• ই-পেপার

নাহিদ রানাও অস্ট্রেলিয়া যাচ্ছেন, তবে...

কাভা মেনস ভলিবল

উজবেকিস্তানকে উড়িয়ে ফাইনালে বাংলাদেশ

ক্রীড়া ডেস্ক
উজবেকিস্তানকে উড়িয়ে ফাইনালে বাংলাদেশ
ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করার পর বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের ফটোসেশন। ছবি : সংগৃহীত

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখে কাভা মেনস ভলিবল চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছিল বাংলাদেশ। আজ কোনো কামব্যাকের গল্প নয়, প্রতিপক্ষকে উড়িয়ে ফাইনালের টিকিট পেয়েছে বাংলাদেশ।

ইসলামাবাদে উজবেকিস্তানকে দাঁড়াতেই দেয়নি বাংলাদেশ। প্রতিপক্ষকে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছেন হরসিত-সুজনরা। প্রথম সেটে ২৫-২১ ব্যবধানে জয় পায় বাংলাদেশ।

দ্বিতীয় সেটের রাজত্ব আরো বাড়ে। ২৫-২০ ব্যবধানে জয় পায়। ম্যাচ বাঁচাতে যখন তৃতীয় সেট জয়ের বিকল্প নেই, সেই সেটে উজবেকিস্তানের পরাজয় আরো করুণ হয়। বাংলাদেশ ২৫-১৯ সেটে জিতে ফাইনালের টিকিট পায়। 

আগামী ২৯ জুলাই ফাইনাল। সেদিন প্রতিপক্ষ হবে শ্রীলঙ্কা ও স্বাগতিক পাকিস্তানের মধ্যেকার জয়ী দল।

ফ্রান্সের নতুন কোচ জিদান

ক্রীড়া ডেস্ক
ফ্রান্সের নতুন কোচ জিদান
ছবি : রয়টার্স

অবশেষে গুঞ্জনই সত্যি হলো। ফরাসিদের ডাগআউটে শুরু হচ্ছে নতুন এক রোমাঞ্চকর অধ্যায়। দিদিয়ে দেশম দায়িত্ব ছাড়ার পর ফরাসি ফুটবলের কিংবদন্তি তারকা জিনেদিন জিদানকেই আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় দলের নতুন প্রধান কোচ হিসেবে ঘোষণা করেছে ফরাসি ফুটবল ফেডারেশন (এফএফএফ)। 

ফরাসি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মঙ্গলবার এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন এফএফএফ সভাপতি ফিলিপ দিয়ালো। 

দীর্ঘদিন ধরেই ফরাসিদের কোচের হটসিটে বসার আলোচনায় সবার ওপরে ছিলেন জিনেদিন জিদান। নিজেও এই স্বপ্নের পদে বসার জন্য মুখিয়ে ছিলেন বছরের পর বছর। ২০২১ সালে রিয়াল মাদ্রিদের ডাগআউট ছাড়ার পর থেকে আর কোনো ক্লাবের দায়িত্ব নেননি ৫৪ বছর বয়সী এই মাস্টারমাইন্ড। রিয়াল মাদ্রিদকে কোচ হিসেবে টানা তিনটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ (২০১৬, ২০১৭ ও ২০১৮) জেতানোর অবিশ্বাস্য কীর্তি রয়েছে তার ঝুলিতে, যা আধুনিক ফুটবল ইতিহাসে আর কারো নেই।

২০১২ সাল থেকে টানা এক যুগেরও বেশি সময় ফ্রান্সকে কোচিং করানো দেশম ২০২৬ বিশ্বকাপের পর ডাগআউটকে বিদায় জানান। সদ্য সমাপ্ত টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালে স্পেনের কাছে হেরে বিদায় নেয় ফ্রান্স। দেশমের অধীনে ২০১৮ সালে বিশ্বজয়ের স্বাদ পায় ফরাসিরা, আর ২০২২ সালে ফাইনালে গিয়ে টাইব্রেকারে হারতে হয় তাদের। এছাড়া ২০১৬ সালে ঘরের মাঠে ইউরো কাপের ফাইনালেও দল হেরেছিল তার অধীনেই।

জিদানের হাতে দায়িত্ব ওঠার মাধ্যমে আরো এক সাবেক ফরাসি সতীর্থের পথ অনুসরণ করলেন তিনি। এর আগে জিদানের ১৯৯৮ বিশ্বকাপজয়ী সতীর্থ লরেন ব্লাঙ্ক (২০১০-২০১২) ও দিদিয়ে দেশম ফ্রান্সের কোচের দায়িত্ব সামলেছেন।

