• ই-পেপার

ইআরপি সফটওয়ার সেবায় 'প্রাইডসিস আইটি'র সাফল্য

সিনেমা ও টিভি ব্যবসায় আরো জোর দেবেন অ্যাপলের নতুন সিইও

অনলাইন ডেস্ক
সিনেমা ও টিভি ব্যবসায় আরো জোর দেবেন অ্যাপলের নতুন সিইও
ছবি: রয়টার্স

আগামী সেপ্টেম্বরে অ্যাপলের নতুন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে দায়িত্ব নেবেন জন টার্নাস। দায়িত্ব নেওয়ার পর কম্পানির সিনেমা ও টিভি ব্যবসাকে আরো শক্তিশালী করার পরিকল্পনা রয়েছে তার।

লস অ্যাঞ্জেলেসে জনপ্রিয় সিরিজ ‘টেড ল্যাসো’-এর চতুর্থ মৌসুমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জন টার্নাস এ কথা জানান। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

তিনি বলেন, অ্যাপল টিভি এখন ভালো অবস্থানে রয়েছে। তাই এই ধারা ধরে রেখে আরও ভালো সিনেমা, সিরিজ এবং নতুন গল্প দর্শকদের সামনে আনা হবে।

অ্যাপল ২০১৯ সালে অ্যাপল টিভি প্লাস চালুর মাধ্যমে নিজস্ব সিনেমা ও টিভি সিরিজ তৈরি শুরু করে। পরে প্রতিষ্ঠানটি ‘কোডা’, ‘এফ১’, ‘দ্য স্টুডিও’ এবং ‘টেড ল্যাসো’-এর মতো জনপ্রিয় কনটেন্ট দিয়ে সাফল্য পায়। গত বছর সেবাটির নাম থেকে ‘প্লাস’ শব্দটি বাদ দিয়ে শুধু অ্যাপল টিভি রাখা হয়।

বর্তমান সিইও টিম কুক বলেন, নেতৃত্ব পরিবর্তনের সময় তিনি জন টার্নাসের সঙ্গে বিনোদন ব্যবসার অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিচ্ছেন।

তার ভাষায়, অ্যাপলের লক্ষ্য সবচেয়ে বেশি কনটেন্ট তৈরি করা নয়; বরং সবচেয়ে মানসম্মত সিনেমা ও টিভি অনুষ্ঠান তৈরি করা। তিনি মনে করেন, এই লক্ষ্য পূরণে অ্যাপল এখন সঠিক পথে রয়েছে।

টিম কুক আরো জানান, ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে নতুন অংশীদারত্বেও আগ্রহী অ্যাপল। এর উদাহরণ হিসেবে তিনি ফর্মুলা ওয়ান (এফ১)-এর সঙ্গে কাজের কথা উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, ‘এফ১’ সিনেমার জন্য অ্যাপল বিশেষ ক্যামেরা তৈরি করেছিল। এতে দর্শকরা রেসিং কারের ভেতরে বসে দেখার মতো অভিজ্ঞতা পেয়েছেন। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে ফর্মুলা ওয়ান (এফ১) রেস একচেটিয়াভাবে অ্যাপল টিভি-তে দেখানো হয়। এছাড়া অ্যাপল নিউজ ও অন্যান্য অ্যাপেও রেসের ফলাফল, লিডারবোর্ড এবং বিভিন্ন তথ্য প্রকাশ করা হয়।

গত মাসে অ্যাপলের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এডি কিউ জানিয়েছিলেন, স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম ও প্রেক্ষাগৃহ—দুই ক্ষেত্রেই আরও ভালো এবং আরো বেশি সিনেমা ও টিভি অনুষ্ঠান দর্শকদের কাছে পৌঁছে দিতে চায় অ্যাপল।

কিশোরদের মানসিক ক্ষতির তথ্য জেনেও ব্যবস্থা নেয়নি মেটা

অনলাইন ডেস্ক
কিশোরদের মানসিক ক্ষতির তথ্য জেনেও ব্যবস্থা নেয়নি মেটা
ছবি: রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্য আদালতে অভিযোগ করেছে, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা কিশোর-কিশোরীদের মানসিক ক্ষতির ঝুঁকি সম্পর্কে আগে থেকেই জানত। কিন্তু সেই তথ্য জেনেও যথাযথ ব্যবস্থা নেয়নি।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য দেয়।

সোমবার আদালতে শুনানির সময় টেনেসির আইনজীবীরা জানান, মেটার নিজস্ব গবেষণায় দেখা গিয়েছিল, ইনস্টাগ্রামের অতিরিক্ত ব্যবহার কিছু কিশোর-কিশোরীর মধ্যে বিষণ্নতা, খাওয়াদাওয়ার সমস্যা এবং আত্মক্ষতির চিন্তা বাড়াতে পারে।

