• ই-পেপার

ক্রাইম থ্রিলার ‘ব্রাউন’ দিয়ে ওটিটি-তে কারিশমা কাপুর

বিয়ের ১০ বছর পর যমজ সন্তানের মা হলেন অভিনেত্রী

বিনোদন ডেস্ক
বিয়ের ১০ বছর পর যমজ সন্তানের মা হলেন অভিনেত্রী
সংগৃহীত ছবি

দীর্ঘ ১০ বছরের অপেক্ষার অবসান হলো। অবশেষে মা হওয়ার সুখবর দিলেন ভারতের জনপ্রিয় অভিনেত্রী সম্ভাবনা শেঠ। একসঙ্গে এক পুত্র ও এক কন্যাসন্তানের জন্ম হয়েছে তার পরিবারে। 

সুখবরটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভক্তদের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছেন সম্ভাবনা ও তার স্বামী অবিনাশ দ্বিবেদী।

ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করা একটি ছবিতে দেখা যায়, হাসিমুখে দাঁড়িয়ে আছেন সম্ভাবনা ও অবিনাশ। অভিনেত্রীর কোলে রয়েছে তাদের যমজ সন্তান। ছবিতে ‘প্যারেন্টস অব টুইনস’ লেখা ছাড়াও একটি নীল ও একটি গোলাপি বেলুন দেখা যায়, যা ছেলে ও মেয়েশিশুর আগমনের ইঙ্গিত দেয়।

ছবিটি পোস্ট করে তারকা দম্পতি লিখেছেন, ‘এই বছর আমাদের বাড়িতে মহা দীপাবলি আগেই এসে গিয়েছে। লক্ষ্মী এবং গণেশ একসঙ্গে এসেছেন। মহাদেবের প্রতি আমাদের হৃদয় কৃতজ্ঞতায় পূর্ণ। হর হর মহাদেব।’

এর আগে চলতি বছরের এপ্রিল মাসে সম্ভাবনা জানিয়েছিলেন, সারোগেসির মাধ্যমে মা হতে যাচ্ছেন তিনি। স্বামীকে নিয়ে একটি বিশেষ পোস্টে সেই সুখবর প্রকাশ করেন অভিনেত্রী।

সেই পোস্টে একটি ছবিতে দেখা যায়, তারা দুজন একটি সংবাদপত্র হাতে ধরে আছেন। সেখানে লেখা ছিল—‘স্যাম অ্যাভির বেবি। ব্রেকিং নিউজ। কামিং সুন। আমরা প্রেগন্যান্ট।’

আরেকটি ছবিতে ছিল শিশুর জুতো, আরেকটিতে তাদের পোষা কুকুরের সঙ্গে রাখা ছিল অনাগত সন্তানের আলট্রাসনোগ্রাফির ছবি।

পোস্টের ক্যাপশনে সম্ভাবনা লিখেছিলেন, ‘আমি গর্ভবতী। আমাদের মিষ্টি গল্পটি এখন প্রযোজনায়, প্রেম, আশা এবং সারোগেসির মাধ্যমে। কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গেছে।’

সন্তান জন্মের খবর প্রকাশের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুভেচ্ছায় ভাসছেন সম্ভাবনা ও অবিনাশ। ভক্তদের পাশাপাশি অভিনন্দন জানিয়েছেন শোবিজ অঙ্গনের অনেক তারকাও।

উল্লেখ্য, বিয়ের পর একাধিকবার গর্ভধারণজনিত জটিলতা ও মিসক্যারেজের কঠিন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছিল সম্ভাবনাকে। দীর্ঘ অপেক্ষা ও সংগ্রামের পর অবশেষে একসঙ্গে দুই সন্তানের আগমনে আনন্দে ভাসছে এই তারকা দম্পতির পরিবার।

সালমানের পাঠানো লিগ্যাল নোটিশ ছিঁড়ে ফেললেন সেই প্রযোজক

বিনোদন ডেস্ক
সালমানের পাঠানো লিগ্যাল নোটিশ ছিঁড়ে ফেললেন সেই প্রযোজক
সংগৃহীত ছবি

বলিউড তারকা সালমান খানকের ঘিরে বহু আলোচিত কৃষ্ণসার (কালো হরিণ) শিকার মামলার প্রেক্ষাপটে নির্মিত হচ্ছে নতুন চলচ্চিত্র ‘কালা হিরণ’। ছবিটি নিয়ে আপত্তি জানিয়ে সালমান খান ও তার টিম প্রযোজক অমিত জানিকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছে বলে জানা গেছে।

ভারতীয় গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, নোটিশে ছবিটির কাজ এগিয়ে না নেওয়ার অনুরোধ করা হয়। পাশাপাশি সালমান খানের কাছে ক্ষমা চাওয়ার কথাও উল্লেখ ছিল বলে দাবি করা হয়েছে।

