• ই-পেপার

করোনা আক্রান্ত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক

মাদকে বিপন্ন ৪৯ ধনীর মেয়ে

৫ লাখের বেশি নারী মাদকে সম্পৃক্ত বেশির ভাগ নারী ইয়াবা-হেরোইনে আসক্ত মাদক বহনে নারীদের ব্যবহার করছে শীর্ষ কারবারিরা সুস্থ হতে পুনর্বাসনকেন্দ্রে গিয়েও স্বাভাবিক জীবনে ফেরা কঠিন

রেজোয়ান বিশ্বাস
মাদকে বিপন্ন ৪৯ ধনীর মেয়ে
প্রতীকী ছবি

রুমি (ছদ্মনাম) দেশের স্বনামধন্য একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছেন। মাদক সেবনের কারণে উচ্চশিক্ষিত এই মেধাবী নারী এখন পরিবার, স্বামী, সংসার—এমনকি আদরের সন্তান থেকেও বিচ্ছিন্ন। শুরুতে ধূমপান করতেন, ধীরে ধীরে ইয়াবা, পরবর্তী সময়ে হেরোইনে আসক্ত হয়ে পড়েন। এখন তার জীবন পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন। টাকার জন্য গেছেন বিপথে।

তার মতো অন্তত ৪৯ নারীর সঙ্গে কথা বলে অনেকটা একই চিত্র পাওয়া গেছে। বর্তমানে ঢাকা আহছানিয়া মিশন নারী মাদকাসক্তি চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন রয়েছেন তারা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তারা প্রত্যেকে দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত। মাদকসেবী এসব নারীর বেশির ভাগ ধনাঢ্য পরিবারের সন্তান। তাদের আত্মীয়-স্বজনের মধ্যে উচ্চ পর্যায়ের ব্যক্তিও রয়েছেন।

চিকিৎসাধীন এসব নারীর ভাষ্য, শুরুতে মাদকের ক্রেতা ছিলেন তারা। এরপর ধীরে ধীরে ইয়াবাসহ অন্যান্য মাদকদ্রব্যে আসক্ত হয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে মাদকের অর্থ জোগাড় করতে গিয়েই মূলত তারা পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। মাদকের টাকা জোগাড় করতে গিয়ে তাদের অনেকে বিপথে।

চিকিৎসাধীন এক নারীর ভাষ্য, বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত অবস্থায় তার বিয়ে হয়। স্বামীর মাধ্যমে তিনি মাদকের সঙ্গে পরিচিত হন। এক পর্যায়ে আসক্ত হয়ে পড়েন। সন্তান জন্মের পর তার আচরণে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ধরা পড়ে পরিবারে। তিনি প্রায়ই অতি উত্তেজিত ও আক্রমণাত্মক হয়ে উঠতেন। এসব কারণে দাম্পত্য সম্পর্কে গুরুতর অবনতি এবং বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে।

পরে তিনি দ্বিতীয়বার বিয়ে করলেও সমস্যা থেকেই যায়। এসময় তিনি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি নিলেও মাদকের কারণে তা হারান এবং একই সঙ্গে সংসারও ভেঙে যায়। দীর্ঘদিনের মাদকাসক্তিতে তার স্বাস্থ্যের বেশ অবনতি ঘটে। এখন তিনি আহছানিয়া মিশনের ওই চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন।

আহছানিয়া মিশনের গবেষণা

ঢাকা আহছানিয়া মিশন পরিচালিত গবেষণা বলছে, নারীদের মধ্যে মাদকাসক্তি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। নারী মাদকসেবীদের বড় একটি অংশ ইয়াবা সেবন করেন।

তথ্য বলছে, চলতি বছরের গত ছয় মাসে (জানুয়ারি থেকে জুন) ৬২ জন ঢাকা আহছানিয়া মিশন নারী মাদকাসক্তি চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে চিকিৎসার জন্য ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ৪৩ জন দীর্ঘদিন ধরে মাদকে আসক্ত। ছয়জন মাদকের কারণে চরমভাবে মানসিক বিকারগ্রস্ত। তাদের মধ্যে ১৪ থেকে ২৫ বছর বয়সী ২৪ জন, ২৬ থেকে ৩৫ বছর বয়সী ২১ জন, ৩৬ থেকে ৪৫ বছর বয়সী ১৫ জন ও ৪৬ থেকে ৫৫ বছর বয়সী দুজন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঢাকা জেলায় ৪৮ জন।

ঢাকা আহছানিয়া মিশন নারী মাদকাসক্ত কেন্দ্রের ‘হেলথ অ্যান্ড ওয়াশ’ বিভাগের প্রধান ইকবাল মাসুদ বলেন, ‘এখন উচ্চবিত্ত পরিবারের মেয়েরা বেশি মাদকে আসক্ত হচ্ছেন। বাবা-মা সন্তানদের যথাযথ সময় না দেওয়ার পাশাপাশি পরিবারের অবহেলার কারণে অল্প বয়সে তারা মাদকে আসক্ত হচ্ছেন।’

মাদকের কারণে অপরাধেও জড়াচ্ছেন নারীরা

নারীরা মাদক সেবনের পাশাপাশি মাদক কারবারেও জড়িয়ে পড়ছেন। মাদকদ্রব্য ও নেশা নিরোধ সংস্থার (মানস) প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অধ্যাপক ড. অরূপ রতন চৌধুরী বলেন, ‘আগের চেয়ে দেশে নারী মাদকাসক্তদের সংখ্যা বাড়ছে।’

সাম্প্রতিক এক গবেষণা প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক (ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের গোয়েন্দা বিভাগ) মেহেদী হাসান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দেশে বর্তমানে ৮২ লাখের বেশি মাদকাসক্ত রয়েছে’। মাদক নিয়ন্ত্রণে তারা নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রেখেছেন বলেও জানান তিনি।

তবে মানস বলছে, দেশে মাদকাসক্তের সংখ্যা রয়েছে প্রায় সোয়া কোটি।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, ‘দেশে বর্তমানে পাঁচ লাখের বেশি নারী মাদকে সম্পৃক্ত। তবে সরকারি হিসাবে এই সংখ্যা অনেক বেশি। তাদের মধ্যে মাদক বিক্রেতা, ক্রেতা ও মাদকসেবী রয়েছেন। এসব নারীর মধ্যে অনেক তরুণী ও শিশুও রয়েছেন। এর মধ্যে বেশির ভাগ শিক্ষার্থী।’

পুলিশ সদর দপ্তর ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্র বলছে, দেশে নারীদের মধ্যে মাদকাসক্তি ও মাদক কারবারে জড়িত থাকা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। মাদক গডফাদাররা এসব নারীকে ব্যবহার করে সারা দেশে মাদক কারবারে জড়িয়ে কোটি কোটি টাকা অবৈধভাবে হাতিয়ে নিচ্ছেন।

জীবনসঙ্গীর কারণে বেশির ভাগ নারী মাদকে জড়িয়েছেন জানিয়ে সংস্থাটি বলছে, দেশে ১৫ থেকে ৬০ বছর বয়সী এক লাখ ৫০ হাজার মাদক কারবারির মধ্যে ২৭ হাজার ৩০০ জন নারী মাদক কারবারি, যা মোট মাদক কারবারির ১৭ শতাংশ।

তালিকাভুক্ত তিন হাজার ২০০-এর বেশি মাদক কারবারি নিয়ে মানসের অনুসন্ধান বলছে, প্রতি ১০ জন নারীর ৩ জনই নেশাগ্রস্ত। মাদকাসক্ত নারীদের মধ্যে ৪৩ শতাংশই ইয়াবাসেবী।

সংঘবদ্ধ মাদক চক্র সমাজে ছড়িয়ে দিচ্ছে মাদক

রাজধানীর কয়েকটি এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মোহাম্মদপুর বিহারী ক্যাম্প কেন্দ্রীক অন্তত ৪৫ জন নারী ভাসমান মাদক কারবারে জড়িত। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নারী মাদক বিক্রেতা কালের কণ্ঠকে জানান, মাদক বিক্রি করে তিনি ৫০০ থেকে এক হাজার টাকা পান। ক্যাম্পের শীর্ষ মাদক কারবারীরা তাকে এ পথে এনেছে।

রাজধানীর প্রতিটি থানা-এলাকাসহ সারা দেশে ভাসমান মাদক বিক্রেতাদের মধ্যে বেশির ভাগ নারী। সংঘবদ্ধ মাদক চক্র সমাজে মাদক ছড়িয়ে দিচ্ছে। তাদের মাধ্যমে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছেন।

