• ই-পেপার

বাগেরহাট-৪ আসনের এমপি ডা. মোজাম্মেল হোসেন আর নেই

উত্তরের ৫ জেলায় বন্যার শঙ্কা, বৃষ্টি নিয়েও ‘দুঃসংবাদ’

নিজস্ব প্রতিবেদক
উত্তরের ৫ জেলায় বন্যার শঙ্কা, বৃষ্টি নিয়েও ‘দুঃসংবাদ’
সংগৃহীত ছবি

ভারি বৃষ্টিপাত ও উজানের ঢলে দেশের উত্তরাঞ্চল ও উত্তর পূর্বে বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে বইছে। উত্তরের লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রাম জেলার কোথাও কোথাও স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এ ছাড়া উত্তর পূর্বের সিলেট অঞ্চলেও একাধিক নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে বইছিল। এতে সেখানে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র সূত্রে এই পরিস্থিতির  কথা জানা গেছে। 

এদিকে, অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে পানি বাড়ায় রাঙামাটির কাপ্তাই বাঁধের ১৬টি জলকপাট খুলে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বন্যায় চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের বিভিন্ন স্থানের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ শেষ হয়নি। চট্টগ্রামের তিন উপজেলায় ২০ হাজার নলকূপ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে নিরাপদ পানি সংকটে ভুগছেন আট লাখ বাসিন্দা।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, তিস্তা নদী ডালিয়া (নীলফামারী), কাউনিয়া (লালমনিরহাট), তারাপুর (গাইবান্ধা) ও হরিপুর (গাইবান্ধা) পয়েন্টে গতকাল বিপৎসীমায় বইছিল। এতে লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রাম জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে কোথাও কোথাও স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। এ ছাড়া আত্রাই নদী নওগাঁ ও ছোট যমুনা নদীর নওগাঁ পয়েন্টে সতর্কসীমায় প্রবাহিত হচ্ছিল। সিলেটে কুশিয়ারা নদী মারকুলিতে বিপৎসীমার ৫ সেমি ও সিলেট জেলার ফেঞ্চুগঞ্জে বিপদসীমার ৩৪ সে.মি. ওপরে বইছিল। এসব জেলায় বন্যা পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকতে পারে। এছাড়া চট্টগ্রাম, বরিশাল ও খুলনা বিভাগের উপকূলীয় নদীগুলোয় স্বাভাবিকের চেয়ে অধিক জোয়ার থাকতে পারে। 

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সর্দার উদয় রায়হান কালের কণ্ঠকে বলেন, উজানে ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টিপাতে তিস্তা অববাহিকায় তিনটি নদীর পানি বেড়েছে। এতে নদী সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে,  মৌসুমি বায়ু দেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় ও উত্তর বঙ্গোপসাগরে প্রবল অবস্থায় বিরাজ করছে। তার প্রভাবে রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত বা বজ্রসহ বৃষ্টিপাত হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে ভারি বর্ষণ হতে পারে। এই বৈরি আবহাওয়ার কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে পুনঃ তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

গতকাল শনিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন স্থানে ৫৬৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এর মধ্যে রংপুরের ডিমলায় সর্বোচ্চ ১৩৭ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে।

বন্যায় নিহত ৫৯, সরকারের মানবিক সহায়তা ৫ কোটি ১৫ লাখ টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক
বন্যায় নিহত ৫৯, সরকারের মানবিক সহায়তা ৫ কোটি ১৫ লাখ টাকা
ছবি: কালের কণ্ঠ

দেশের ৭টি জেলায় অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড় ধসের কারণে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বন্যাকবলিত জেলাগুলোতে এ পর্যন্ত ৫৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া আহত হয়েছেন আরো ৪০ জন। দুর্গত এলাকায় মানবিক সহায়তা হিসেবে সরকার ইতিমধ্যে ৫ কোটি ১৫ লাখ নগদ টাকা এবং ৯ হাজার ৫০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দিয়েছে।

