• ই-পেপার

গরমে ঘাম-শ্বাসকষ্ট মানেই কি হিট স্ট্রোক?

ব্যবহৃত তেল ফেলে দিচ্ছেন? জেনে নিন একে কাজে লাগানোর দারুণ কিছু কৌশল

অনলাইন ডেস্ক
ব্যবহৃত তেল ফেলে দিচ্ছেন? জেনে নিন একে কাজে লাগানোর দারুণ কিছু কৌশল
ছবি : কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

বাড়িতে রান্নার সময় অনেকেই একই তেল বারবার ব্যবহার করেন। কোনো কিছু ভাজাভুজি করার পর সেই তেল আবার অন্য রান্নায় ব্যবহার করা হয়। কিন্তু পুষ্টিবিদ ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বারবার গরম করা তেল শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। উচ্চ তাপমাত্রায় বারবার গরম করলে ক্ষতিকারক ট্রান্স ফ্যাট তৈরি হয়, তেলের গুণগত মান নষ্ট হয় এবং এতে এমন কিছু ক্ষতিকর উপাদান তৈরি হতে পারে, যা দীর্ঘ মেয়াদে স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

তাই একবার রান্নায় ব্যবহার করা তেল আবার খাবার তৈরিতে ব্যবহার না করাই ভালো। তবে এর অর্থ এই নয় যে অবশিষ্ট তেল ফেলে দিতে হবে। সঠিকভাবে সংরক্ষণ করলে সেই তেল ঘরের বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা সম্ভব।

তবে ব্যবহৃত তেল কাজে লাগানোর আগে তার অবস্থা পরীক্ষা করে নেওয়া জরুরি। যদি তেল থেকে পোড়া গন্ধ বের হয়, রং অতিরিক্ত কালচে হয়ে যায় বা ধোঁয়া ওঠার লক্ষণ দেখা যায়, তাহলে সেটি আর ব্যবহার করা উচিত নয়। আর যদি তেল ভালো অবস্থায় থাকে, তাহলে ছাঁকনি দিয়ে ছেঁকে খাবারের ছোট কণা আলাদা করে একটি পরিষ্কার বোতলে সংরক্ষণ করা যেতে পারে।

কাঠের আসবাবে উজ্জ্বলতা ফেরাতে

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কাঠের টেবিল, চেয়ার বা শোকেসের ঔজ্জ্বল্য কমে যেতে পারে। এমন ক্ষেত্রে সামান্য ব্যবহৃত তেল কার্যকর হতে পারে। একটি নরম কাপড়ে অল্প তেল নিয়ে আসবাবের গায়ে আলতোভাবে মুছে দিলে অনেক সময় কাঠের মলিন ভাব কমে যায় এবং কিছুটা উজ্জ্বলতা ফিরে আসে।

জং ধরা ধাতব জিনিস নমনীয় করতে

বাড়ির তালা, কাঁচি, দরজার কবজা, গেট বা অন্য লোহার জিনিসে মরিচা ধরলে সেগুলো ব্যবহার করতে সমস্যা হয়। এ ক্ষেত্রে অল্প পরিমাণ তেল ব্যবহার করা যেতে পারে। জং ধরা অংশে তেল লাগিয়ে কিছুক্ষণ রেখে দিলে জিনিসটি তুলনামূলক সহজে নড়াচড়া করতে পারে। পাশাপাশি তেল একটি পাতলা আবরণ তৈরি করে, যা আর্দ্রতার প্রভাব কমাতে সাহায্য করে এবং ভবিষ্যতে মরিচা পড়ার ঝুঁকিও কিছুটা কমায়।

বোতল বা জারের স্টিকার তুলতে

অনেক সময় কাচের বোতল, প্লাস্টিকের জার বা অন্য পাত্রের গায়ে লাগানো স্টিকার সহজে ওঠে না। স্টিকার তুলে ফেললেও আঠা বা কাগজের কিছু অংশ লেগে থাকে। এই সমস্যা সমাধানেও ব্যবহার করা তেল কাজে আসতে পারে। স্টিকার বা আঠাযুক্ত অংশে সামান্য তেল লাগিয়ে কয়েক মিনিট অপেক্ষা করতে হবে। এরপর নরম কাপড় বা টিস্যু দিয়ে মুছে ফেললে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে কাগজ ও আঠার অবশিষ্টাংশ সহজেই উঠে আসে।

