• ই-পেপার

মরক্কো-কানাডা দ্বৈরথে প্রথমার্ধে গোলখরা

স্বাগতিকদের উড়িয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কো

ক্রীড়া ডেস্ক
স্বাগতিকদের উড়িয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কো
ছবি : রয়টার্স

প্রথমার্ধের ডেডলক ভেঙে দ্বিতীয়ার্ধেই আসল রূপ দেখাল মরক্কো। প্রথম ৪৫ মিনিট কানাডার ইস্পাতকঠিন রক্ষণ আর বিপজ্জনক কাউন্টার অ্যাটাক অ্যাটলাস লায়নদের কিছুটা বাধা দিলেও, বিরতির পর চেনা ছন্দে ফিরল আশরাফ হাকিমিরা। শেষ পর্যন্ত কানাডাকে ৩-০ গোলের বড় ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়ে চলতি বিশ্বকাপের প্রথম দেশ হিসেবে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করল আফ্রিকার এই পরাশক্তি।

অথচ নকআউটের প্রথম এই হাইভোল্টেজ ম্যাচের প্রথমার্ধে কেউ কাউকে এক চুলও ছাড় দেয়নি। আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে লড়াই জমলেও প্রথমার্ধ শেষ হয়েছিল গোলশূন্য সমতায়। প্রথম ৪৫ মিনিটের চিত্র বলছিল, বল দখলে মরক্কো কিছুটা এগিয়ে থাকলেও মাঠের আসল ধারটা দেখিয়েছিল কানাডাই। মরক্কোর চার-চারটি শটের বিপরীতে কানাডা শট নিতে পেরেছিল মাত্র একটি, তবে সেটিই ছিল বেশ বিপজ্জনক। কিন্তু দুই দলের গোলরক্ষক আর ডিফেন্ডারদের দৃঢ়তায় জালের দেখা পায়নি কেউই।

তবে বিরতি থেকে ফিরেই যেন ম্যাচের পুরো চিত্রনাট্য বদলে দেয় মরক্কো। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই, ম্যাচের ৫০ মিনিটে দেখা গেল দারুণ এক ‘ট্যাকটিক্যাল মাস্টারক্লাস’। ডান প্রান্তে পাওয়া এক ফ্রি-কিক থেকে সরাসরি শট না নিয়ে আশরাফ হাকিমি আলতো করে বল বাড়িয়ে দেন বক্সের কাছাকাছি ওত পেতে থাকা আজ্জেদিন উনাহির দিকে। কানাডার রক্ষণভাগ কিছু বুঝে ওঠার আগেই উনাহির নেওয়া চমৎকার এক মাটি কামড়ানো শট সরাসরি জড়ায় জালে! আর তাতেই ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় মরক্কো।

খেলার শেষ দিকে যখন গোল শোধ করতে মরিয়া কানাডা অলআউট আক্রমণে মেতেছিল, ঠিক তখনই আবার গোল করেন উনাহি। ৮২ মিনিটে দলকে ২-০ তে এগিয়ে দেন তিনি।

এরপর ম্যাচের একদম শেষ দিকে স্বাগতিকদের কফিনে অন্তিম পেরেকটি পুঁতে দেন সুফিয়ান রাহিমি। কাউন্টার অ্যাটাক থেকে বল পেয়ে দারুণ এক ক্লিনিক্যাল ফিনিশিংয়ে কানাডার জাল কাঁপান তিনি।  

শেষ পর্যন্ত ৩ গোলের বিশাল ও দাপুটে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে মরক্কো। প্রথমার্ধের লড়াইয়ে বুক চিতিয়ে লড়লেও দ্বিতীয়ার্ধের মরক্কো-ঝড়ে উড়ে গিয়ে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হলো কানাডাকে।

ফ্রান্সকে ‘আফ্রিকান দল’ বললেন প্যারাগুয়ের কিংবদন্তি

ক্রীড়া ডেস্ক
ফ্রান্সকে ‘আফ্রিকান দল’ বললেন প্যারাগুয়ের কিংবদন্তি

বিশ্বকাপের শেষ ১৬-এর মহারণে শেষ আটের টিকিট কাটার এই লড়াইয়ে ফিলাডেলফিয়ায় মুখোমুখি হচ্ছে দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স ও লাতিন আমেরিকার লড়াকু দল প্যারাগুয়ে। আজ বাংলাদেশ সময় রাত ৩টায় ম্যাচটি শুরু হওয়ার কথা থাকলেও, মাঠের বল গড়ানোর আগেই মাঠের বাইরে শুরু হয়ে গেছে তুমুল বাকযুদ্ধ।