মির্জা ফখরুল

আমরা সংবিধান সংশোধন করতে চাই, কখনও সংস্কারের কথা বলিনি

অনলাইন ডেস্ক
আমরা সংবিধান সংশোধন করতে চাই, কখনও সংস্কারের কথা বলিনি
ছবি : ভিডিও থেকে নেওয়া

বিএনপি সংবিধান সংশোধন করতে চায় বলে জানিয়েছে দলটির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি দাবি করেন, বিএনপি কখনও সংবিধান সংস্কারের কথা বলেনি।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) সকালে প্রফেসর এমাজউদ্দিন আহমেদের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এক স্মরণসভায় এই কথা জানান তিনি।

মির্জা ফখরুল বলেন, 'আমরা জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করব। প্রত্যেকটি অক্ষর আমরা পালন করব। এটা হচ্ছে আমাদের কমিটমেন্ট।'

সংবিধান সংস্কার বা সংশোধন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, 'আমরা বরাবরই বলে এসছি, আমরা সংবিধান সংশোধন করতে চাই। আমরা সংবিধান সংস্কারের কথা কখনোই বলিনি।'

তিনি বলেন, 'আমরা চাই না জুলাই শুধু ক্ষমতার যাওয়ার জন্য আরেকটা হাতিয়ারি পরিণত হোক। জুলাইয়ের আন্দোলন শুধু ওই জুলাই মাসেরই আন্দোলন নয়। জুলাইয়ের আন্দোলন দীর্ঘকাল ধরে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে যে লড়াই হয়েছে সেই লড়াইয়ের ফলশ্রুতি।'

বিরোধীদলের অনেকে বিভিন্ন রকম মুখরোচক কথা বলে জনগণকে উত্তেজিত করার চেষ্টা করছেন বলে দাবি করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। 

খুলনায় সাংবাদিকদের ওপর গুলিবর্ষণ গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর আঘাত : টিআইবি

অনলাইন ডেস্ক
খুলনায় সাংবাদিকদের ওপর গুলিবর্ষণ গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর আঘাত : টিআইবি

খুলনায় সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণের ঘটনাকে স্বাধীন সাংবাদিকতা ও উন্মুক্ত গণমাধ্যমের ওপর আঘাত বলছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। এ ঘটনায়  গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে টিআইবি ঘটনার দ্রুত, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে হামলার সঙ্গে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে।

গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘হামলাটি কোনো নির্দিষ্ট সাংবাদিককে লক্ষ্য করে বা কোনো বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশের কারণে সংঘটিত হয়েছে কি-না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে সাংবাদিকদের ওপর এই সশস্ত্র হামলা সামগ্রিকভাবে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের অধিকারের ওপর আঘাত—এ বিষয়ে সন্দেহের অবকাশ নেই।’

ঘটনার নিরপেক্ষ ও কার্যকর তদন্তের মাধ্যমে হামলাকারী, পরিকল্পনাকারী ও নির্দেশদাতাদের শনাক্ত করে জবাবদিহির আওতায় আনার আহ্বান জানান তিনি।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ থেকে জানা যায়, হামলার শিকার সাংবাদিকেরা প্রাথমিকভাবে মামলা দায়েরে অনাগ্রহী ছিলেন। বিষয়টিকে উদ্বেগজনক উল্লেখ করে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, ‘এই ভীতির সংস্কৃতি দূর করতে অবিলম্বে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের উদ্যোগ গ্রহণের পাশাপাশি প্রতিটি হামলার বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত, বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।’

সন্ধ্যার মধ্যে যে ১৩ জেলায় ঝড়ের শঙ্কা

অনলাইন ডেস্ক
সন্ধ্যার মধ্যে যে ১৩ জেলায় ঝড়ের শঙ্কা

দেশের ১৩ জেলায় সন্ধ্যার মধ্যে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এ জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোকে সতর্কবার্তা দিয়েছে সংস্থাটি। 

শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরের জন্য দেওয়া পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে। 

এতে বলা হয়েছে, ঢাকা, ফরিদপুর, মাদারীপুর, যশোর, কুষ্টিয়া, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম/উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

করোনা আক্রান্ত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক | কালের কণ্ঠ