অনেকেই মনে করেন, রোদ না থাকলে বা আকাশ মেঘে ঢাকা থাকলে সানস্ক্রিন ব্যবহারের কোনো প্রয়োজন নেই। তবে ত্বক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। বর্ষাকাল বা মেঘলা দিনেও সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি মেঘ ভেদ করে ত্বকের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। তাই সুস্থ ও সুন্দর ত্বকের জন্য তীব্র রোদের মতো বর্ষা বা মেঘলা দিনেও প্রতিদিন সানস্ক্রিন ব্যবহার করা জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মেঘ সূর্যের আলো কিছুটা আটকাতে পারলেও অতিবেগুনি রশ্মির প্রায় বড় একটি অংশ সহজেই পৃথিবীতে পৌঁছে যায়। এই রশ্মি ত্বকের গভীরে ঢুকে অকালবার্ধক্য, বলিরেখা, পিগমেন্টেশন ও কোলাজেন নষ্টের জন্য দায়ী। অন্যদিকে ত্বক পুড়িয়ে দেওয়ার জন্য দায়ী এ রশ্মি মেঘলা দিনে কিছুটা কমলেও তা পুরোপুরি অদৃশ্য হয়ে যায় না। বর্ষাকালে বাইরে কম বের হলেও জানালা দিয়ে ঘরে ঢোকা আলো কিংবা গাড়িতে যাতায়াতের সময়ও ত্বক অতিবেগুনি রশ্মির সংস্পর্শে আসে। এই ক্ষতি প্রতিদিন খালি চোখে ধরা না পড়লেও দীর্ঘ মেয়াদে ত্বকের বড় ক্ষতি করে। তাই মেঘলা দিনেও অবহেলা না করে সানস্ক্রিন লাগানো উচিত।
অনেকে মনে করেন, মেকআপ বা ময়েশ্চারাইজারে এসপিএফ থাকলেই ত্বক সুরক্ষিত থাকে। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব প্রসাধনী ত্বককে সম্পূর্ণ সুরক্ষা দিতে পারে না। ভালো ফলের জন্য আলাদা করে পর্যাপ্ত পরিমাণে সানস্ক্রিন ব্যবহার করাই সবচেয়ে কার্যকর উপায়। ত্বক সুরক্ষিত রাখতে কমপক্ষে ‘এসপিএফ ৩০’ ও ‘ব্রড স্পেকট্রাম’ সানস্ক্রিন বেছে নিন। বাইরে থাকলে প্রতি দুই ঘণ্টা পরপর সানস্ক্রিন পুনরায় লাগাতে হবে। বর্ষায় বৃষ্টিতে ভেজা বা অতিরিক্ত ঘামের ঝুঁকি থাকে, তাই এই সময়ে পানিরোধী সানস্ক্রিন ব্যবহার করা সবচেয়ে ভালো।
সানস্ক্রিন শুধু তাৎক্ষণিক রোদে পোড়া থেকেই ত্বককে রক্ষা করে না; এটি নিয়মিত ব্যবহারের ফলে দীর্ঘ মেয়াদে ত্বকের পিগমেন্টেশন, কালচে দাগ, অকালবার্ধক্য এমনকি ত্বকের ক্যান্সারের ঝুঁকিও অনেক কমে যায়।
সূত্র : এই সময়






