• ই-পেপার

ছোট চুলে নতুন লুকে ওয়ামিকা, ভক্তরা বলছেন ‘বলিউডের জেন্ডায়া’

পিয়া জান্নাতুলের জিডি তদন্তের নির্দেশ আদালতের

বিনোদন প্রতিবেদক
পিয়া জান্নাতুলের জিডি তদন্তের নির্দেশ আদালতের
সংগৃহীত ছবি

প্রাণনাশের হুমকি ও দীর্ঘদিন ধরে অনুসরণ করার অভিযোগে মডেল ও আইনজীবী জান্নাতুল ফেরদৌস পিয়ার (পিয়া জান্নাতুল) করা সাধারণ ডায়েরি (জিডি) তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার (২৭ জুলাই) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীন বনানী থানা পুলিশকে অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

সোমবার এ বিষয়ে আদালতে জিডির তদন্তের অনুমতি সংক্রান্ত শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানির সময় পিয়া জান্নাতুল নিজেও আদালতে উপস্থিত ছিলেন। 

বিষয়টি নিশ্চিত করে প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক মোস্তফা কামাল জানান, জিডির অভিযোগ তদন্তের অনুমতির আবেদন শুনানির জন্য দিন ধার্য ছিল। শুনানি শেষে আদালত পুলিশকে অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

এর আগে গত ৮ জুলাই রাজধানীর বনানী থানায় নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি করেন পিয়া জান্নাতুল। জিডিতে তিনি উল্লেখ করেন, সম্প্রতি এক নারীর ন্যায়বিচার ও নিরাপত্তার পক্ষে আইনি ও মানবিক অবস্থান নেওয়ার পর থেকেই তিনি ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন ধরনের হুমকির মুখে রয়েছেন।

অভিযোগে বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপত্তিকর বার্তা পাঠানো, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং অজ্ঞাত নম্বর থেকে ফোন করে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া গত প্রায় তিন মাস ধরে অজ্ঞাত কয়েকজন ব্যক্তি বিভিন্ন স্থানে তাকে অনুসরণ করছে বলেও জিডিতে উল্লেখ করেন তিনি।

পিয়ার দাবি, এসব ঘটনার কারণে তিনি এবং তাঁর পরিবারের সদস্যরা চরম নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। সম্ভাব্য অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে তিনি পুলিশের কাছে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আবেদন জানিয়েছেন।

জিডিতে নিজের অবস্থানও স্পষ্ট করেন পিয়া জান্নাতুল। তিনি বলেন, অতীতে বা বর্তমানে প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে তাঁর কোনো রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নেই। একই সঙ্গে অভিযোগে উত্থাপিত বিষয়গুলোর সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বা সংশ্লিষ্টতা নেই বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

সাকিব আল হাসানকে ছাড়িয়ে শীর্ষে পরীমনি

বিনোদন প্রতিবেদক
সাকিব আল হাসানকে ছাড়িয়ে শীর্ষে পরীমনি
সংগৃহীত ছবি

দেশের জনপ্রিয় তারকাদের মধ্যে ফেসবুক অনুসারীর সংখ্যায় নতুন মাইলফলক গড়েছেন চিত্রনায়িকা পরীমনি। দীর্ঘদিন ধরে এ তালিকায় শীর্ষে থাকা ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানকে পেছনে ফেলে এখন সবচেয়ে বেশি ফেসবুক অনুসারীর মালিক তিনি।

বর্তমানে পরীমনির ফেসবুক অনুসারীর সংখ্যা ১ কোটি ৭০ লাখের বেশি। অন্যদিকে সাকিব আল হাসানের অনুসারী ১ কোটি ৬০ লাখের বেশি। ফলে বাংলাদেশের তারকাদের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে অনুসারীর সংখ্যার দিক থেকে এখন শীর্ষ অবস্থানে রয়েছেন এই অভিনেত্রী।

