রাজধানীকে আরো পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ১০টি অঞ্চলে পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা এখন থেকে দিবাকালীন ও রাত্রিকালীন—দুই শিফটে কাজ করবেন। শুক্রবার (১২ জুন) এক সভায় ডিএনসিসি প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান এ কথা জানান।
তিনি বলেন, নগরীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আরো কার্যকর ও গতিশীল করতে ইতিমধ্যে ডিএনসিসির ২৬টি ওয়ার্ডে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদারে উন্মুক্ত দরপত্র প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। পাশাপাশি বাসাবাড়ি থেকে বর্জ্য অপসারণে ব্যবহৃত প্রচলিত ভ্যান সার্ভিসকে সিটি করপোরেশনের ব্যবস্থাপনার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, প্রধান সড়কগুলোতে পড়ে থাকা বর্জ্য দ্রুত অপসারণের জন্য কুইক রেসপন্স টিম (QRT) ও মোবাইল টিম গঠন করা হয়েছে। নিয়মিত মনিটরিংয়ের মাধ্যমে কোথাও যাতে বর্জ্যের স্তূপ জমে না থাকে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, বর্তমানে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ব্যবহৃত সব যানবাহন ও যন্ত্রপাতির শতভাগ ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি নতুন প্রয়োজনীয় যান-যন্ত্রপাতি সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আধুনিক কম্প্যাক্টর ট্রাক, হুক-লিফট ট্রাকসহ অন্যান্য বর্জ্য ব্যবস্থাপনা যানবাহন সংগ্রহ করা হলে বর্জ্য অপসারণ ব্যবস্থা আরো দ্রুত, আধুনিক ও কার্যকর হবে।
বর্জ্য পৃথকীকরণ ও সুষ্ঠু সংগ্রহ ব্যবস্থাকে উৎসাহিত করতে পরীক্ষামূলকভাবে ডিএনসিসির নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ২৫০টি সবুজ ও ২৫০টি হলুদ রঙের মোট ৫০০টি প্লাস্টিক বিন বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ৫০ হাজার পিস পলিব্যাগও বিতরণ করা হয়েছে। এই কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।
শফিকুল ইসলাম খান বলেন, আমিনবাজার ল্যান্ডফিল সম্প্রসারণ ও আধুনিকীকরণ প্রকল্পের আওতায় ‘বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ’ উৎপাদনের মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা হবে। প্রকল্পের আওতায় প্রতিদিন প্রায় ৩ হাজার টন কঠিন বর্জ্য ব্যবহার করে সর্বোচ্চ ৪২ দশমিক ৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে।
পরিচ্ছন্ন নগর গঠনে নাগরিক অংশগ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, গণমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং ওয়ার্ডভিত্তিক সচেতনতামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে জনসচেতনতা বাড়ানো হবে।
নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, নির্ধারিত স্থান ছাড়া কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে ময়লা-আবর্জনা ফেলা যাবে না। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও সহযোগিতার মাধ্যমেই ‘ক্লিন ঢাকা, গ্রিন ঢাকা’ বাস্তবায়ন সম্ভব।