খেলোয়াড় হিসেবে জিদানের অবদান ফরাসি ফুটবলের স্বর্ণাক্ষরে লেখা। ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে ব্রাজিলের বিপক্ষে ৩-০ ব্যবধানের জয়ে জিজুর জোড়া গোল আজও স্মরণীয়। দু’বছর পর ২০০০ সালে ফ্রান্সকে ইউরো চ্যাম্পিয়ন করতেও তিনি রেখেছিলেন মূল ভূমিকা। সেই বছরই জিতেছিলেন ব্যালন ডি’অর। 

দেশের হয়ে ১০৮ ম্যাচে ৩১ গোল করা এই প্লেমেকারের ২০০৬ বিশ্বকাপ ফাইনালের সেই বিখ্যাত প্যানেনকা শট এবং অতিরিক্ত সময়ে মার্কো মাতেরাজ্জিকে ঢুঁস মেরে লাল কার্ড দেখার ঘটনা ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে আলোচিত অধ্যায়গুলোর একটি।

জিদান যুগে ফ্রান্সের প্রথম পরীক্ষা শুরু হতে যাচ্ছে চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে। নেশন্স লিগে আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর তুরস্কের বিপক্ষে তাদের মাঠে আতিথ্য নেবে ফ্রান্স। তিন দিন পর তাদের লড়াই বেলজিয়ামের বিপক্ষে। এরপর আগামী ২ অক্টোবর ঘরের মাঠ স্টাদে দে ফ্রান্সে ইতালিকে আতিথ্য দেবে জিদানের শিষ্যরা।  
 

কাভান সুলেভানের বিশেষ বুটে বাংলাদেশের পতাকা

ক্রীড়া ডেস্ক
কাভান সুলেভানের বিশেষ বুটে বাংলাদেশের পতাকা
সংগৃহীত ছবি

মেজর লিগ সকারে (এমএলএস) মাত্র ১৪ বছর ২৯৩ দিন বয়সে অভিষেক ঘটিয়ে বিশ্ব ফুটবলকে আগেই তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন ক্যানাভান সুলেভান। যুক্তরাষ্ট্রের ক্লাব ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের এই বিস্ময়বালক এবার গড়েছেন আরও এক ব্যতিক্রমী ইতিহাস। ফুটবল বিশ্বের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে বিখ্যাত ব্র্যান্ড অ্যাডিডাসের তৈরি থ্রিডি-প্রিন্টেড বুট পরে মাঠে নেমেছেন ১৬ বছর বয়সী এই অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার। বুটে পারিবারিক ঐতিহ্য ও শেকড়কে সম্মান জানাতে স্থান দেওয়া হয়েছে তিনটি দেশের জাতীয় পতাকা—বাংলাদেশ, জার্মানি ও যুক্তরাষ্ট্র। 

সুলেভানের পায়ের একদম নিখুঁত মাপে বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছে এই আধুনিক থ্রিডি বুট। তবে প্রযুক্তির ছোঁয়ার পাশাপাশি বুট জোড়াকে অনন্য করে তুলেছে এর ডিজাইন। 

মাঠে অবিশ্বাস্য নৈপুণ্য দেখিয়ে ইতোমধ্যেই ম্যানচেস্টার সিটির নজর কেড়েছেন এই মার্কিন তরুণ। চুক্তি অনুযায়ী ১৮ বছর বয়স হলেই তার ঠিকানা হবে ইংলিশ জায়ান্টদের ডেরায়। 

তবে ফুটবল দক্ষতার পাশাপাশি বুটে বাংলাদেশ ও পারিবারিক শেকড়কে ধারণ করার বিষয়টি বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে থাকা বাংলাদেশি ফুটবলপ্রেমীদের মাঝে আলাদা এক উন্মাদনা তৈরি করেছে। 

এছাড়া কাভানের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের কারণে ইতিমধ্যেই ইউরোপের শীর্ষ ক্লাবগুলোর নজর কেড়েছে। এছাড়া আঠারো বছর পূর্ণ হলে ম্যানচেস্টার সিটিতে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়েও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে আলোচনা চলছে। 

সুলিভান পরিবারের ফুটবল রূপকথায় বাংলাদেশ অধ্যায়টি জড়িয়ে আছে দারুণ এক আবেগে। কাভানের দুই ভাই—রোনান ও ডেক্লান সুলিভান বিশ্বমঞ্চে লাল-সবুজের প্রতিনিধি হিসেবে মাঠ কাঁপানোর পথ বেছে নিয়েছেন। বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ দলের জার্সিতে তাদের যাত্রার শুরুটা হয়েছে রূপকথার মতো, যেখানে সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপাজয়ী দলের বড় কাণ্ডারি ছিলেন তারা দুজন। পুরো টুর্নামেন্টে শুরুর একাদশে রোনান আর বদলি নেমে ডেক্লানের দুর্দান্ত ঝলক দেখিয়েছেন। 
 

