• ই-পেপার

বিলম্বের পর বৃহস্পতিবার আসছে ওপেনএআইয়ের জিপিটি- ৫.৬

আগামী বছর শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির প্রস্তুতি নিচ্ছে রেবেলিয়নস

অনলাইন ডেস্ক
আগামী বছর শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির প্রস্তুতি নিচ্ছে রেবেলিয়নস
ছবি : রয়টার্স

দক্ষিণ কোরিয়ার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চিপ নির্মাতা স্টার্টআপ রেবেলিয়নস আগামী বছরের প্রথমার্ধে দেশটির শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হতে চায়। এরপর যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারেও তালিকাভুক্তির পরিকল্পনা রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির।

বুধবার (৮ জুলাই) বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য জানান রেবেলিয়নসের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) পার্ক সাংহিউন।

তিনি বলেন, বর্তমানে তাদের প্রধান লক্ষ্য দক্ষিণ কোরিয়ার শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া। এরপর আমেরিকান ডিপোজিটারি রিসিপ্ট (এডিআর)-এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে প্রবেশের পরিকল্পনা রয়েছে। এ পদ্ধতিতে মার্কিন বিনিয়োগকারীরা বিদেশি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার কিনতে পারেন।

পার্ক জানান, চলতি বছরের শেষ নাগাদ আইপিওর সব প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করা হবে। বাজার পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে আগামী বছরের প্রথম বা দ্বিতীয় প্রান্তিকে শেয়ারবাজারে আসবে প্রতিষ্ঠানটি।

সম্প্রতি এআই খাত নিয়ে উচ্ছ্বাস কিছুটা কমে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে চিপ কম্পানিগুলোর শেয়ারের দামেও চাপ দেখা যায়। তবে এ পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে রেবেলিয়নস।

চলতি বছরের মার্চে প্রতিষ্ঠানটি নতুন বিনিয়োগ হিসেবে ৪০ কোটি ডলার সংগ্রহ করে। এতে কম্পানিটির মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ২৩৪ কোটি ডলার। এটি দেখায় এনভিডিয়ার মতো বড় প্রতিষ্ঠানের বিকল্প হিসেবে কম খরচে এআই চিপ তৈরি করা কম্পানিগুলোর প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়ছে।

সর্বশেষ বিনিয়োগ পর্বে দক্ষিণ কোরিয়ার কোরিয়া ন্যাশনাল গ্রোথ ফান্ড ২৫ হাজার কোটি ওন (প্রায় ১৬ কোটি ৫০ লাখ ডলার) বিনিয়োগ করে। এটি সরকারের ‘কে-এনভিডিয়া’ উদ্যোগের আওতায় প্রথম সরাসরি বিনিয়োগ। এই উদ্যোগের লক্ষ্য বিশ্বমানের একটি দক্ষিণ কোরীয় চিপ কম্পানি গড়ে তোলা।

২০২০ সালে প্রতিষ্ঠিত রেবেলিয়নস মূলত এআই ইনফারেন্সের জন্য নিউরাল প্রসেসিং ইউনিট ডিজাইন করে। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কার্যালয় দক্ষিণ কোরিয়ায় হলেও যুক্তরাষ্ট্রেও তাদের কার্যক্রম রয়েছে।

উল্লেখ্য রেবেলিয়নসের বিনিয়োগকারীদের মধ্যে রয়েছে সৌদি আরামকোর ভেঞ্চার ক্যাপিটাল প্রতিষ্ঠান ওয়াদ ভেঞ্চারস, স্যামসাং, এসকে হাইনিক্স এবং এসকে টেলিকম। আর কম্পানিটির আইপিও পরিচালনার দায়িত্বে থাকবে জেপি মরগান।

ইইউর বিগ টেক আইনের বিরুদ্ধে মামলায় হেরে গেল অ্যাপল

অনলাইন ডেস্ক
ইইউর বিগ টেক আইনের বিরুদ্ধে মামলায় হেরে গেল অ্যাপল
ছবিঃ রয়টার্স

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর আরোপ করা নতুন নিয়মের বিরুদ্ধে করা মামলায় হেরে গেছে অ্যাপল। বুধবার (৮ জুলাই) লুক্সেমবার্গভিত্তিক ইইউর জেনারেল কোর্ট এ রায় দেন।

একই দিন বুধবার (৮ জুলাই) বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায়।

আদালত বলেছেন, অ্যাপলের অ্যাপ স্টোর ও আইওএস (iOS) অপারেটিং সিস্টেমকে ইইউর ডিজিটাল মার্কেটস অ্যাক্ট (ডিএমএ) অনুযায়ী ‘গেটকিপার’ হিসেবে চিহ্নিত করার সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে। অর্থাৎ, অ্যাপলকে এই আইনের নিয়ম মেনে চলতে হবে।

ডিজিটাল মার্কেটস অ্যাক্ট ২০২৩ সালের মে মাসে কার্যকর হয়। এর লক্ষ্য হলো বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর একচেটিয়া প্রভাব কমানো। পাশাপাশি প্রতিযোগীদের জন্য বাজারে সমান সুযোগ তৈরি করা এবং ব্যবহারকারীদের আরো বেশি বিকল্প দেওয়া।

এই আইনের নিয়ম ভঙ্গ করলে কোনো প্রতিষ্ঠানের বৈশ্বিক বার্ষিক আয়ের সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। আইনটি কার্যকর হওয়ার পর অ্যাপল, মেটা ও বাইটড্যান্স এর বিরুদ্ধে আইনি চ্যালেঞ্জ জানায়।

২০২৪ সালে অ্যাপল আদালতে মামলা করে। তাদের দাবি ছিল, আইফোন, আইপ্যাড, ম্যাক, অ্যাপল টিভি ও অ্যাপল ওয়াচের অ্যাপ স্টোরগুলোকে একসঙ্গে ‘গেটকিপার’ হিসেবে চিহ্নিত করা ঠিক হয়নি।

তবে আদালত ইউরোপীয় কমিশনের সিদ্ধান্ত বহাল রাখেন। আদালতের মতে, সব অ্যাপ স্টোরের উদ্দেশ্য একই। এগুলো অ্যাপ নির্মাতাদের সঙ্গে ব্যবহারকারীদের সংযুক্ত করে এবং সফটওয়্যার বিতরণে সহায়তা করে।

অ্যাপল তাদের আইওএস অপারেটিং সিস্টেমকে ‘গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার’ হিসেবে চিহ্নিত করার সিদ্ধান্তেরও বিরোধিতা করেছিল। এই মর্যাদার কারণে অ্যাপলকে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানগুলোর সেবার সঙ্গে আরও সহজে সংযুক্ত হওয়ার সুযোগ দিতে হবে।

এ ছাড়া আইমেসেজ (iMessage) নিয়েও আপত্তি জানিয়েছিল অ্যাপল। তবে আদালত বলেছেন, এ বিষয়ে অ্যাপলের আবেদন গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ বর্তমানে আইমেসেজের ওপর ডিজিটাল মার্কেটস অ্যাক্টের বাধ্যবাধকতাগুলো প্রযোজ্য হয়নি।

রায়ের পর এক বিবৃতিতে অ্যাপল জানায়, তাদের মতে ডিজিটাল মার্কেটস অ্যাক্ট প্রয়োজনের তুলনায় বেশি কঠোর। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এই আইন তাদের দীর্ঘদিনের গোপনিয়তা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা দুর্বল করতে পারে। এতে ব্যবহারকারীরা নতুন ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।

তবে এই রায়ের বিরুদ্ধে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সর্বোচ্চ আদালত কোর্ট অব জাস্টিস অব দ্য ইউরোপিয়ান ইউনিয়নে আইনি আপিল করার সুযোগ এখনো রয়েছে অ্যাপলের।

এআই ডিজাইনে গুরুত্ব বাড়াতে পুরনো সফটওয়্যার বন্ধ করছে সিনপসিস

অনলাইন ডেস্ক
এআই ডিজাইনে গুরুত্ব বাড়াতে পুরনো সফটওয়্যার বন্ধ করছে সিনপসিস
ছবি : রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্রের চিপ ডিজাইন সফটওয়্যার নির্মাতা সিনপসিস চিপ উৎপাদন নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত কিছু পুরনো সফটওয়্যার বন্ধ করার পরিকল্পনা করেছে। এর পরিবর্তে প্রতিষ্ঠানটি এআইভিত্তিক চিপ ডিজাইন প্রযুক্তিতে বেশি বিনিয়োগ করতে চায়।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সূত্রগুলোর দাবি, চলতি বছরের এপ্রিল ও মে মাসে স্যামসাং, এসকে হাইনিক্স, কিওক্সিয়া ও কোরভোসহ ১০টির বেশি চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানকে এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে সিনপসিস।

প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, এসব সফটওয়্যারের নতুন সংস্করণ আর বাজারে আনা হবে না। তবে আগের গ্রাহকদের জন্য নির্ধারিত রক্ষণাবেক্ষণ সেবা চালু থাকবে।

