে রাজধানীর জলাবদ্ধতা নিরসনে ব্যয় হয়েছে অন্তত ৩ হাজার কোটি টাকা। অসংখ্য প্রকল্পে টাকা ঢাললেও সমাধান মেলেনি জলজট সমস্যার।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে রাজধানীর ড্রেন, বক্স কালভার্ট ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নে প্রায় ১ হাজার ২৭৮ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়। এরপর ২০২১ সালে ঢাকা ওয়াসার কাছ থেকে খাল ও স্টর্ম ওয়াটার ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব দুই সিটি করপোরেশনের কাছে হস্তান্তরের পর নতুন করে ড্রেন নির্মাণ, খাল পুনঃখনন, অবৈধ দখল উচ্ছেদ, পাম্পিং স্টেশন উন্নয়ন এবং বর্জ্য অপসারণে একের পর এক প্রকল্প নেওয়া হয়।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন গত পাঁচ অর্থবছরে ড্রেন নির্মাণ ও সংস্কারে প্রায় ৬০৫ কোটি টাকা ব্যয় করেছে। একই সময়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন ব্যয় করেছে প্রায় ৭১১ কোটি টাকা। এ ছাড়া নির্মাণ করা হয়েছে শত শত কিলোমিটার নতুন ড্রেন ও বক্স কালভার্ট। সব মিলিয়ে গত এক দশকে জলাবদ্ধতা নিরসনে বিভিন্ন সংস্থা অন্তত ৩ হাজার কোটি টাকার বেশি ব্যয় করেছে। অথচ দুই ঘণ্টার বৃষ্টিতেই ধানমন্ডি, গ্রিন রোড, মগবাজার, মালিবাগ, মতিঝিল, ফকিরাপুল, পল্টন, মিরপুর, আগারগাঁও, শ্যামলী, বাড্ডা, রামপুরা, খিলগাঁওসহ বহু এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়।

কাগজে-কলমে প্রকল্পের উন্নয়ন দৃশ্যমান হলেও বাস্তবে প্রতি বর্ষায় একই চিত্র দেখা যায়। জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সমন্বয়হীনতার একটি বড় উদাহরণ ধানমন্ডি ২৭ নম্বর সড়ক।

২০২১ সালে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) প্রায় ২০ কোটি ৪৯ লাখ টাকা ব্যয়ে ওই সড়কের নিচে নতুন একটি ড্রেনেজ পাইপলাইন নির্মাণ করে। কিন্তু স্থানীয় বাসিন্দা ও বিশেষজ্ঞদের অভিযোগ, নতুন পাইপলাইন নির্মাণের পরও ধানমন্ডি ২৭ নম্বর সড়কে বৃষ্টির পানি জমার সমস্যা কমেনি। কারণ ওই এলাকায় আগে থেকেই দুটি ড্রেন ছিল। নতুন পাইপের মাধ্যমে বৃষ্টির পানি সাতমসজিদ সড়কের প্রধান ড্রেনে গিয়ে কাটাসুর খালে পড়ার কথা। কিন্তু প্রধান ড্রেনটি নিয়মিত পরিষ্কার না হওয়া, পলি ও প্লাস্টিকসহ বিভিন্ন ধরনের বর্জ্যে ভরে যাওয়ায় পানি দ্রুত নামতে পারে না।

নগর পরিকল্পনাবিদ ও ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (আইপিডি) নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ড. আদিল মোহাম্মদ খান বলেন, ‘নতুন প্রকল্প নেওয়ার আগে পূর্বের প্রকল্পগুলোর স্বাধীন মূল্যায়ন প্রয়োজন। আগে ওয়াসা এরপর সিটি করপোরেশন বিছিন্নভাবে প্রকল্প নিয়েছে। এসব প্রকল্পে কতটা কাজ হয়েছে আর কতটা তছরুপ হয়েছে তা খতিয়ে দেখতে হবে। কোনো ধরনের মাস্টারপ্ল্যান ছাড়াই ওয়াসা, সিটি করপোরেশন, রাজউক প্রকল্প নিয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা জানি তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের নেওয়া প্রকল্পগুলোতে কী পরিমাণ লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এ সংস্থাগুলো কোনো ধরনের মাস্টারপ্ল্যান ছাড়াই যে যার ইচ্ছামতো প্রকল্প নিয়েছে।

কোন প্রকল্পে কত টাকা ব্যয় হয়েছে, কতটা কাজ বাস্তবে সম্পন্ন হয়েছে, কোথায় পানি নিষ্কাশনের সক্ষমতা বেড়েছে এবং কোথায় ব্যর্থতা রয়েছে এসব তথ্য শ্বেতপত্র আকারে প্রকাশ করা উচিত। খাল দখলমুক্ত রাখা, ড্রেনের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত পরিকল্পনা ছাড়া জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।’

নগর পরিকল্পনাবিদ ও পানি ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলাবদ্ধতার মূল কারণগুলো বহু বছর ধরেই চিহ্নিত। রাজধানীর অধিকাংশ প্রাকৃতিক খাল ও জলাধার দখল অথবা ভরাট হয়ে গেছে। যেসব খাল দিয়ে বৃষ্টির পানি দ্রুত নদীতে চলে যাওয়ার কথা, তার অনেকগুলোই সংকুচিত। ড্রেন নির্মাণ হলেও সেগুলোর সঙ্গে কার্যকর আউটফল বা নদী-খালের সংযোগ নেই। ফলে ড্রেনে জমা পানি শেষ পর্যন্ত বের হওয়ার পথ খুঁজে পায় না। ড্রেনের বড় অংশ প্লাস্টিক ও কঠিন বর্জ্যে আটকে থাকে। নিয়মিত পরিষ্কার না হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই পানি উপচে পড়ে। বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের অভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করছে। এক সংস্থা রাস্তা নির্মাণ করছে, অন্য সংস্থা ড্রেন করছে, আবার অন্য সংস্থা পাইপলাইন বসাতে রাস্তা কেটে ফেলছে। এতে নতুন নির্মিত অবকাঠামোও অনেক ক্ষেত্রে অকার্যকর হয়ে পড়ছে। দায়িত্ব বদল হলেও বদলায়নি বাস্তবতা। ২০২০ সালের শেষে ঢাকা ওয়াসার কাছ থেকে খাল ও ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব দুই সিটি করপোরেশনের কাছে হস্তান্তর করা হয়। কিন্তু ছয় বছর পরও রাজধানীর বহু এলাকায় একই সমস্যা রয়ে গেছে। বরং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে স্বল্প সময়ে অতিভারী বৃষ্টিপাত বাড়ায় বিদ্যমান ড্রেনেজ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা আরো স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক আবদুস সালাম বলেন, ঢাকার জলাবদ্ধতা দীর্ঘদিনের সমস্যা। রাজধানীর খালগুলোকে আগের অবস্থায় পুনরুদ্ধার করা গেলে এ সংকট অনেকটাই কমে আসবে। পাশাপাশি, ঢাকার পানি দ্রুত বুড়িগঙ্গা ও শীতলক্ষ্যা নদীতে নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা গেলে পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে।

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন

ঢাকাসহ ১৯ জেলার জন্য বড় দুঃসংবাদ

অনলাইন ডেস্ক
ঢাকাসহ ১৯ জেলার জন্য বড় দুঃসংবাদ

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের ১৯ জেলায় দুপুরের মধ্যে বজ্রসহ বৃষ্টি ঝরতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সংস্থাটি জানিয়েছে, ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে হতে পারে এই ঝড়। এ জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোকে সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। 

মঙ্গলবার ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরের জন্য দেওয়া পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে। 

এতে বলা হয়েছে, রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ঢাকা, ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ/দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

বন্দি মানুষ বিপর্যস্ত জনজীবন

বন্যায় ডুবছে নতুন নতুন এলাকা মৃত্যু বেড়ে ৫৪ ৯ জেলায় পরিস্থিতি অবনতির শঙ্কা আবারও ফুঁসে উঠেছে তিস্তা নদী সাত বিভাগে বৃষ্টি হবে আরও পাঁচ দিন

অনলাইন ডেস্ক
বন্দি মানুষ বিপর্যস্ত জনজীবন

অতিভারী বর্ষণ, বন্যা ও পাহাড় ধসে গতকাল পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৪-এ দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়া দেশের সাত জেলায় এখনো পানিবন্দি দেড় লাখের বেশি পরিবার। বন্যাকবলিত জেলাগুলোতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৯ হাজার ৪১১ জনে। গতকাল বিকেলে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের বন্যাসংক্রান্ত হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ কথা জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলা বর্তমানে তীব্রভাবে বন্যা উপদ্রুত। সরকারি হিসাবে এসব জেলার মোট ৫৯টি উপজেলার ৩৩৪টি ইউনিয়ন ও ১২টি পৌরসভা বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। বন্যা ও ভূমিধসে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি এবং ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কক্সবাজারে। এ জেলায় এ পর্যন্ত ৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে ১৮ জন স্থানীয় বাসিন্দা এবং ১৩ জন রোহিঙ্গা। আহত হয়েছে ২৪ জন এবং একজন এখনো নিখোঁজ। অন্যান্য জেলার মধ্যে চট্টগ্রামে ১৩ জন, পার্বত্য জেলা বান্দরবানে ৬ জন, রাঙামাটিতে ৩ জন এবং  মৌলভীবাজারে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