তবে বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যেই ক্ষোভ দেখিয়েছেন ছবির প্রযোজক অমিত জানি। বৃহস্পতিবার নিজের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন তিনি। সেখানে দেখা যায়, সালমান খানের পক্ষ থেকে পাঠানো আইনি নোটিশ ছিঁড়ে ফেলছেন অমিত জানি।

ভিডিওর ক্যাপশনে তিনি লেখেন, ‘আমি কার জবাব দেব? নোটিশের, না কি হুমকির? সালমান ভাই, আপনার আইনি নোটিশ আমি ছিঁড়ে ফেলে দিয়েছি। আর আপনার পক্ষ থেকে যারা ‘ডি কোম্পানি’র নাম করে হুমকি দিচ্ছে, তাদেরও দেখে নেব।’

একই ভিডিওতে অমিত জানি দাবি করেন, গত ৩৬ ঘণ্টায় তিনি অসংখ্য প্রাণনাশের হুমকি পেয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘অনেকেই আমাকে জিজ্ঞাসা করছেন, সালমান খানের পাঠানো নোটিশের কী জবাব দেব। গত ৩৬ ঘণ্টায় আমি হাজার হাজার মৃত্যুর হুমকি পেয়েছি। এ-ও বলা হয়েছে, আমি যদি মুম্বাই যাই, তা হলে আমার মাথা কেটে ফেলা হবে। এই হুমকিগুলো নাকি ডোংরি, ধারাভি ও যোগেশ্বরী এলাকায় সালমানের ভক্তদের থেকে এসেছে।’

এরপর ক্যামেরার সামনেই নোটিশটি ছিঁড়ে ফেলে তিনি বলেন, ‘এটাই আমার জবাব। আপনাদের হুমকিরও এটাই উত্তর।’

এর আগে ছবিটি নিয়ে আরও একটি বিতর্কিত দাবি করেছিলেন অমিত জানি। তার ভাষ্য, ‘কালা হিরণ’ ছবিতে ১৯৯৮ সালের কৃষ্ণসার শিকার মামলার ঘটনাকে রহস্য-রোমাঞ্চধর্মী আঙ্গিকে তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি লরেন্স বিষ্ণোই ও সালমান খানের বহুল আলোচিত দ্বন্দ্বও এতে দেখানো হবে।

এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ‘১৯৯৮ সালে সালমান খানের কৃষ্ণসার শিকারের অভিযোগ নিয়ে একটি রহস্য-রোমাঞ্চমূলক ছবি হবে। লরেন্স বিষ্ণোই এবং সালমান খানের দ্বন্দ্বটি চিত্রায়িত করা হয়েছে। শুটিং হয়েছে উত্তরপ্রদেশের সম্ভল, মোরাদাবাদ এবং অন্যান্য শহরে।’
 

হঠাৎ কেন কটাক্ষের শিকার আনুশকা?

বিনোদন ডেস্ক
হঠাৎ কেন কটাক্ষের শিকার আনুশকা?
সংগৃহীত ছবি

ঠাৎ করেই বিতর্কে জড়ালেন আনুশকা শর্মা। হোমিওপ্যাথি নিয়ে একটি মন্তব্য করে বিপাকে পড়েছেন অভিনেত্রী। কটাক্ষের শিকার হচ্ছেন তিনি।

হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক রাজন শঙ্করন এবং শিল্পোদ্যোগী নমিতা থাপারের কথোপকথনের ভিডিও শেয়ার করে আনুশকা জানান, হোমিওপ্যাথি এবং রাজন শঙ্করনের পরামর্শ তাঁকেও স্বাস্থ্যের দিক থেকে সাহায্য করেছে।

আনুশকা লিখেছেন, “হোমিওপ্যাথি আমার জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে এবং চিকিৎসক রাজন শঙ্করনেরও বড় ভূমিকা আছে। স্বাস্থ্য-সচেতন জীবনযাপন সম্পর্কে তাঁর ভাবনাকে আমি মূল্য দিই।”

আনুশকার শেয়ার করে নেওয়া ভিডিওতে আধুনিক স্বাস্থ্যব্যবস্থায় হোমিওপ্যাথির ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করা হয়। প্রতিটি চিকিৎসাপদ্ধতির সহাবস্থানের কথাও বলা হয় সেই ভিডিওতে। 

সেই ভিডিওতে রাজন বলেন, “হোমিওপ্যাথি আসলে রোগের চিকিৎসা করে না, মানুষের চিকিৎসা করে। মানুষকে সুস্থ করার মাধ্যমে তার রোগও সেরে ওঠে। হোমিওপ্যাথি সবার চিকিৎসা করতে পারে।” 