আর সেই বিতর্কের ঠিক কেন্দ্রবিন্দুতে আছেন প্যারাগুয়ের কিংবদন্তি গোলরক্ষক হোসে লুই চিলাভার্ট। ফ্রান্সের সাবেক ফুটবলার ক্রিস্টফ ডুগেরির এক মন্তব্যের জবাব দিতে গিয়ে চিলাভার্ট এমন এক বিস্ফোরক মন্তব্য করে বসেছেন, যা আন্তর্জাতিক ফুটবলে নতুন করে বর্ণবাদের বিতর্ককে উসকে দিয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চিলাভার্ট সরাসরি তোপ দেগে লিখেছেন, ‘১৯৯৮ বিশ্বকাপে আমরা ফ্রান্সের মুখোমুখি হয়েছিলাম, আর এবার প্যারাগুয়ে খেলবে আফ্রিকার একটি দলের বিপক্ষে।’

ফরাসি জাতীয় দলে থাকা বিভিন্ন আফ্রিকান জাতিসত্তার ফুটবলারদের ইঙ্গিত করেই যে চিলাভার্ট এই চরম আপত্তিকর ও বর্ণবাদী মন্তব্যটি করেছেন, তা নিয়ে কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই। আর এতেই ফুটবল দুনিয়ায় বইছে সমালোচনার ঝড়।

অবশ্য এই বিতর্কের সূত্রপাতটা করেছিলেন ফ্রান্সের সাবেক তারকা ক্রিস্টফ ডুগেরি নিজেই। রেডিও মন্টে কার্লোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্যারাগুয়েকে রীতিমতো ধুয়ে দিয়ে তিনি বলেছিলেন, ‘প্যারাগুয়েকে উড়িয়ে দেওয়া হবে, অপমান করা হবে। তারা কেবল রক্ষণই করতে চাইবে, কারণ মাঠে ফুটবল খেলে কিছু করার ক্ষমতা তাদের নেই। আমি আবারও বলছি, আক্রমণভাগে তারা ভয়াবহ রকমের দুর্বল।’

ডুগেরির এমন অহংকারী ও অবমাননাকর মন্তব্যের পিঠেই পাল্টা কামড় দিতে চেয়েছিলেন চিলাভার্ট। জবাব দিতে গিয়ে ফরাসিদের মনে করিয়ে দেন ১৯৯৮ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর সেই রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ের কথা। সেবার নির্ধারিত ৯০ মিনিট গোলশূন্য থাকার পর অতিরিক্ত সময়ের ২৩তম মিনিটে লরা ব্লাঁর ঐতিহাসিক ‘গোল্ডেন গোল’-এ কোনোমতে ১-০ ব্যবধানে জিতে কোয়ার্টারে উঠেছিল ফ্রান্স, যারা পরে ঘরের মাঠে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। চিলাভার্ট বোঝাতে চেয়েছেন, সেদিনের সেই ফরাসি দল আর আজকের ফরাসি দলের মাঝে আকাশ-পাতাল তফাত।

‘আল্লাহ ফিলিস্তিনিদের বিজয় দান করুন’ — ঐতিহাসিক জয়ের পর মিশরের কোচ

ক্রীড়া ডেস্ক
‘আল্লাহ ফিলিস্তিনিদের বিজয় দান করুন’ — ঐতিহাসিক জয়ের পর মিশরের কোচ
ছবি : রয়টার্স

আফ্রিকার পরাশক্তি হওয়া সত্ত্বেও বিশ্বকাপের রাজকীয় মঞ্চে মোটে চারবার এসেছে মিশর। আগের প্রতিবারই গ্রুপ পর্বের গাঁট ডিঙাতে না পারার আক্ষেপ সঙ্গী করে আসলেও এবার সময় বদলেছে। সব আক্ষেপ আর ইতিহাসকে এক ফুঁৎকারে উড়িয়ে দিইয়েছে ‘ফারাও’রা। প্রথমবার নকআউটের টিকিট কেটেই রূপকথা লিখল মিশর। টাইব্রেকারের স্নায়ুযুদ্ধে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের শেষ ১৬-তে জায়গা করে নিয়েছে তারা।

