• ই-পেপার

বয়স চলে যাচ্ছে, দিশাহারা চাকরিপ্রার্থীরা

  • চাকরিতে প্রবেশের বয়স ৩২ দাবি

সংসদ নির্বাচনে পরাজিত মোতাহার হলেন ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান

অনলাইন ডেস্ক
সংসদ নির্বাচনে পরাজিত মোতাহার হলেন ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে ২৭ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত মোতাহার হোসেন তালুকদারকে নবগঠিত ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (মউক) চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাতে এক প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার তাকে এ দায়িত্ব দেয়।

প্রজ্ঞাপন অনুসারে, মোতাহার হোসেন তালুকদারকে যোগদানের তারিখ থেকে এক বছরের জন্য ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান (গ্রেড-২) পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। জনস্বার্থে এ আদেশ জারি করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।

এ বিষয়ে মোতাহার হোসেন তালুকদার বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আমার ওপর যে বিশ্বাস রেখেছেন এবং ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান হিসেবে আমাকে দায়িত্ব দিয়েছেন, সেই মান রাখতে কাজ করে যাব। তিনি আগেও জনগণের রাজনীতি করার জন্য আমাকে সুযোগ দিয়েছিলেন।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা ময়মনসিংহবাসীর জন্য কিছু কাজ করতে চাই। এই শহরটাকে একটা পরিকল্পিত শহর এবং ব্রহ্মপুত্র নদের ওই পারে যে এলাকাটা আছে, সেটাকেও কাজে লাগিয়ে মানুষের মনমত একটা সুন্দর শহর গড়তে চাই। আমরা একটা পরিকল্পিত নগরী এবং মনোরম সিটি গড়তে চাই, যেটা দৃষ্টিনন্দন ও মানুষের নজর কাড়বে। বাইরে থেকে যেকোনো লোক ময়মনসিংহ শহরে আসবে কিংবা ময়মনসিংহ জেলায় ঢুকবে, তখন বুঝবে যে এটা ময়মনসিংহ। এ রকম একটা সিটি আমরা প্রতিষ্ঠা করবো ইনশাআল্লাহ।’

উল্লেখ্য, ময়মনসিংহ-২ আসনে ১১ দলীয় জোটের খেলাফত মজলিশের প্রার্থী মুহাম্মদুল্লাহর কাছে হেরে যান বিএনপি প্রার্থী মোতাহার হোসেন। মুহাম্মদুল্লাহ পেয়েছিলেন এক লাখ ৪৪ হাজার ভোট। আর বিএনপি প্রার্থী পেয়েছিলেন এক লাখ ১৭ হাজার ভোট।

সীমান্তে শান্তি-স্থিতিশীলতা বজায় রাখার অঙ্গীকার বিজিবি-বিএসএফের

অনলাইন ডেস্ক
সীমান্তে শান্তি-স্থিতিশীলতা বজায় রাখার অঙ্গীকার বিজিবি-বিএসএফের

সীমান্তে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে পারস্পরিক সহযোগিতা আরো জোরদারে সম্মত হয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ)। দিল্লিতে বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে ৫৭তম মহাপরিচালক (ডিজি) পর্যায়ের সীমান্ত সম্মেলনে এ বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছায় দুই দেশ।

গত ৮ থেকে ১১ জুন বিএসএফ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলন শেষে যৌথ প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে।

আজ শুক্রবার যৌথ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী এবং ভারতীয় প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের (বিএসএফ) মহাপরিচালক প্রবীণ কুমার।

দুই সীমান্তরক্ষী বাহিনীর দীর্ঘস্থায়ী সহযোগিতা ও পারস্পরিক আস্থার প্রতিফলন ঘটিয়ে সম্মেলনটি সৌহার্দ্যপূর্ণ, ইতিবাচক ও ভবিষ্যতমুখী পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়।

বিএসএফ ও বিজিবির মধ্যকার সর্বোচ্চ পর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় ব্যবস্থার অংশ হিসেবে এ সম্মেলন বিদ্যমান সীমান্ত পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং সীমান্ত নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত পারস্পরিক উদ্বেগের বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বিবেচিত হয়।

আলোচনায় মাদক, অস্ত্র, জাল মুদ্রা, সোনা ও অন্যান্য নিষিদ্ধ পণ্যের চোরাচালানসহ আন্তঃসীমান্ত অপরাধ এবং অবৈধ সীমান্ত অতিক্রম ও মানবপাচার প্রতিরোধের কার্যকর উপায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

