• ই-পেপার

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি আবেদন শুরু ২৮ জুলাই

কমছে পোশাক রপ্তানি

বেশির ভাগ ইউরোপের দেশে রপ্তানি কমছে অপ্রচলিত বাজারেও রপ্তানিতে ভাটা

অনলাইন ডেস্ক
কমছে পোশাক রপ্তানি

বিশ্ববাজারের অর্থনৈতিক মন্দা, মূল্যস্ফীতি ও ভূ-রাজনৈতিক সংকটের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতে। দেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান এই উৎসে বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে মে পর্যন্ত গত ১১ মাসে তৈরি পোশাক খাত থেকে আয় হয়েছে ৩ হাজার ৫৩১ কোটি ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের ৩ হাজার ৬৫৬ কোটি ডলারের তুলনায় ৩ দশমিক ৪১ শতাংশ কম। এ খাতের প্রধান বাজার ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে কমেছে ৪ দশমিক ৮৮ শতাংশ। ইউরোপের বেশির ভাগ দেশেই বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি কমেছে। অপ্রচলিত বাজারেও পোশাক রপ্তানি কমছে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, প্রধান এবং অপ্রচলিত উভয় বাজারেই দেশের পোশাক রপ্তানি আশঙ্কাজনক হারে কমছে। ইউরোপের প্রধান বাজারসহ বিভিন্ন দেশের বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি সামগ্রিক কিংবা পণ্যভিত্তিক (নিট ও ওভেন) ক্যাটাগরিতে কমেছে। খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ইউরোপ ও আমেরিকার বাজারে ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতা কমা এবং দেশের অভ্যন্তরে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে বিশ্ববাজারে তীব্র প্রতিযোগিতার মুখে পড়েছে বাংলাদেশ।

ইপিবির পরিসংখ্যানে দেখা যায়, বাংলাদেশের পোশাকের একক বৃহত্তম গন্তব্য ইউরোপীয় ইউনিয়নে রপ্তানি পরিস্থিতি সবচেয়ে বেশি উদ্বেগজনক। পুরো পোশাক রপ্তানির ৪৯ দশমিক ১৫ শতাংশই যায় এই অঞ্চলে। চলতি অর্থবছরের জুলাই-মে মেয়াদে ইইউ-তে তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে ১৭ দশমিক ৩৬ বিলিয়ন ডলারের, যা আগের বছরের ১৮ দশমিক ২৪ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় ৪ দশমিক ৮৮ শতাংশ কম। ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে বেলজিয়াম (৬.১৪%), ক্রোয়েশিয়া (৮২.৩৭%), চেক প্রজাতন্ত্র (৪.০২%), ডেনমার্ক (১২.৫৬%),

ফিনল্যান্ড (২.৩৯%), ফ্রান্স (৯.৯০%), জার্মানি (১২.৭১%), গ্রিস (৪.৪৯%), ইতালি (৮.৫৬%), আয়ারল্যান্ড (১১.২৬%), লুক্সেমবার্গ (১৮.৫০%), মাল্টা (২৫.৮৩%), পর্তুগাল (৪.৩৯%), রোমানিয়া (২৩.৯০%), স্লোভাকিয়া (১৪.৪২%), সুইডেন (২.৮৩%) শতাংশ কমেছে। এ ছাড়া অপ্রচলিত বাজারের দেশগুলোর মধ্যে অস্ট্রেলিয়া (১০.০৯%), চিলি (৪.৫৪%), ভারত (১১.১৩%), জাপান (৬.৫৮%), দক্ষিণ কোরিয়া (১১.৭২%), মেক্সিকো (১২.৯৪%), নিউজিল্যান্ড (৯.২৮%), রাশিয়া (৩০.৩৬%), তুরস্ক (১৬.৬০%) কমেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরে যুক্তরাজ্যের বাজারেও বাংলাদেশ নেতিবাচক প্রবৃদ্ধির মুখে পড়েছে। এই বাজারে পোশাক রপ্তানি শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ কমে ৪.০১ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে, যা গত বছর ছিল ৪.০৩ বিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে, দ্বিতীয় বৃহত্তম একক বাজার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি প্রায় স্থবির হয়ে আছে। চলতি অর্থবছরের ১১ মাসে ওভেনের বাজার কিছুটা কমলেও সার্বিকভাবে প্রবৃদ্ধি ০.০৪ শতাংশ কমে প্রায় গত বছরের কাছাকাছি (৭.০২ বিলিয়ন ডলার) রয়েছে।