শনিবার (১৮ জুলাই) বিকেল ৪টায় দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের বন্যা সম্পর্কিত হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। গত ৭ জুলাই থেকে দেশব্যাপী এই মানবিক সহায়তা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বন্যার কবলে পড়া ৭টি জেলা হলো— কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, বান্দরবান, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ। এসব জেলার মোট ৫৬টি উপজেলার ৩৭৪টি ইউনিয়ন ও ৪টি পৌরসভা বর্তমানে প্লাবিত। দুর্গতদের জন্য ৭৩টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এর মধ্যে মৌলভীবাজারের ৪টি আশ্রয়কেন্দ্রে বর্তমানে ২৯৮ জন মানুষ অবস্থান করছেন।

কক্সবাজারে প্রাণহানি সবচেয়ে বেশি

বন্যায় সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কক্সবাজার জেলায়। জেলাটিতে স্থানীয় ১৯ জন ও রোহিঙ্গা ১৩ জনসহ মোট ৩২ জন মারা গেছেন। আহত হয়েছেন ২৫ জন এবং এখনো ১ জন নিখোঁজ রয়েছেন।

এ ছাড়া চট্টগ্রামে ১৬ জন, বান্দরবানে ৭ জন, রাঙামাটিতে ৩ জন এবং মৌলভীবাজারে ১ জন মারা গেছেন। খাগড়াছড়িতে আহত হয়েছেন ১ জন।

জেলাভিত্তিক ত্রাণ তৎপরতা

মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত ৭টি জেলায় এ পর্যন্ত মোট ২ কোটি ৩০ লাখ টাকা, ৩ হাজার ৩৫০ টন চাল, ৪ হাজার ২০০ বান্ডিল ঢেউটিন ও ১ কোটি ২৬ লাখ টাকা গৃহ মঞ্জুরি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার

চট্টগ্রাম জেলার ১৬টি উপজেলায় আংশিক জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। এখানে মোট ৭৫ লাখ টাকা, ১ হাজার ২০০ মে. টন চাল, এক হাজার বান্ডিল টিন ও ৩০ লাখ টাকা গৃহ মঞ্জুরি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৮৩ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা ও এক হাজার ৮০ মে.টন চাল এবং ৪৬ হাজার ১০০ প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে আরো ২০ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে।

কক্সবাজার জেলার ১০টি উপদ্রুত উপজেলার জন্য ৪০ লাখ টাকা, ৪৫০ টন চাল, ১০০০ বান্ডিল টিন ও ৩০ লাখ টাকা গৃহ মঞ্জুরি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বিতরণ করা হয়েছে ৪৯ লাখ ৮০ হাজার টাকা, ৪৫০ টন চাল এবং ১৩ হাজার ৯৩ প্যাকেট শুকনো খাবার। এই জেলাতেও প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে ২০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

পার্বত্য তিন জেলা

রাঙামাটি : ৯টি উপজেলার জন্য ৩০ লাখ টাকা, ৫০০ টন চাল, ৫০০ বান্ডিল টিন ও ১৫ লাখ টাকা গৃহ মঞ্জুরি বরাদ্দ দেওয়া হয়। যার বিপরীতে ২০ লাখ টাকা, ২৯৫ টন চাল, ৫০০ বান্ডিল ঢেউটিন ও ১৫ লাখ টাকা গৃহ মঞ্জুরি বিতরণ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে দেওয়া হয়েছে ২০ লাখ টাকা।

বান্দরবান : ৭টি উপজেলার জন্য ২৫ লাখ টাকা ও ৪০০ টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে ২০ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। বিতরণ করা হয়েছে ১০ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং ২৪৪  টন চাল।

খাগড়াছড়ি : ১০টি উপজেলার জন্য ২৫ লাখ টাকা, ৪০০ টন চাল এবং প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে ২০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বিপরীতে ৩০ লাখ ৫০ হাজার টাকা ও ৩০০ টন চাল বিতরণ করা হয়েছে।

মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ

মৌলভীবাজারে ১৫ লাখ টাকা ও ২০০ টন চাল বরাদ্দের বিপরীতে ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা ও ১৪০ টন চাল বিতরণ করা হয়েছে। হবিগঞ্জে ১০ লাখ টাকা ও ২০০ টন চাল বরাদ্দের বিপরীতে ২ লাখ টাকা ও ৩০ টন চাল বিতরণ করা হয়েছে।

বাকি ৫৭ জেলায় আগাম প্রস্তুতি

উপদ্রুত ৭টি জেলার পাশাপাশি দেশের বাকি ৫৭টি জেলাতেও আগাম সতর্কতা হিসেবে বিশেষ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। দুর্যোগ মোকাবেলায় প্রতি জেলায় ৫ লাখ টাকা ও ১০০ টন চাল হারে মোট ২ কোটি ৮৫ লাখ টাকা এবং ৫ হাজার ৭০০ টন চাল মজুদ রাখা হয়েছে।

সরকার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়।

গণপরিবহন আধুনিকায়নে ১৪০০ বৈদ্যুতিক বাস আনছে সরকার

বাসস
গণপরিবহন আধুনিকায়নে ১৪০০ বৈদ্যুতিক বাস আনছে সরকার
সংগৃহীত ছবি

দেশের গণপরিবহনব্যবস্থাকে আরো আধুনিক, পরিবেশবান্ধব ও টেকসই করতে প্রায় ১ হাজার ৪০০টি বৈদ্যুতিক (ইভি) বাস চালুর পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এ পরিকল্পনার আওতায় সারা দেশে সর্বজনীন ইভি চার্জিং অবকাঠামো গড়ে তোলা এবং মনোরেলসহ নতুন গণপরিবহনব্যবস্থা চালুর উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে (বাসস) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক বলেন, জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে দেশের পরিবহনব্যবস্থাকে আরো পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও কার্যকর করে তুলতেই এসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বৈদ্যুতিক বাস বহর গড়ে তুলতে সরকার একাধিক প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।

তিনি জানান, ৫০০টি বৈদ্যুতিক বাস কেনার একটি প্রস্তাব অর্থায়নের জন্য প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এ ছাড়া দক্ষিণ কোরিয়ার সহায়তায় বাস্তবায়নাধীন ৩০০টি বৈদ্যুতিক বাসের কর্মসূচিতে বাসের সংখ্যা বাড়ানোর লক্ষ্যে প্রকল্পটি সংশোধনের কাজ চলছে।

এ ছাড়া বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় ৪০০টি বৈদ্যুতিক বাস কেনার একটি প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

বৈদ্যুতিক বাস ক্রয়ের প্রক্রিয়াকে আরো গতিশীল করতে সরকার ৪০০ কোটি টাকা করে দুটি পৃথক ক্রয় প্যাকেজও যুক্ত করেছে। এ কর্মসূচির আওতায় নারী যাত্রীদের জন্য একটি বিশেষ বাস বহর থাকবে, যেখানে বাসের সংখ্যা প্রাথমিক লক্ষ্যমাত্রা ১০০টিরও বেশি হবে।

সচিব বলেন, ‘সব মিলিয়ে এই উদ্যোগগুলো বাস্তবায়িত হলে দেশের গণপরিবহনব্যবস্থায় প্রায় ১ হাজার ৪০০টি বৈদ্যুতিক বাস যুক্ত করা সম্ভব হবে।’

তিনি জানান, চলতি বছরের ডিসেম্বর অথবা আগামী বছরের শুরুর দিকে নির্বাচিত কিছু রুটে এর দৃশ্যমান প্রভাব দেখা যাবে বলে সরকার আশা করছে। প্রাথমিকভাবে অন্তত ২০০টি বৈদ্যুতিক বাস চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

এই রূপান্তরকে সফল করতে সরকার একই সঙ্গে সারা দেশে কারিগরি মানদণ্ডের ভিত্তিতে একটি সর্বজনীন চার্জিং অবকাঠামো গড়ে তুলছে।

সচিব বলেন, চার্জিং স্টেশনগুলো কোনো একটি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের জন্য সীমাবদ্ধ থাকবে না, যার ফলে একটি সাধারণ চার্জিং ব্যবস্থার আওতায় বেসরকারি অপারেটররাও এসব সুবিধা ব্যবহার করতে পারবেন।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি) দেশের ৬৪টি জেলায় তাদের নিজস্ব জমিতে চার্জিং স্টেশন স্থাপনের পরিকল্পনা করেছে। অতিরিক্ত সক্ষমতা থাকলে এসব স্টেশন বাণিজ্যিক ভিত্তিতে বেসরকারি অপারেটরদের জন্যও উন্মুক্ত করা হবে।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) এবং মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (এমআইএসটি)-এর বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত একটি কারিগরি কমিটি বৈদ্যুতিক বাসের জন্য অভিন্ন কারিগরি মানদণ্ড প্রণয়ন করছে। এতে ব্যাটারিব্যবস্থা, চার্জিং প্রযুক্তি এবং যান্ত্রিক সহায়তার বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকবে, যাতে বিভিন্ন নির্মাতা ও পরিচালকের যানবাহনের মধ্যে সামঞ্জস্য বজায় থাকে।

প্রাথমিকভাবে এসব মানদণ্ড বাসের জন্য প্রযোজ্য হলেও পরবর্তীতে তা বৈদ্যুতিক মিনিবাস ও ট্রাকের ক্ষেত্রেও সম্প্রসারণ করা হবে, যা সরকারের বৃহত্তর পরিবহন বিদ্যুতায়ন কর্মসূচির অংশ। বৈদ্যুতিক বাসের পাশাপাশি যেসব রুটে মেট্রো রেল সবচেয়ে উপযুক্ত বিকল্প নয়, সেখানে বিকল্প গণপরিবহন হিসেবে মনোরেল চালুর সম্ভাবনাও যাচাই করছে সরকার।

সচিব বলেন, সম্ভাব্য মনোরেল রুট এবং এর কারিগরি সম্ভাব্যতা মূল্যায়নের দায়িত্ব বুয়েটকে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পরিবহন বিশেষজ্ঞ ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সঙ্গে আলোচনা শেষে বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) ব্যবস্থা নিয়ে একটি সমন্বিত উপস্থাপনা প্রস্তুত করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখনো বৈদ্যুতিক যানবাহন প্রযুক্তি গ্রহণের প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং এ খাতে পর্যাপ্ত দেশীয় দক্ষতা এখনো গড়ে ওঠেনি।

বেসরকারি বাস মালিকদের বৈদ্যুতিক বাসে বিনিয়োগে উৎসাহিত করতে সরকার নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে কর ছাড়সহ বিভিন্ন আর্থিক প্রণোদনা দেওয়ার পরিকল্পনা করছে।

তবে অনেক বেসরকারি পরিবহন অপারেটর বিনিয়োগের আগে বিআরটিসির প্রাথমিক বৈদ্যুতিক বাস বহরের কার্যকারিতা পর্যবেক্ষণ করতে চাইছেন।

এ ছাড়া বৈদ্যুতিক বাস প্রযুক্তির তুলনামূলক বেশি ব্যয় এবং যাত্রীদের জন্য সাশ্রয়ী ভাড়া-এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে ভর্তুকি ব্যবস্থা ও ভাড়ার কাঠামো নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

ড. জিয়াউল হক বলেন, আধুনিক, পরিবেশবান্ধব ও যাত্রীবান্ধব গণপরিবহনব্যবস্থা গড়ে তোলার দীর্ঘমেয়াদি কৌশলের অংশ হিসেবে সরকার ব্যাটারিচালিত থ্রি-হুইলার নিয়ন্ত্রণ এবং মহাসড়ক ব্যবস্থাপনার উন্নয়নসহ পরিবহনের অন্যান্য বৃহত্তর সমস্যাগুলো সমাধানের কাজ অব্যাহত রাখবে।

‘অনিশ্চয়তার’ মধ্যে যেভাবে পে স্কেলের গেজেট চূড়ান্ত হচ্ছে

অনলাইন ডেস্ক
‘অনিশ্চয়তার’ মধ্যে যেভাবে পে স্কেলের গেজেট চূড়ান্ত হচ্ছে
সংগৃহীত ছবি

নবম জাতীয় পে স্কেল বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এসংক্রান্ত উচ্চ পর্যায়ের সচিব কমিটি সুপারিশমালা প্রস্তুতের কাজ চালিয়ে গেলেও বাস্তবায়নের কৌশল, সরকারের আর্থিক সক্ষমতা, মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি এবং প্রযুক্তিগত জটিলতার কারণে এখনো গেজেট প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি।

