• ই-পেপার

বগুড়া-১ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল মান্নান আর নেই

বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস আজ

অনলাইন ডেস্ক
বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস আজ

আজ বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস। ১৯৯০ সালের ১১ জুলাই প্রথমবারের মতো ৯০টি দেশে বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস উদযাপিত হয়। এরই ধারবাহিকতায় নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে এ বছর বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস পালন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ।

এ বছর বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস উপলক্ষে আগামীকাল রোববার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হচ্ছে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। এছাড়া স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন।

বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতার ও প্রাইভেট চ্যানেলগুলো বিশেষ কর্মসূচি সম্প্রচার এবং বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকগুলো বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করবে।

১৯৮৯ সালে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির গভর্নিং কাউন্সিল জনসংখ্যা ইস্যুতে গুরুত্ব প্রদান ও জরুরি মনোযোগ আকর্ষণের লক্ষ্যে বিশ্বব্যাপী ১১ জুলাই বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস পালনের সিদ্ধান্ত নেয়।

সংবিধানে আসছে পরিবর্তন

অনলাইন ডেস্ক
সংবিধানে আসছে পরিবর্তন

সংবিধানের বহুল আলোচিত পঞ্চদশ সংশোধনীর অংশবিশেষ অসাংবিধানিক ও বাতিল ঘোষণা করে বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ যে রায় দিয়েছেন তা নিয়ে সারা দেশে রাজনৈতিক অঙ্গনে উৎসাহ-উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি সুশীল সমাজ ও সংবিধান বিশেষজ্ঞরাও দেশের জন্য বিষয়টি ইতিবাচক হবে বলে মন্তব্য করছেন। তাদের মতে বাংলাদেশের সাংবিধানিক কাঠামোয় গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পরিবর্তন কার্যকর হওয়ার পথ তৈরি হয়েছে।

বিশেষ করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা, গণভোটের বিধান এবং সংবিধানের কিছু ‘অসংশোধনীয়’ ধারা নিয়ে নতুন করে আইনগত ও রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। এ বিষয়ে দেশের প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘সর্বোচ্চ আদালত তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বহাল রাখায় আমরা খুশি। আমরা আনন্দিত। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ জাতীয় নির্বাচনের এই উৎকৃষ্ট পদ্ধতি পুনর্বহালের পথ উন্মুক্ত করে দেওয়ায় পুরো জাতিই উৎফুল্ল।’

সংবিধান বিশেষজ্ঞদের মতে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর সংসদকে সংবিধানের কয়েকটি অনুচ্ছেদে আনুষ্ঠানিক সংশোধন এনে আদালতের নির্দেশনার সঙ্গে সামঞ্জস্য বিধান করতে হবে। এজন্য সরকার সংসদে একটি সমন্বিত সংবিধান সংশোধন বিল আনতে পারে। সেই বিলে তত্ত্বাবধায়ক সরকার, গণভোট, ৭ক, ৭খ, ৪৪(২) অনুচ্ছেদসহ আদালতের পর্যবেক্ষণের আলোকে প্রয়োজনীয় সব পরিবর্তন একসঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে।

রায়ের পরবর্তী প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে চাইলে সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক বলেন, ‘আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর সংসদের কাজ হবে আদালতের পর্যবেক্ষণ ও নির্দেশনা অনুযায়ী সংবিধানের ভাষা পুনর্গঠন করা।’ তার মতে ‘শুধু তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনর্বহাল করলেই দায়িত্ব শেষ হবে না; আদালত যেসব বিধান অসাংবিধানিক বলেছেন, সেগুলোর সঙ্গে সম্পর্কিত সব অনুচ্ছেদে সমন্বয় আনতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে সাংবিধানিক জটিলতা সৃষ্টি না হয়।’