ডালাস স্টেডিয়ামে শেষ ৩২-এর মহানাটকীয় ম্যাচে সকারুজদের টাইব্রেকারে ৪-২ ব্যবধানে হারিয়েছে মিশর। নির্ধারিত ৯০ মিনিট ও অতিরিক্ত সময়ের লড়াই ১-১ সমতায় শেষ হলে ম্যাচের ভাগ্য গড়ায় ১২ গজের লটারিতে। আর সেখানেই বাজিমাত করে ইতিহাস গড়ল হোসাম হাসানের শিষ্যরা। কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে এবার তাদের মুখোমুখি হতে হবে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার।

ম্যাচ জয়ের পর মাঠেই এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। কোচ হোসাম হাসান মিশর ও ফিলিস্তিন—দুই দেশের পতাকাই মাঠে নিয়ে আসেন এবং পুরো দল একসঙ্গে মাঠে সেজদায় নত হয়ে সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে।

ঐতিহাসিক এই জয়টি ফিলিস্তিনের মুক্তিকামী মানুষের উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করেছেন মিশরীয় বস হোসাম হাসান। ম্যাচ শেষে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘আল্লাহ ফিলিস্তিনিদের বিজয় দান করুন, তাদের শহীদদের প্রতি রহম করুন। আমি এই ঐতিহাসিক জয় মিশর এবং ফিলিস্তিনের মহান ও সম্মানিত মানুষের জন্য উৎসর্গ করছি।’ তিনি আরো জানান, ফিলিস্তিনিরাও পুরো আরব বিশ্বের সঙ্গে মিলে এই জয়টি রাতভর উদযাপন করেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক ফিলিস্তিনি সমর্থক এই জয়ে নিজেদের বাঁধভাঙা উল্লাসের চিত্র ভাগ করে নিয়েছেন। গাজার ফুটবলপ্রেমী টেমার নাহেদ এক্স-এ লিখেছেন, ‘প্রথমবারের মতো এত উত্তেজনা নিয়ে বিশ্বকাপ দেখছি। ধ্বংসস্তূপ আর তাঁবুর মধ্য থেকে হাজার হাজার মানুষ ম্যাচ দেখতে বেরিয়ে এসেছিল। মুখে হাসি আর উল্লাস দেখে মনে হচ্ছিল, সবাই যুদ্ধ ও কষ্টের মাঝেও কিছুটা জীবনের স্বাদ নিতে চেয়েছিল।’

নেট দুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতেও দেখা গেছে, ভাঙাচোরা ভবন ও অস্থায়ী তাঁবুর মাঝেই প্রজেক্টরে খেলা দেখছে মানুষ, অনেক শিশুর গালে আঁকা মিশরের পতাকার রং।

প্রতিভাকে প্রক্রিয়া দিয়ে আটকে রাখা যায় না

অনলাইন ডেস্ক
প্রতিভাকে প্রক্রিয়া দিয়ে আটকে রাখা যায় না
বৈভব সূর্যবংশী। ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বকাপ ফুটবলের উন্মাদনায় যখন বুঁদ গোটা বিশ্ব, তখনও ক্রিকেট বিশ্বের লাইমলাইটের অনেকটাই কেড়ে নিয়েছিলেন— এক ভারতীয় কিশোর এবং সেটা মাঠে না খেলেই। গত আইপিএলে অতিমানবীয় পারফরম্যান্সের পর নির্বাচকরা দলে ডাকতে বাধ্য হয়েছিলেন ১৫ বছর বয়সী বিস্ময়বালক বৈভব সূর্যবংশীকে। কিন্তু আয়ারল্যান্ড সফরের দুই টি-২০ কিংবা ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সিরিজের প্রথম ম্যাচ—কোথাওই একাদশে জায়গা মেলেনি তার।

বৈভবের মতো বিস্ফোরক ব্যাটারকে বেঞ্চে বসিয়ে রাখা নিয়ে রীতিমতো হৈচৈ পড়ে যায় ক্রিকেট বিশ্বে। ভারত তো বটেই, বিভিন্ন দেশের কিংবদন্তিদের মনেও ছিল এক প্রশ্ন—বৈভব সূর্যবংশী কবে মাঠে নামবেন? যারা গত আইপিএল দেখেননি, তাদের কাছে এই প্রশ্ন বাড়াবাড়ি মনে হতে পারে; কিন্তু যারা দেখেছেন, তারা অবাক—কেন মাঠে নামানো হচ্ছে না তাকে?

অবশেষে সব প্রশ্নের অবসান ঘটলো শনিবার ম্যানচেস্টারের ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে। সিরিজের দ্বিতীয় টি-২০ ম্যাচে ভারতের সর্বকনিষ্ঠ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার হিসেবে অভিষেক হলো ১৫ বছর ৯৯ দিন বয়সী বৈভবের। এই অভিষেকের মাধ্যমে তিনি সিংহাসনচ্যুত করলেন ভারতের ‘ক্রিকেট ঈশ্বর’ শচীন রমেশ টেন্ডুলকারকে। ১৯৮৯ সালে শচীন যখন প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে নেমেছিলেন, তখন তার বয়স ছিল ১৬ বছর ২০৫ দিন। ওল্ড ট্রাফোর্ডে ভারতের সহ-অধিনায়ক তিলক ভার্মা বৈভবের হাতে তুলে দেন সেই ঐতিহাসিক ক্যাপ।

সিদ্ধান্তটা ভারতের টিম ব্যবস্থাপনা বা ম্যানেজমেন্টের জন্য যে কতটা কঠিন ছিল, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। বৈভবকে খেলাতে গেলে বাদ পড়বেন কে? ভারতের তিন টপ অর্ডার ব্যাটারই যে আছেন ফর্মের তুঙ্গে। ওপেনার অভিষেক শর্মা টি-২০ র‌্যাঙ্কিংয়ের ২ নম্বরে, তিনে খেলা ঈশান কিশান আছেন ১ নম্বরে। আর অপর ওপেনার সঞ্জু স্যামসন মাত্র তিন মাস আগে ৫ ইনিংসে ৮০.২৫ গড় এবং ১৯৯.৩৭ স্ট্রাইক রেটে ৩২১ রান করে ভারতকে টি-২০ বিশ্বকাপ জিতিয়েছিলেন।

এমন তিনজনকে বাদ দেওয়া যেমন কঠিন, তেমনি সূর্যবংশীকে বেঞ্চে বসিয়ে রাখাও ছিল অসম্ভব। শেষ পর্যন্ত হেড কোচ গৌতম গম্ভীর আর অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ারকে কঠিন সিদ্ধান্তটাই নিতে হলো। কপাল পুড়ল বেচারা স্যামসনের। সর্বশেষ তিন ইনিংসে ৫, ০ ও ১ রান করার খেসারত দিয়ে বৈভবের জন্য জায়গা ছেড়ে দিতে হলো তাকে।

গত কয়েকদিন ধরে বৈভবকে না খেলানোয় তীব্র সমালোচনার মুখে ছিল ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্ট। যদিও তারা হুট করে পরীক্ষিত পারফরমারদের বাদ দিতে চাননি। ভারতের সহকারী কোচ রায়ান টেন ডেসকাটে তো ‘অন্য সবার মতো বৈভবকেও প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে আসতে হবে’ বলে রীতিমতো খলনায়ক বনে গিয়েছিলেন।

টানা তিন ম্যাচ ধরে এই প্রশ্নের জবাব দিতে দিতে ক্লান্ত অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ারকে কাল টসের পর কথা বলতে হলো বৈভবের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে। শ্রেয়াস বলেন, ‘গত কয়েক মাসে আপনারা ওকে ব্যাট করতে দেখেছেন। আমার মনে হয় দলে থাকার যোগ্যতা ওর পুরোপুরি আছে। ও এমন একজন যে একেবারেই চাপ নেয় না; ও একরোখা ও অবিচল স্বভাবের। আগামী ম্যাচগুলোতে কী হতে চলেছে সে সম্পর্কে ও খুব ভালো করেই জানে। নেটে ও যেভাবে ব্যাটিং করে এবং বোলারদের মোকাবেলা করে, তা থেকেই বোঝা যায় ও কেমন মানের খেলোয়াড়। ভারত যে পরিমাণ প্রতিভা তৈরি করছে তা সত্যিই চোখ জুড়ানো। এটা আমাদের সবসময় সতর্ক ও প্রস্তুত রাখে। আমার মনে হয় চাপ পাওয়াটা একটা সৌভাগ্যের বিষয়।’