তাদের দাবি, এসব তথ্য জানা থাকার পরও মেটা এমন কিছু ফিচার চালু রাখে, যা ব্যবহারকারীদের দীর্ঘ সময় অ্যাপে ধরে রাখতে সাহায্য করে। এর মধ্যে অটোপ্লে, ইনফিনিট স্ক্রল এবং ঘন ঘন নোটিফিকেশন উল্লেখযোগ্য।

আদালতে টেনেসির আইনজীবী টম কার্টমেল বলেন, এসব ফিচার ব্যবহারকারীদের বারবার অ্যাপে ফিরিয়ে আনতে পরিকল্পিতভাবে তৈরি করা হয়েছে। বিষয়টি বোঝাতে তিনি আদালতেই মোবাইলের নোটিফিকেশনের শব্দ বাজিয়ে শোনান।

টেনেসি এই মামলায় মেটার বিরুদ্ধে আর্থিক জরিমানা চেয়েছে। একই সঙ্গে কিশোর-কিশোরীদের সুরক্ষায় প্ল্যাটফর্মে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনার নির্দেশও চেয়েছে।

তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছে মেটা। কোম্পানিটির দাবি, তারা ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দেয়। এজন্য সময় নিয়ন্ত্রণ, অভিভাবকদের তদারকি এবং নিরাপদ ব্যবহারের জন্য বিভিন্ন টুল চালু করা হয়েছে।

মেটার আরও দাবি, কিশোর-কিশোরীদের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের নয়। পরিবার, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও সমাজ—সব পক্ষেরই এ দায়িত্ব রয়েছে।

এই মামলা যুক্তরাষ্ট্রে মেটার বিরুদ্ধে চলমান একাধিক আইনি লড়াইয়ের অংশ। এর আগে নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যের একটি মামলায় শিশুদের নিরাপত্তা ও মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতির অভিযোগে মেটাকে ৩৭৫ মিলিয়ন ডলার জরিমানা করা হয়েছিল।

গুগলের বিরুদ্ধে ১০ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতিপূরণ মামলার আশঙ্কা

অনলাইন ডেস্ক
গুগলের বিরুদ্ধে ১০ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতিপূরণ মামলার আশঙ্কা
ছবি : রয়টার্স

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নতুন ডিজিটাল বাজার আইন লঙ্ঘনের দায়ে গুগলকে ১ বিলিয়ন ডলার জরিমানা করার পর কোম্পানিটির বিরুদ্ধে বড় অঙ্কের ক্ষতিপূরণ মামলার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আইনজীবীদের ধারণা, ইউরোপের বিভিন্ন দেশের ক্ষতিগ্রস্ত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো মিলিয়ে ১০ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারে।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য দেয়।

ইইউর অভিযোগ, গুগল নিজের বিভিন্ন সেবাকে অন্যদের চেয়ে বেশি সুবিধা দিয়েছে। পাশাপাশি গুগল প্লে-এর অ্যাপ ডেভেলপারদের অ্যাপের বাইরে কম দামে সেবা বা পণ্য বিক্রির সুযোগও সীমিত করেছে। এ কারণে গত সপ্তাহে কম্পানিটিকে নতুন আইনের আওতায় প্রথমবারের মতো প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার জরিমানা করা হয়।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রায় ভবিষ্যতে আরো অনেক প্রতিষ্ঠানের জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি করে মামলা করার পথ সহজ করবে। তাদের দাবি, গুগলের এসব কার্যক্রমের কারণে বছরের পর বছর অনেক প্রতিষ্ঠানের ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

তবে গুগল সব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। কম্পানিটির দাবি, প্রতিদ্বন্দ্বীরা নিজেদের পণ্য উন্নয়নে বিনিয়োগ না করে আদালতের মাধ্যমে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করছে।

ইতিমধ্যে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে গুগলের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা চলছে। ইতালির মাল্টিপ্লাই গ্রুপ প্রায় ২.৯৭ বিলিয়ন ইউরো ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে। সুইডেনের প্রাইসরানার প্রায় ১.৯৭ বিলিয়ন ডলার দাবি করে মামলা করেছে। যুক্তরাজ্যের কেলকু-ও গুগলের বিরুদ্ধে কয়েক বিলিয়ন ডলারের ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে। এ ছাড়া নেদারল্যান্ডসে গুগলের শপিংসেবা নিয়ে আরো দুটি মামলায় ১ বিলিয়ন ডলারের বেশি ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়েছে।

