• ই-পেপার

৮ পদের ওষুধের নিবন্ধন বাতিল করল ঔষধ প্রশাসন

চলমান দুর্যোগে প্রশাসনকে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনা

অনলাইন ডেস্ক
চলমান দুর্যোগে প্রশাসনকে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চলমান দুর্যোগে প্রশাসনকে দৃঢ়ভাবে জনগণের পাশে থাকার নির্দেশনা দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ড. মাহদী আমিন।

আজ শুক্রবার (১০ জুলাই) সরকারি বাঙলা কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের প্রথম পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা জানান।

মাহদী আমিন বলেন, ‘বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থাকার জন্য বিএনপির নেতাকর্মীদেরও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সরকার চেষ্টা করছে।’

ক্ষতিগ্রস্তদের প্রশাসনসহ রাষ্ট্রের প্রতিটি অনুষঙ্গ সাহায্য সামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রীর এ উপদেষ্টা।

এসময় মানবিক মূল্যবোধেরভিত্তিতে সবাই একসঙ্গে দেশ গড়তে নির্বাচিত সরকারকে সহযোগিতার আহ্বান জানান মাহদী আমিন।

টানা বৃষ্টি কত দিন, জানাল আবহাওয়া অফিস

অনলাইন ডেস্ক
টানা বৃষ্টি কত দিন, জানাল আবহাওয়া অফিস

সারা দেশে গত কয়েক দিন ধরে ভারি বর্ষণ হচ্ছে। এর মধ্যে চট্টগ্রামে পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। সেই সঙ্গে বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে চট্টগ্রাম। এ ছাড়া দেশের উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাঁচ নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এসব অঞ্চলে যেকোনো মুহূর্তে বন্যা হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে দুঃসংবাদ দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সংস্থাটি জানিয়েছে, আগামী পাঁচ দিন দেশজুড়ে টানা ভারি বর্ষণ হবে। 

শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী তিন দিন অর্থাৎ সোমবার সকাল ৯টা পর্যন্ত রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে সারা দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে অতিভারি বর্ষণ হতে পারে। এ সময়ের মধ্যে সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

এ ছাড়া সোমবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং রংপুর, ময়মনসিংহ, ঢাকা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে সারা দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে ভারি বর্ষণ হতে পারে। এ দিন সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে ও রাতে প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

পরদিন মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, রংপুর, ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে সারা দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি বর্ষণ হতে পারে। এ সময়ে সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।

বর্ধিত পাঁচ দিনের আবহাওয়ার অবস্থা সম্পর্কে বলা হয়েছে, এ সময়ের মধ্যে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা কমতে পারে।

আবহাওয়া অফিস জানায়, উত্তরপশ্চিম মধ্যপ্রদেশ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় বিরাজমান সুস্পষ্ট লঘুচাপটি দুর্বল হয়ে বর্তমানে লঘুচাপ আকারে মধ্য উত্তরপ্রদেশ এবং তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। এটি ক্রমশ দুর্বল হয়ে যেতে পারে। উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংগ্ন এলাকায় বায়ুচাপের তারতম্যের আধিক্য বিরাজ করছে। মৌসুমি বায়ুর বর্ধিতাংশের অক্ষ পাঞ্জাব, হরিয়ানা, লঘুচাপের কেন্দ্রস্থল, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এর একটি বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে প্রবল অবস্থায় বিরাজমান আছে।

এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি ঝরেছে চট্টগ্রামে ২১১ মিলিমিটার। 

বরিশালে থানায় হামলা

সদস্যদের ওপর হামলার নিন্দা জানাল পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন

অনলাইন ডেস্ক
সদস্যদের ওপর হামলার নিন্দা জানাল পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন

বরিশালের আগৈলঝাড়া থানায় গুজবকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হামলা, ভাঙচুর এবং দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন। একই সঙ্গে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, গুজবের উৎস শনাক্ত এবং হামলায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। 

সংগঠনটির সভাপতি কামরুল হাসান তালুকদার এবং সাধারণ সম্পাদক মনিরুল হক ডাবলু স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে বৃহস্পতিবার রাতে এই নিন্দা জানানো হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ৮ জুলাই সন্ধ্যায় নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে আগৈলঝাড়া থানা পুলিশ চুরি মামলার আসামি রিয়াজ ফকিরকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তার রিয়াজ বাকাল ইউনিয়নের ফুলশ্রী গ্রামের বাসিন্দা।

পুলিশ জানায়, আসামি রিয়াজ ফকির মাদকাসক্ত ছিলেন এবং তার বিরুদ্ধে মাদক মামলাও রয়েছে। থানার হাজতে থাকাকালীন মাদকের প্রভাবে তিনি নিজেই নিজের মাথায় আঘাত করে রক্তাক্ত ও অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে রাত ১১টার দিকে তাকে প্রথমে আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে এবং পরবর্তীতে অবস্থার অবনতি হলে গভীর রাতে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়।

পরদিন বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুরে এলাকায় রিয়াজ ফকিরের মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়লে একদল উত্তেজিত জনতা প্রকৃত তথ্য যাচাই না করেই আগৈলঝাড়া থানায় হামলা ও ভাঙচুর চালায়। এ সময় তারা কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের ওপরও আক্রমণ করে। বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন এই ঘটনাকে আইন-শৃঙ্খলার জন্য চরম হুমকিস্বরূপ এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও বিচারপ্রক্রিয়ার ওপর সরাসরি আঘাত বলে অভিহিত করেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনের পক্ষ থেকে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন, গুজবের উৎস শনাক্ত এবং এই হামলার পেছনে কোনো পরিকল্পিত উসকানি ছিল কিনা তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করার দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে হামলায় জড়িত প্রত্যেক ব্যক্তিকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক প্রচারণা বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়। অ্যাসোসিয়েশন দেশের সব নাগরিককে যাচাই-বাছাই ছাড়া যেকোনো তথ্য বা গুজবে বিভ্রান্ত না হয়ে আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রাখার এবং শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে সহযোগিতা করার অনুরোধ জানিয়েছে।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, কোনো ঘটনার প্রকৃত তথ্য উদঘাটনের আগেই আইন নিজের হাতে তুলে নেয়া বা গুজবের ভিত্তিতে সহিংসতা সৃষ্টি করা কোনো সভ্য ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের সংঘবদ্ধ হামলা বা উসকানি পুলিশের মনোবল দুর্বল করার অপচেষ্টা মাত্র। তবে পুলিশ বাহিনী অতীতের ন্যায় ভবিষ্যতেও পেশাদারিত্ব ও নিষ্ঠার সঙ্গে দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দায়িত্ব পালন করে যাবে বলে প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।

পার্বত্য চট্টগ্রামে বন্যা ও পাহাড়ধস মোকাবেলায় সেনাবাহিনীর উদ্ধার-ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত

বাসস
পার্বত্য চট্টগ্রামে বন্যা ও পাহাড়ধস মোকাবেলায় সেনাবাহিনীর উদ্ধার-ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত
ছবি : আইএসপিআর

পার্বত্য চট্টগ্রামে চলমান ভারি বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড়ধসের ফলে সৃষ্ট দুর্যোগ মোকাবেলায় স্থানীয় প্রশাসন, অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাসমূহের সঙ্গে সমন্বয় করে উদ্ধার, ত্রাণ সহায়তা, নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর এবং যোগাযোগব্যবস্থা পুনরুদ্ধারে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, দুর্যোগের কারণে পার্বত্য অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ধস ও জলাবদ্ধতার ফলে সড়ক যোগাযোগ বিঘ্নিত হলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা প্রয়োজনীয় প্রকৌশল সরঞ্জাম ও ভারী যন্ত্রপাতির সহায়তায় মাটি ও ধ্বংসাবশেষ অপসারণ করে যোগাযোগব্যবস্থা পুনঃস্থাপনে কাজ করছেন। একই সঙ্গে ভূমিধসের উচ্চঝুঁকিতে থাকা এলাকা থেকে প্রায় ২২১টি পরিবারকে নিরাপদ আশ্রয়ে স্থানান্তর করা হয়েছে।

এ ছাড়া, দুর্গম এলাকায় আটকে পড়া পর্যটকদের নিরাপদে উদ্ধারে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। এ পর্যন্ত বান্দরবান থেকে ১৪০ জন এবং সাজেকে আটকে পড়া প্রায় ৬০০ জন পর্যটকের মধ্যে প্রথম ধাপে ১৫০ জনকে স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। অবশিষ্ট পর্যটকদের পর্যায়ক্রমে নিরাপদ স্থানে স্থানান্তরের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে সেনাবাহিনী বিভিন্ন এলাকায় রান্না করা খাবার, শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি এবং অন্যান্য জরুরি ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পাহাড়ি ও বাঙালি পরিবারের মাঝে চাল, ডাল, তেল, আলুসহ প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী বিতরণ অব্যাহত রয়েছে।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় উদ্ধার, ত্রাণ সহায়তা, যোগাযোগ পুনঃস্থাপন ও পুনর্বাসন কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে বলেও জানায় আইএসপিআর।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সর্বদা দেশের যেকোনো দুর্যোগ ও জাতীয় সংকটে জনগণের জীবন, সম্পদ ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো সুরক্ষায় সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, নিষ্ঠা ও দায়িত্ববোধের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে।