ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যাকায় ইসরায়েলের বোমা হামলায় নিমিষেই মাটিতে মিশে যায় একটি বৃহত্তর লাইব্রেরি। গাজা সিটির ইসলামিক ইউনিভার্সিটির পাশে থালাথেনি রোডে অবস্থিত সামির মানসুর লাইব্রেরিটি ছিল স্থানীয় জ্ঞান পিপাসুদের মিলনক্ষেত্র। নানা জায়গার পাঠকরা এখানে এসে মিলিত হতো। সামরি মানসুর লাইব্রেরির পক্ষ থেকে এক টুইট বার্তায় জানানো হয়, ‘যে লাইব্রেরিটি পথিক ও পাঠকদের মুখে হাসি ফুটাত, সবার প্রিয় স্থান ছিল সেই সামির লাইব্রেরি এখন ইসরায়েলি হামলার পর ধ্বংসস্তুপের নিচে হারিয়ে গেছে। এখন তা দৃষ্টিসীমার বাইরে। আলহামদুলিল্লাহ।’ লাইব্রেরির স্বত্ত্বাধিকারী মিকদাদ এক টুইট বার্তায় জানান, ‘আমাদের ভালোবাসার স্থান গোলাবারুদ গিলে ফেলেছে। আজ তারা আমার লাইব্রেরিও ধ্বংস করে দেয়। এখন শুধুমাত্র লাইব্রেরির সামান্য ধ্বংসস্তুপ বাকি আছে।’ জাতিসংঘের শিক্ষাবিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কো এমন ঘটনা নিন্দা জানিয়ে বলে, গাজায় ফিলিস্তিনি জনতার বিরুদ্ধে ইসরায়েলি দখলদার বাহিনী লাগাতার দশম দিনের মতো অত্যন্ত জঘন্য অপরাধ চর্চা করছে। তারা উদ্দেশ্যমূলক ফিলিস্তিনিদের সাংস্কৃতিক কেন্দ্রগুলো ধ্বংস করছে।’ নিরাপদ বাড়ি-ঘর, জ্ঞান ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্রগুলো লক্ষ্য করে দখলদার বাহিনীর লাগাতার হামলা তাদের বর্বরতাকে প্রমাণ করে। যারা কোনো প্রকার সভ্যতা ও সংস্কৃতির মূল্যবোধকে মান্য করে না। অন্ধকারাচ্ছন্ন ফিলিস্তিনের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য রক্ষায় ইসরায়েলের দখলদার বাহিনীর অপরাধ দমনে দ্রুততর সময়ে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘের শিক্ষাবিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কো, আরবলিগ অ্যাডুকেশনাল কালচারাল এন্ড সাইন্টিফিক অর্গানাইজেশনসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা। সূত্র : আল জাজিরা