এর ফলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও পেনশনভোগী নতুন পে স্কেলের প্রজ্ঞাপনের অপেক্ষায় রয়েছেন। আগস্টে গেজেট প্রকাশ হবে নাকি অক্টোবর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে, তা নিয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শুরুতে নতুন পে স্কেল তিন ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা ছিল। সে অনুযায়ী প্রথম ধাপে নতুন মূল বেতনের একটি অংশ, দ্বিতীয় ধাপে বাকি অংশ এবং শেষ ধাপে নতুন ভাতা কার্যকর করার প্রস্তাব ছিল। তবে বাস্তব হিসাব-নিকাশে দেখা যায়, বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের কারণে অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারীর ক্ষেত্রে এই পদ্ধতিতে প্রত্যাশিত বেতন বৃদ্ধি হবে না। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে বেতন কাঠামো জটিল হয়ে পড়ার আশঙ্কাও দেখা দেয়।

পরে দুই ধাপে বাস্তবায়নের চিন্তা করা হলেও সেটিও চূড়ান্ত হয়নি। বর্তমানে আবার নতুন করে তিন ধাপের একটি কাঠামো নিয়ে আলোচনা চলছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রথম ধাপে মূল বেতন কার্যকর করা হবে এবং পরবর্তী ধাপগুলোতে ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা যুক্ত করা হতে পারে।

গত ১৫ জুলাই সচিব কমিটির সর্বশেষ বৈঠকে পে স্কেল বাস্তবায়নের সম্ভাব্য ধাপ, আর্থিক প্রভাব, সফটওয়্যার কাঠামো, প্রশাসনিক জটিলতা এবং সরকারের সক্ষমতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হলেও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই সরকার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।

এদিকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) সম্প্রতি ঢাকা সফরের সময় দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও মূল্যস্ফীতির মধ্যে নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। যদিও এ বিষয়ে আইএমএফ আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।

নতুন অর্থবছরের বাজেটে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতার জন্য ৮৯ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পেনশন ও গ্র্যাচুইটিসহ মোট বরাদ্দের পরিমাণ এক লাখ ২৫ হাজার ৫১৫ কোটি টাকা। এছাড়া জনপ্রশাসন খাতে অতিরিক্ত বরাদ্দও রাখা হয়েছে, যার একটি বড় অংশ নতুন পে স্কেলের বাস্তবায়নে ব্যয় হতে পারে।

তবে বাজেটে অর্থ বরাদ্দ থাকলেও গেজেট প্রকাশ না হওয়ায় সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা কাটছে না। অনেক কর্মকর্তা বলছেন, বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে বিদ্যমান বেতন দিয়ে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই তারা দ্রুত নতুন পে স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারির অপেক্ষায় রয়েছেন।

অন্যদিকে সচিব কমিটির সদস্যরা বলছেন, তাড়াহুড়া করে কোনো সিদ্ধান্ত না নিয়ে দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর ও বাস্তবসম্মত একটি পে স্কেল বাস্তবায়নই তাদের লক্ষ্য। এজন্য প্রয়োজন হলে আরো বৈঠক করে পূর্ণাঙ্গ ও ত্রুটিমুক্ত সুপারিশ চূড়ান্ত করা হবে।

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নতুন পে স্কেল কার্যকর হলে তা ১ জুলাই ২০২৬ থেকেই কার্যকর হিসেবে গণ্য হবে। অর্থাৎ গেজেট প্রকাশে বিলম্ব হলেও কার্যকর হওয়ার তারিখ পরিবর্তন হবে না।

উল্লেখ্য, জাতীয় বেতন কমিশন সর্বনিম্ন মূল বেতন ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা নির্ধারণের সুপারিশ করেছিল। তবে বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় সরকার সেই প্রস্তাবে কিছু পরিবর্তন এনে নতুন কাঠামো চূড়ান্ত করার কাজ করছে।

বাগেরহাট-৪ আসনের এমপি ডা. মোজাম্মেল হোসেন আর নেই | কালের কণ্ঠ