• ই-পেপার

বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যানের বাসভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎ

১৭ জেলায় ঝড়-বৃষ্টির শঙ্কা, নদীবন্দরে সতর্কসংকেত

অনলাইন ডেস্ক
১৭ জেলায় ঝড়-বৃষ্টির শঙ্কা, নদীবন্দরে সতর্কসংকেত

দেশের ১৭ জেলায় দুপুরের মধ্যে ঝোড়ো হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সংস্থাটি জানিয়েছে, ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে হতে পারে এই ঝড়। 

মঙ্গলবার ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরের জন্য দেওয়া পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে। 

এতে বলা হয়েছে, রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, যশোর, কুষ্টিয়া, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ/দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টিসহ অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

রাজধানীর যেসব এলাকায় আজ ৮ ঘণ্টা গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে

অনলাইন ডেস্ক
রাজধানীর যেসব এলাকায় আজ ৮ ঘণ্টা গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে

পুরাতন বিতরণ লাইন পরিবর্তন ও সার্ভিস লাইন প্রতিস্থাপন কাজের জন্য রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ৮ ঘণ্টা গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাজধানীর ফ্রি স্কুল স্ট্রিট, ভূতের গলি, কিচেন রোড, আল আমিন রোড ও কাঠালবাগান এলাকায় সরবরাহ বন্ধ থাকবে।

তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রাজধানীর ফ্রি স্কুল স্ট্রিট, হাতিরপুল, পুকুরপাড় ও ধানমন্ডি এলাকায় লিকেজযুক্ত পুরাতন বিতরণ লাইন পরিবর্তন এবং সার্ভিস লাইন প্রতিস্থাপনের কাজ করা হবে।

এ কারণে আগামীকাল ২১ জুলাই দুপুর ১২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত মোট ৮ ঘণ্টা ফ্রি স্কুল স্ট্রিট, ভূতের গলি, কিচেন রোড, আল আমিন রোড ও কাঠালবাগান এলাকার আবাসিক ও বাণিজ্যিক শ্রেণির গ্রাহকদের গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে।

এ ছাড়া, আশপাশের এলাকায় গ্যাসের স্বল্পচাপ বিরাজ করতে পারে বলে জানানো হয়েছে।

সাময়িক এ অসুবিধার জন্য গ্রাহকদের কাছে আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করেছে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন।

সরকারের ওপর জ্বালানি ভর্তুকির বিশাল বোঝা

যুদ্ধের প্রভাবে দাম বেড়েছে বিশ্ববাজারে

অনলাইন ডেস্ক
সরকারের ওপর জ্বালানি ভর্তুকির বিশাল বোঝা

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে কয়েক মাস ধরেই জ্বালানি আমদানিতে ক্ষতির মধ্যে আছে সরকার। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্র জানান, চলতি বছরে জ্বালানি তেলের জন্য ভর্তুকি চেয়ে এরই মধ্যে সরকারের জ্বালানি বিভাগের কাছে পাঁচবার চিঠি পাঠানো হয়েছে। সে চিঠিতে জুনের ২৩ তারিখ পর্যন্ত চার মাসে প্রায় ১৯ হাজার কোটি টাকার ভর্তুকিও চাওয়া হয়। বিষয়টি নিয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও বিপিসির সঙ্গে বৈঠকও করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)।

সরকার যখন বিশাল পরিমাণ এই ভর্তুকির চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে, সেখানে নতুন করে বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যবৃদ্ধির বিষয়টি নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। নতুন করে এ বাড়তি মূল্যের চাপ সামাল দিতে সরকার যদি ভর্তুকি না দেয়, তখন দেশের বাজারে আবারও জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি পাবে। আর এমন হলে মূল্যস্ফীতিও বাড়বে। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে গতকাল বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের মূল্য আবারও বৃদ্ধি পেয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে তেল পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় ব্রেন্ট ক্রুডের মূল্য ২ শতাংশের বেশি বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ছাড়িয়েছে ৯০ ডলারের বেশি।

সেপ্টেম্বরে সরবরাহকৃত তেলের মূল্য চুক্তি অনুসারে ২ দশমিক শূন্য ৯ ডলার বা ২ দশমিক ৩৭ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯০ দশমিক ১৯ ডলারে। এর আগে যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে ৩০ এপ্রিল তেলের মূল্য ব্যারেলপ্রতি সর্বোচ্চ ১২৬ ডলারে ওঠে। সে সময় তেল জোগাড় করতে তেল আমদানিকারক দেশগুলোকে হিমশিম খেতে হয়।

সরকারের আমদানিকৃত তেলের মধ্যে ৭০ শতাংশই ডিজেল। আর সরবরাহকৃত জ্বালানির মধ্যে অকটেন ও পেট্রোলের পরিমাণ কম হওয়ায় সামান্য ক্ষতি হলেও তা পুষিয়ে নেওয়া যায়। ফলে ডিজেলের দামের ওপরও সবকিছু নির্ভর করে।