তিনি বলেন, ‘আদালত কোনো আইনকে অসাংবিধানিক বা বেআইনি ঘোষণা করতে পারেন কিন্তু নতুন আইন প্রণয়ন বা সংবিধান সংশোধন করতে পারেন না। এটি একমাত্র জাতীয় সংসদের এখতিয়ার। এজন্য রায়ের আলোকে কোনো কিছুই অটোমেটিক পুনর্জীবিত হয়ে যাবে না, সংসদে সংবিধান সংশোধন করতে হবে।’

এ বিষয়ে সুজন (সুশাসনের জন্য নাগরিক) সম্পাদকসহ চার ব্যক্তির পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ড. শরীফ ভূঁইয়া বলেন, ‘আপিল বিভাগের রায়ে হাই কোর্টের সিদ্ধান্ত বহাল থাকায় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলের বিধানগুলোও বাতিল হয়েছে। তবে এর ফলে সংবিধানে কিছু আইনি ও কারিগরি অসামঞ্জস্য তৈরি হয়েছে, যার সমাধান সংসদকেই করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘হাই কোর্ট সব সংশ্লিষ্ট বিধান বাতিল করেননি। ফলে উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার শপথ এবং বিচারপতির প্রধান উপদেষ্টা হওয়ার বিধানগুলো পুনরুজ্জীবিত হয়নি। পাশাপাশি সংসদ ভেঙে যাওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের বর্তমান বিধান বহাল থাকলে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনেও জটিলতা তৈরি হবে।’

পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে এবং প্রয়োজনে রিভিউ আবেদন করা হতে পারে বলেও জানান তিনি। যেসব অনুচ্ছেদে সংশোধন আনতে হবে : সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধান থেকে ত্রয়োদশ সংশোধনীতে যুক্ত তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করা হয়েছিল। হাই কোর্ট সেই বাতিলের অংশকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করেন এবং আপিল বিভাগ তা বহাল রেখেছেন। এর ফলে সংবিধানের ৫৮খ, ৫৮গ, ৫৮ঘ, ৫৮ঙসহ তত্ত্বাবধায়ক সরকারসংক্রান্ত বিধান পুনরুজ্জীবিত হয়েছে বলে মনে করছেন আইনজ্ঞরা। তবে আদালতের রায়ের আলোকে এ ব্যবস্থার কাঠামো, উপদেষ্টা নিয়োগ পদ্ধতি এবং নির্বাচনকালীন সরকারের ক্ষমতা বিষয়ে সংসদ নতুন ভাষায় বিধান প্রণয়ন করতে পারে বলেও মত রয়েছে।

পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদ থেকে গণভোটের বিধান বাদ দেওয়া হয়েছিল। হাই কোর্ট রায়ে ওই অংশ বাতিল করে গণভোট ব্যবস্থা পুনর্বহাল করেন, যা আপিল বিভাগ বহাল রেখেছে। ফলে সংবিধানের মৌলিক কিছু বিষয় সংশোধনের ক্ষেত্রে আবারও জনগণের সরাসরি মতামত নেওয়ার সাংবিধানিক ভিত্তি তৈরি হয়েছে। এখন সংসদকে ১৪২ অনুচ্ছেদের ভাষা পুনর্গঠন করে গণভোট আয়োজনের পদ্ধতি, ক্ষেত্র ও সীমা নির্ধারণে প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন করতে হতে পারে। হাই কোর্ট পঞ্চদশ সংশোধনীর রায়ের মাধ্যমে সংযোজিত ৭ক ও ৭খ অনুচ্ছেদকে সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণা করেছিলেন।

৭ক অনুচ্ছেদে সংবিধান বাতিল বা স্থগিতের অপরাধের শাস্তি এবং ৭খ অনুচ্ছেদে সংবিধানের কিছু অংশকে সংশোধন-অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছিল। আপিল বিভাগের রায়ে সেই অবস্থান বহাল থাকায় এসব অনুচ্ছেদ কার্যত সংবিধান থেকে অপসারণ বা পুনর্লিখনের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে ৭খ বাতিল হওয়ার ফলে সংসদের সংশোধন ক্ষমতার ওপর আরোপিত সাংবিধানিক সীমাবদ্ধতার প্রশ্ন নতুনভাবে বিবেচনার সুযোগ তৈরি হয়েছে। পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংযোজিত ৪৪(২) অনুচ্ছেদও হাই কোর্ট বাতিল করেছিলেন।

