• ই-পেপার

হেফাজতে ইসলাম ভাঙনের কিনারায়

  • এক পক্ষের বিরোধিতার মুখে হাটহাজারীতে আজ সম্মেলন

এলডিসি উত্তরণ ও এসডিজি বাস্তবায়নে জাতিসংঘের জোরালো সহযোগিতা চাইলেন উপদেষ্টা তিতুমীর

অনলাইন ডেস্ক
এলডিসি উত্তরণ ও এসডিজি বাস্তবায়নে জাতিসংঘের জোরালো সহযোগিতা চাইলেন উপদেষ্টা তিতুমীর

স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে বাংলাদেশের টেকসই ও নির্বিঘ্ন উত্তরণ, টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করা এবং সরকারের বর্তমান সংস্কার কর্মসূচিকে এগিয়ে নিতে জাতিসংঘের আরো জোরালো সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) জাতিসংঘ সদরদপ্তরে সংস্থাটির বেশ কয়েকজন শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তার সঙ্গে পৃথক বৈঠকে তিনি এই আহ্বান জানান।

ড. তিতুমীর বৈঠক করেন জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিকবিষয়ক আন্ডার-সেক্রেটারি-জেনারেল লি জুনহুয়া, জাতিসংঘের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিশনের (ইউএন-এসক্যাপ) নির্বাহী সচিব ও আন্ডার-সেক্রেটারি-জেনারেল আর্মিদা সালসিয়াহ আলিসজাহবানা এবং সহকারী মহাসচিব ও ইউএনডিপির এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় ব্যুরোর আঞ্চলিক পরিচালক কান্নি উইথারাজার সঙ্গে।

আন্ডার-সেক্রেটারি-জেনারেল এবং ইউএন ডেসার প্রধান লি জুনহুয়ার সঙ্গে বৈঠকে তিনি বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশ হতে উত্তরণের প্রস্তুতিকাল ৩ বছর বাড়ানোর অনুরোধের বিষয়টিও তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা, স্মুথ ট্রানজিশন স্ট্র্যাটেজি কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন এবং টেকসই ও অপরিবর্তনীয় উত্তরণ নিশ্চিত করতেই এই সময় বৃদ্ধির অনুরোধ করা হয়েছে।

লি জুনহুয়া বাংলাদেশের উন্নয়ন অভিযাত্রায় ইউএন ডেসার অব্যাহত সহযোগিতার আশ্বাস পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণ প্রক্রিয়া সফল ও টেকসই করতে দেশটির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

আন্ডার-সেক্রেটারি-জেনারেল আর্মিদা সালসিয়াহ আলিসাহবানার সঙ্গে বৈঠকে ড. তিতুমীর বলেন, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে প্রাপ্ত গণরায় সরকারের প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, জবাবদিহিমূলক সুশাসন এবং জনকল্যাণমুখী উন্নয়ন কর্মসূচিকে এগিয়ে নেওয়ার ভিত্তি আরও সুদৃঢ় করেছে। তিনি সরকারের ৩ আর কৌশল অর্থাৎ- রিকভারি, রিস্টোরেশন অ্যান্ড রিকনস্ট্রাকশন ফর এক্সিলারেশনের কথা তুলে ধরে বলেন, এই কৌশল অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার রূপরেখা হিসেবে কাজ করবে।

আর্মিদা সালসিয়াহ আলিসাহবানা বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণ, আঞ্চলিক সংযোগ এবং জলবায়ু সহনশীলতা জোরদারে ইউএন-এসক্যাপের অব্যাহত সহযোগিতার আশ্বাস দেন এবং সরকারের সার্বজনীন সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

ইউএনডিপির এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় ব্যুরোর আঞ্চলিক পরিচালক ও সহকারী মহাসচিব কান্নি উইগ্গারাজার সঙ্গে বৈঠকে ড. তিতুমীর গণতান্ত্রিক সুশাসন, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার এবং বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়ন অগ্রাধিকার বাস্তবায়নে ইউএনডিপির অব্যাহত সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। জবাবে কান্নি উইথারাজা এসব ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে ইউএনডিপির সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস পুনর্ব্যক্ত করেন।

খেলাধুলার প্রসারে প্রতিটি ইউনিয়নে অন্তত ৮ বিঘা জমি বরাদ্দের সিদ্ধান্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক
খেলাধুলার প্রসারে প্রতিটি ইউনিয়নে অন্তত ৮ বিঘা জমি বরাদ্দের সিদ্ধান্ত
প্রতীকী ছবি

দেশের শিশু-কিশোর ও তরুণ সমাজকে শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ, শৃঙ্খলাবদ্ধ এবং কর্মক্ষম নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে ন্যূনতম আট বিঘা জমি চিহ্নিত করে খেলার মাঠ সংস্কার, উন্নয়ন বা প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বর্তমান সময়ে প্রযুক্তিনির্ভর জীবনযাপন, উন্মুক্ত স্থানের সংকোচন এবং অতি-নগরায়ণের ফলে মাঠভিত্তিক ক্রীড়া কার্যক্রম ক্রমশ সীমিত হয়ে পড়ছে। এর ফলে একদিকে যেমন শিশু-কিশোরদের স্বাভাবিক শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে মাদকাসক্তি, অপরাধপ্রবণতা ও সামাজিক অবক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ছে। এই পরিস্থিতি মোকাবেলা এবং তৃণমূল পর্যায়ে ক্রীড়া চর্চার সুযোগ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে সরকার এই সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।

যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক জানান, খেলাধুলার সার্বিক বিকাশের জন্য পর্যাপ্ত মাঠের প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উদ্যোগে ইতিমধ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে, যার আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করছেন স্বয়ং প্রতিমন্ত্রী। এই কমিটিতে স্থানীয় সরকার ও গৃহায়ণ প্রতিমন্ত্রীসহ ১২ জন সচিব রয়েছেন। তাদের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে ঢাকাসহ সারা দেশে মাঠ সংরক্ষণ, সংস্কার এবং নতুন খেলার মাঠ নির্মাণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রতিটি সংসদ সদস্যকে নিজ নিজ এলাকায় অন্তত আট বিঘা জমি নির্ধারণের জন্য আধা-সরকারি পত্র (ডিও লেটার) দেওয়া হয়েছে, যেখানে তৃণমূল পর্যায়ে খেলাধুলার প্রসারে আধুনিক খেলার মাঠ নির্মাণ করা হবে।

আন্ত মন্ত্রণালয় সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশের প্রতিটি জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে মাঠ ‘কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ’ হিসেবে সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করার অনুরোধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সর্বসাধারণের ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কার ও উন্নয়নের প্রস্তাব প্রেরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদেরও তাদের নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় সংশ্লিষ্ট ইউএনও-কে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদানের মাধ্যমে এই কার্যক্রমে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

তবে ভূমি একটি সীমিত জাতীয় সম্পদ হওয়ায় সরকারি নির্দেশনায় স্পষ্ট করা হয়েছে যে, যেসব ইউনিয়নে বর্তমানে কোনো খেলার মাঠ নেই, সেখানে ভবিষ্যতে মাঠ প্রতিষ্ঠার জন্য কোনোভাবেই কৃষি জমি নষ্ট করা যাবে না। কৃষি জমি রক্ষা করে ইউনিয়নের অধিভুক্ত এলাকার মধ্যবর্তী স্থানে বা গ্রোথ সেন্টারের নিকটবর্তী স্থানে সরকারি খাসজমি হতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই ন্যূনতম আট বিঘা জমি চিহ্নিত করার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আরো জানান, তৃণমূলের এই উদ্যোগের পাশাপাশি আগামী অর্থবছরে দেশের আটটি বিভাগ এবং ফরিদপুর ও কুমিল্লাসহ মোট ১০টি অঞ্চলে আন্তর্জাতিক মানের স্পোর্টস ভিলেজ নির্মাণ করা হবে। প্রস্তাবিত এসব স্পোর্টস ভিলেজে ইনডোর স্টেডিয়াম, সুইমিং পুল, আর্চারি, শুটিং ও ফুটবলসহ বিভিন্ন খেলার অত্যাধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা থাকবে।

শিশু-কিশোরদের মানসম্মত শারীরিক ও মানসিক বিকাশে সরকার ইতোমধ্যে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কর্মসূচি চালু করেছে এবং চতুর্থ শ্রেণি হতে পাঠ্যক্রমে ক্রীড়া শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ নিয়েছে। সরকারের এই ক্রীড়াবান্ধব নীতি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ইউনিয়নভিত্তিক খেলার মাঠ এবং আধুনিক স্পোর্টস ভিলেজগুলো বড় ভূমিকা রাখবে। এই সমন্বিত উদ্যোগ সফল হলে স্থানীয় পর্যায়ে ক্রীড়া অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি তৃণমূল থেকে প্রতিভা অন্বেষণ সহজ হবে, যা ভবিষ্যতে একটি স্বাস্থ্যবান, সুশৃঙ্খল ও উৎপাদনশীল জাতি গঠনে অবদান রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয় বিল পাস

নিজস্ব প্রতিবেদক
বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয় বিল পাস
সংগৃহীত ছবি

বগুড়ায় একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনে ‘বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয় বিল, ২০২৬’ পাস হয়েছে। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) জাতীয় সংসদে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বিলটি পাসের প্রস্তাব করেন। পরে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়। এর মধ্য দিয়ে ২০০১ সালে করা ‘বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন’ রহিত হলো। ওই আইনে বিশ্ববিদ্যালয়টির কার্যক্রম শুরু হয়নি।

বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয় বিল পাসের বিলটি জনমত যাচাইয়ের জন্য প্রচার এবং বাছাই কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাব দেন বিরোধী দলের একাধিক সংসদ সদস্য। এসব প্রস্তাব ও বিলের সাধারণ নীতির ওপর আলোচনা শেষে প্রস্তাবগুলো কণ্ঠভোটে নাকচ হয়ে যায়।

বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ তুলে ধরা বিবৃতিতে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ২০০১ সালের ১৫ জুলাই ‘বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন’ গেজেট আকারে প্রকাশিত হলেও তা কার্যকর করা হয়নি।

তিনি বলেন, বাস্তবতার নিরিখে বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবর্তে বিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান, প্রকৌশল, কারিগরি, কলা, সামাজিক বিজ্ঞান, ব্যবসায় প্রশাসন, আইন, কৃষি ও চিকিৎসাবিজ্ঞানসহ জ্ঞান-বিজ্ঞানের নতুন নতুন ক্ষেত্রে শিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ তৈরির প্রয়োজন রয়েছে। দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি এবং বগুড়ায় একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতির পরিপ্রেক্ষিতে নতুন আইনটি করা হয়েছে।

বিলের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে কয়েকজন সংসদ সদস্য বগুড়ায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগকে স্বাগত জানান। তবে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান, গবেষণা, শিক্ষক নিয়োগ এবং প্রশাসনিক কাঠামো নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। আলোচনা শেষে জনমত যাচাই ও বাছাই কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাবগুলো নাকচ করে বিলটি পাস করা হয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

গণভোটের রায় বাস্তবায়নে বিরোধী দলকে সংবিধান সংশোধন কমিটিতে আসতে হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক
গণভোটের রায় বাস্তবায়নে বিরোধী দলকে সংবিধান সংশোধন কমিটিতে আসতে হবে
সংগৃহীত ছবি

গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন করতে বিরোধী দলকে সংবিধান সংশোধন কমিটিতে আসার আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেছেন, ‘জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে গণভোটের প্রস্তাব তো আমিই করেছিলাম। সনদের আইনি ভিত্তি দেওয়ার জন্য করা হয়েছিল। ওই সনদ আমরা অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করতে চায়। এ জন্য সংবিধান সংশোধন করা প্রয়োজন।’

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ও গণহত্যার বিচার’ শীর্ষক সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন তিনি। ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অধিবেশনে কার্যপ্রণালি বিধির ৬৮ অনুযায়ী জনগুরুত্বপূর্ণ নোটিশটি উত্থাপন করেন রংপুর-৪ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য আখতার হোসেন। 

নোটিশের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, ‘জুলাই প্রশ্নে আমরা সবাই এক। আমরা যে ইস্পাত কঠিন ঐক্য গড়ে তুলেছিলাম, তা ধরে রাখতে হবে। আমাদের জুলাই অভ্যুত্থানকে ধারণ করতে হবে। কৃতিত্ব যেন কেউ দাবি না করি। নির্দিষ্ট কোনো রাজনৈতিক গোষ্ঠী যেন এ আন্দোলনকে বিতর্কিত করতে না পারে, সে বিষয়ে সজাগ থাকতে হবে।’ সবার আগে বাংলাদেশকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