এ ছাড়া সীমান্ত এলাকায় প্রাণহানি, অবৈধ, অনিচ্ছাকৃত বা জোরপূর্বক সীমান্ত অতিক্রম, সীমান্ত অবকাঠামো নির্মাণ, সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনার বাস্তবায়ন, আস্থা-নির্মাণমূলক পদক্ষেপ এবং সীমান্তজুড়ে উদ্ভূত নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা নিয়েও আলোচনা করা হয়।

উভয় পক্ষ বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।

তারা সমন্বিত টহল আরো জোরদার করা, সতর্কতা বৃদ্ধি, তাৎক্ষণিক তথ্য আদান-প্রদান উন্নত করা এবং আন্তঃসীমান্ত অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে যৌথ প্রচেষ্টা আরও শক্তিশালী করতে সম্মত হয়েছে।
আন্তর্জাতিক সীমান্ত-সংক্রান্ত আইন ও বিধি সম্পর্কে সীমান্তবাসীকে সচেতন করা এবং সীমান্ত এলাকায় অবৈধ কার্যকলাপ প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।

উভয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী আন্তঃসীমান্ত অপরাধ, বিদ্রোহী কার্যকলাপ এবং সীমান্ত নিরাপত্তা বিঘ্নিত করে এমন যেকোনো কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতার নীতি অনুসরণের যৌথ অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।

পক্ষদ্বয় সম্মেলনের ফলাফলে সন্তোষ প্রকাশ করে নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ সীমান্ত নিশ্চিত করতে সহযোগিতা, পারস্পরিক আস্থা এবং পেশাগত সম্পৃক্ততা আরো জোরদারের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।

১১ জুন যৌথ আলোচনাপত্রে স্বাক্ষরের মাধ্যমে সম্মেলনটি ইতিবাচক পরিবেশে সমাপ্ত হয়। উভয় প্রতিনিধিদল আশা প্রকাশ করে, গৃহীত সিদ্ধান্ত ও সমঝোতাগুলো দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরো বাড়াবে এবং কার্যকর সীমান্ত ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি বাংলাদেশ-ভারত বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

পরবর্তী মহাপরিচালক পর্যায়ের সম্মেলন ২০২৬ সালের নভেম্বরে পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।

বন্ধের পরিবর্তে বাড়ছে শিশুশ্রম, শিশুরা জড়াচ্ছে অপরাধেও

ফারুক মুনির, নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
বন্ধের পরিবর্তে বাড়ছে শিশুশ্রম, শিশুরা জড়াচ্ছে অপরাধেও

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) তথ্যমতে, বিশ্বজুড়ে এখনো প্রায় ১৩ কোটি ৩৮ লাখ শিশু শিশুশ্রমের শিকার হচ্ছে। এই ভয়াবহ পরিস্থিতি মোকাবেলায় এবং শিশুশ্রমের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী আন্দোলনকে ত্বরান্বিত করতে প্রতি বছর ১২ জুন শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস পালন করা হয়।

গবেষণা বলছে, বাংলাদেশেও কর্মজীবী রয়েছে ৩৫ লাখ ৩৬ হাজার ৯২৭ জন শিশু, যাদের বয়স ১৭ বছরের কম। ১৩ বছরের কম শিশুশ্রমিক রয়েছে ১৭ লাখ ৭৬ হাজার ৯৭ জন। ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিযুক্ত শিশুশ্রমিক ১০ লাখ ৬৮ হাজার ২১২ জন।

বাংলাদেশ সরকার ২০২৫ সালের মধ্যে দেশে শিশুশ্রম শূন্যের কোটায় আনার লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করলেও সেটি বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। বরং প্রতিবছরই প্রাতিষ্ঠানিক-অপ্রাতিষ্ঠানিক শিশুশ্রমের পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রমে যুক্ত হচ্ছে হাজার হাজার কচি হাত। পরিবারের সঠিক পরিচর্যার অভাবে শিশুরা জড়াচ্ছে অপরাধে।

শিশুশ্রম প্রতিরোধে সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ৪৩ ধরনের কাজকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। যার মধ্যে উপকূলীয় এলাকায় গড়ে ওঠা শুঁটকি খাতের মোট কর্মশক্তির প্রায় ২০ শতাংশ শিশু। শিশুশ্রমিকদের মধ্যে আবার ৭৪ শতাংশ হলো মেয়ে শিশুশ্রমিক। অন্যদিকে ধাতু কারখানা খাতেও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিশু একইভাবে উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিযুক্ত। কারখানা খাতে ৮০ শতাংশ ছেলে শিশু।

সরকারের কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের উপ-মহাপরিদর্শক মাহবুবুল হাসান কালের কণ্ঠকে বলেন, জাতিসংঘের শিশু অধিকার সনদের আলোকে প্রতিটি শিশুর ৬টি মৌলিক অধিকার রয়েছে। শিশুদের বিকাশের জন্য এই মৌলিক অধিকারগুলো অপরিহার্য। সুষম ও পুষ্টিকর খাবার পাওয়ার অধিকার। লজ্জা নিবারণ ও শরীর ঢাকতে পর্যাপ্ত পোশাক পাওয়ার অধিকার। নিরাপদ আশ্রয় বা থাকার জায়গা পাওয়ার অধিকার। নিজের মেধা ও দক্ষতা বিকাশের জন্য স্কুলে পড়াশোনা করার সুযোগ পাওয়ার অধিকার। অসুস্থ হলে প্রয়োজনীয় ওষুধ, চিকিৎসা এবং স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার অধিকার। যে কোনো ধরনের নির্যাতন, অবহেলা ও ক্ষতি থেকে সুরক্ষিত থাকার অধিকার। শিশুশ্রম শিশুদের মৌলিক অধিকারগুলো কেড়ে নেয় এবং একটি দেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করে। আগের ৩৮টি কাজকে শিশুদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করেছি। নতুনকরে আরো ৫টি কাজকে অন্তর্ভুক্ত করে শিশুশ্রম প্রতিরোধে কাজ করছে। 

তিনি আরো বলেন, আমরা আইন প্রয়োগ করে শিশুদের ঝুঁকিপূর্ণ কাজ থেকে বিরত রাখতে কাজ করি। কিন্তু বাংলাদেশের বাস্তবতা হলো দরিদ্র পরিবারের পিতা-মাতা তখন এগিয়ে এসে বলেন, সন্তান আয় না করলে খাবে কী? অর্থাৎ পরিবারের কর্তাদের আয়ে যখন সংসার চলে না তখন বাধ্য হয়ে অ্যালুমিনিয়াম, ভারী লৌহজাত শিল্প, শুঁটকি শিল্পে নিজেদের সন্তানদের নিযুক্ত করেন। তবু সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে আমরা নিয়মিত আইনের ভেতর থেকে শিশুশ্রম নিরসনে কাজ করছি।

বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ইপসার (ইয়ং পাওয়ার ইন সোশ্যাল অ্যাকশন) হেড অব অ্যাডভোকেসি মোহাম্মদ আলী শাহীন বলেন, দরিদ্র পরিবারের পাশাপাশি বাস্তুচ্যুত পরিবারের শিশুরা ঝুঁকিপূর্ণ পেশায় জড়ায়। এক প্রকার বাধ্য হয়েই শিশুরা স্কুল, বই, খাতা, কলম ছেড়ে ধাতু-ভিত্তিক কারখানা, রাসায়নিক কারখানা, জাহাজ-পুনর্ব্যবহার কেন্দ্র এবং শুঁটকি মাছ প্রক্রিয়াকরণ প্রতিষ্ঠানে শ্রমিক হিসেবে কাজ করে। শুধু আইন প্রয়োগ নয়, পরিবারের জীবনমান উন্নয়ন করে শিশুদের শ্রমের আয়ের ওপর পরিবারের নির্ভরতা কমালে শিশুশ্রম কমে আসবে। শিশুদের আজ শ্রমে না খাটিয়ে সুশিক্ষিত করলে ভবিষ্যতে তারা দেশের বড় অর্থনৈতিক সম্পদে পরিণত হবে। দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন দক্ষ জনশক্তি ছাড়া কোনো দেশ উন্নত হতে পারে না।

এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, চট্টগ্রাম নগরে ভাসমান প্রায় ১০ হাজার শিশু রয়েছে যাদের বড় একটা অংশ গাম বা ডান্ডি সেবন করে। নগরজুড়ে তারা ছিনতাই, চুরির পাশাপাশি খোলা ট্রাক, মিনিট্রাকের পণ্য চুরিতে হাতেখড়ির মাধ্যমে অপরাধ জগতে প্রবেশ করছে।

একটি গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য মতে, বড় বড় সন্ত্রাসীদের সোর্স হিসেবেও কাজ করছে বেশ কিছু ভাসমান শিশু। তাদেরকে সমাজের মূলধারায় ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি ভাসমান শিশুদের পরিবারগুলো পুনর্বাসন করার সুপারিশ করা হয়েছে।