বাংলাদেশ গার্মেন্ট বায়িং হাউস অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিবিএ) উপদেষ্টা মোহাম্মদ মফিজ উল্লাহ বাবলু বলেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ধীরগতি, ক্রেতাদের সতর্ক ক্রয়নীতি, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানি সংকট এবং প্রতিযোগী দেশগুলোর আগ্রাসি বাজার কৌশল ও সর্বোপরি নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের সিদ্ধান্তের ধীরগতির কারণে পোশাক খাত এ সমস্যায় পড়ছে।

তিনি বলেন, চ্যালেঞ্জ যতই বড় হোক, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের সম্ভাবনা এখনো শক্তিশালী। শুধু কম দামে উৎপাদনের ওপর নির্ভর না করে উচ্চমূল্যের পণ্য, প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদন, কৃত্রিম তন্তুভিত্তিক পোশাক এবং নতুন বাজারে প্রবেশের মাধ্যমে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে হবে।

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন

রাশেদা কে চৌধূরী

বাজেট বাস্তবায়নে জরুরি স্বচ্ছতা জবাবদিহিতা

অনলাইন ডেস্ক
বাজেট বাস্তবায়নে জরুরি স্বচ্ছতা জবাবদিহিতা

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধূরী বলেছেন, ‘সরকার শিক্ষা সেক্টরকে গুরুত্ব দিয়ে এবার স্বতন্ত্র খাত হিসেবে বরাদ্দ করেছে। এর আগে শিক্ষার কথা বলে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট বা রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ বিভিন্ন খাতে বরাদ্দ দেওয়া হতো। ফলে আমরা বুঝতেই পারতাম না আসলে শিক্ষায় কত শতাংশ বরাদ্দ হয়েছে। কিন্তু এবার বাজেট বক্তৃতায় এসেছে যে শিক্ষায় জিডিপির ২ শতাংশ বরাদ্দ করা হয়েছে। আসলে বরাদ্দ হয়েছে ১ দশমিক ৭৯ শতাংশ। শিক্ষায় মোট বাজেট দেওয়া হয়েছে ১ লাখ ২২ হাজার কোটি টাকার কিছু বেশি, অথচ বাজেট বক্তৃতায় এসেছে ১ লাখ ৩৬ হাজার কোটি টাকা। আমার মনে হয়েছে এ ক্ষেত্রে প্রিন্টিং মিসটেক (ছাপাগত ভুল) হয়েছে। কারণ বাজেট ঘোষণার আগে শিক্ষামন্ত্রী নিজেও গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন শিক্ষা খাতে ১ লাখ ২২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের কথা।’

গতকাল শুক্রবার এক আলাপে এসব কথা বলেন তিনি। রাশেদা কে চৌধূরী আরো বলেন, ‘শিক্ষা নিয়ে সরকারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আমাদের দাবি ছিল অন্তত জিডিপির আড়াই শতাংশ বরাদ্দ দেওয়ার, যা ধীরে ধীরে আগামীতে ৫ শতাংশে উন্নীত হবে। তবে বরাদ্দ জিডিপির ২ বা ১ দশমিক ৭৯ শতাংশ যা-ই ধরি না কেন, এটি শিক্ষায় সর্বোচ্চ, এটা গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের তুলনায় বরাদ্দও বেশ বেড়েছে। এটিও ইতিবাচক। শিক্ষা ছাড়া সামাজিক সুরক্ষা খাতেও বড় বাজেট দেওয়া হয়েছে, যেগুলো কোনো না কোনোভাবে শিক্ষার সঙ্গে সম্পর্কিত। অর্থাৎ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন খাতের বাজেট বাস্তবায়ন করা গেলে তা শিক্ষাকে ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত করবে। নারী ও শিশু, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যশিক্ষা এমনকি সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের বাজেট বরাদ্দও শিক্ষা খাতকে ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত করবে।’

গণসাক্ষরতা অভিযানের এই নির্বাহী পরিচালক বলেন, ‘শিক্ষায় এবারের বরাদ্দের হারকে আমি ইতিবাচকভাবেই দেখছি। শিক্ষাকে যেমন সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল, তেমনভাবে বাজেট বরাদ্দের ক্ষেত্রেও জনপ্রত্যাশাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।’