নীলফামারী : টানা কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টি ও উজানের ঢলে আবারও ফুঁসে উঠেছে তিস্তা নদীর পানি। এতে নীলফামারীর তিস্তা তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে। গতকাল সন্ধ্যা ৬টায় নীলফামারীর ডিমলায় ডালিয়া পয়েন্টে পানির সমতল রেকর্ড করা হয় ৫২ দশমিক ১৮ সেন্টিমিটার (বিপৎসীমা ৫২ দশমিক ১৫ সেন্টিমিটার) যা বিপৎসীমার ৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। লালমনিরহাট : উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং টানা বৃষ্টির প্রভাবে তিস্তার পানি আবারও বৃদ্ধি পাচ্ছে। তিস্তার পানি বর্তমানে বিপৎসীমার ৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় লালমনিরহাটের নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে চরাঞ্চল ও তীরবর্তী এলাকার মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। যদিও নদীর মধ্যবর্তীতে বসবাস করা চরের প্রায় ৩ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে আছে বলে জানিয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ড।

বগুড়া : উজানের পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টির কারণে বগুড়ায় যমুনা নদীর পানি বাড়ছে। এ অবস্থায় সারিয়াকান্দি, ধুনট ও সোনাতলা উপজেলায় তীব্র নদীভাঙন শুরু হয়েছে। এতে শত শত একর ফসলি জমি, গাছপালা ও বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। নদীপারের মানুষ চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। বান্দরবান : দুই দিন বৃষ্টিপাত না হওয়ায় বান্দরবান জেলার নিম্নাঞ্চল ও সড়ক থেকে বন্যার পানি নেমে গেছে।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, পৌর এলাকার আর্মিপাড়া, ভরাখালী, ইসলামপুর, মেম্বারপাড়া, ক্যাচিংপাড়া, হাফেজঘোনা, বালাঘাটা ও কালাঘাটাসহ কয়েকটি নিম্নাঞ্চল থেকে পানি নেমে গেছে।

কক্সবাজার : কক্সবাজারের রামুর কাউয়ারখোপ ইউনিয়নে বাঁশের সাঁকো পার হতে গিয়ে নদীর পানির তীব্র স্রোতে ভেসে নিখোঁজ হওয়া মো. ইব্রাহীমের (১৮) মৃতদেহ ২৪ ঘণ্টা পর গতকাল দুপুরে উদ্ধার করা হয়েছে। সে কাউয়ারখোপ ইউনিয়নের (৪ নম্বর) ওয়ার্ডের মৈষকুম এলাকার সৈয়দ হোসেনের ছেলে।

গত রবিবার মৈষকুম এলাকায় একটি বাঁশের সাঁকো পার হচ্ছিল ইব্রাহীম। এ সময় পা পিছলে সে নিচে নদীর পানিতে পড়ে যায়। টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে নদীতে তীব্র স্রোতে ইব্রাহীম মুহূর্তের মধ্যেই তলিয়ে স্রোতের টানে ভেসে গিয়ে নিখোঁজ হয়।

ফেনী : টানা বর্ষণ ও উজানের ঢলে মুহুরী নদীর পানি হু হু করে বাড়ছে। উজানে ভারী বৃষ্টিপাত হলে দ্রুতই নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে বলে জানিয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কর্মকর্তারা।

গতকাল বিকেল ৫টার দিকে মুহুরী নদীতে পানির স্তর রেকর্ড করা হয় ১১ দশমিক ৪৫ মিটার। এ সময় নদী বিপৎসীমার ১ দশমিক ১০ মিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।

সাত বিভাগে বৃষ্টি হবে আরো পাঁচ দিন : দেশের ওপর মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় রাজধানী ঢাকাসহ সাত বিভাগে অতি ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। আরো পাঁচ দিন বৃষ্টি হতে পারে। এরপর বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। আগামী ২৪ ঘণ্টায় খুলনা ছাড়া বাকি সব বিভাগের বেশির ভাগ জায়গায় দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি এবং কোথাও অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে। দিনের তাপমাত্রা কিছুটা কমবে।

চট্টগ্রামে সাপের কামড়ে ৮৫ জন আহত : চট্টগ্রামে টানা বৃষ্টি ও বন্যা শুরুর পর থেকে বিভিন্ন উপজেলার হাসপাতালে সাপে কাটা ৮৫ রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। এ ছাড়া বন্যাকবলিত এলাকায় বিভিন্নভাবে আহত হয়ে আরও ১৫ জন চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানিয়েছে জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়।

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন

ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করতে থাইল্যান্ডকে আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার | কালের কণ্ঠ