চিলিতে ‘ভোজিনহা’ নামের জার্সি পরতে পারবেন না কেপ ভার্দের গোলরক্ষক

চিলিতে ‘ভোজিনহা’ নামের জার্সি পরতে পারবেন না কেপ ভার্দের গোলরক্ষক
ছবি : রয়টার্স

২০২৬ বিশ্বকাপে একের পর এক দুর্দান্ত সেভে ফুটবল বিশ্বের নজর কেড়েছিলেন কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনহা। ৪০ বছর বয়সেও পোস্টের নিচে অসাধারণ পারফরম্যান্সে দেশকে তুলেছিলেন নকআউট পর্বে। বিশ্বকাপের সেই বীরত্বগাথার পুরস্কার হিসেবে সম্প্রতি চিলির ঐতিহ্যবাহী ক্লাব কোলো-কোলোতে যোগ দিয়েছেন তিনি। তবে নতুন ক্লাবে পা রেখেই অদ্ভুত এক আইনি সংকটে পড়েছেন এই বর্ষীয়ান গোলরক্ষক। পরিচিত ‘ভোজিনহা’ নামটি জার্সিতে লিখে মাঠে নামার কোনো সুযোগই পাচ্ছেন না তিনি!

চিলির শীর্ষ ফুটবল লিগের কড়া নিয়মই মূলত কাল হয়েছে তার জন্য। লিগের আইন অনুযায়ী, ফুটবলাররা জার্সিতে কোনো ডাকনাম বা ছদ্মনাম ব্যবহার করতে পারবেন না। জার্সির পিঠে অবশ্যই খেলোয়াড়ের পুরো নাম কিংবা পারিবারিক পদবি থাকতে হবে। এই নিয়ম অমান্য করলে শাস্তির বিধানও বেশ কড়া। মাঠে নামার সঙ্গে সঙ্গেই অটোমেটিক হলুদ কার্ড দেখতে হবে ফুটবলারকে, পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ক্লাবকেও গুনতে হবে বড় অঙ্কের জরিমানা।

বিশ্বকাপের মঞ্চে কোটি ফুটবলপ্রেমী যাকে ‘ভোজিনহা’ নামে চিনেছেন, সেটি আসলে তার আসল নাম নয়। তার পূর্ণ নাম জোসিমার জোসে এভোরা দিয়াস। ফলে নিয়মের পরিবর্তন না হলে নতুন মৌসুমে কোলো-কোলোর হয়ে তার জার্সিতে লেখা থাকবে ‘এভোরা’, ‘দিয়াস’ অথবা ‘এভোরা দিয়াস’।

অবশ্য এই বাধা টপকানোর একটিমাত্র পথ খোলা রয়েছে। কোলো-কোলোর সভাপতি আনিবাল মোসা যদি লিগের পরিচালনা পর্ষদের সর্বসম্মত সমর্থন নিয়ে আইনটি সংশোধন করাতে পারেন, তবেই চেনা নামে নামতে পারবেন তিনি। তবে বাস্তবে এমনটা হওয়ার সম্ভাবনা বেশ ক্ষীণ বলেই মনে করা হচ্ছে।

বিশ্বকাপে চমক দেখানোর পর ফ্রি এজেন্ট হিসেবে ভোজিনহাকে দলে ভেড়ায় কোলো-কোলো, যা তার দীর্ঘ ও বৈচিত্র্যময় ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় মাইলফলক। এর আগে কেপ ভার্দে, অ্যাঙ্গোলা, মলদোভা, পর্তুগাল, সাইপ্রাস ও স্লোভাকিয়ার বিভিন্ন ক্লাবে পোস্ট সামলানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। 
তবে শুধু নাম নিয়েই নয়, পছন্দের জার্সি নম্বর নিয়েও মন খারাপের খবর রয়েছে এই তারকা গোলরক্ষকের জন্য। কোলো-কোলোর চেনা ১ নম্বর জার্সিটি আগেই নিজের দখলে রেখেছেন ফার্নান্দো ডি পল। ফলে পছন্দের ১ নম্বর ছেড়ে ১৬ নম্বর জার্সি গায়ে জড়িয়েই হয়তো নতুন মৌসুমে কোলো-কোলোর গোলপোস্ট সামলাতে হবে তাকে।

বিশ্বকাপের দুর্দান্ত স্মৃতি আর বিশ্বজোড়া পরিচিতির ‘ভোজিনহা’ নামটি আপাতত চিলির লিগে আড়ালেই থেকে যাচ্ছে। নাম আর নম্বর দুটোতেই বদল এনে নতুন এক পরিচয়ে চিলির ফুটবলে নিজের নতুন অধ্যায় শুরু করতে যাচ্ছেন কেপ ভার্দের এই অভিজ্ঞ পাহারাদার।