রাশেদা কে চৌধূরী বলেন, ‘বাজেট বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সরকার খুব গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করবে যা এরই মধ্যে বাজেট ডকুমেন্টে উঠে এসেছে। শিক্ষার্থীরা স্কুলে মিড ডে মিল পাবে, প্রাথমিকের শিক্ষার্থীরা বিনামূল্যে জামা-জুতা পাবে, ছাত্রছাত্রীরা উপবৃত্তি পাবে ইত্যাদি। তবে বর্তমানে যে কয়েকটি স্কুলে পরীক্ষামূলক হিসেবে মিড ডে মিল চালু রয়েছে তার অভিজ্ঞতা কিন্তু খারাপ আমাদের। শিক্ষার্থীরা পুষ্টিকর ও মানসম্মত খাবারের বিপরীতে কোনো কোনো স্কুলে পেয়েছে পচা ও মানহীন খাবার। তাই এ ক্ষেত্রে মনিটরিং গুরুত্বপূর্ণ। আমরা আশা করব শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সুবিধা দেওয়ার ক্ষেত্রে যে অঞ্চল সিলেক্ট করা হবে সেখানে যেন সবাইকে দেখা হয়।’

তিনি বলেন, ‘শিক্ষা খাতে বরাদ্দকে আমরা বরাদ্দ না বলে মানবসক্ষমতা বিনির্মাণের জন্য ভবিষ্যতের বিনিয়োগ হিসেবেই দেখি। আর বাজেট বরাদ্দের পর গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে বাজেট বাস্তবায়ন। এ ক্ষেত্রে যথাযথ মনিটরিং করে সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে। বরাদ্দ দেওয়ার পর সেখানে দুর্নীতি হলে ছাত্রছাত্রীরা এর সুফল থেকে বঞ্চিত হবে। আমরা দেখেছি বাজেট বরাদ্দ খরচ করার সক্ষমতা অতীতেও কম ছিল। এ সক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন। একই সঙ্গে নিয়মিত মনিটরিং করে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। কারণ অতীতে অর্থের জোগান দিলেও অর্থ কোন জায়গায় খরচ হচ্ছে, সে ক্ষেত্রে সুশাসনের অভাব আমরা দেখেছি।’

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন

আমলাতন্ত্র ও ইউনূসের আবর্জনা বাজেট বাস্তবায়নে যত বাধা

অনলাইন ডেস্ক
আমলাতন্ত্র ও ইউনূসের আবর্জনা বাজেট বাস্তবায়নে যত বাধা

কুড়ি বছর পর গত বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বিএনপি নতুন অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা করল। দেশের অর্থনীতি যখন গভীর সংকটে, বিশেষ করে ইউনূস সরকারের দেড় বছরের অপশাসনের কারণে দেশে যখন দারিদ্র্য বেড়েছে, বিনিয়োগ বন্ধ, বেকারত্ব উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে, উচ্চ মুদ্রাস্ফীতির কারণে জনজীবনে চরম বিপর্যয়, সেই সময়ে দেশের সবাই তাকিয়ে ছিল এই বাজেটের দিকে। প্রস্তাবিত বাজেট কিছুটা হলেও জনমনে আশার সঞ্চার করেছে। বিশেষ করে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি এবং বেসরকারি খাত উন্নয়নে ব্যাপক পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে প্রস্তাবিত বাজেটে।

যেকোনো অসুখ সারাতে প্রথম দরকার রোগ নির্ণয়। অর্থমন্ত্রী বাজেটে অর্থনৈতিক সংকটের কারণ সঠিকভাবে চিহ্নিত করেছেন। আর এই অসুখ সারাতে তিনি যে পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা করেছেন সেটাও সঠিক। তিনি সঠিকভাবেই উপলব্ধি করেছেন, অর্থনীতিকে ধ্বংসস্তূপ থেকে টেনে তুলতে হলে বেসরকারি খাতকে সতেজ করতে হবে। হতাশাগ্রস্ত, নানামুখী সমস্যায় জর্জরিত বেসরকারি খাতই যে অর্থনৈতিক সংকট উত্তরণের মূল চাবিকাঠি তা বাজেটে চমৎকারভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