যদিও অভিনয়জীবনের পরিসংখ্যান ভিন্ন চিত্রই তুলে ধরে। প্রায় ১২ বছরের ক্যারিয়ারে পরীমনির অভিনীত দুই ডজনের মতো সিনেমা মুক্তি পেলেও সেগুলোর কোনোটিই বাণিজ্যিকভাবে বড় সাফল্যের তালিকায় জায়গা করে নিতে পারেনি। তবে ব্যক্তিজীবন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় উপস্থিতি এবং বিভিন্ন আলোচিত ঘটনার কারণে তিনি সবসময়ই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থেকেছেন।

পরীমনি

চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্টদের মতে, পরীমনির জনপ্রিয়তার বড় একটি কারণ তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিত উপস্থিতি। ব্যক্তিগত জীবনের নানা মুহূর্ত, ভ্রমণ, সন্তানের বেড়ে ওঠা, ফটোশুট, নতুন কাজের খবর কিংবা দৈনন্দিন জীবনের ছোট ছোট অভিজ্ঞতা—সবই অনুসারীদের সঙ্গে ভাগ করে নেন তিনি। ফলে ভক্তদের সঙ্গে তাঁর এক ধরনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয়েছে।

এরই প্রতিফলন দেখা গেছে তাঁর সাম্প্রতিক পোস্টগুলোতে। গত রবিবার কন্যাসন্তানের খুনসুটির একটি ভিডিও প্রকাশ করে ক্যাপশনে লেখেন, ‘সাজুনি বুড়ি দেখেন’। সঙ্গে ছিল ভালোবাসার একটি ইমোজি। মাত্র ২২ ঘণ্টার মধ্যে ভিডিওটিতে ৭৮ হাজারের বেশি প্রতিক্রিয়া, প্রায় ২ হাজার মন্তব্য এবং প্রায় ১৫ লাখ ভিউ হয়। 

এর আগের দিন রোদ পোহানোর একটি সাধারণ ছবি পোস্ট করে ‘সানসাইশন’ লিখলেও সেটিতে ৪৮ হাজারের বেশি প্রতিক্রিয়া আসে।

ফেসবুক অনুসারীর সংখ্যায় শীর্ষে ওঠার বিষয়ে পরীমনি গণমাধ্যমে বলেন, ‘আমার জীবনের ছোট ছোট বিষয়গুলো আমি সবার সঙ্গে খোলা মনে ভাগ করে নিতে ভালোবাসি। আমার জীবনে কোনো ধরনের লুকোচুরি নেই। বাস্তবে আমি যা, ফেসবুকেও তার রিফ্লেকশন সব সময় থাকে। হয়তো সে কারণেই মানুষ আমাকে এতটা আপন মনে করেন। তাঁদের সবার এই ভালোবাসার মূল্য আমি সব সময় দেওয়ার চেষ্টা করব। আমি বিশ্বাস করি, মানুষের ভালোবাসার চেয়ে বড় কোনো অর্জন নেই। যাঁরা এত দিন ধরে আমার পাশে আছেন, তাঁদের প্রতি আমার কৃতজ্ঞতার শেষ নেই। সবার ভালোবাসায় এগিয়ে যেতে চাই।’

ফেসবুক অনুসারীর সংখ্যায় পরীমনি ও সাকিব আল হাসানের মধ্যে শীর্ষস্থান নিয়ে পালাবদল অবশ্য নতুন নয়। প্রায় তিন বছর আগে প্রথমবার তাঁদের অনুসারীর সংখ্যা প্রায় সমান হয়ে আসে। পরে ২০২৩ সালের আগস্টে আবারও এগিয়ে যান সাকিব। কয়েক মাসের ব্যবধানে দুজনই ১ কোটি ৬০ লাখ অনুসারীর মাইলফলক স্পর্শ করেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ব্যবধান বাড়িয়ে এবার শীর্ষস্থান এককভাবে দখল করেছেন পরীমনি।

