স্মার্টফোন এখন শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়, ব্যক্তিগত জীবনের প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য থাকে এতে। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, ই-মেইল, ছবি, অবস্থান, পাসওয়ার্ড থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত কথোপকথন সবই সংরক্ষিত থাকে এই ছোট্ট ডিভাইসে। অথচ অনেকেই মনে করেন, এখন পর্যন্ত কোনো সমস্যা হয়নি মানেই ফোন নিরাপদ। সাইবার অপরাধীরা ঠিক এই আত্মতুষ্টির সুযোগই কাজে লাগায়।
টাইমস অব ইন্ডিয়া এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, অধিকাংশ ফোন হ্যাকের ঘটনা সিনেমার মতো জটিল প্রযুক্তি ব্যবহার করে নয় বরং ব্যবহারকারীর ছোট ছোট অসতর্কতার কারণেই ঘটে। একটি ভুয়া লিংকে ক্লিক করা, অজানা পাবলিক ওয়াই-ফাই ব্যবহার করা কিংবা অপ্রয়োজনীয় অ্যাপকে অতিরিক্ত অনুমতি দিয়ে রাখাই ফোন হ্যাকারদের নিয়ন্ত্রণে চলে যেতে পারে। তাই সাবধান থাকতে যেসব পদক্ষেপ নিতে হবে :
ফোনের নিরাপত্তার প্রথম ধাপ হলো শক্তিশালী লক স্ক্রিন। অনেকেই এখনো চার অঙ্কের সাধারণ পিন ব্যবহার করেন, যা সহজেই অনুমান করা সম্ভব। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, অন্তত ছয় অঙ্কের পিন বা অ্যালফানিউমেরিক পাসকোড ব্যবহার করা উচিত। এর সঙ্গে ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা ফেস আনলকের মতো বায়োমেট্রিক নিরাপত্তা চালু রাখলে ফোনে অননুমোদিত প্রবেশের ঝুঁকি আরও কমে যায়।
গুরুত্বপূর্ণ সব অ্যাকাউন্টে টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন
শুধু পাসওয়ার্ডের ওপর নির্ভর না করে টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন চালু রাখার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এতে করে কেউ আপনার পাসওয়ার্ড জেনে গেলেও দ্বিতীয় ধাপের যাচাই ছাড়া অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করতে পারবে না। বিশেষ করে ব্যাংকিং অ্যাপ, ই-মেইল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্টে এটি চালু রাখা জরুরি। এ ক্ষেত্রে এসএমএসের মাধ্যমে কোড পাওয়ার চেয়ে গুগল অথেনটিকেটর বা অথি-এর মতো অথেনটিকেটর অ্যাপ ব্যবহার বেশি নিরাপদ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
সফটওয়্যার আপডেট
অনেকেই নতুন ফিচার না থাকলে সফটওয়্যার আপডেট দিতে আগ্রহী হন না। কিন্তু প্রতিটি আপডেটের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা ত্রুটি ঠিক করার প্যাচও থাকে। পুরোনো অপারেটিং সিস্টেম বা অ্যাপের দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে সাইবার অপরাধীরা সহজেই হামলা চালাতে পারে। তাই ফোন এবং অ্যাপ দুটিতেই স্বয়ংক্রিয় আপডেট চালু রাখা বা নিয়মিত আপডেট দেয়া উচিত।
পাবলিক ওয়াই-ফাই ব্যবহারে সতর্ক থাকুন
রেস্তোরাঁ, বিমানবন্দর বা ক্যাফের বিনা মূল্যের ওয়াই-ফাই ব্যবহার সুবিধাজনক হলেও তা সব সময় নিরাপদ নয়। এ ধরনের নেটওয়ার্কে ব্যাংকিং অ্যাপ ব্যবহার বা সংবেদনশীল তথ্য আদান-প্রদান না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নিয়মিত পাবলিক ওয়াই-ফাই ব্যবহার করতে হলে ভিপিএন ব্যবহার করলে ইন্টারনেট সংযোগ এনক্রিপ্টেড থাকে, ফলে তথ্য চুরি করা অনেক কঠিন হয়ে যায়।
সন্দেহজনক লিংকে ক্লিক করবেন না
বর্তমানে ফিশিং বার্তাগুলো আগের চেয়ে অনেক বেশি বিশ্বাসযোগ্য দেখায়। কখনো কুরিয়ার ডেলিভারির নোটিশ, কখনও ব্যাংকের সতর্কবার্তা, আবার কখনও পরিচিত কোনো সেবার নামে এসব বার্তা পাঠানো হয়। তাই অচেনা বা সন্দেহজনক লিংকে ক্লিক করার আগে অবশ্যই ভালোভাবে যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
শুধু অফিশিয়াল অ্যাপ স্টোর থেকেই অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ফোনে অ্যাপ ইনস্টল করার ক্ষেত্রে শুধু গুগল প্লেস্টোর বা অ্যাপ স্টোর ব্যবহার করা উচিত। কারণ, এসব প্ল্যাটফর্মে অ্যাপ যাচাই-বাছাই করা হলেও তৃতীয় পক্ষের ওয়েবসাইট থেকে ডাউনলোড করা অ্যাপের ক্ষেত্রে এমন কোনো নিরাপত্তা পরীক্ষা থাকে না। জনপ্রিয় অ্যাপের ভুয়া সংস্করণ ব্যবহারকারীর তথ্য চুরি হচ্ছে এখন তাই সাবধান হন। অনেকটাই সুরক্ষিত রাখতে পারে।