বিপিসি সূত্র বলছেন, জ্বালানি বিভাগ গত এক মাসের মধ্যে তেলের জোগান বৃদ্ধি করেছে। এতে বর্তমানে দেশে দুই মাসের জ্বালানির জোগান আছে। বিপিসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ডিজেলের মূল্য আগে ছিল ১১৪ টাকা। অন্তর্বর্তী সরকার এবং নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর কিছু প্রণোদনা দিয়ে তা কমিয়ে ১০০ টাকায় নিয়ে আসা হয়। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের সময় এ মূল্য বৃদ্ধি করে ১১৫ টাকায় নিয়ে আসা হয়। সে ক্ষেত্রে মূল্য ১ টাকা বাড়ানো হয়।

যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে ডিজেলে প্রতি লিটারে ৩০ থেকে ৪০ টাকা করে ক্ষতি হতো। বিপিসিকে সে সময় সরকার কোনো ভর্তুকি দেয়নি। এরই মধ্যে সরকারের জ্বালানি বিভাগের কাছে ভর্তুকি চেয়ে বিপিসি কর্তৃপক্ষ পাঁচ দফায় চিঠি দিয়েছে। এর মধ্যে চতুর্থ দফার চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে জ্বালানি বিভাগ অর্থ মন্ত্রণালয় বরাবর সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকির কথা উল্লেখ করে। মূলত মার্চ, এপ্রিল, মে-এ তিন মাসে বিপিসির যে পরিমাণ আর্থিক ক্ষতি হয়, তার কথা উল্লেখ করে জ্বালানি বিভাগকে চিঠি লেখা হয়েছিল। সম্প্রতি জ্বালানি বিভাগ বরাবর আরও একটি চিঠি পাঠানো হয়।

সে চিঠিতে জুনের ২৩ তারিখ পর্যন্ত চার মাসে প্রায় ১৯ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি চাওয়া হয়। সর্বশেষ ২ জুলাই তিন মাসে সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি চেয়ে জ্বালানি বিভাগ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়েছে। আর পঞ্চম চিঠিটি বোর্ডের সুপারিশসহ জ্বালানি বিভাগে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে জ্বালানি বিভাগ ব্যবস্থা নেবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বিপিসির বিভিন্ন প্রকল্প যেমন ইস্টার্ন রিফাইনারি ইউনিট-২ বাস্তবায়ন, ঢাকা-চট্টগ্রাম এসপিএম এবং জেট অয়েল পাইপলাইন নির্মাণের জন্য যে অর্থ রাখা আছে সেখান থেকে প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা তুলে জ্বালানি তেলের সরবরাহ এখন স্বাভাবিক রাখা হয়েছে। আশা করা হয়েছিল যুদ্ধ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে হয়তো পরিস্থিতি কিছুটা ভালো হবে। কিন্তু বাস্তবে তেমন হয়নি। জানা গেছে, বিপিসির ক্ষতির বিষয়টি সম্পর্কে আইএমএফও অবগত আছে। বিষয়গুলো নিয়ে আইএমএফ কর্তৃপক্ষও কথা বলছে।

বিপিসির পরিচালক (অর্থ) ও যুগ্মসচিব নাজনীন পারভীন গতকাল বলেন, ‘তেলের মূল্য বৃদ্ধি বা কমানোর বিষয়টি আমাদের হাতে নেই। আমরা এ ব্যাপারে চলতি বাজার অনুযায়ী যেমন মূল্য হওয়া উচিত সে ব্যাপারে সুপারিশ পাঠাই। জ্বালানি মন্ত্রণালয়ই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়। অর্থনৈতিক অবস্থা বিবেচনায় জ্বালানি বিভাগ জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি বা হ্রাসের বিষয়টি ঘোষণা করে। এ ধরনের সুপারিশ আমরা প্রতি মাসেই দিয়ে থাকি। এখন বিশ্ববাজারে তেলের যে মূল্য তা স্বাভাবিক নয়। এ ক্ষেত্রে ভর্তুকি দিলেও সরকারের পক্ষে বাড়তি মূল্যের বোঝা সামাল দেওয়া কষ্টকর হয়ে যাবে। যুদ্ধের কারণে আমরা সবাই কষ্টে আছি। বাজারে প্রতি লিটার ডিজেলের মূল্য ১১৫ টাকা এ পর্যন্ত দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।’

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ম. তামিম বলেন, ‘ডিজেলের মূল্য বৃদ্ধি পেলে স্বাভাবিকভাবেই পরিবহন খাতে মূল্য বৃদ্ধি পাবে। আর পণ্য বহনকারী সব খাতেই এর প্রভাব পড়বে। এমন হলে তা মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করবে। পরিবহনে ভাড়া বৃদ্ধির অসিলায় পণ্যের মূল্য অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে বৃদ্ধি পায়। আর এ পরিস্থিতি সামলানোর জন্য সরকারের কোনো ব্যবস্থা নেই। হিসাব করে জ্বালানি তেলের মূল্য কী পরিমাণ বৃদ্ধি হবে তা বের করা যায়; কিন্তু এটি বের করে সরকার যে তা বাস্তবায়ন করবে সে রকম কোনো ম্যাকানিজম নেই। তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে সরকারকে যদি আবার ভর্তুকি দিতে হয় তাহলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।’

জ্বালানি আমদানিতে ব্যয় ২ বিলিয়ন ডলার : বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর জ্বালানি আমদানিতে প্রায় ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। গতকাল চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় তিনি এ কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, ‘বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি আমদানির ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদনে খরচ বেড়েছে। এতে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।’

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন

সুশীলরা দুর্গত মানুষের পাশে থাকেন না কেন?

অনলাইন ডেস্ক
সুশীলরা দুর্গত মানুষের পাশে থাকেন না কেন?

ড. মুহাম্মদ ইউনূস। শান্তিতে নোবেলজয়ী। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন দেড় বছর। ক্ষমতায় থাকার সময় দেশের মানুষের ভাগ্যবদলের অনেক গল্প শুনিয়েছিলেন। দেশকে এগিয়ে কোথায় নিয়ে যাবেন তার লম্বা ফিরিস্তি দিতেন প্রতিদিন। ইউনূস আমলে দেড় বছরে দেশের কী হাল হয়েছে তা এখন সবাই জানে। তা নিয়ে আজ আলোচনা করতে চাই না। কিন্তু দেশদরদি এই শান্তির দূত আজ কোথায়?

বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই আকস্মিক বন্যায় চট্টগ্রাম, পার্বত্য তিন জেলাসহ দেশের প্রায় অর্ধেক জনপদ ডুবে গেল। চট্টগ্রাম বিভাগে টানা বৃষ্টিতে সৃষ্ট বন্যা ও পাহাড় ধসে মৃতের সংখ্যা শতাধিক। নদীর পানি বৃদ্ধি, আকস্মিক বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ায় পাঁচ জেলার লাখ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়েছে ব্যাপকভাবে।

সরকার, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, ব্যবসায়ীরা দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন যে-যার মতো করে। যার যতটুকু সামর্থ্য আছে তা নিয়ে সর্বস্তরের মানুষ পাশে দাঁড়িয়েছে বন্যাকবলিতদের। কিন্তু এ দুর্যোগে অসহায় মানুষ শান্তিতে নোবেলজয়ীর কাছ থেকে একটা সান্ত্বনার বাণীও শুনতে পায়নি। দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানো দূরের কথা, তাদের জন্য একটু সহানুভূতি প্রকাশ পর্যন্ত করেননি সাবেক প্রধান উপদেষ্টা। এ বিষয়টি আলোচনার দাবি রাখে তিনটি কারণে।

প্রথমত ড. ইউনূসের জন্মস্থান চট্টগ্রাম। তিনি চট্টগ্রামের সন্তান। এখানেই তার বেড়ে ওঠা, শিক্ষা। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি তার কর্মজীবন শুরু করেছিলেন। চট্টগ্রামের জোবরা গ্রামে ক্ষুদ্র ঋণের ওপর গবেষণা শুরু করেন। এখান থেকেই প্রতিষ্ঠিত হয় গ্রামীণ ব্যাংক। এই গ্রামীণ ব্যাংকই তাকে সারা বিশ্বে ব্যাপক পরিচিতি এনে দেয়। কাজেই চট্টগ্রামের প্রতি, সেখানকার মানুষের প্রতি তার আলাদা ভালোবাসা ও দরদ থাকাটাই স্বাভাবিক। এজন্যই প্রধান উপদেষ্টা হওয়ার পর তিনি যখন খুঁজে খুঁজে চট্টগ্রামের লোকদের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে বসাতেন, তখন আমরা কেউ কিছু মনে করিনি। এলাকাপ্রীতি সবারই থাকে, তিনি যতই আন্তর্জাতিক খেলোয়াড় হোন না কেন। প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে তিনি একাধিকবার চট্টগ্রামে গেছেন, সেখানকার মানুষকে আপনজন হিসেবে সম্বোধন করেছেন। তাই এবার চট্টগ্রামে যখন সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যা হলো, তখন আমরা আশা করেছিলাম তিনি চট্টগ্রামে ছুটে যাবেন।

দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াবেন। অসহায় মানুষকে তার জাদুকরী ভাষণে উদ্বুদ্ধ করবেন। তার মিষ্টি কথা শুনে বন্যায় সব হারানো মানুষ তাদের কষ্ট ভুলে যাবে। কিন্তু কোথায় কী? তিনি চট্টগ্রাম গেলেন না। তিনি ঢাকায় ইউনূস সেন্টারের নিত্যনতুন প্রকল্প নিয়ে ব্যস্ত থাকলেন। দ্বিতীয়ত ড. মুহাম্মদ ইউনূস সব সময় দারিদ্র্যমোচনের কথা বলেন। তিনি নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন দারিদ্র্যমোচনের মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য।

২০০৬ সালে পুরস্কার পেয়ে ড. ইউনূস বলেছিলেন, তিনি দারিদ্র্যকে জাদুঘরে পাঠাবেন। ইউনূসের নোবেল পুরস্কার পাওয়ার কুড়ি বছর পেরিয়ে গেছে, বিশ্ব দারিদ্র্যমুক্ত হয়নি। বাংলাদেশে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা বেড়েছে। সবচেয়ে লক্ষণীয় বিষয় হলো, ড. ইউনূস প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর বাংলাদেশে নতুন করে দেড় কোটি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে গেছে। দারিদ্র্যমোচনের লক্ষ্যে দেশ পরিচালনার বিরাট সুযোগ পেয়ে ইউনূস তা কাজে লাগাতে পারেননি। তাই চট্টগ্রামের বন্যা দারিদ্র্যমোচনে ড. ইউনূসের আন্তরিকতা প্রমাণের একটি সুযোগ তৈরি করেছিল। তিনি প্রমাণ করতে পারতেন যে সবকিছু তিনি নিজের নামযশের জন্য করেন না। গরিব ও প্রান্তিক মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে তিনি আন্তরিক। কিন্তু শান্তির দূতের নীরবতা আর উদাসীনতা আরেকবার প্রমাণ করেছে, তিনি যা কিছু করেন নিজের স্বার্থে।

বন্যাদুর্গত বা দুর্যোগে বিপন্ন মানুষের প্রতি তার কোনো দায়বদ্ধতা ও সহানুভূতি নেই। তৃতীয়ত ইউনূসের ২০টির বেশি সামাজিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। যার সবকটিতেই দুর্যোগ নিরসনে বিভিন্ন ধরনের উদ্যোগ নেওয়ার অঙ্গীকার করা হয়েছে। কিন্তু চট্টগ্রামের স্মরণকালের ভয়াবহ দুর্যোগে ইউনূস নিজেই প্রমাণ করলেন, তার এসব প্রতিষ্ঠানের প্রধান লক্ষ্য হলো গরিব মানুষকে দেখিয়ে ব্যবসা করা। দারিদ্র্যমোচন বা মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়নে তার এবং তার প্রতিষ্ঠানগুলোর কোনো অবদান নেই। ড. মুহাম্মদ ইউনূস হলেন বাংলাদেশের সুশীল সমাজের প্রতীক।

তিনি এ দেশের সুশীলদের অবিসংবাদিত নেতা। বিশেষ করে যেসব সুশীল উন্নয়নের ফেরিওয়ালা, তাদের পথপ্রদর্শক ইউনূস। এই সুশীলরা উন্নয়নের কাহিনি শুনিয়ে, দরিদ্র মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের কথা বলে বিদেশ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা আনেন। নিজেরা বিলাসবহুল জীবনযাপন করেন। এসব উন্নয়নের দোকানে সাধারণ মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন না হলেও সুশীলরা জাতির বিবেক বনে যান। তারা সুশাসন, মানবাধিকারের কথা বলেন, রাজনীতিবিদদের চরিত্র হনন করেন।

উন্নয়ন ব্যবসা অব্যাহত রাখতে, দেশের অর্থনীতি যেন স্বাবলম্বী না হয় সেজন্য বেসরকারি খাতের বিরুদ্ধে অপপ্রচার করেন। উন্নয়নের নামে তারা দেশকে চিরস্থায়ীভাবে বিদেশি ঋণ আর অনুদানের চক্রে বন্দি রাখতে চান। কিন্তু দেশের মানুষের বিপদে, দুর্যোগে তাদের পাশে পাওয়া যায় না। এবারে চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন স্থানে বন্যা এ সত্য নতুন করে সামনে নিয়ে এলো। শুধু এ বন্যা নয়, আমাদের সুশীলরা মানুষের কোনো সমস্যায় পাশে দাঁড়ান না। তাদের একমাত্র কাজ হলো অন্যের সমালোচনা করা। সুশীলরা যেভাবে কথা বলেন তাতে মনে হয়, একমাত্র তারাই সাধু আর সবাই খারাপ। কিন্তু এই সাধুরা দেশের সব সংকটে কেন শীতনিদ্রায় যান, তার উত্তর নেই।

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন