• ই-পেপার

বিশ্ব জলাভূমি দিবসের সংবাদ সম্মেলনে

নদী ধ্বংসে সহযোগিতা করছে সরকারি কর্মকর্তারা : ড. মুজিবুর

বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জরুরি নির্দেশনা

অনলাইন ডেস্ক
বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জরুরি নির্দেশনা

দেশের বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলা ও দুর্গত এলাকায় জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ে বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

আজ শনিবার অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখার পরিচালক আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে দেশের সব বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক, সিভিল সার্জন ও উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের এই নির্দেশনা পাঠানো হয়।

১০ জুলাই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ভার্চুয়াল সভায় এসব সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

বন্যাকবলিত প্রতিটি উপজেলা, জেলা ও বিভাগে অবিলম্বে ফোকাল পারসন মনোনয়ন দিতে হবে। তারা স্থানীয় কন্ট্রোল রুম ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সঙ্গে সার্বক্ষণিক সমন্বয় করবেন। দুর্গত মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতে আক্রান্ত এলাকায় দ্রুত মেডিকেল টিম গঠন করতে হবে। পর্যাপ্ত জরুরি ওষুধ, ওআরএস, স্যালাইন, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট মজুত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বন্যার সময় সাপের উপদ্রব বিবেচনায় পর্যাপ্ত অ্যান্টি-স্নেক ভেনম সংরক্ষণ করতে হবে।

স্থানীয়ভাবে সংকট দেখা দিলে পার্শ্ববর্তী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করে সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।

গর্ভবতী নারী ও শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিশেষ ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রয়োজনে প্রসূতিদের সরকারি ব্যবস্থাপনায় হাসপাতালে স্থানান্তর করতে পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে। বন্যা পরিস্থিতি ও স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে নিয়মিত গণমাধ্যমকে অবহিত করতে হবে। ১২ জুলাই এ বিষয়ে একটি জরুরি প্রেস ব্রিফিং আয়োজনের নির্দেশনা রয়েছে।

নিরবচ্ছিন্ন সেবা নিশ্চিতে বন্যাকবলিত এলাকার সব হাসপাতালে চিকিৎসক, নার্স, মিডওয়াইফ ও অন্য কর্মীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্টদের ছুটি বাতিলসহ প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। নির্দেশনাগুলো জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর করতে বলা হয়েছে।

মেডিক্যালের স্মৃতিবিজড়িত হোস্টেলে জুবাইদার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
মেডিক্যালের স্মৃতিবিজড়িত হোস্টেলে জুবাইদার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী
ছবি : পিএমও

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানের সঙ্গে আনন্দঘন কিছু সময় কাটিয়েছেন ঢাকা মেডিক্যালের কলেজের (ডিএমসি) কাজী ফজলুল হক মহিলা হোস্টেলের শিক্ষার্থীরা।

আজ শনিবার সকাল ১০টায় বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে ‘ডিএমসি ডে-২০২৬’- এর উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ডা. জুবাইদা রহমান কাজী ফজলুল হক মহিলা হোস্টেলে যান।

ঢাকা মেডিকেল কলেজে পড়াশোনার সময় ডা. জুবাইদা রহমান এই হোস্টেলেই থাকতেন।

উপস্থিত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দোয়া করি, আপনারা নিজ নিজ অবস্থানে প্রতিষ্ঠিত হোন।’

প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে হোস্টেলের মূল ফটকের সামনে আগে থেকেই অপেক্ষা করছিলেন শিক্ষার্থীরা।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ডা. জুবাইদা রহমানকে কাছে পেয়ে তারা আনন্দে উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠেন।

এ সময় স্মৃতিচারণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আগে যখন জুবাইদা রহমানকে মেডিকেলে নিয়ে আসতাম, তখন তাকে সামনের সিটে আমার পাশে বসিয়ে নিয়ে আসতাম। আজও আসার সময় তাকে বলেছি সামনের সিটে বসতে। পাশে বসিয়েই আপনাদের কাছে নিয়ে এসেছি।’

নিজের শিক্ষাজীবনের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন ডা. জুবাইদা রহমান। তিনি বলেন, ‘আজ অনেক স্মৃতি মনে পড়ছে। এই ক্যাম্পাসে আমার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অনেকটা সময় কেটেছে। আজ সেই দিনগুলোর কথা খুব মনে পড়ছে।’

বর্তমান শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমাদের সবসময় সামনের দিকে তাকাতে হবে। জীবনের টানাপোড়েনে অনেক ঘাত-প্রতিঘাত আসবে। মনের ভেতর রাগ-ক্ষোভ পুষে রাখলে চলবে না। উজ্জ্বল ভবিষ্যতের পথে এগিয়ে যেতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘মেডিকেল কলেজকে এমন জায়গায় নিয়ে যেতে হবে, যাতে সারা বিশ্ব এখানকার চিকিৎসাসেবা সম্পর্কে জানতে পারে। একদিন যেন এই মেডিকেল কলেজ নিয়ে আমরা গর্ব করতে পারি।’

সবশেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ডা. জুবাইদা রহমানের সঙ্গে সেলফি তোলেন শিক্ষার্থীরা।

জন্মের পর প্রত্যেকের একটি করে গাছ লাগানো উচিত : পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী

বাসস
জন্মের পর প্রত্যেকের একটি করে গাছ লাগানো উচিত : পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম। ছবি : সংগৃহীত

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেছেন, ‘গাছ আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। পরিবেশ ও প্রাণ-প্রকৃতি রক্ষায় আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ রোপণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জন্মের পর প্রত্যেক মানুষের অন্তত একটি করে গাছ লাগানো উচিত।’

আজ শনিবার (১১ জুলাই) বাগেরহাট জেলা পরিষদ অডিটরিয়ামে ‘বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যে বৃক্ষরোপণ অভিযান ও ৭ দিনব্যাপী বৃক্ষমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘পরিবেশ রক্ষা শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়, এটি প্রতিটি নাগরিকের নৈতিক দায়িত্ব। সড়কের পাশে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে, বাড়ির আঙিনায় বনজ, ফলদ ও ঔষধি গাছ লাগিয়ে আগামী প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও সবুজ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এখন বড় চ্যালেঞ্জ। পুরো দেশকে যেন ডাস্টবিনে পরিণত না করি। পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করতে হবে।’

স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের পরিবেশবান্ধব মানসিকতা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘পরিবার ও বিদ্যালয় থেকেই পরিবেশ সংরক্ষণের শিক্ষা শুরু হওয়া উচিত। গাছ লাগানোর অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে ছোটবেলা থেকেই।’

এর আগে প্রতিমন্ত্রী একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় নেতৃত্ব দেন। শহর প্রদক্ষিণ শেষে শোভাযাত্রাটি জেলা পরিষদ চত্বরে এসে শেষ হয়। পরে তিনি অতিথিদের সঙ্গে বৃক্ষমেলার বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন।

অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেনের সভাপতিত্বে পুলিশ সুপার হাছান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জয়দেব চক্রবর্তী, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোসা. আতিয়া খাতুন, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার এ টি এম আকরাম হোসেন তালিম, সদস্যসচিব মোজাফফর রহমান আলম, জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাদেকুল ইসলামসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, সাংবাদিক ও সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।

সামাজিক বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. শাহীন কবির জানান, ১১ থেকে ১৭ জুলাই পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মেলায় বিভিন্ন প্রজাতির চারা প্রদর্শন ও বিক্রয় কার্যক্রম চলবে।

রেশন সুবিধা পেতে যাচ্ছেন ১২-২০ গ্রেডের সরকারি চাকরিজীবীরা

বাসস
রেশন সুবিধা পেতে যাচ্ছেন ১২-২০ গ্রেডের সরকারি চাকরিজীবীরা

সরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ১২ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য রেশন সুবিধা চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সরকার মনে করছে, মূল্যস্ফীতির কারণে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের অনেক সরকারি চাকরিজীবী আর্থিক সংকটে পড়ছেন। অনেকেই ধার-দেনা ও ঋণের চাপে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হচ্ছেন, যা দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনে প্রভাব ফেলছে। রেশন সুবিধা চালু হলে এ চাপ কমবে এবং কর্মীদের কাজে মনোযোগ বাড়বে।

রেশন সুবিধা চালুর প্রস্তাবে অর্থ বিভাগ ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মতি মিলেছে। এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে গত জুন মাসে অর্থ বিভাগের সচিবকে নির্দেশনা দিয়ে চিঠি পাঠিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। চিঠিতে তিন মাস পর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও বাস্তবায়নকারী মন্ত্রণালয়গুলোর সচিবদের সঙ্গে বৈঠকে অগ্রগতি উপস্থাপনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রতি মাসে কাজের অগ্রগতিও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে জানাতে হবে।

দেশে ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে ১২ থেকে ২০ গ্রেডের সরকারি কর্মচারীদের জন্য রেশন সুবিধা চালুর প্রস্তাব দেন পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক। গত ৩ মে অনুষ্ঠিত জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনে এ প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়।

প্রস্তাবে বলা হয়, মূল্যবৃদ্ধি ও বিভিন্ন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় সরকারি কর্মচারীদের জীবনযাত্রা ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে। ধার-দেনা ও ঋণের কারণে মানসিক চাপ বাড়ছে এবং দায়িত্ব পালনে বিঘ্ন ঘটছে। রেশন সুবিধা চালু হলে চাপ কমে জীবনযাত্রা সহজ হবে ও দায়িত্ব পালনে মনোযোগ বাড়বে। তাই ১২ থেকে ২০ গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য রেশন সুবিধা প্রদানের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।

অর্থ বিভাগের আওতাধীন এ প্রস্তাব বাস্তবায়নের জন্য অর্থ বিভাগের সচিবকে চিঠি দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

চিঠিতে প্রস্তাবটি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করে অগ্রগতি জানাতে বলা হয়েছে। অর্থাৎ ১২ থেকে ২০ গ্রেডের সরকারি চাকরিজীবীদের রেশন সুবিধা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এটি স্বল্প, মধ্য বা দীর্ঘমেয়াদে বাস্তবায়ন করা হবে কি না, সে বিষয়ে অর্থ বিভাগ প্রতি মাসের ১০ তারিখের মধ্যে এবং তিন মাস অন্তর বৈঠকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে অবহিত করবে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাঠ প্রশাসন অধিশাখার উপ-সচিব মো. মামুন বলেন, ‘ডিসি সম্মেলনে যেসব উন্নয়ন কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হয়েছে, তা বই আকারে প্রকাশের কাজ করছে বিজি প্রেস। বইগুলো সংশ্লিষ্টদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। সব মন্ত্রণালয়ের সচিবদের চিঠি দিয়ে তাদের করণীয় জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রতি মাসের ১০ তারিখের মধ্যে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অগ্রগতি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাঠ প্রশাসন শাখায় পাঠাতে বলা হয়েছে।’

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ প্রস্তাব নিম্ন ও মধ্যম আয়ের সরকারি কর্মচারীদের জন্য স্বস্তির বার্তা হতে পারে।

তাদের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ স্বল্প আয়ের জনগোষ্ঠীর জন্যও ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। তবে প্রকল্প বাস্তবায়নে সঠিক পরিকল্পনা, পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ এবং স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা জরুরি।

১২ থেকে ২০ গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের রেশন সুবিধার আওতায় আনার উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ ও সরকারের সাবেক অতিরিক্ত সচিব ফিরোজ মিয়া।

তিনি বলেন, ‘রেশন সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাবটি ইতিবাচক এবং সময়োপযোগী। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির কারণে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জীবনযাপন বেশ কষ্টকর হয়ে উঠেছে। আবার অনেকে দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ার অজুহাত হিসেবে সরকারি সুযোগ-সুবিধার অভাবের কথা বলেন। রেশন সুবিধা চালু হলে এ ধরনের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সহজ হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘তবে সরকারকে রেশন বিতরণ ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পরিচালনা করতে হবে। অনিয়ম হলে বা প্রকৃত উপকারভোগীরা সুবিধা না পেলে তা হিতে বিপরীত হতে পারে।’

১২তম গ্রেডের পদগুলোর মধ্যে রয়েছে অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক, হিসাব সহকারী বা ক্যাশিয়ার, সাঁট-মুদ্রাক্ষরিক কাম কম্পিউটার অপারেটর, গুদামরক্ষক, নিরাপত্তা পরিদর্শক, ডাটা এন্ট্রি সুপারভাইজার, অডিটর এবং জুনিয়র ইনস্ট্রাক্টর।

২০তম গ্রেড সরকারি চাকরির সর্বনিম্ন বা চতুর্থ শ্রেণির স্তর। সাধারণত এসএসসি বা সমমান শিক্ষাগত যোগ্যতায় এসব পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। এ গ্রেডের পদগুলোর মধ্যে রয়েছে অফিস সহায়ক, নিরাপত্তা প্রহরী বা নৈশপ্রহরী, পিয়ন, মালী এবং ঝাড়ুদার বা পরিচ্ছন্নতাকর্মী।

বর্তমানে সরকার নির্ধারিত সুলভ মূল্যে রেশন সুবিধা পান ১০টি প্রতিষ্ঠানের সদস্যরা। এগুলো হলো- সশস্ত্র বাহিনী (সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী), বাংলাদেশ পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী, কারা অধিদপ্তর, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই), স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ), দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।

পুলিশ বাহিনীতে চার সদস্যের একটি পরিবারের জন্য মাসিক রেশন বরাদ্দ সাধারণত ২০ কেজি চাল, ২০ কেজি আটা, ২ কেজি ডাল, সাড়ে ৪ লিটার সয়াবিন তেল এবং ২ কেজি চিনি।

এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সরকারি কর্মচারীরা রেশনসহ বিভিন্ন ভাতার দাবিতে আন্দোলন করেন। সে সময় খাদ্য উপদেষ্টা আলী ইমাম রেশন সুবিধার পক্ষে মত দিয়ে অর্থ বিভাগে চিঠি পাঠান। এরপর থেকেই বিষয়টি নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনায় রয়েছে।

নদী ধ্বংসে সহযোগিতা করছে সরকারি কর্মকর্তারা : ড. মুজিবুর | কালের কণ্ঠ