পরিকল্পিত শিল্পায়ন, রপ্তানি বহুমুখীকরণ ও প্রযুক্তিভিত্তিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রসারের মাধ্যমে তরুণদের জন্য উদ্যোক্তা হওয়া এবং কর্মসংস্থান ও আয়ের সুযোগ তৈরি করা এ বাজেটের অন্যতম লক্ষ্য। নিয়মনীতি বা আইনি নিয়ন্ত্রণ শিথিল করার মাধ্যমে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও অযথা বিলম্ব দূর করে একটি স্বচ্ছ, সহজ ও সাশ্রয়ী ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন অর্থমন্ত্রী। ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে আমানতকারীদের আস্থা ও দায়বদ্ধতা ফিরিয়ে আনার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে এই বাজেটে। পাশাপাশি পুঁজিবাজারের সংস্কারের মাধ্যমে বিনিয়োগকে উৎসাহিত করার লক্ষ্য রয়েছে। সামগ্রিকভাবে ২০২৬-২৭ বাজেটকে ব্যবসা ও বিনিয়োগ সহায়ক হিসেবে বিবেচনা করা যায়। উৎসে করকে অগ্রিম কর হিসেবে গণ্য করায় ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হয়েছে।

শিল্পের কাঁচামালে উৎসে কর ৪ শতাংশে হ্রাস, ৬০টি নিত্যপণ্যে ০.৫ শতাংশ উৎসে কর, পাঁচ বছরের কর কাঠামো আগাম ঘোষণা এবং স্বাস্থ্যসেবা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও ইলেকট্রিক যানবাহন খাতে করছাড় প্রশংসনীয়। ভ্যাটের হার না বাড়িয়ে করের পরিধি সম্প্রসারণ এবং ত্রৈমাসিক অনলাইন ভ্যাট রিটার্নের বিধান অত্যন্ত সময়োপযোগী উদ্যোগ। বাংলাদেশ ব্যাংকের ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় সিএমএসএমই খাতে ৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ সাধুবাদযোগ্য। এসএমই উদ্যোক্তাদের ৫০ লাখ, নারী ও প্রতিবন্ধী উদ্যোক্তাদের ৭০ লাখ টাকা পর্যন্ত টার্নওভার করমুক্ত এবং ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ই-লোন চালু প্রশংসনীয় উদ্যোগ। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য ফ্ল্যাট রেটে টার্নওভার কর ও আলাদা ভ্যাট রিটার্ন ফরম কর ব্যবস্থাপনাকে সহজ করবে।

অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী প্রস্তাবিত বাজেটে ২৫ লক্ষাধিক নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন। এই বাজেট যদি সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, তাহলে বাংলাদেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে। তবে, বাজেট বাস্তবায়নে আমলাতান্ত্রিক বাধা এবং অতীতের আবর্জনা পরিষ্কার করা হবে প্রধান চ্যালেঞ্জ। এই বাজেট বাস্তবায়নের জন্য ব্যবসায়য়ীদের আস্থা ফেরাতে হবে।

ইউনূস সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে হাজার হাজার কলকারখানা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। মব সন্ত্রাস করে বহু কলকারখানা লুটপাট এবং অগ্নিসংযোগ করা হয়েছিল সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায়। লাখ লাখ শ্রমিক মুহূর্তেই বেকার হয়ে যায়, ইউনূস সরকারের আমলে। বেসরকারি উদ্যোক্তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা হত্যা মামলাসহ অসংখ্য হয়রানিমূলক মামলা দিয়ে তাদের চরম ভোগান্তিতে ফেলা হয়েছিল। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে তারা কাজকর্ম বন্ধ করে দেয়। ইউনূস সরকারের দেড় বছরের নতুন কোনো বিনিয়োগ হয়নি। ব্যাংক ঋণে সুদের হার বাড়িয়ে বিনিয়োগের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দিয়েছিলেন ইউনূস সরকারের নিযুক্ত গভর্নর। বাংলাদেশকে দেউলিয়া বানিয়ে বিদেশি দাসত্বের শৃঙ্খলে বন্দি করাই যেন ছিল ইউনূস সরকারের মূল উদ্দেশ্য। এই সময় দেশের অনেক বড় বড় শিল্প গ্রুপ দেউলিয়া হওয়ার পথে। অনেকের কারখানা বন্ধ থাকার পরও তাদের ব্যাংকের সুদ গুনতে হচ্ছে।

ইউনূস সরকারের ১৮ মাসে সবধরনের নতুন বিনিয়োগ প্রস্তাব ফেলে রাখা হয়েছিল। ব্যবসায়ী, শিল্প উদ্যোক্তারা হতাশায় জর্জরিত। বেসরকারি খাত এক অন্ধকার টানেলে বন্দি হয়ে আছে। তাই প্রস্তাবিত বাজেট বাস্তবায়ন করতে হলে, প্রথমে ইউনূসের রেখে যাওয়া আবর্জনা পরিষ্কার করতে হবে। আজকের বিশ্বায়নের যুগে, বিনিয়োগ ও রপ্তানি বৃদ্ধির জন্য শিল্প উদ্যোক্তাদের বিদেশের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতে হয়। বিদেশ যেতে হয়। ইউনূস সরকার প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে অন্যায়ভাবে বহু ব্যবসায়ীর বিদেশ যাত্রার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়ে রেখেছে। এভাবে বিনা কারণে ২১ মাস বিদেশ ভ্রমণের নিষেধাজ্ঞা নজিরবিহীন। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর ইতিমধ্যে তিন মাস কেটে গেলেও এখনো ওই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়নি। মনে হয়, ইউনূস সরকারের ভ্রান্ত নীতি থেকে সরে আসেনি বর্তমান সরকার। তারাও যেন একই পথে হাঁটছে। ইউনূসের এসব বিনিয়োগ বিনাশী পদক্ষেপ বহাল রেখে বেসরকারি খাতকে আস্থায় নেওয়া অসম্ভব।

দেশে বিনিয়োগ বাড়াতে হলে, অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য এই নিষেধাজ্ঞা অবিলম্বে প্রত্যাহার করা প্রয়োজন। অর্থমন্ত্রী বাজেটে যে বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধির প্রস্তাব করেছেন তা বাস্তবায়ন করতে হলে এসব প্রতিবন্ধকতা দূর করা জরুরি। বেসরকারি খাতে একটি ভয়হীন পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে।

সরকার এবারের বাজেটে বেসরকারি খাতে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও হয়রানি বন্ধ করতে বহুমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। ব্যবসা করার জন্য নিবন্ধন, বিভিন্ন অনুমোদন, ছাড়পত্রসহ অন্যান্য সরকারি সেবার আবেদন সর্বোচ্চ এক সপ্তাহের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা মতামত বা ছাড়পত্র না দিলে আবেদনটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে অনুমোদিত বলে গণ্য হবে। কোম্পানির নামের ছাড়পত্র, নিবন্ধন আবেদন, ফি পরিশোধ ও সনদ প্রদান পুরোপুরি অনলাইনে সম্পন্ন করে সর্বোচ্চ ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কোম্পানি নিবন্ধনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ছোট ও নতুন ব্যবসার জন্য অনলাইনভিত্তিক প্রাথমিক অনুমোদন ব্যবস্থা রাখা হবে, যাতে উদ্যোক্তারা দ্রুত কাজ শুরু করে পরবর্তী ৬ থেকে ১২ মাসের মধ্যে বাকি নিবন্ধন সম্পন্ন করতে পারেন। এ ছাড়া স্থানীয় পর্যায়ে ব্যবসা সহজ করতে সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার ট্রেড লাইসেন্স সেবা ধাপে ধাপে কেন্দ্রীয় সেবা ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করা হবে।

এই উদ্যোগগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং ইতিবাচক। কিন্তু অতীতের অভিজ্ঞতা বলে আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয় না। একজন শিল্প উদ্যোক্তাকে নতুন কারখানা স্থাপনের জন্য বিভিন্ন জায়গার একাধিক ছাড়পত্র নিতে হয়। ঘাটে ঘাটে ঘুরতে হয়। একটি ছাড়পত্র বাকি থাকলেও কারখানা চালু করা যায় না। বর্তমান আইনেও এসব ছাড়পত্র পাওয়ার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া আছে। কিন্তু বাস্তবে এই সময়ের মধ্যে ছাড়পত্র পাওয়া যায় না। সব ছাড়পত্র পেতে বছরের পর বছর লেগে যায়। শুরুতেই উদ্যোক্তা ঋণখেলাপি হয়ে পড়েন। ছাড়পত্র পেতে উদ্যোক্তাদের বিভিন্ন দপ্তরে দিনের পর দিন ঘুরতে হয়। বিভিন্ন সরকারি সংস্থার কাছে যেন দয়া ভিক্ষা করতে হয় উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের। কোনো কোনো ছাড়পত্র প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা এমন আচরণ করেন যে মনে হয়, এদেশে শিল্প কারখানা স্থাপন করা যেন রীতিমতো অপরাধ।

ভূমি অফিসে হয়রানি, বিদ্যুতের জন্য ভোগান্তি, জামানতের টাকা দিয়েও গ্যাস সংযোগ না পাওয়া যেন এদেশের শিল্প উদ্যোক্তাদের নিয়তি। পদে পদে এভাবে হয়রানির সম্মুখীন হতে হয় একটি কারখানা স্থাপনের জন্য। ব্যবসায়ীরা যেন সরকারি প্রতিষ্ঠানের দয়ার ওপর নির্ভরশীল। এই অবস্থার পরিবর্তন প্রয়োজন। বাজেটে নির্দেশনা মাঠে আমলা ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা মানছেন কি না তা তদারকি করা দরকার।