‘দ্য মামি ৪’-এ যুক্ত হতে পারেন ‘অবসেশন’খ্যাত জনস্টন

অনলাইন ডেস্ক
‘দ্য মামি ৪’-এ যুক্ত হতে পারেন ‘অবসেশন’খ্যাত জনস্টন

হলিউডের জনপ্রিয় অ্যাডভেঞ্চার ফ্র্যাঞ্চাইজি ‘দ্য মামি’র চতুর্থ পর্বে যুক্ত হতে পারেন ‘অবসেশন’খ্যাত তারকা মাইকেল জনস্টন। বিনোদন সাময়িকী ভ্যারাইটি জানিয়েছে, মেগাবাজেটের এই নতুন কিস্তিতে অভিনয়ের জন্য বর্তমানে প্রাথমিক আলোচনায় রয়েছেন এই অভিনেতা।

সম্প্রতি হরর ছবি ‘অবসেশন’-এর বিশাল বক্স অফিস সাফল্যের পর নজরে আসেন জনস্টন। ‘টিন উলফ’ সিরিজের এই প্রাক্তন তারকাকে এবার দেখা যেতে পারে ‘দ্য মামি’-র অতিপ্রাকৃত রহস্যের জগতে। দর্শকদের জন্য সবচেয়ে বড় আনন্দের খবর হলো, ফ্র্যাঞ্চাইজির মূল দুই তারকা ব্রেন্ডন ফ্রেজার ও র‍্যাচেল ওয়াইজ আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন। তারা আবারও তাদের আইকনিক চরিত্র—অ্যাডভেঞ্চারার ‘রিক ও’কনেল’ ও মিশরবিদ ‘ইভলিন ও’কনেল’ রূপে পর্দায় ফিরছেন। ২০০৮ সালের তৃতীয় পর্বে র‍্যাচেল না থাকলেও, দীর্ঘ সময় পর এই জুটির প্রত্যাবর্তন ভক্তদের মাঝে বাড়তি কৌতূহল তৈরি করেছে। এ ছাড়া জন হানাও এই কিস্তিতে ফিরছেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। ২০০৮ সালের সিনেমাটির তৃতীয় পর্ব ‘দ্য মামি : টুম্ব অব দ্য ড্রাগন এম্পেরর’ মুক্তি পেয়েছিল।

ইউনিভার্সাল পিকচার্স পরিচালিত সিনেমাটি বিশ্বব্যাপী প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে ২০২৭ সালের ১৫ অক্টোবর। ছবিটি পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে ‘রেডিও সাইলেন্স’-এর জনপ্রিয় পরিচালক জুটি ম্যাট বেটিনেলি-ওলপিন এবং টাইলার গিলেট। তবে বরাবরের মতোই সিনেমার মূল গল্প এখনো গোপন রাখা হয়েছে।

একজন গুপ্তধন শিকারি ভুলবশত অভিশপ্ত প্রাচীন মিসরীয় পুরোহিতকে জাগিয়ে তোলার গল্প নিয়ে ১৯৯৯ সালে শুরু হয়েছিল ‘দ্য মামি’ ফ্র্যাঞ্চাইজি। এরপর ২০০১ সালের সিক্যুয়েল ‘দ্য মামি রিটার্নস’ আন্তর্জাতিক বক্স অফিসে ব্যাপক ঝড় তোলে এবং ব্রেন্ডন ফ্রেজারকে অ্যাকশন তারকা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।

নতুন সিরিজ ‘রাখ’ নিয়ে যা বললেন আলী ফজল

বিনোদন ডেস্ক
নতুন সিরিজ ‘রাখ’ নিয়ে যা বললেন আলী ফজল
অভিনেতা আলী ফজল

বলিউডে প্রচলিত অ্যাকশনধর্মী নায়কের বাইরে গিয়ে বরাবরই ভিন্নধর্মী চরিত্রে অভিনয় করে পরিচিতি পেয়েছেন অভিনেতা আলী ফজল। এবার প্রাইম ভিডিওর নতুন ক্রাইম থ্রিলার ‘রাখ’-এ সংযত ও দৃঢ়চেতা এক পুলিশ কর্মকর্তার চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। সম্প্রতি গালফ নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নতুন সিরিজ, অভিনয়জীবন ও ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কথা বলেছেন এই অভিনেতা।

আলী ফজলের মতে, তিনি সব সময় সাধারণ মানুষের গল্প বলতে আগ্রহী। সমাজে হতাশা ও ক্ষোভ বাড়ছে বলেই এখন সেই ধরনের চরিত্রই বেশি বেছে নিচ্ছেন।

তিনি বলেন, আমি সাধারণ মানুষের মানসিকতা নিয়ে কাজ করতে ভালোবাসি। এখন যদি সেই মানুষটা হতাশ ও ক্ষুব্ধ হয়, তাহলে সেটাই পর্দায় তুলে ধরব। বাস্তবতা এখন এমনই।

LKK

‘মির্জাপুর’ থেকে একেবারে ভিন্ন

‘মির্জাপুর’ সিরিজে গুড্ডু পণ্ডিত চরিত্রে জনপ্রিয়তা পাওয়া আলী ফজল বলেন, ‘রাখ’ সেই চরিত্র থেকে সম্পূর্ণ আলাদা।

তার ভাষায়, এটি আমার জন্য নতুন অভিজ্ঞতা। দর্শকদের প্রতিক্রিয়াও খুব ভালো। সিরিজটি দেখে আমি নিজেও সন্তুষ্ট। সবাই দারুণ অভিনয় করেছেন।

বাস্তব ঘটনা থেকে অনুপ্রাণিত

‘রাখ’ সিরিজটি ১৯৭৮ সালের আলোচিত রাঙ্গা-বিল্লা হত্যা মামলার অনুপ্রেরণায় নির্মিত। যদিও এতে চরিত্র ও ঘটনার উপস্থাপন কাল্পনিক, তবে মূল কাহিনির আবেগ ও প্রেক্ষাপট বাস্তব ঘটনাকে ঘিরেই গড়ে উঠেছে।

সিরিজে আলী ফজলের চরিত্র একজন পুলিশ কর্মকর্তা, যিনি নিজের মেধা ও পরিশ্রমে প্রতিষ্ঠিত হলেও সমাজের নানা বৈষম্য ও প্রশাসনিক জটিলতার মধ্যে একটি নৃশংস হত্যাকাণ্ডের তদন্ত করেন।

এ প্রসঙ্গে আলী বলেন, ‘চরিত্রটি খুবই সাধারণ একজন মানুষের। নিজের যোগ্যতায় সে এখানে এসেছে। কিন্তু সমাজ ও ব্যবস্থার নানা বাধার মধ্য দিয়েই তাকে এগোতে হয়।’

্‌্

সংযমই ছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ

সিরিজে তার চরিত্র প্রয়োজনে সহিংস হতে পারলেও বেশির ভাগ সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রাখে।

আলী বলেন, সে চাইলে আঘাত করতে পারে, কিন্তু করে না। চরিত্রটির ভেতরে অনেক দ্বন্দ্ব কাজ করে। গল্প এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে তার পরিবর্তনও দেখা যায়।

পরিবারই এখন অগ্রাধিকার

বর্তমানে বলিউড ও হলিউড—দুই জায়গাতেই নিয়মিত কাজ করছেন আলী ফজল। তবে কাজের ব্যস্ততার মাঝেও পরিবারকে সময় দেওয়াকেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন তিনি।

সম্প্রতি বাবা হওয়ার অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি বলেন, ‘অভিনেতাদের জীবন অনিশ্চিত। তাই পরিবারের সঙ্গে সময় না কাটাতে পারলে অপরাধবোধ কাজ করে। সেই অনুভূতি সত্যিই বাস্তব।’

ভালো গল্পই টানে

আলী ফজলের মতে, বর্তমানে ভারতীয় ও আন্তর্জাতিক সিনেমার মধ্যে পার্থক্য ধীরে ধীরে কমে আসছে। তবে ভারতীয় সিনেমার গান-নাচের ঐতিহ্যও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, ‘ভালো চিত্রনাট্যই শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আমি শুধু ভালো গল্পের অংশ হতে চাই। এই দেশের গল্প বলার অনেক কিছুই এখনো বাকি।’