সংসদীয় কমিটির মাধ্যমে হবে সংবিধান সংশোধন : তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহাল করতে হলে সংবিধানের প্রয়োজনীয় সংশোধনের মধ্য দিয়ে যেতে হবে, যা সংসদের ভোট ও সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল। উচ্চ আদালত আইনি ও সাংবিধানিক দিক পর্যালোচনা করলেও রাজনৈতিক ও নীতিগত এই বড় সিদ্ধান্তের ভার আইনসভার ওপরেই ছেড়ে দিয়েছেন।

এ কারণে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ফেরাতে হলে পঞ্চদশ সংশোধনীতে সংবিধানের ৯৯, ১২৩, ১৪৭, ১৫২ এবং তৃতীয় তফসিলে যেসব পরিবর্তন আনা হয়েছিল, তা সংশোধন করতে হবে। এর বাইরে রায়ের পর আইনজীবীরা জানিয়েছেন, রাষ্ট্রের নীতি, সংবিধানের প্রস্তাবনা, ৮, ৯, ১১, ১২ ও ২৫ অনুচ্ছেদসহ নীতির বিষয়গুলো সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য পরিপূর্ণভাবে সংসদের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এসব বিষয় পর্যালোচনা করতে শিগগিরই গঠন করা হবে সংবিধান সংশোধন কমিটি।

বিএনপি নেতৃত্বতাধীন সরকারদলীয় ও জামায়াতের নেতৃত্বাধীন বিরোধীদলীয় জোটের সদস্যদের নিয়ে ওই কমিটি গঠন করা হবে। বৃহস্পতিবার উচ্চ আদালতের রায়ের পর এ নিয়ে কাজ করেছেন সরকারের নীতিনির্ধারকরা। সংসদীয় কার্যক্রম পরিচালনা করেন এমন কয়েকজন দায়িত্বশীল সূত্র জানান, ‘সংসদের মাধ্যমে সংবিধানের প্রয়োজনীয় সংশোধন করতে হবে। এটা আমাদের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা। এটা মানতে যেসব পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন সেগুলো নেওয়া হবে।’

এ প্রসঙ্গে সরকারদলীয় চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেন, ‘বৃহস্পতিবার উচ্চ আদালত যে রায় দিয়েছেন তার অনেক দিক রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম সংবিধান সংশোধন। এটা সংসদের মাধ্যমে করতে হবে। সংবিধান তো বাববার সংশোধন করা যায় না। একবার সংশোধন করলে এর মেয়াদ অন্তত ২০ থেকে ২৫ বছর স্থায়ী হয়। এসব চিন্তা করে খুব শিগগরিই একটি সংবিধান সংশোধন কমিটি গঠনের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

ওই কমিটির মাধ্যমে সংবিধানের প্রয়োজনীয় সংশোধনের দিক বিচার, বিশ্লেষণ ও পর্যালোচনা করে সংশোধন করা হবে।’ একই প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আগামী সংসদ অধিবেশনে সংবিধান সংশোধন বিল পাস করা হবে। বর্তমানে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন চলছে। ১৫ জুলাই পর্যন্ত অধিবেশন চলার কথা। এরপর দুই মাসের মধ্যে তৃতীয় অধিবেশন বসার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।’

তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ফিরে আসা প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. নুরুল আমিন বেপারী বলেন, ‘সংসদের মাধ্যমে এটা ফিরিয়ে আনা সম্ভব ছিল। তবে বিচার বিভাগের মাধ্যমে ফিরে আসায় সংসদের জন্য সুবিধা হয়েছে। কারণ সংসদে সরকারি দলের দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন রয়েছে। পাশাপাশি বিরোধী দলে থাকা জামায়াতেরও তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইস্যুতে আগে থেকে সমর্থন ছিল। সব মিলিয়ে এ ব্যবস্থা দেশের জন্য কল্যাণ বয়ে আনবে বলে মনে করি।’

জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রীর রাজনীতি ও শিল্পবিষয়ক উপদেষ্টা এবং বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘আওয়ামী লীগের অন্যায়ভাবে তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা বাতিলের বিরুদ্ধে বিএনপি শত শত বিবৃতি দিয়েছে। অন্যায়ভাবে এ ব্যবস্থা সংবিধান থেকে মুছে দেওয়ায় বিএনপি ধিক্কার জানিয়ে এর বিরুদ্ধে ক্রমাগতভাবে আন্দোলন করেছে। যে ব্যবস্থার জন্য আওয়ামী লীগ আন্দোলন করেছে তারাই সেটা মুছে দিল। সুতরাং এখানে “যেমন খুশি তেমন করব” এ নীতি নিয়েই শেখ হাসিনা এ কাজটি করেছেন।’

সংসদের এখন করণীয় কী জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এখন এটা সংসদে যাবে, সুপ্রিম কোর্টের এ রায় বাধ্যতামূলকভাবে আইনকরণ করতে হবে।’

২০১১ সালে ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিলের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করার পর থেকে এটি দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক ইস্যু। সুপ্রিম কোর্টের এ রায়ের ফলে বিষয়টি এখন আদালতকক্ষ থেকে সরাসরি রাজনৈতিক ও সংসদের ফ্লোরে স্থানান্তরিত হলো।

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন

ঢাকাসহ ১৮ জেলার জন্য আবহাওয়া অফিসের সতর্কবার্তা

অনলাইন ডেস্ক
ঢাকাসহ ১৮ জেলার জন্য আবহাওয়া অফিসের সতর্কবার্তা

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের ১৮টি জেলায় বজ্রসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। একই সঙ্গে এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

শনিবার (১১ জুলাই) ভোর ৫ টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরসমূহের জন্য দেওয়া আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী, পাবনা, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ঢাকা, ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্রবাজার এবং সিলেট অঞ্চলসমূহের উপর দিয়ে দক্ষিণ/দক্ষিণ-পূর্বদিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫-৬০ কি.মি. বেগে বৃষ্টি/বজ্রবৃষ্টিসহ অস্থায়ীভাবে দমকা/ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। 

এসব এলাকার নদীবন্দর সমূহকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে কঠোর সরকার

অর্থ ব্যয়ে বাড়ছে নজরদারি, দপ্তরে দপ্তরে প্রধানমন্ত্রীর জরুরি বার্তা

অনলাইন ডেস্ক
আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে কঠোর সরকার

অনিয়ম-দুর্নীতি, অপচয় ও দুর্বল আর্থিক ব্যবস্থাপনার লাগাম টানতে কঠোর সরকার। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে ব্যয় এবং কেনাকাটায় যাচাইবাছাইয়ের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ পেলে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দিয়েছেন খোদ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। উন্নয়ন-অনুন্নয়ন ব্যয় এবং কেনাকাটা তদারকি করতে বলা হয়েছে। গুরুতর অভিযোগ পেলে প্রকল্প পরিচালকদের তাৎক্ষণিক অব্যাহতি দেওয়া হতে পারে। এ ক্ষেত্রে পাবলিক প্রকিউরম্যান্ট অ্যাক্ট কঠোরভাবে মেনে চলার জন্য বলা হয়েছে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে এ ধরনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অর্থবিভাগ সূত্রের বরাতে এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ প্রতিদিন।

নীতিনির্ধারকদের মতে, শুধু ব্যয় কমানো নয়-দুর্নীতির সুযোগ সংকুচিত করা, অপচয় বন্ধ করা এবং আর্থিক খাতে টেকসই শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। দুর্নীতি ও অপচয় রোধ করলে মূল্যস্ফীতির চাপ কমবে বলে মনে করে সরকার।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, অতীতে প্রকৃত প্রয়োজন যাচাই ছাড়াই ব্যয় অনুমোদন, অতিমূল্যে পণ্য ও সেবা ক্রয়, প্রকল্প ব্যয় বৃদ্ধি এবং দীর্ঘসূত্রতার কারণে সরকারের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় প্রতিটি ব্যয়ের আগে প্রয়োজনীয়তা, ব্যয়ের যৌক্তিকতা, বাজারদর, বিকল্প ব্যবস্থা এবং সম্ভাব্য ফলাফল মূল্যায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বড় অঙ্কের ব্যয়ে একাধিক স্তরে পর্যালোচনা ও অনুমোদনের ব্যবস্থাও জোরদার করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করলে দুর্নীতির বড় ক্ষেত্র নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। এ জন্য দরপত্র মূল্যায়ন, সরবরাহকারীর সক্ষমতা যাচাই, বাজারমূল্য বিশ্লেষণ এবং নির্ধারিত আর্থিক বিধি অনুসরণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা, আর্থিক তদারকি এবং ডিজিটাল পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা আরও কার্যকরের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, কৃচ্ছ্রসাধনের চেয়ে বড় বিষয় আর্থিক খাতের শাসনব্যবস্থা বা আর্থিক খাতের সুশাসন শক্তিশালী করা। অর্থনীতিবিদ ড. জাহির হোসেন বলেন, ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, জবাবদিহি এবং কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করলে সরকারি অর্থের অপচয় কমবে। প্রকল্প বাস্তবায়নে দক্ষতা বাড়বে এবং জনসাধারণের করের অর্থ আরও সঠিকভাবে ব্যবহার করা সম্ভব হবে। আর্থিক খাতের সংস্কার তখনই সফল হবে, যখন একই নিয়ম সব প্রতিষ্ঠানে সমানভাবে কার্যকর হবে এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি আরও শক্তিশালী করতে শুধু রাজস্ব বাড়ালেই হবে না; ব্যয় ব্যবস্থাপনাও শৃঙ্খলায় আনতে হবে। সেই লক্ষ্যেই সরকারি অর্থ ব্যবহারের প্রতিটি ধাপে জবাবদিহি নিশ্চিত, অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানো, দুর্নীতির সুযোগ সীমিত করা এবং দক্ষ আর্থিক ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অর্থবিভাগ মনে কওে এ উদ্যোগ কেবল সাময়িক কৃচ্ছ্রসাধন কর্মসূচি হয়ে থাকবে না; বরং সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনায় নতুন সংস্কৃতির সূচনা করবে। প্রতিটি ব্যয় হবে প্রয়োজনভিত্তিক। প্রতিটি কেনাকাটা হবে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায়। প্রতিটি সিদ্ধান্ত হবে জনগণের অর্থের সর্বোচ্চ সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে। এতে আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি সরকারের সংস্কার কর্মসূচিও গতিশীল হবে। গত ৮ জুলাই অর্থ বিভাগের জারি করা পরিপত্রে মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর, স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের জন্য একাধিক কৃচ্ছ্রসাধনমূলক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পরিপত্রে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় সীমিত করার পাশাপাশি সরকারি ক্রয় ও উন্নয়ন ব্যয়ে আরও কঠোর আর্থিক নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে।

নির্দেশনা অনুযায়ী, নতুন মোটরযান, জলযান ও আকাশযান কেনা আপাতত স্থগিত থাকবে। সরকারি অর্থায়নে বিদেশ সফর সীমিত করা হয়েছে। পরিচালন বাজেট থেকে নতুন ভবন নির্মাণও বন্ধ রাখা হয়েছে। যেসব প্রকল্পের কাজ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে, সেগুলো বিশেষ অনুমোদনের ভিত্তিতে সম্পন্ন করার সুযোগ রাখা হয়েছে। সরকারের ভাষ্য-এসব সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্য উন্নয়ন থামিয়ে দেওয়া নয়; বরং অগ্রাধিকারভিত্তিক খাতে সরকারি অর্থের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা।