• ই-পেপার

শপথ নিলেন নতুন সিইসি ও চার নির্বাচন কমিশনার

সব সরকারি অফিসের জন্য জরুরি নির্দেশনা, পাঠানো হয়েছে চিঠি

বাসস
সব সরকারি অফিসের জন্য জরুরি নির্দেশনা, পাঠানো হয়েছে চিঠি

এবছর রাষ্ট্রীয়ভাবে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উদযাপনে ব্যাপক কর্মসূচি নিয়েছে সরকার। জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস ২০২৬ যথাযোগ্য মর্যাদা ও ব্যাপক কর্মসূচির মাধ্যমে উদযাপনের লক্ষ্যে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দপ্তর, সংস্থা ও মাঠ প্রশাসনের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা পাঠিয়েছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার কার্যবিবরণী সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠানে পাঠানো হয়েছে এবং সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। 
সম্প্রতি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন-২ শাখা উপ সচিব শবনম মুস্তারী রিক্তা স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়। ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস ২০২৬’ পালন উপলক্ষ্যে গত ৩ মে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার কার্যবিবরণী সংশ্লিষ্ট সকল মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার কাছে পাঠানো হয়েছে। সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহ বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের চিঠি অনুযায়ী, দিবসটি রাষ্ট্রীয়ভাবে পালনের লক্ষ্যে সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে শুরু করে মাঠ প্রশাসন পর্যন্ত ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হচ্ছে। এ উপলক্ষ্যে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগ, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, জেলা প্রশাসন, সিটি করপোরেশন, উপজেলা প্রশাসনসহ দেশের প্রায় সকল সরকারি প্রতিষ্ঠানকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে।

কার্যবিবরণী বাস্তবায়নের জন্য মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, তিন বাহিনীর প্রধান, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ও সচিবদের কাছে স্মারক পাঠানো হয়েছে।

আরো পড়ুন
সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধিতে বাজেটে বরাদ্দ ৩৫ হাজার কোটি!

সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধিতে বাজেটে বরাদ্দ ৩৫ হাজার কোটি!

 

একই সঙ্গে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি, আনসার ও ভিডিপি, কোস্ট গার্ড, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই), প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর (ডিজিএফআই) এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সংস্থাগুলোকেও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতার, তথ্য অধিদপ্তর এবং গণযোগাযোগ অধিদপ্তরকে দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে প্রচার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বলা হয়েছে।

জাতীয় পর্যায়ে বিভিন্ন আলোচনা সভা, স্মৃতিচারণ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আলোকচিত্র প্রদর্শনী এবং বিশেষ প্রকাশনার উদ্যোগ গ্রহণের বিষয়েও কার্যবিবরণীতে নির্দেশনা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

মাঠ প্রশাসনের অংশ হিসেবে দেশের সকল বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, পুলিশ সুপার এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কাছেও কার্যবিবরণী পাঠানো হয়েছে। ফলে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির পাশাপাশি বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও দিবসটি উদযাপনের জন্য সমন্বিত কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

দিবসটি উদযাপনের প্রস্তুতির সঙ্গে শিক্ষা, সংস্কৃতি, যুব ও ক্রীড়া, স্থানীয় সরকার, স্বাস্থ্য, কৃষি, পরিবহন, ধর্ম, সমাজকল্যাণ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, মহিলা ও শিশু বিষয়ক, প্রবাসী কল্যাণ, পরিবেশ, বাণিজ্য এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে।

এতে জাতীয় পর্যায়ের কর্মসূচির পাশাপাশি বিভিন্ন খাতভিত্তিক বিশেষ আয়োজনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এদিকে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, বাংলাদেশ স্কাউটস, বিএনসিসি এবং বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদকেও কার্যক্রমে অংশগ্রহণের জন্য অবহিত করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো দিবসটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও তাৎপর্য তুলে ধরতে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করতে পারে বলে জানা গেছে। সরকারি সূত্রগুলো বলছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসকে জাতীয় পর্যায়ে মর্যাদাপূর্ণভাবে পালনের লক্ষ্যে সারাদেশে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

দিবসটি উপলক্ষ্যে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে বিশেষ কর্মসূচি আয়োজন, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় আলোকসজ্জা, আলোচনা সভা, দোয়া ও প্রার্থনা অনুষ্ঠান এবং গণসচেতনতামূলক কার্যক্রম গ্রহণের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছে।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহ যথাযথভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে দিবসটির গুরুত্ব জনগণের কাছে তুলে ধরা হবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠানকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রস্তুতি সম্পন্ন করার জন্য বলা হয়েছে।