ডায়াবেটিক রোগীরা কি সুজি খেতে পারবেন? জেনে নিন সঠিক নিয়ম

জীবনযাপন ডেস্ক
ডায়াবেটিক রোগীরা কি সুজি খেতে পারবেন? জেনে নিন সঠিক নিয়ম
সংগৃহীত ছবি

ডায়াবেটিস হলে ভাত বা রুটি— কোনটা খাওয়া ভালো, তা নিয়ে অনেকের মনেই দ্বিধাদ্বন্দ্ব থাকে। তবে সকাল বা বিকালের নাশতায় সুজির তৈরি হালুয়া বা দোসা অনেকেই পছন্দ করেন। গম থেকে তৈরি এই সুজি ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য কতটা উপকারী বা ক্ষতিকর, তা জানা জরুরি।

সুজির পুষ্টিগুণ ও ডায়াবেটিসে এর প্রভাব
সুজি তৈরি হয় গম থেকে। তবে এটি ভাঙানোর সময় ভুসি ও গমের অঙ্কুর বাদ দেওয়া হয়। ফলে সুজিতে কার্বোহাইড্রেট ও প্রোটিন থাকলেও ফাইবারের (আঁশ) পরিমাণ থাকে বেশ কম।

সহজপাচ্য: ফাইবার কম থাকায় সুজি খুব দ্রুত ও সহজে হজম হয়। যাদের হজমের সমস্যা আছে, তাদের জন্য এটি ভালো।

রক্তে শর্করার ঝুঁকি: ফাইবারের পরিমাণ কম এবং গ্লাইসেমিক ইনডেক্স (৫৪ থেকে ৬৬) বেশি হওয়ার কারণে সুজি খেলে রক্তে শর্করার (সুগার) মাত্রা হঠাৎ বেড়ে যেতে পারে।

ওজন বৃদ্ধির আশঙ্কা: সুজিতে ক্যালরি ও কার্বোহাইড্রেট বেশি থাকে। তাই এটি বেশি খেলে বা ভাজাভুজি করে খেলে ওজন বাড়ার ঝুঁকি থাকে।

কোন উপায়ে সুজি খেলে ক্ষতি কম?
ডায়াবেটিক রোগীদের সুজি খাওয়া একেবারে বারণ নয়, তবে খাওয়ার ক্ষেত্রে কিছু নিয়ম মানতে হবে:

১। খালি পেটে না খাওয়া: ডায়াবেটিক রোগীদের খালি পেটে সুজি না খাওয়াই ভালো।

২। সবজি ও প্রোটিন মেশানো: সুজির সঙ্গে ফাইবার ও প্রোটিন জাতীয় খাবার যোগ করলে রক্তে সুগার বাড়ার ঝুঁকি কমে। যেমন— প্রচুর সবজি দিয়ে উপমা বানিয়ে খাওয়া যেতে পারে। পাশাপাশি ডিম সেদ্ধ বা ডাল রাখা যেতে পারে।

৩। মিষ্টি পরিহার: চিনি বা গুড় দিয়ে সুজির হালুয়া বানিয়ে খাওয়া ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য বেশ বিপজ্জনক।

৪। পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ: সুজি পুষ্টিকর হলেও তা পরিমিত পরিমাণে খেতে হবে। অতিরিক্ত খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যাবে।

সূত্র : এই সময়

সবসময় হাত-পা ঠাণ্ডা থাকলে যেসব বিষয় খেয়াল রাখা জরুরি

জীবনযাপন ডেস্ক
সবসময় হাত-পা ঠাণ্ডা থাকলে যেসব বিষয় খেয়াল রাখা জরুরি
সংগৃহীত ছবি

শীতের দিনে হাত-পা ঠাণ্ডা হওয়া খুবই স্বাভাবিক একটি বিষয়। কিন্তু প্রচণ্ড গরমের মধ্যেও যদি আপনার হাত ও পা সবসময় ঠাণ্ডা হয়ে থাকে, তবে তা মোটেও হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। চিকিৎসকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে এমন সমস্যা চলতে থাকলে তা শরীরে লুকিয়ে থাকা কোনো জটিল অসুস্থতার সংকেত হতে পারে।