এই বিরোধের শুরু ২০০৮ সালে। তখন গুগল সার্চ ফলাফলে নিজের শপিং তুলনামূলক সেবা ( কম্প্যারিসন শপিং সার্ভিস) বেশি দেখাতে শুরু করে। এতে প্রতিদ্বন্দ্বী মূল্যতুলনা ওয়েবসাইটগুলোর দর্শক কমে যায়। পরে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করে ২০১৭ সালে ইইউ গুগলকে ২.৪২ বিলিয়ন ইউরো জরিমানা করে। দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে গত বছর ইউরোপের সর্বোচ্চ আদালত সেই জরিমানাও বহাল রাখে।

এদিকে গত মাসে অ্যানড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করে প্রতিযোগীদের বাধাগ্রস্ত করার অভিযোগে ৪.১ বিলিয়ন ইউরোর আরেকটি জরিমানার মামলাতেও হেরে যায় গুগল। সব মিলিয়ে ২০১৭ সালের পর থেকে প্রতিযোগিতা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ইইউ গুগলের ওপর ১০.৪ বিলিয়ন ইউরোর বেশি জরিমানা করেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সর্বশেষ জরিমানার পর গুগলের বিরুদ্ধে আরও নতুন মামলা হতে পারে। তবে এসব মামলার নিষ্পত্তি হতে কয়েক বছর, এমনকি আট বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। এ সময়ের মধ্যে গুগল জরিমানার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেও আপিল করতে পারে।

কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য বড় দুঃসংবাদ

অনলাইন ডেস্ক
কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য বড় দুঃসংবাদ
সংগৃহীত ছবি

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি অডিও, ছবি ও ভিডিওর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। এমন অবস্থায় নতুন নীতিমালা ঘোষণা করল ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফরম ইউটিউব। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, নির্দিষ্ট ধরনের এআই-নির্ভর ভিডিও ইউটিউব পার্টনার প্রগ্রামের (YPP) মাধ্যমে আয় করার সুযোগ হারাচ্ছে।

ইউটিউব জানিয়েছে, প্ল্যাটফরমে নিম্নমানের, পুনরাবৃত্তিমূলক ও বিভ্রান্তিকর কনটেন্টের বিস্তার রোধ এবং মৌলিক ও মানসম্মত ভিডিওকে উৎসাহিত করতেই এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে তারা।

ইউটিউবের নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, তিন রকম ভিডিওকে ‘ইন-অথেনটিক (অপ্রামাণ্য) কনটেন্ট’ হিসেবে বিবেচনা করা হবে,

  • একই ধরনের বা বারবার পুনরাবৃত্তি করা এআই-নির্ভর ভিডিও।
  • দর্শকদের আবেগকে বিভ্রান্ত, প্রভাবিত বা অস্বস্তিতে ফেলার উদ্দেশ্যে তৈরি কনটেন্ট।
  • স্বাস্থ্য, চিকিৎসা, অর্থনীতি বা আইনি পরামর্শের মতো সংবেদনশীল বিষয়ে মানবসদৃশ এআই চরিত্র ব্যবহার করে তৈরি ভিডিও।

ইউটিউব জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে এআই-এর সহযোগিতায় অসংখ্য নিম্নমানের ভিডিও তৈরি ও প্রকাশের প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে প্ল্যাটফরমের মান যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তেমনি দর্শকের অভিজ্ঞতা এবং বিজ্ঞাপনদাতাদের আস্থাও কমার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। এ কারণেই তারা এখন এমন কনটেন্টকে অগ্রাধিকার দিতে চায়, যা মৌলিক, সৃজনশীল, তথ্যভিত্তিক এবং দর্শকদের জন্য প্রকৃত মূল্য সৃষ্টি করে।

তবে ইউটিউব এআই দিয়ে তৈরি সব ধরনের ভিডিও নিষিদ্ধ করেনি। মৌলিক, তথ্যসমৃদ্ধ এবং ইউটিউবের নীতিমালা অনুসরণ করে যেসব ভিডিও তৈরি করা হবে, সেগুলো আগের মতোই মনিটাইজেশনের আওতাধীন থাকতে পারে।

ইউটিউবের নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে এআই ব্যবহার করে কনটেন্ট তৈরি করা নির্মাতাদের এখন থেকে ভিডিও তৈরি ও প্রকাশের ক্ষেত্রে আরো সতর্ক থাকতে হবে। তাদের মৌলিকতা ও তথ্যের নির্ভুলতার ওপর বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।

সূত্র : ইয়াহু ফিন্যান্স

ইআরপি সফটওয়ার সেবায় 'প্রাইডসিস আইটি'র সাফল্য | কালের কণ্ঠ