অপরিকল্পিত বিতরণ ব্যবস্থার দুর্বলতায় খেসারত দিচ্ছেন গ্রাহক : জ্বালানিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
অপরিকল্পিত বিতরণ ব্যবস্থার দুর্বলতায় খেসারত দিচ্ছেন গ্রাহক : জ্বালানিমন্ত্রী
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সঞ্চালন সক্ষমতা থাকলেও অনেক এলাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকার জন্য বিতরণ ব্যবস্থার দুর্বলতাকে দায়ী করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তিনি বলেন, ‘আগের সরকারের অপরিকল্পিতভাবে বিতরণ লাইন সম্প্রসারণের খেসারত এখন জনগণকে দিতে হচ্ছে।’

আজ শুক্রবার রাজধানীর আফতাবনগরে ন্যাশনাল লোড ডিসপ্যাচ সেন্টার (এনএলডিসি) পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, ‘একটি স্থিতিশীল বিদ্যুৎব্যবস্থা গড়ে তুলতে উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিতরণ—এই তিন খাতের সমন্বিত উন্নয়ন প্রয়োজন। কিন্তু অতীতে বিদ্যুৎ খাত সম্প্রসারণ করা হলেও সমন্বিত পরিকল্পনার অভাবে এসব খাতের মধ্যে বড় ধরনের ব্যবধান তৈরি হয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘বর্তমানে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সঞ্চালন ব্যবস্থায় বড় কোনো ঘাটতি নেই। কিন্তু বিতরণ পর্যায়ে নানা সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে। সাধারণভাবে এসব ঘটনাকে লোডশেডিং বলা হলেও অনেক ক্ষেত্রে এর পেছনে বিতরণ লাইনের কারিগরি ত্রুটি কাজ করছে।’
 
ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, ‘বিগত সরকার প্রতিটি ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নিলেও সে সময় প্রয়োজনীয় কারিগরি পরিকল্পনাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। একটি আদর্শ বিতরণ লাইনের দৈর্ঘ্য ৩০ থেকে ৩৫ কিলোমিটারের মধ্যে থাকা উচিত হলেও পল্লী বিদ্যুতের অনেক লাইন ৯০ থেকে ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত সম্প্রসারণ করা হয়েছে। ফলে বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ ব্যবস্থায় দুর্বলতা তৈরি হয়েছে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘এসব অপরিকল্পিত লাইন শুধু স্থানীয় পর্যায়ে বিদ্যুৎ সরবরাহে সমস্যা তৈরি করছে না, বরং পুরো বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপরও চাপ সৃষ্টি করছে। এর প্রভাব উৎপাদন, সঞ্চালন ও গ্রিড ব্যবস্থাপনাতেও পড়ছে।’
 
তিনি বলেন, ‘বিতরণ ব্যবস্থার এসব সমস্যা দ্রুত সমাধানের উপায় খুঁজতে পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ (পিজিসিবি) কর্মকর্তাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করা হয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যৎ বিদ্যুৎ চাহিদা এবং নতুন বিদ্যুৎ উৎস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার প্রস্তুতিও পর্যালোচনা করা হচ্ছে।’
 
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর প্রস্তুতি চলছে। রাশিয়ার পক্ষ থেকে আগস্টে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করার কথা বলা হলেও পুরো ব্যবস্থাকে স্থিতিশীল করতে আরও কিছু সময় লাগবে। সে কারণে নভেম্বরের মধ্যে ইউনিটটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।’

বিদ্যুৎ ক্রয়চুক্তি ও ক্যাপাসিটি চার্জের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ক্যাপাসিটি চার্জের মাধ্যমে দেশের ওপর বড় ধরনের আর্থিক বোঝা সৃষ্টি হয়েছে। তবে এসব চুক্তি রাষ্ট্রীয় গ্যারান্টির আওতায় হওয়ায় নতুন সরকার চাইলেই তা বাতিল করতে পারে না। বর্তমানে আইন মন্ত্রণালয় চুক্তিগুলো পর্যালোচনা করছে এবং আইনগত সুযোগ থাকলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘বিদ্যমান চুক্তিগুলোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হলে আইনগত ও কারিগরি সব দিক বিবেচনায় নিতে হবে। কারণ তড়িঘড়ি কোনো সিদ্ধান্ত নিলে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।’

বয়স চলে যাচ্ছে, দিশাহারা চাকরিপ্রার্থীরা | কালের কণ্ঠ