কেন হাত-পা ঠাণ্ডা হয়?
আমাদের শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের একটি নিজস্ব ব্যবস্থা রয়েছে। যখন শরীর ঠাণ্ডা অনুভব করে, তখন লিভার বা হার্টের মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোকে উষ্ণ রাখতে হাত-পায়ের দিকে রক্তপ্রবাহ কিছুটা কমিয়ে দেয়। ফলে হাত ও পা ঠাণ্ডা হয়ে যায়। কিন্তু আবহাওয়া স্বাভাবিক বা গরম থাকার পরেও যদি নিয়মিত এই সমস্যা দেখা দেয়, তবে তার পেছনে কিছু বড় কারণ থাকতে পারে। চলুন, জেনে নিই।

রক্তসঞ্চালনের সমস্যা: এই সমস্যার সবচেয়ে সাধারণ কারণ হলো রক্ত চলাচল ঠিকমতো না হওয়া। শরীরের শেষ প্রান্ত পর্যন্ত রক্ত ঠিকমতো না পৌঁছালে হাত ও পা ঠাণ্ডা অনুভূত হয়। বিশেষ করে যাদের হার্ট বা রক্তনালির সমস্যা রয়েছে, তাদের এই লক্ষণ বেশি দেখা যায়।

রক্তাল্পতা বা অ্যানিমিয়া: শরীরে পর্যাপ্ত লোহিত রক্তকণিকা না থাকলে অক্সিজেন সঠিকভাবে সব অঙ্গে পৌঁছাতে পারে না। এর ফলে শরীর দুর্বল লাগে, ক্লান্তি আসে এবং হাত-পা ঠাণ্ডা থাকে।

থাইরয়েডের সমস্যা: বিশেষ করে হাইপোথাইরয়েডিজম হলে শরীরের মেটাবলিজম বা বিপাকক্রিয়া ধীর হয়ে যায়। এতে শরীর কম তাপ উৎপন্ন করে এবং হাত-পা ঠাণ্ডা হয়ে যায়। এর সাথে ওজন বৃদ্ধি, ত্বক শুষ্ক হওয়া বা চুল পড়ার মতো লক্ষণও দেখা দিতে পারে।

ডায়াবেটিস: দীর্ঘদিন ধরে রক্তে শর্করার মাত্রা অনিয়ন্ত্রিত থাকলে তা স্নায়ু ও রক্তনালির ক্ষতি করে। এর ফলে হাত-পায়ে অবশ ভাব, ঝিনঝিনি ধরা এবং ঠাণ্ডা অনুভূতি তৈরি হয়।

রেনোডস সিনড্রোম: এটি এমন এক অবস্থা যেখানে সামান্য ঠাণ্ডা বা মানসিক চাপের কারণে হাত-পায়ের ছোট রক্তনালিগুলো হঠাৎ সংকুচিত হয়ে যায়। তখন আঙুলের রং সাদা বা নীলচে হয়ে যেতে পারে।

মানসিক চাপ ও উদ্বেগ: অতিরিক্ত স্ট্রেসের কারণে শরীরে কিছু হরমোন নিঃসৃত হয়, যা রক্তনালিকে সংকুচিত করে দেয়। ফলে হাত ও পায়ে সাময়িকভাবে রক্তপ্রবাহ কমে যায় এবং হাত-পা ঠান্ডা হয়ে আসে।

কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
চিকিৎসকদের মতে, সবসময় ঠাণ্ডা হাত-পা থাকা মানেই বড় কোনো রোগ নয়। তবে ঠাণ্ডা অনুভূতির পাশাপাশি যদি হাত-পায়ে ব্যথা, অবশ ভাব, ত্বকের রং বদলে যাওয়া, মাথা ঘোরা, অতিরিক্ত ক্লান্তি বা শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ দেখা দেয়, তবে অবহেলা না করে অবশ্যই দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানো উচিত।

সূত্র : আজকাল

ঘুম ভাঙার পরপরই মোবাইল ব্যবহারে হতে পারে শরীরের যেসব ক্ষতি

ঘুম ভাঙার পরপরই মোবাইল ব্যবহারে হতে পারে শরীরের যেসব ক্ষতি
সংগৃহীত ছবি

সকালের অ্যালার্ম বাজতেই চোখ রগড়াতে রগড়াতে হাত চলে যায় বালিশের পাশে থাকা স্মার্টফোনটিতে। চোখ মেলার আগেই শুরু হয়ে যায় ফেসবুক, ইনস্টাগ্রামের নোটিফিকেশন আর মেসেজ স্ক্রোল করা। দিনের শুরুতেই দুনিয়ার সব খবরের খোঁজ রাখাটা অনেকে ‘আপডেটেড’ থাকা ভাবলেও, চিকিৎসকরা একে বলছেন ‘নীরব বিষ’। ঘুম ভাঙার প্রথম মিনিটেই মোবাইল ঘাঁটার এই চিরচেনা অভ্যাস আপনার অজান্তেই মস্তিষ্কের মারাত্মক ক্ষতি করছে এবং প্রতিদিন আপনাকে ঠেলে দিচ্ছে জটিল মানসিক রোগের দিকে। চলুন, জেনে নিই কী কী ক্ষতি হচ্ছে শরীরের।

সংবেদনশীল মস্তিষ্কে অতিরিক্ত চাপ
চিকিৎসকদের মতে, ঘুম থেকে ওঠার পর আমাদের মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্র অত্যন্ত সংবেদনশীল অবস্থায় থাকে। ঘুম ভাঙার পর ব্রেন পুরোপুরি সক্রিয় হতে কিছুটা সময় নেয়। এই ধীরগতির সময়ে মনোযোগ দেওয়া, আবেগ নিয়ন্ত্রণ বা সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো ক্ষমতা পুরোপুরি কাজ করে না। ঠিক ওই মুহূর্তেই যদি আপনি মোবাইল ব্যবহার করা শুরু করেন, তবে একসঙ্গে একগাদা তথ্যের বোঝা মস্তিষ্কের ওপর অস্বাভাবিক চাপ তৈরি করে। ফলে দিন শুরুর আগেই ব্রেন ক্লান্ত হয়ে পড়ে।

বাড়ে অ্যাংজাইটি ও স্ট্রেস
সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর প্রাকৃতিকভাবেই মানবদেহে ‘কর্টিসল’ বা স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা কিছুটা বেশি থাকে, যা আমাদের জেগে উঠতে সাহায্য করে। কিন্তু ঘুম ভাঙা চোখে মোবাইল চেক করলে, বিশেষ করে সোশ্যাল মিডিয়ার নানা পোস্ট বা মেসেজ দেখলে এই হরমোনের ক্ষরণ বহুগুণ বেড়ে যায়। এর ফলে তীব্র মানসিক চাপ ও অ্যাংজাইটি (উদ্বেগ) তৈরি হয় এবং স্নায়ুতন্ত্র উত্তেজিত হয়ে পড়ে। প্রতিদিন এমনটা হতে থাকলে তৈরি হয় ‘অ্যাংজাইটি লুপ’, যা পরবর্তী সময়ে ক্রনিক স্ট্রেসের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

সারা দিনের মেজাজ খিটখিটে ও ডিপ্রেশন
দিনের শুরুটাই যদি মানসিক চাপ দিয়ে হয়, তবে স্বাভাবিকভাবেই তার প্রভাব পড়ে পুরো দিন জুড়ে। এতে কাজের মনোযোগ নষ্ট হয় এবং দিনভর এক ধরনের ক্লান্তি কাজ করে। অনেকেই বুঝতে পারেন না কেন সারা দিন তাদের মেজাজ খিটখিটে থাকে। চিকিৎসকদের মতে, এই অভ্যাস দীর্ঘস্থায়ী হলে মানুষ ধীরে ধীরে ক্রনিক ডিপ্রেশন বা বিষণ্ণতার দিকে চলে যায়।

মুক্তির উপায় কী?
এই মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে চিকিৎসকরা কিছু সহজ পরামর্শ দিয়েছেন :

ঘড়ির ব্যবহার : অ্যালার্মের জন্য মোবাইল ব্যবহার না করে টেবিলে রাখার মতো সাধারণ অ্যালার্ম ঘড়ি ব্যবহার করুন।

বিছানা থেকে দূরে ফোন : রাতে ঘুমানোর সময় মোবাইল ফোনটি বিছানায় না রেখে কিছুটা দূরে রাখুন।

৩০ মিনিটের নিয়ম : সকালে ঘুম থেকে ওঠার অন্তত ২০ থেকে ৩০ মিনিট পর মোবাইলে হাত দিন। এই সময়টুকু আপনার মস্তিষ্ককে স্বাভাবিকভাবে সক্রিয় হওয়ার সুযোগ দিন।

সূত্র : এই সময়