আওয়ামী লীগের দলগত বিচার প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এ দাবিতে বিএনপি শুরু থেকেই সোচ্চার ছিল। পরবর্তীতে আইন সংশোধনের মাধ্যমে দলগত বিচারের আইনি ভিত্তিও তৈরি হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় সরকার শেখ হাসিনাকে ফেরানোর চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। দেশে ফিরলে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজন হলে ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা, প্রসিকিউটর, তদন্তকারী কর্মকর্তা ও লজিস্টিক সহায়তা বাড়ানো হবে, যাতে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা যায়।’

তিনি আরো বলেন, ‘গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং ভবিষ্যতে ফ্যাসিবাদ ঠেকাতে সরকার সংবিধান সংস্কারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ লক্ষ্যে গঠিত সংবিধান সংস্কার কমিটিতে বিরোধী দলের জন্য এখনো পাঁচটি আসন খালি রাখা হয়েছে।’ তিনি তাদের আলোচনায় ফিরে আসার আহ্বান জানান।

জুলাইযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের জন্য সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, প্রতিটি শহীদ পরিবারের জন্য এককালীন ৩০ লাখ টাকা, ‘ক’ শ্রেণির আহতদের ৫ লাখ টাকা, ‘খ’ শ্রেণির আহতদের ৩ লাখ টাকা এবং ‘গ’ শ্রেণির আহতদের এক লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শহীদ পরিবার ও আহতদের জন্য মাসিক ভাতাও চালু করা হয়েছে। গুরুতর আহতদের প্রয়োজনে বিদেশে চিকিৎসার ব্যবস্থাও করা হবে। জুলাই ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম আরো সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী ৫ আগস্ট জুলাই স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন করা হবে। 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম ও সবচেয়ে বড় অর্জন জুলাই ঘোষণাপত্র। সেই ঘোষণাপত্রের ধারাবাহিকতায় জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের উদ্যোগে জুলাই জাতীয় সনদ প্রণীত হয়েছে। কিন্তু সংসদে গণ-অভ্যুত্থান নিয়ে আলোচনায় এ দুটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জনের কথা যথাযথভাবে উঠে আসেনি।’

তিনি বলেন, জুলাই ঘোষণাপত্র ও জাতীয় সনদে শহীদ পরিবার, আহত জুলাইযোদ্ধাদের সুরক্ষা, সাংবিধানিক স্বীকৃতি এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার যে অঙ্গীকার করা হয়েছে, সরকার তা বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

বিরোধীদলীয় নেতা ডা. মো. শফিকুর রহমান বলেন, ‘জুলাই ছিল দীর্ঘ সাড়ে ১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামের চূড়ান্ত ফল। তাই শুধু জুলাই নয়, সেই দীর্ঘ সময়ের সব শহীদ, আহত, গুম ও নির্যাতিত ব্যক্তিদেরও রাষ্ট্রীয়ভাবে মূল্যায়ন করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘ব্যাংককের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন জুলাইযোদ্ধাদের সঙ্গে তিনি কথা বলেছেন। অনেককে আগের সরকারের সময় চিকিৎসার জন্য পাঠানো হলেও এখনও বহু আহত ব্যক্তি চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন মহলে ঘুরছেন। আহত ও পঙ্গু জুলাইযোদ্ধাদের যথাযথ চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে। প্রয়োজনে সংসদ সদস্যদের সুযোগ-সুবিধা কমিয়ে হলেও তাদের পাশে দাঁড়ানো উচিত।’

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘দ্রুত জুলাই জাদুঘর জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া উচিত। ভবনের কিছু কাজ বাকি থাকলেও জাদুঘর চালু করা যেতে পারে। জুলাই ফাউন্ডেশনকে কার্যকর প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। যদি সত্যিই কর্মকর্তারা কয়েক মাস ধরে বেতন না পেয়ে থাকেন, তবে সরকারকে দ্রুত বিষয়টি সমাধান করতে হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার বিলম্বিত হলে জাতি তা মেনে নেবে না। তবে বিচার যেন অবশ্যই ন্যায়বিচার হয় এবং কারো প্রতি অন্যায় না হয়, সেদিকেও সতর্ক থাকতে হবে। দীর্ঘ আন্দোলনের সময় বহু মানুষ কারাবন্দি হয়েছে, নির্যাতনের শিকার হয়েছে। তাদের আত্মত্যাগও জাতিকে স্মরণ রাখতে হবে। তাদের মূল্যায়ন করতে হবে।’

সীমান্ত ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তায় ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, সীমান্তে উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে সরকারকে স্পষ্ট অবস্থান নিতে হবে। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সরকার ও বিরোধী দলসহ সব রাজনৈতিক শক্তির ঐক্য প্রয়োজন। প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্কের প্রশ্নে জাতীয় ঐকমত্য থাকা জরুরি। তিনি বলেন, গণভোটে জনগণ যে রায় দিয়েছে, তার যথাযথ মূল্যায়ন হওয়া উচিত। জনগণের ভোটের প্রতিফলন বাস্তবায়িত না হলে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের প্রতি মানুষের আস্থা দুর্বল হবে। জুলাইয়ের স্পর্শকাতর সময়কে সামনে রেখে সব রাজনৈতিক দলকে দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানান তিনি।

আইনমন্ত্রী বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান এখন বাংলাদেশের স্বীকৃত সত্য। যত দিন বাংলাদেশ থাকবে, জুলাই তত দিন জাতীয় চেতনা, অহংকার ও রাজনৈতিক অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। প্রধানমন্ত্রী দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে গিয়ে কৃষক, শ্রমিক, সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে যে জনসম্পৃক্ত নেতৃত্বের পরিচয় দিচ্ছেন, সেটিই জুলাই চেতনার বাস্তব প্রতিফলন।

তিনি বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে বিচার কার্যক্রম দৃশ্যমান অগ্রগতি অর্জন করেছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর ১৬টি তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে, যার মধ্যে ১২টির তদন্ত প্রতিবেদন জমা পড়েছে এবং চারটি মামলায় অভিযোগ গঠন হয়েছে। ইতোমধ্যে তিনটি মামলার রায়ও হয়েছে, যার মধ্যে আবু সাঈদ হত্যা মামলাও রয়েছে।

আইনমন্ত্রী জানান, জুলাই হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে ট্রাইব্যুনালে ৫৯০টি অভিযোগ জমা পড়েছিল। সেখান থেকে যাচাই-বাছাই শেষে ১০৯টি মামলা গ্রহণ করা হয়। এর মধ্যে ৪৩টি মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল হয়েছে, ছয়টি মামলার বিচার সম্পন্ন হয়েছে এবং চারটি মামলার রায় অপেক্ষমাণ রয়েছে। এসব মামলায় এখন পর্যন্ত ১৬ জনের মৃত্যুদণ্ড, ১১ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ৩৫ জনের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা হয়েছে। একজন রাজসাক্ষী খালাস পেয়েছেন এবং আরও ২৬টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। শাপলা চত্বরের হত্যাকাণ্ড, আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে সংগঠন হিসেবে তদন্ত এবং জুলাই হত্যাকাণ্ডে দেশের বিভিন্ন জেলায় সংঘটিত ঘটনাগুলোর তদন্তও শুরু হয়েছে বা পরিকল্পনার পর্যায়ে রয়েছে।

আইনমন্ত্রী বলেন, যারা বিদেশে বসে আত্মসমর্পণের হুমকি দিচ্ছেন, বাংলাদেশের আইনে তাদের আত্মসমর্পণের কোনো সুযোগ নেই। তারা দেশের সীমানায় প্রবেশ করলেই গ্রেপ্তার হবেন। জুলাই চেতনায় বিশ্বাসী মানুষ কখনোই ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন হতে দেবে না। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

আলোচনা উত্থাপন করে আখতার হোসেন বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে অস্বীকার করার নানা চেষ্টা থাকলেও জাতিসংঘের প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে আওয়ামী লীগ মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে। ফলে অপপ্রচার চালিয়ে সেই সত্য আড়াল করা সম্ভব নয়। 

তিনি বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যাপক জনসম্পৃক্ত আন্দোলন ছিল জুলাই গণ-অভ্যুত্থান। দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ, এমনকি প্রবাসীরাও এতে অংশ নিয়েছিলেন। এত বড় আত্মত্যাগের পরও বিচারকাজ কাঙ্খিত গতিতে এগোচ্ছে না। তার ভাষায়, শেখ হাসিনাসহ গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্তরা এখনো বিচারের বাইরে রয়েছেন। তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে দ্রুত বিচার সম্পন্ন করতে হবে।

এই আলোচনায় আরো অংশ নেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর, বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মীর আহমেদ বিন কাসেম আরমান এবং সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ও জুলাই শহীদ জাবিরের মা রোকেয়া বেগম।

হেফাজতে ইসলাম ভাঙনের কিনারায় | কালের কণ্ঠ