বন্ধ হতে যাওয়া সফটওয়্যারগুলোর মধ্যে রয়েছে ইকুইপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ারিং সিস্টেম এবং ফল্ট ডিটেকশন অ্যান্ড ক্লাসিফিকেশন। এগুলো চিপ কারখানার যন্ত্রপাতি পর্যবেক্ষণ করে এবং উৎপাদনে কোনো ত্রুটি দেখা দিলে তা দ্রুত শনাক্ত করতে সহায়তা করে।

রয়টার্সের কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে, এ সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে সিনপসিস ইতোমধ্যে কয়েক ডজন কর্মী ছাঁটাই করেছে। তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি প্রতিষ্ঠানটি।

সিনপসিসের এক মুখপাত্র বলেন, পুরোনো কিছু পণ্য বন্ধ করে বেশি মূল্য সংযোজনকারী প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বিদ্যমান গ্রাহকদের সঙ্গে করা চুক্তি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, চিপ শিল্পে এখন এআইভিত্তিক ডিজাইন প্রযুক্তির চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। তাই অনেক সফটওয়্যার কোম্পানি এই খাতে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। অন্যদিকে, বড় কিছু চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান নিজেদের উৎপাদন নিয়ন্ত্রণের সফটওয়্যারও তৈরি করছে।

এদিকে স্যামসাং জানিয়েছে, তারা ইতোমধ্যে বিকল্প ব্যবস্থা তৈরি করেছে। ফলে সিনপসিসের এ সিদ্ধান্তে তাদের চিপ উৎপাদনে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না বলে আশা করছে প্রতিষ্ঠানটি।

বয়স যাচাইয়ে ব্যর্থ অস্ট্রেলিয়ায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা

অনলাইন ডেস্ক
বয়স যাচাইয়ে ব্যর্থ অস্ট্রেলিয়ায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা
ছবি : রয়টার্স

অস্ট্রেলিয়ায় ১৬ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার ঠেকাতে করা নতুন আইন কার্যকর করতে সমস্যা দেখা দিয়েছে। একটি গবেষণায় বয়স যাচাই ব্যবস্থায় বড় ধরনের দুর্বলতার তথ্য উঠে এসেছে।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায়। 

গত ডিসেম্বর থেকে অস্ট্রেলিয়ায় ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য ইনস্টাগ্রাম, টিকটক, স্ন্যাপচ্যাট ও ইউটিউবসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নতুন অ্যাকাউন্ট খোলা নিষিদ্ধ।

গবেষণায় ৫০টি পরীক্ষামূলক অ্যাকাউন্ট খোলা হয়। প্রতিটি অ্যাকাউন্টে ব্যবহারকারীর বয়স ১৬ বছর উল্লেখ করা হয়। কিন্তু কোনো প্ল্যাটফর্মই বয়সের প্রমাণ চায়নি।

গবেষকরা জানায়, এটাই সবচেয়ে বড় সমস্যা। কেউ ভুল জন্ম তারিখ দিলে সহজেই অ্যাকাউন্ট খুলতে পারছে। ফলে আইনটি পুরোপুরি কার্যকর হচ্ছে না।

তবে কেউ যদি নিজের বয়স ১৬ বছরের কম উল্লেখ করে, তাহলে বেশির ভাগ প্ল্যাটফর্ম তাকে অ্যাকাউন্ট খুলতে দেয়নি। শুধু অস্ট্রেলিয়ার কিক প্ল্যাটফর্ম বয়সের প্রমাণ ছাড়া কোনো অ্যাকাউন্ট খুলতে দেয়নি।

অস্ট্রেলিয়ার ই-সেফটি কমিশনার বলেছে, বয়স যাচাইয়ের জন্য একাধিক পদ্ধতি ব্যবহার করলে ব্যবস্থা কার্যকর হতে পারে। তবে সেগুলো সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।

অন্যদিকে মেটা জানিয়েছে, ব্যবহারকারীর আচরণ দেখে কম বয়সী মনে হলে তখন অতিরিক্ত বয়স যাচাই করা হয়। তাই সব ব্যবহারকারীর কাছ থেকে শুরুতেই বয়সের প্রমাণ চাওয়া হয় না।

বিশ্লেষকরা জানায়, ভুল জন্ম তারিখ দিয়ে অ্যাকাউন্ট খোলার সুযোগ বন্ধ না করলে অস্ট্রেলিয়ার এই আইন পুরোপুরি সফল হবে না।