kalerkantho

শুক্রবার । ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৮ রবিউস সানি ১৪৪১     

বিবিসিকে বিশ্লেষক

আইএসের প্রতি আনুগত্য স্বীকারের ছবিটি বাংলাদেশের

বিশেষ প্রতিনিধি    

১৪ নভেম্বর, ২০১৯ ১২:৩৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আইএসের প্রতি আনুগত্য স্বীকারের ছবিটি বাংলাদেশের

বলা হচ্ছে, এই ছবিটি বাংলাদেশের এবং সম্ভবত ঢাকার

ইসলামিক স্টেটের (আইএস) কথিত নতুন নেতৃত্বের প্রতি আনুগত্য স্বীকার করে ‘বাংলাদেশি ১০ জঙ্গির’ বহুল আলোচিত ছবিটি বাংলাদেশেই তোলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন লেখক ও সাংবাদিক তাসনীম খলিল। বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সন্ত্রাস-জঙ্গি তৎপরতা বিষয়ক ওই বিশ্লেষক বলেন, “আইএসের যে তথাকথিত খলিফা তার প্রতি দুই জায়গা থেকে এ ধরনের ‘বায়াত’ (আনুগত্য স্বীকার করা)  দেওয়া হয়েছে। একটি হলো সিনাই (মিসর), আরেকটি বাংলাদেশ। সারা পৃথিবীর আর কোথাও এ ধরনের ঘটনা ঘটেনি। আমাদের একটা উৎসাহ, আগ্রহ ছিল যে দেখব, এখানে কী হচ্ছে? এবং আদৌ এটা বাংলাদেশের ছবি কি না?”

গতকাল বুধবার বিবিসি নিউজের ইউটিউব চ্যানেলে প্রচারিত সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমরা যারা জিহাদিদের নিয়ে কাজ করি তারা বিভিন্ন কনটেন্টের ফরেনসিক বিশ্লেষণ করি। সেটার অংশ হিসেবে আমরা জানতে পেরেছি ছবিটি বাংলাদেশের এবং সম্ভবত ঢাকার। আমি সুনির্দিষ্ট স্থান বলতে চাচ্ছি না।’

তাসনীম খলিল বলেন, “ছবিতে অনেক ধরনের ‘ক্লু’ আছে, গাছ আছে। ‘ফরেস্ট বেডের’ (বনের গাছগাছালির সারি) বিশেষ কিছু বৈশিষ্ট্য আছে। সেটা থেকে আমরা ধারণা করছি। ভুলও হতে পারে। তবে একটা ব্যাপারে আমরা মোটামুটি নিশ্চিত যে এটি বাংলাদেশেরই ছবি।”

এটি কি বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ মোকাবেলায় কাজ করা বাহিনীগুলোর জন্য উদ্বিগ্ন হওয়ার মতো বিষয়—বিবিসির এমন প্রশ্নের জবাবে বিশ্লেষক তাসনীম খলিল বলেন, ‘এরা যদি আসলেই জিহাদি সেল হয়ে থাকে তবে তা শঙ্কার। এ কারণে এটা শঙ্কার যে অন্তত ১০ জন তরুণের একটি সেল বাংলাদেশে এমন কার্যক্রম চালাচ্ছে।’

তিনি বলেন, আইএসের কথা শোনামাত্রই বাংলাদেশে ষড়যন্ত্রতত্ত্বের কথা বলা হয়। হাস্যরসাত্মক কথা বলা হয়। কিন্তু মনে রাখতে হবে যে হলি আর্টিজানের হামলা কিন্তু ৫, ১০ বা ১৫ জনের একটি সেলের অপারেশন ছিল।

তাসনীম খলিল বলেন, ‘বাংলাদেশের নিরাপত্তা বাহিনী বিশেষ করে বেসামরিক গোয়েন্দা সংস্থা যেটি আছে, সিটিটিসি, সেটি বেশ ভালো কাজ করেছে গত কয়েক বছরে। যদিও আমার সঙ্গে তাদের অনেক মতপার্থক্য আছে।’

দক্ষিণ এশিয়ায় জঙ্গিবাদের ঝুঁকি এখন কেমন—এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “যেহেতু আইএসের পতনের একটা ব্যাপার আছে। এখন একটা ‘ট্রানজিশনাল পিরিয়ড’ (অন্তর্বর্তী সময়) চলছে। এতে সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী সংগঠন আল-কায়েদা।”

তিনি আরো বলেন, একটা হাদিস আছে যাকে বলা হয় ‘গাজওয়ায়ে হিন্দ’, হিন্দুস্তানের চূড়ান্ত যুদ্ধ। এটি হলো আল-কায়েদার প্রপাগান্ডার বিষয়। বাগদাদির মৃত্যুর মধ্য দিয়ে আইএসের খিলাফতের মৃত্যু ঘটেছে। এর ফলে দক্ষিণ এশিয়ায়, বিশেষ করে বাংলাদেশি জিহাদি প্রপাগান্ডায় ‘গাজওয়ায়ে হিন্দের’ বিষয়টি প্রবলভাবে আসছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা