• ই-পেপার

‘ফিনজালে’ উত্তাল সাগর, ৮৮ কিমি পর্যন্ত বাড়ছে বাতাসের গতি

প্রয়োজন অনুযায়ী বিচারপতি-বিচারক নিয়োগ দেবে সরকার

অনলাইন ডেস্ক
প্রয়োজন অনুযায়ী বিচারপতি-বিচারক নিয়োগ দেবে সরকার
সংগৃহীত ছবি

মামলাজট কমাতে দেশের উচ্চ আদালত এবং অধস্তন আদালতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক বিচারপতি ও বিচারক নিয়োগ করা হবে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ২০তম দিনে সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য মাহফুজা হান্নানের লিখিত প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন। অধিবেশনের এই পর্যায়ে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।

সংসদ সদস্য মাহফুজা হান্নান তার প্রশ্নে জানতে চান, “দেশের উচ্চ আদালতে ও নিম্ন আদালতের মামলাজট কমাতে নতুন করে বিচারক নিয়োগের মাধ্যমে দ্রুত মামলা নিষ্পত্তির কোনও পরিকল্পনা আছে কিনা?”  

জবাবে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, “বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আাপিল বিভাগে প্রধান বিচারপতিসহ ৫ জন এবং হাইকোর্ট বিভাগে ১০১ জন বিচারপতি কর্মরত আছেন। উচ্চ আদালতে বিচারাধীন মামলা নিষ্পত্তির জন্য সরকার সংবিধানের আলোকে প্রয়োজনীয় সংখ্যক বিচারক নিয়োগের লক্ষ্যে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।”  

মন্ত্রী জানান, দেশের অধস্তন আদালতগুলোয় বর্তমানে ২ হাজার ৬২০ জন বিচারকের পদ রয়েছে এবং ওই পদগুলোর বিপরীতে ১ হাজার ৯৬৪ জন বিচারক কর্মরত আছে। অধস্তন আদালতগুলোর শূন্যপদ পূরণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস কমিশন কর্তৃক ১৮তম বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষার মাধ্যমে ১৫০ জন সিভিল জজ নিয়োগের জন্য লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এছাড়া ১৯তম বিজেএস পরীক্ষার মাধ্যমে ১৫০ জন এবং ২০তম বিজেএস পরীক্ষার মাধ্যমে ২০০ জন সিভিল জজ নিয়োগের লক্ষ্যে বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস কমিশন বরাবর চাহিদাপত্র প্রেরণ করা হয়েছে। উক্ত চাহিদাপত্র অনুযায়ী নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি জারি করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস কমিশন কাজ করছে।

দেশীয় মাছের প্রজাতি সংরক্ষণে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার : প্রাণিসম্পদমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
দেশীয় মাছের প্রজাতি সংরক্ষণে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার : প্রাণিসম্পদমন্ত্রী
সংগৃহীত ছবি

দেশীয় মাছের প্রজাতির বিলুপ্তি রোধ এবং দেশের জলজ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে সরকার সংরক্ষণ, গবেষণা ও আবাসস্থল পুনরুদ্ধারসহ বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) জাতীয় সংসদে সরকারি দলের সদস্য খায়রুল কবির খোকন (নরসিংদী-১)-এর তারকাচিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, দেশীয় মাছ সংরক্ষণে সরকার অভয়াশ্রম স্থাপন, উন্মুক্ত জলাশয়ে দেশীয় মাছের পোনা অবমুক্তকরণ, প্রজননক্ষেত্র সংরক্ষণ, আইন প্রয়োগ জোরদার এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণাকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি সমন্বিত কৌশল গ্রহণ করেছে।

তিনি বলেন, ‘দেশীয় মাছের প্রজাতির ওপর বিদ্যমান বিভিন্ন হুমকি মোকাবিলা এবং দীর্ঘমেয়াদে এগুলোর সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে সরকার ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।’

মন্ত্রী জানান, দেশের নদ-নদী ও অভ্যন্তরীণ উন্মুক্ত জলাশয়ে মোট ৬৬৯টি মাছের অভয়াশ্রম প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এসব অভয়াশ্রমের আওতায় ১ হাজার ১৯৫ দশমিক ৯১ হেক্টর এলাকা রয়েছে এবং স্থানীয় উপকারভোগী দল এগুলো পরিচালনা করছে।

তিনি বলেন, মূল্যবান জলজ সম্পদ রক্ষায় চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির নাজিরহাট সেতু থেকে হালদা-কর্ণফুলী মোহনা ও কালুরঘাট সেতু পর্যন্ত হালদা নদীর ৪০ কিলোমিটার এলাকাকে মাছের অভয়াশ্রম ঘোষণা করা হয়েছে।

এছাড়া মৌলভীবাজার জেলার তিনটি উপজেলায় ১০টি স্থায়ী মাছের অভয়াশ্রম সংরক্ষণ করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

আমিন উর রশিদ বলেন, সংরক্ষণ কার্যক্রম আরো শক্তিশালী করতে সরকার ‘অভ্যন্তরীণ উন্মুক্ত জলাশয়ে মাছের অভয়াশ্রম স্থাপন ও ব্যবস্থাপনা নির্দেশিকা, ২০২৬’ প্রণয়ন করেছে।

তিনি বলেন, মৎস্য অধিদপ্তরের নিয়মিত কর্মসূচির আওতায় প্রতিবছর উন্মুক্ত জলাশয়ে দেশীয় মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয় এবং প্রাকৃতিক জলাশয়ে মাছের উৎপাদন বাড়াতে বিল নার্সারি স্থাপন করা হয়।

মন্ত্রী জানান, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রাজস্ব ও উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় মোট ৯৪৭টি বিল নার্সারি স্থাপন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, দেশীয় মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি করতে সরকার ‘দেশীয় মাছ ও শামুক সংরক্ষণ ও উন্নয়ন’ শীর্ষক একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে।

জলজ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন নিশ্চিত করতে প্রতিবছর ২৯ মে থেকে ২৮ জুন পর্যন্ত সাতটি হাওর জেলায় ৩০ দিন মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকে বলেও তিনি জানান।

মন্ত্রী বলেন, ‘মৎস্য সংরক্ষণ আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বিশেষ করে কারেন্ট জালের মতো ধ্বংসাত্মক অবৈধ জাল ব্যবহারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’

তিনি আরো বলেন, দেশীয় মাছের বিলুপ্তি রোধে গবেষণার মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএফআরআই)।

মন্ত্রী জানান, এখন পর্যন্ত বিএফআরআই পাবদা, গুলশা, শিং, মাগুর, ভেদা, বাটা, সরপুঁটি, ভাঙ্গনা, কালিবাউশ, মহাশোল, আইড়, চিতল, ফলি, কুচিয়া, টেংরা ও খলিশাসহ ৪১টি দেশীয় মাছের প্রজনন ও চাষ প্রযুক্তি উদ্ভাবন করতে সক্ষম হয়েছে।

তিনি সংসদকে আরো জানান, বর্তমানে বাংলাদেশে দেশীয় মাছের প্রজাতির সংখ্যা ২৬১টি।

পানিসম্পদ উন্নয়নে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করতে চায় নেদারল্যান্ডস

অনলাইন ডেস্ক
পানিসম্পদ উন্নয়নে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করতে চায় নেদারল্যান্ডস
সংগৃহীত ছবি

বাংলাদেশের টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা, নদী উন্নয়ন এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে নেদারল্যান্ডসের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (৭ জুলাই) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত জোরিস ভান বোমেল, দূতাবাসের জ্যেষ্ঠ নীতিবিষয়ক উপদেষ্টা ড. শিবলী সাদিক এবং পানি বিষয়ক প্রতিনিধি নিল্টজি কিলেন অংশ নেন। 

বাংলাদেশের পক্ষে পানি সম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা, নদী উন্নয়ন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের পানিসম্পদ উন্নয়নে দেশটির বিশেষায়িত জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের বিভিন্ন প্রস্তাব তুলে ধরেন।

প্রতিনিধি দলটি জানায়, তিস্তা মহাপরিকল্পনা, পদ্মা ব্যারেজসহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পানি উন্নয়ন প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে কারিগরি জ্ঞান, আধুনিক প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞতাভিত্তিক সহযোগিতা করতে চায় নেদারল্যান্ডস।

বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ১৯৭৯ সালের এপ্রিল মাসে নেদারল্যান্ডস সফর দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। তার নেতৃত্বেই নেদারল্যান্ডসের সহযোগিতায় বাংলাদেশের কৃষি, বাণিজ্য ও পানি ব্যবস্থাপনায় নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়।

বৈঠকে উভয় পক্ষ পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় বিদ্যমান সহযোগিতা আরো জোরদার এবং ভবিষ্যতে যৌথ উদ্যোগে কাজ করার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

গণতন্ত্র শক্তিশালীকরণে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতার আশ্বাস

নিজস্ব প্রতিবেদক
গণতন্ত্র শক্তিশালীকরণে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতার আশ্বাস
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার সারা কুক। ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে আরো শক্তিশালী করতে সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দিয়েছে যুক্তরাজ্য। একই সঙ্গে শিক্ষা, বিনিয়োগ, জলবায়ু পরিবর্তন, অভিবাসন, নারীর ক্ষমতায়ন এবং স্থানীয় সরকারসহ বিভিন্ন বিষয়ে বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা আরো জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার সারা কুকের সৌজন্য সাক্ষাতে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকের শুরুতে ব্রিটিশ হাইকমিশনার বাংলাদেশের গণতন্ত্র, নারীর ক্ষমতায়ন ও শিক্ষা খাতে সাম্প্রতিক অগ্রগতির প্রশংসা করেন।

তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান আরো শক্তিশালী করতে বাংলাদেশকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে যুক্তরাজ্য আগ্রহী। একই সঙ্গে দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরো সম্প্রসারণের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

বৈঠকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়েও আলোচনা হয়। এ সময় স্থানীয় সরকার মন্ত্রী জানান, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে ধাপে ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন শুরু করার লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও নির্বাচন কমিশন কাজ করে যাচ্ছে।

মন্ত্রী বলেন, গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে বাংলাদেশ সবসময় যুক্তরাজ্যকে ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে বিবেচনা করে। বিএনপি বহুদলীয় গণতন্ত্রে বিশ্বাসী এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশে গণতন্ত্র আরো সুসংহত হবে। পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের স্বার্থে ব্রিটিশ বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে আরো বেশি বিনিয়োগের আহ্বান জানান।

বৈঠকে ব্রিটিশ হাইকমিশনার বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য যুক্তরাজ্যে উচ্চশিক্ষার সুযোগ আরো সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান।

এদিকে, একইদিন স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর সঙ্গে ইউনাইটেড ন্যাশনস ফর প্রজেক্ট সার্ভিস (ইউএনওপিএস)-এর বাংলাদেশ ও ভুটানের কান্ট্রি ম্যানেজার সুধীর মুরালিধরনের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলও সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

সাক্ষাতে অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রকল্প বাস্তবায়ন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় ইউএনওপিএস প্রতিনিধিদল বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়ন কার্যক্রমে ভবিষ্যতেও সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সাক্ষাৎকালে পরিবীক্ষণ, মূল্যায়ন ও পরিদর্শন অনুবিভাগের মহাপরিচালক মো. মাহমুদুল হাসান এবং মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

‘ফিনজালে’ উত্তাল সাগর, ৮৮ কিমি পর্যন্ত বাড়ছে বাতাসের গতি | কালের কণ্ঠ