ঈদের পর কোরবানির বর্জ্য অপসারণের কথাই ধরা যাক। মাঠের দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তারা অনেক গালভরা কথা বললেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাদের আশ্বাসে চুপচাপ বসে না থেকে নিজেই বেরোলেন সরেজমিন বর্জ্য অপসারণের কাজ পর্যবেক্ষণ করতে। তিনি দেখলেন কর্মকর্তাদের সুন্দর কথার সঙ্গে বাস্তবের মিল নেই। তিনি কয়েকজনের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করলেন। এটা ছিল প্রধানমন্ত্রীর একটি অসাধারণ পদক্ষেপ। বিনিয়োগ বাড়াতে এ ধরনের মাঠ পরিদর্শন জরুরি। সরকার বিভিন্ন লাইসেন্স ও ছাড়পত্র প্রদানে যে সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে তা মাঠপর্যায়ে কার্যকর করা হচ্ছে কিনা তা নিয়মিত মনিটরিং করা হলে আমলাতান্ত্রিক বাধা দূর করা সম্ভব। এক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টান্ত অনুসরণ করা যেতে পারে। বাজেট বাস্তবায়নে বেসরকারি খাতকে সরকারের পার্টনার হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।

বর্তমান অর্থনৈতিক সংকট মোকাবেলায় সরকার এবং বেসরকারি খাত একযোগে কাজ করতে হবে। আর তার জন্য প্রয়োজন বেসরকারি উদ্যোক্তাদের আস্থায় আনা। ইউনূস সরকার বেসরকারি খাতে যে ভীতির পরিবেশ সৃষ্টি করেছিল তা দূর করা। পাশাপাশি দরকার বিনিয়োগ সহায়ক প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা। অর্থমন্ত্রী যে বাজেট ঘোষণা করেছেন তা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে একটি মাইলফলক হতে পারে যদি তা বাস্তবায়ন করা যায়। আর এই বাজেট বাস্তবায়নের জন্য  প্রয়োজন, সব বাধা দূর করে একটি ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি।

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন

তরুণদের অগ্রাধিকার বাজেট

প্রযুক্তিতে প্রতি বছর ২ লাখ নতুন চাকরি পরোক্ষ কর্মসংস্থান আরো ৮ লাখ সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত শিক্ষা ঋণ

অনলাইন ডেস্ক
তরুণদের অগ্রাধিকার বাজেট

প্রস্তাবিত বাজেটে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সরাসরি বরাদ্দ এবং স্টার্টআপ তহবিল মিলিয়ে দেশের ৫ কোটি তরুণ বা যুবকের ভাগে মাথাপিছু বরাদ্দ পড়ে প্রায় ৬৫৭ টাকা। তবে শিক্ষা, কারিগরি ও আইটি খাতের মতো যুব-সম্পৃক্ত পরোক্ষ খাতগুলোর হিসাব যুক্ত করলে এই মাথাপিছু বরাদ্দের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ২৮ হাজার টাকা। জুলাই অভ্যুত্থানে দেশের তরুণ সমাজের ভূমিকা ছিল সবচেয়ে বেশি। ফলে সেই আন্দোলনের পর পরিবর্তিত রাষ্ট্রব্যবস্থায় নির্বাচিত বিএনপি সরকারের বাজেটে তরুণ ও যুবসমাজের জন্য কী বরাদ্দ থাকছে, তা নিয়ে কৌতূহল রয়েছে সংশ্লিষ্টদের।  

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বিশাল বাজেট উপস্থাপন করেছেন। প্রস্তাবিত বাজেটে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের ২ হাজার ৫৮৬ কোটি টাকা এবং স্টার্টআপ ও ক্রিয়েটিভ ইকোনমির ৭০০ কোটি টাকা মিলিয়ে মোট ৩ হাজার ২৮৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। দেশের ১৫ থেকে ৩৫ বছর বয়সি যুব জনসংখ্যাকে প্রায় ৫ কোটি ধরে মাথাপিছু বরাদ্দের মাথাপিছু সরাসরি বরাদ্দ আসে প্রায় ৬৫৭ টাকা। জাতীয় যুবনীতি অনুযায়ী দেশে ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সিদের যুব ধরা হয়। তবে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) সাধারণত ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সিদের যুব হিসেবে বিবেচনা করে।

বিবিএসের সর্বশেষ জনশুমারি অনুযায়ী, ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সি জনসংখ্যা প্রায় ৪ কোটি ৬০ লাখ। সে হিসেবে ১৫ থেকে ৩৫ বছর বয়সি জনসংখ্যার পরিমাণ আনুমানিক ৫ কোটি। অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, শুধু যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ দিয়ে যুবসমাজের বাজেটের হিসাব করা যাবে না। শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, মানবসম্পদ, তথ্যপ্রযুক্তিসহ বিভিন্ন খাতে তরুণদের জন্য পরোক্ষ বরাদ্দ রয়েছে। শিক্ষা খাতের মোট বরাদ্দের একটি বড় অংশ (উচ্চশিক্ষা ও কারিগরি) এবং যুববান্ধব অন্যান্য খাতের উপবরাদ্দ মিলিয়ে প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা তরুণদের পেছনে পরোক্ষভাবে ব্যয় হবে। এই বিশাল অঙ্ককে ৫ কোটি তরুণ দিয়ে ভাগ করলে জনপ্রতি বাজেট দাঁড়াচ্ছে প্রায় ২৮ হাজার টাকা।

অন্তর্বর্তী সরকারের বাজেটে তরুণদের ভাগ কত ছিল : জুলাই অভ্যুত্থানের পর শান্তিতে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে প্রধান করে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার যে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের যে বাজেট উপস্থাপন করে সেখানে শিক্ষা, কারিগরি এবং তথ্যপ্রযুক্তির মতো যুববান্ধব পরোক্ষ উপখাতগুলো মিলিয়ে মোট বরাদ্দ ছিল প্রায় ১ লাখ ১৪ হাজার কোটি টাকা।

ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের উত্থাপিত ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার বাজেটে সরাসরি যুব ও ক্রীড়া খাতের মূল বরাদ্দ ছিল ২ হাজার ৪২৩ কোটি টাকা। তরুণদের অনুপ্রাণিত করতে ‘তারুণ্যের উৎসব’ এবং নতুন স্টার্টআপদের জন্য বিশেষ তহবিল মিলিয়ে ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছিল। তরুণদের উন্নয়নসংশ্লিষ্ট প্রায় ১ লাখ ১৪ হাজার কোটি টাকাকে ৫ কোটি যুব জনসংখ্যা দিয়ে ভাগ করলে জনপ্রতি পরোক্ষ বরাদ্দ আসে প্রায় ২২ হাজার ৮০০ টাকা। শুধু যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের ২ হাজার ৪২৩ কোটি টাকার মূল বাজেট থেকে হিসাব করলে জনপ্রতি সরাসরি প্রশিক্ষণ ও ক্রীড়া উন্নয়ন বরাদ্দ পড়েছিল প্রায় ৪৮৪ টাকা। সে হিসেবে বিএনপি সরকারের প্রস্তাবিত বাজেটের সামগ্রিক বরাদ্দ ধরে হিসাব করলে অন্তর্বর্তী সরকারের তুলনায় তরুণদের জন্য মাথাপিছু বরাদ্দ বেড়েছে ৫ হাজার ২০০ কোটি টাকা।

যেভাবে ব্যয় হবে তরুণদের বাজেট : পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে শিক্ষা ও যুব উন্নয়ন মিলিয়ে মোট ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬০৬ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এই বিশাল অর্থ মূলত তিনটি পৃথক বিভাগ এবং তরুণদের কর্মসংস্থানমুখী বিভিন্ন প্রযুক্তিগত প্রকল্পের মাধ্যমে খরচ করা হবে। ১. মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ : তরুণদের উচ্চশিক্ষা, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মান উন্নয়ন এবং বৃত্তির জন্য এই খাতে সর্বোচ্চ ৫৭ হাজার ৩০১ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এই বরাদ্দ থেকে উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়াতে শিক্ষার্থীদের জন্য সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত শিক্ষাঋণ প্রকল্প চালু হবে; দেশের তরুণী বা ছাত্রীদের জন্য স্নাতক পর্যন্ত সম্পূর্ণ বিনামূল্যে শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ করা হবে; বৈশ্বিক বাজারে তরুণদের কর্মসংস্থান বাড়াতে বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি একটি তৃতীয় ভাষা (যেমন জাপানি, কোরিয়ান, ম্যান্ডারিন, ফ্রেঞ্চ বা আরবি) শেখানো বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর প্রাথমিক সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

২. কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ : তরুণদের সরাসরি কর্মসংস্থানমুখী এবং কারিগরিভাবে দক্ষ করে গড়ে তুলতে এ বিভাগে ১৮ হাজার ৪৫৭ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এই বরাদ্দ থেকে নতুন শিক্ষাক্রম অনুযায়ী ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে সব শিক্ষার্থীর জন্য কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার রূপরেখা বাস্তবায়ন করা হবে; বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্প খাতের যৌথ উদ্যোগে তরুণদের জন্য স্বল্পমেয়াদি শর্ট কোর্স, শিক্ষানবিশ ও ইন্টার্নশিপের সুযোগ তৈরি করা হবে। এ ছাড়া ভবিষ্যৎ তরুণ সমাজ অর্থাৎ প্রাথমিক শিক্ষার ভিত্তি মজবুত করতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা খাতে ৪৬ হাজার ৭৩৭ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এসব বরাদ্দ ছাড়াও তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বা আইসিটি খাতের বরাদ্দ থেকে সরাসরি তরুণ ও স্টার্টআপদের জন্য বিশেষ কিছু অনুদান রাখা হয়েছে। নতুন তরুণ ও নারী উদ্যোক্তাদের ব্যবসায়িক আইডিয়া সহায়তায় ৪০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। ফ্রিল্যান্সিং, কনটেন্ট ক্রিয়েশন, অ্যানিমেশন ও গেমিং খাতের বিকাশে সরকারের সরাসরি অনুদান দেওয়া হয়েছে ৩০০ কোটি টাকা। এই খাতের ফ্রিল্যান্সারদের অর্জিত আয়কে সম্পূর্ণ আয়কর ও ভ্যাটমুক্ত রাখা হচ্ছে। প্রযুক্তিভিত্তিক নতুন উদ্ভাবনী স্টার্টআপগুলোর জন্য ৯ বছরের কর অবকাশ এবং টার্নওভার ট্যাক্স সম্পূর্ণ শূন্য শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের ডিজিটাল ডিভাইড বা বৈষম্য কমাতে ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ উদ্যোগ, ইউনিক এডু-আইডি প্রদান এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফ্রি ওয়াই-ফাই সম্প্রসারণে এই অর্থ ব্যয় হবে।

প্রযুক্তিতে ২ লাখ নতুন চাকরি : চতুর্থ শিল্পবিপ্লব ও অটোমেশনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রযুক্তি খাতে প্রতি বছর সরাসরি ২ লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের ফ্রিল্যান্সিং এবং ক্রিয়েটিভ সেক্টরে ব্যাপক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আরও ৮ লাখ পরোক্ষ কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করার উদ্যোগ রয়েছে। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীনে তরুণদের জন্য ফ্রিল্যান্সিং, মোবাইল ফোন সার্ভিসিং, কেয়ারগিভিং এবং বিভিন্ন বৈদেশিক ভাষার ওপর বিশেষ কর্মমুখী প্রশিক্ষণ প্রকল্প চালু করা হচ্ছে।

ক্রীড়াবিদ ও তরুণ প্রতিভার জন্য সুযোগ : খেলাধুলাকে স্রেফ বিনোদন নয়, বরং একটি পূর্ণাঙ্গ অর্থনৈতিক খাত হিসেবে গড়ে তুলতে প্রথমবারের মতো জাতীয় বাজেটে খেলোয়াড়দের জন্য বিশেষ বৃত্তির ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর অধীনে ৩০০ জন অ্যাথলেটকে নিয়মিত স্পোর্টস অ্যালাউন্স বা ক্রীড়া ভাতা দেওয়া হবে। ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সি প্রতিভাবান তরুণ ক্রীড়াবিদদের জন্য ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস প্রোগ্রাম’ চালু করা হয়েছে, যার মাধ্যমে তাদের দীর্ঘমেয়াদি স্কলারশিপ দেওয়া হবে। প্রতিভাবান তরুণ ক্রীড়াবিদদের দীর্ঘমেয়াদি স্কলারশিপ বা বৃত্তির জন্য আলাদাভাবে ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এ ছাড়া দেশের ৬৪টি জেলায় আধুনিক ‘স্পোর্টস ভিলেজ’ নির্মাণের কাজ শুরু হচ্ছে, যার প্রাথমিক নকশা ইতোমধ্যে ১০টি জেলায় প্রস্তুত করা হয়েছে।

সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি আবেদন শুরু ২৮ জুলাই | কালের কণ্ঠ