১৫ বছর বয়সী এক কিশোরকে নিয়ে ক্রিকেট বিশ্বের এত মাতামাতি কেন? আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পা রাখার আগেই সূর্যবংশী ভেঙে চুরমার করেছেন একের পর এক রেকর্ড। সবশেষ আইপিএলে ২৩৭.৩০ স্ট্রাইক রেটে ৭২টি ছাক্কায় তিনি করেছিলেন ৭৭৬ রান। বিশ্বের বাঘা বাঘা বোলারদের অবলীলায় গ্যালারিতে পাঠিয়ে জিতে নিয়েছেন টুর্নামেন্টের মোস্ট ভ্যালুয়েবল প্লেয়ার, অরেঞ্জ ক্যাপ, ইমার্জিং প্লেয়ার, সুপার স্ট্রাইকার ও সুপার সিক্সেস পুরস্কার। ১৫ বছর বয়সে ছক্কা মারার রেকর্ডে পেছনে ফেলেছেন ক্রিস গেইলকেও।

আইপিএল শেষে ভারত ‘এ’ দলের হয়ে শ্রীলঙ্কা সফরে গিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজে ৫ ইনিংসে করেছেন ২১১ রান। ফাইনালে খেলেন ৯৪ রানের ঝড়ো ইনিংস। সেখানে শ্রীলঙ্কা ‘এ’ দলের বিপক্ষে মাত্র ১১ বলে ফিফটি করে লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটের দ্রুততম ফিফটির রেকর্ড গড়েন বৈভব।

তাছাড়া বৈভব ৮টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচে ১২ ইনিংসে করেছেন ২০৭ রান। যুব টেস্টে ৬ ম্যাচের ১০ ইনিংসে করেছেন ৩৩১ রান। লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে ১৩ ম্যাচে করেছেন ৫৬৪ রান, যার মধ্যে রয়েছে ১৯০ রানের একটি ইনিংসও। যুব ওয়ানডেতে ২৫ ম্যাচে ৫৬.৪৮ গড়ে করেছেন ১৪১২ রান, স্ট্রাইক রেট ছিল ১৬৫.৭২। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে ৭ ম্যাচে টুর্নামেন্ট সর্বোচ্চ ৪৩৯ রান করে দলকে শিরোপাও জিতিয়েছেন তিনি। চাইলে এই পরিসংখ্যান আরও লম্বা করা যাবে।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পা রাখার আগেই বৈভব প্রমাণ করেছেন তিনি শুধু ধুম-ধাড়াক্কা টি-২০ ব্যাটার নন; টেস্ট, ওয়ানডে সব ফরম্যাটেই তার ব্যাট কথা বলে। তবে এখন লড়াইটা সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিজের প্রতিভার প্রমাণ দেওয়ার।

বহুল আলোচিত তার অভিষেক ইনিংসটি অবশ্য প্রতিভার সঙ্গে পুরোপুরি সুবিচার করতে পারেনি। ১০ বলে ২ ছক্কায় করেছেন মাত্র ১৪ রান। তবে রান যা-ই হোক, ওল্ড ট্রাফোর্ডে বিশ্ব ক্রিকেটের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়ে গেল। যে মাঠে শচীন টেন্ডুলকার তার ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি করেছিলেন, সেই মাঠেই তাকে সরিয়ে সর্বকনিষ্ঠ ভারতীয় ক্রিকেটার বনে গেলেন বৈভব।

তবে শুধু বয়সে শচীনকে ছাড়িয়ে গেলেই দায়িত্ব শেষ হবে না, মাথায় রাখতে হবে—২৪ বছরের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে শচীন ৬৬৪টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে করেছিলেন ৩৪ হাজার ৩৫৭ রান এবং ১০০টি সেঞ্চুরি। এখন দেখার বিষয়, বৈভব সূর্যবংশী কতদূর যেতে পারেন? এই নতুন সূর্যের আলো কতটা আলোকিত করতে পারে ক্রিকেট বিশ্বকে?