লেবাননে নিহত দুজনের মরদেহ গ্রহণ করলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
লেবাননে নিহত দুজনের মরদেহ গ্রহণ করলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
ছবি: কালের কণ্ঠ

দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিয়েহ অঞ্চলের জিবদিন এলাকায় গত ১১ মে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় নিহত দুই বাংলাদেশি শফিকুল ইসলাম ও মো. নাহিদুল ইসলাম নাহিদের মরদেহ দেশে পৌঁছেছে। 

রবিবার (৭ জুন) ভোরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম উপস্থিত থেকে মরদেহ দুটি গ্রহণ করেন। পরে তিনি নিহতদের পরিবারের সদস্যদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করেন।

আরো পড়ুন
উত্তর কোরিয়া সফরে কেন যাচ্ছেন শি চিনপিং?

উত্তর কোরিয়া সফরে কেন যাচ্ছেন শি চিনপিং?

 

এ সময় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিহতদের অকাল ও মর্মান্তিক মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানান। 

নিহত শফিকুল ইসলাম সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ভালুকা চাঁদপুর গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবা আফসার আলী ও মা আজেয়া খাতুন। অপরদিকে, নিহত মো. নাহিদুল ইসলাম নাহিদ সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার কাদাকাটি ইউনিয়নের বাসিন্দা। তার বাবা মো. আব্দুল কাদের ও মা নূরনাহার খাতুন।

মরদেহ বহনকারী কাতার এয়ারওয়েজের ফ্লাইট কিউআর-০৪২৭ গত ৫ জুন স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ২৫ মিনিটে বৈরুত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করে। পরে কাতার এয়ারওয়েজের ফ্লাইট কিউআর-০৬৪২-এ মরদেহ দুটি আজ ভোরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়।

বাংলাদেশ দূতাবাস, বৈরুত নিহত দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মরদেহ দেশে পাঠানোর জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করে। দূতাবাস সংশ্লিষ্ট লেবানিজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ ও সমন্বয়ের মাধ্যমে সার্টিফায়েড পুলিশ রিপোর্ট, মরদেহ দেশে পাঠানোর অনুমতিপত্র এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করে।

আরো পড়ুন
ডায়াবেটিক রোগীরা কি সুজি খেতে পারবেন? জেনে নিন সঠিক নিয়ম

ডায়াবেটিক রোগীরা কি সুজি খেতে পারবেন? জেনে নিন সঠিক নিয়ম

 

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, লেবাননে কর্মরত বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে বৈরুতস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান অব্যাহত রয়েছে।

সরাসরি তহবিল পাবেন না এমপিরা

অনলাইন ডেস্ক
সরাসরি তহবিল পাবেন না এমপিরা

এমপিদের নির্বাচনী এলাকার উন্নয়নের জন্য সরাসরি থোক বরাদ্দ দেওয়ার আগের পদ্ধতি বাতিল করার পরিকল্পনা করছে সরকার। এর পরিবর্তে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের (পিএমও) অধীনে একটি কেন্দ্রীয় ব্যবস্থার মাধ্যমে উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন এ নিয়মে সংসদ সদস্যরা শুধু তাদের এলাকার জন্য উন্নয়ন প্রকল্পের প্রস্তাব দিতে পারবেন, তবে তহবিলের ওপর তাদের সরাসরি কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকবে না।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অভিপ্রায় ও নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে, এ জন্য ইতিমধ্যে একটি বিশেষ সেল গঠন করা হয়েছে। যার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তার অনুপস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব এ সেলের প্রধান হিসেবে কাজ করবেন বলে টিবিএসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

পিএমওর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সংসদ সদস্যরা তাদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বা নিজ এলাকার প্রয়োজনীয়তার ওপর ভিত্তি করে লিখিত প্রকল্প প্রস্তাব জমা দেবেন। তবে এ প্রস্তাবগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে অনুমোদিত হবে না; বরং সরকারের সার্বিক উন্নয়ন অগ্রাধিকার ও নীতিগত উদ্দেশ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হলে শুধু তা বিবেচনার সুযোগ থাকবে।

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এমপিরা তাদের নির্বাচনী এলাকায় অবকাঠামো উন্নয়ন ও নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণে বার্ষিক বড় অঙ্কের থোক বরাদ্দ পেতেন। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) মাধ্যমে এ অর্থ ব্যয় হতো এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে এমপিদের পছন্দানুযায়ী প্রকল্প নির্বাচিত হতো। এ ব্যবস্থার বিরুদ্ধে স্থানীয় পর্যায়ে প্রায় ব্যাপক দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠত। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে একেকজন এমপির জন্য বার্ষিক ৫ কোটি টাকা করে বরাদ্দ ছিল।

এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে, এমপি ও তার ঘনিষ্ঠ স্থানীয় নেতাকর্মীদের দুর্নীতি দূর হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এ জন্য প্রকল্প বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় এমপিসহ স্থানীয় দলীয় নেতাকর্মীদের কর্মীদের সংশ্লিষ্টতা ও প্রভাব প্রতিরোধ করা জরুরি হবে বলে মত দেন তারা।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ইতিমধ্যে প্রকল্প মূল্যায়ন ও নির্বাচনের জন্য একটি স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) তৈরি করেছে। পিএমওর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এমপিদের কাছ থেকে প্রস্তাব পাওয়ার পর বিশেষ এ সেল নির্দিষ্ট কাঠামোর অধীনে তা যাচাই-বাছাই ও মূল্যায়ন করবে।

এমপিদের প্রস্তাবগুলোর মধ্য থেকে সেলের বাছাই করা প্রস্তাবগুলো মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর পর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় তার অধীনস্থ সংস্থার মাধ্যমে প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করবে। প্রতি মাসের ৫ তারিখের মধ্যে প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন অগ্রগতি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীন এ সেলকে জানাবে। বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কোনো মন্ত্রণালয় বা বিভাগ কোনো ধরনের জটিলতার মুখে পড়লে সেটি এ সেলকে জানাবে এবং সেল তা সমাধান করবে।

সেল থেকে প্রকল্পের প্রস্তাব পাওয়ার পর, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে সাত দিনের মধ্যে গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে সেলকে জানাতে হবে। কোনো প্রস্তাব বাস্তবায়নযোগ্য বলে মনে হয়, তবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে তার যৌক্তিক কারণ ব্যাখ্যা করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সেলকে তা জানাতে হবে।

এর আগে সরকার গঠনের পরপরই এমপিদের জন্য শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানি সুবিধা বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেয় বিএনপির সংসদীয় কমিটি। আগামী বাজেটে আনুষ্ঠানিকভাবে এ সুবিধা বাতিল করতে যাচ্ছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

‘সংসদ সদস্যদের প্রতিশ্রুতি ও প্রত্যাশিত কর্মসূচি বাস্তবায়ন সেল’ নামে গঠিত এ সেল কার্যকর করতে সম্প্রতি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে যে রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরের অনুপস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এই সেলের প্রধানের দায়িত্ব পালন করবেন।

১৮ ফেব্রুয়ারি বিএনপি সরকার গঠনের পর থেকে এ পর্যন্ত বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও দপ্তরে এমপিদের কাছ থেকে যেসব উন্নয়ন চাহিদা জমা পড়েছে, সেগুলো যাচাই-বাছাই করে— যোগ্য প্রস্তাবগুলো এই সেলে পাঠাতে বলেছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।

এ সেলের কার্যক্রম নিয়ে গত ২৩ মে অনুষ্ঠিত এক সভার কার্যবিবরণী অনুযায়ী রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, ‘সংসদ সদস্যদের প্রতিশ্রুত ও জনগণের প্রত্যাশিত উন্নয়ন কর্মসূচিসমূহ দ্রুত, কার্যকর ও সুশৃঙ্খলভাবে বাস্তবায়নে—প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে এই সমন্বয় সেল গঠন করা হয়েছে। উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি করা ও মাঠ পর্যায়ের সমস্যা দ্রুত সমাধানের জন্য এ সেল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।’

এ বিষয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে এ সিদ্ধান্তটি অত্যন্ত গঠনমূলক হবে এবং বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ হবে। এত দিন ধরে নির্বাচনী এলাকার উন্নয়নের জন্য এমপিদের সরাসরি তহবিল বরাদ্দের যে চর্চা চলেছে, তা উন্নয়নের নামে আইনপ্রণেতা এবং তাদের স্থানীয় ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের সুযোগ করে দিয়েছিল।’

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে গঠিত সেলের মাধ্যমে এমপিদের প্রস্তাবগুলো যাচাই-বাছাইয়ের পর – প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন যাতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমেই হয় এবং বাস্তবায়ন পর্বে যাতে এমপিদের কোনো সম্পৃক্ততা না থাকে, তা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে কেনাকাটার ক্ষেত্রে সরকারি ক্রয় আইন (পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অ্যাক্ট) ও সংশ্লিষ্ট বিধিমালা অনুসরণ করতে হবে।’

যাত্রীকল্যাণ সমিতির প্রতিবেদন

ঈদযাত্রায় সড়কে নিহত ৪০২, আহত ১২৯৪

অনলাইন ডেস্ক
ঈদযাত্রায় সড়কে নিহত ৪০২, আহত ১২৯৪

ঈদুল আজহার সময় সারা দেশে ৩৯৪টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪০২ জন নিহত ও ১২৯৪ জন আহত হয়েছেন। একই সময়ে রেলপথে ৩১টি দুর্ঘটনায় ২৩ জন নিহত এবং ৩০ জন আহত হয়েছেন। তা ছাড়া নৌপথে ১৭টি দুর্ঘটনায় নিহত ও আহত যথাক্রমে ১৩ ও ১৬ জন। মোট ৪৪২টি দুর্ঘটনায় ৪৩৮ জন নিহত ও ১৩৪০ জন আহত হয়েছেন।

রবিবার (৭ জুন) সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী এসব তথ্য তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, প্রতিবছর দুই ঈদে বিপুলসংখ্যক মানুষ রাজধানী থেকে সারা দেশে যাতায়াত করে। ঈদকে কেন্দ্র করে সরকারের ১০-১২ দিনের তৎপরতা নয়, বরং ঈদযাত্রায় এত বিপুলসংখ্যক মানুষের জীবন বাঁচাতে, যাতায়াতের ভোগান্তি কমাতে স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন।

যাত্রীকল্যাণ সমিতির দেওয়া তথ্যানুযায়ী, ঈদযাত্রা শুরুর দিন ২১ মে থেকে ঈদ শেষে কর্মস্থলে ফেরা ৪ জুন পর্যন্ত ৩৯৪টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪০২ জন নিহত ও ১২৯৪ জন আহত হয়েছেন।

২০২৫ সালের ঈদুল আজহায় ৩৭৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৯০ জন নিহত ও ১১৮২ জন আহত হয়েছিলেন। দুই ঈদুল আজহায় তুলনা করলে সড়ক দুর্ঘটনা ৩ দশমিক ৯৫ শতাংশ, প্রাণহানি ৩ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ ও আহত ৯ দশমিক ৪৭ শতাংশ বেড়েছে।

প্রতিবেদনে দেখা যায়, বরাবরের মতো এবারও দুর্ঘটনার শীর্ষে রয়েছে মোটরসাইকেল। ১৫৩টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৫৯ জন নিহত ও ১৮০ জন আহত হয়েছেন। যা মোট সড়ক দুর্ঘটনার ৩৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ।

সংঘটিত দুর্ঘটনা বিশ্লেষণে দেখা যায়, মোট যানবাহনের ২৮ দশমিক ৯০ শতাংশ মোটরসাইকেল, ২১ দশমিক ৪০ শতাংশ ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান, ১৬ দশমিক ৫৬ শতাংশ বাস, ১২ দশমিক ৩৪ শতাংশ ব্যাটারিচালিত রিকশা, ৭ দশমিক ৮১ শতাংশ কার-মাইক্রো, ৬ দশমিক ৫৬ শতাংশ নছিমন-করিমন ও ৬ দশমিক ৪০ শতাংশ সিএনজিচালিত অটোরিকশা এসব দুর্ঘটনায় জড়িত ছিল। দুর্ঘটনার ৪৬ দশমিক ৪৪ শতাংশ মুখোমুখি সংঘর্ষ, ২৯ দশমিক ১৮ শতাংশ গাড়িচাপা বা ধাক্কা দেওয়ার ঘটনা, ১৭ দশমিক ২৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে, ১ দশমিক ৫২ শতাংশ ট্রেন-যানবাহনে ও ৫ দশমিক ৫৮ শতাংশ অন্যান্য অজ্ঞাত কারণে সংঘটিত হয়েছে।

বিশ্লেষণে আরো দেখা গেছে, মোট সংঘটিত দুর্ঘটনার ৫০ দশমিক ৫ শতাংশ জাতীয় মহাসড়কে, ৩০ দশমিক ৭১ শতাংশ আঞ্চলিক মহাসড়কে ও ১৪ দশমিক ৪৬ শতাংশ ফিডার রোডে সংঘটিত হয়।

এ ছাড়া সারা দেশে সংঘটিত মোট দুর্ঘটনার ২ দশমিক ৫৩ শতাংশ ঢাকা মহানগরীতে, দশমিক ২৫ শতাংশ চট্টগ্রাম মহানগরীতে ও ১ দশমিক ৫২ শতাংশ রেলক্রসিংয়ে সংঘটিত হয়েছে।

শপথ নিলেন নতুন সিইসি ও চার নির্বাচন কমিশনার | কালের কণ্ঠ