আনুশকা এই ভিডিও শেয়ার করতেই তাঁকে এক হেপাটোলজিস্ট কটাক্ষ করেন। তিনি সমাজমাধ্যমে ‘দ্য লিভার ডক’ নামে পরিচিত। আনুশকা, নমিতা থাপার ও রাজনকে ‘অশিক্ষিত তারকা’ বলেও আক্রমণ করেন তিনি। 

একটি পোস্টে তিনি লেখেন, “হোমিওপ্যাথি হল জল, অ্যালকোহল এবং চিনি দিয়ে তৈরি ‘ওষুধ’। দাম দিয়ে চিনির বড়ি কেনা ছাড়া আর কিছু নয়।”

তবে এই কটাক্ষ নিয়ে আর মুখ খোলেননি আনুশকা। বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই সমাজমাধ্যমে দ্বন্দ্ব শুরু হয়েছে।

পপ গুরু আজম খানের মৃত্যুবার্ষিকী আজ

অনলাইন ডেস্ক
পপ গুরু আজম খানের মৃত্যুবার্ষিকী আজ

দেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান একুশে পদক ও স্বাধীনতা পদকে ভূষিত কিংবদন্তি বীর মুক্তিযোদ্ধা, বাংলা ব্যান্ড সংগীতের পথিকৃৎ, ব্যান্ড সংগীত আন্দোলনের অন্যতম প্রধান পুরোধা পপ গুরু আজম খানের ১৫তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ শুক্রবার (৫ জুন)।

বাংলাদেশের ব্যান্ড সংগীতের ইতিহাসে যে কয়েকজন শিল্পীর নাম চিরকাল শ্রদ্ধা, ভালোবাসা এবং গৌরবের সঙ্গে উচ্চারিত হবে, তাদের মধ্যে সর্বাগ্রে রয়েছেন রক অ্যান্ড পপ গুরু আজম খান। তিনি শুধু একজন শিল্পী ছিলেন না; তিনি ছিলেন একটি সাংস্কৃতিক আন্দোলনের প্রতীক, স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের তরুণ সমাজের কণ্ঠস্বর এবং বাংলা ব্যান্ড সংগীতের অন্যতম প্রধান স্থপতি।

আরো পড়ুন
চেলসি কিংবদন্তি ববি ট্যাম্বলিং আর নেই

চেলসি কিংবদন্তি ববি ট্যাম্বলিং আর নেই

 

১৯৫০ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকার আজিমপুরে জন্মগ্রহণ করেন আজম খান। কৈশোর থেকেই খেলাধুলা, সংস্কৃতি এবং সংগীতচর্চার প্রতি তার আগ্রহ ছিল প্রবল। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি অস্ত্র হাতে দেশের স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। তিনি ২ নম্বর সেক্টরের একজন সম্মুখসমরের মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে দেশের স্বাধীনতা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

স্বাধীনতার পর যুদ্ধের রণাঙ্গন থেকে ফিরে এসে তিনি হাতে তুলে নেন গিটার। নতুন স্বাধীন বাংলাদেশের তরুণদের জন্য নতুন ভাষা, নতুন সুর এবং নতুন সাংস্কৃতিক চেতনার সূচনা করেন তিনি। সত্তরের দশকের শুরুতে ‘ক্রান্তি শিল্পী গোষ্ঠী’-তে গান পরিবেশনের মাধ্যমে তার সংগীতযাত্রা শুরু হয়।

আরো পড়ুন
নাইট উপাধিতে ভূষিত হলেন অভিনেতা ইদ্রিস এলবা

নাইট উপাধিতে ভূষিত হলেন অভিনেতা ইদ্রিস এলবা

 

পরবর্তীতে তিনি গঠন করেন কিংবদন্তি ব্যান্ড ‘উচ্চারণ’, যা বাংলাদেশের ব্যান্ড সংগীতের ইতিহাসে এক নতুন যুগের সূচনা করে।

উচ্চারণ এবং আজম খানের জনপ্রিয় গানের তালিকায় রয়েছে— হৃদয় সাগর মরুভূমি, বাংলাদেশ, মা গো মা, সালেকা মালেকা, আলাল ও দুলাল, প্রেম চিরদিন দূরে দূরে, অভিমানী, পাপড়ি, জীবন সাথী, চুপ চুপ চুপ, হায় আল্লাহ, আসি আসি, জীবনে কিছু পাব না প্রভৃতি। এই গানগুলোর অনেকগুলোই আজ বাংলা ব্যান্ড সংগীতের ক্লাসিক হিসেবে বিবেচিত হয় এবং নতুন প্রজন্মের কাছেও সমানভাবে জনপ্রিয়।

বাংলাদেশে ব্যান্ড সংগীতকে প্রতিষ্ঠিত করার ক্ষেত্রে আজম খানের অবদান ছিল অসামান্য। তিনি এমন এক সময়ে ব্যান্ড সংগীতকে জনপ্রিয় করে তুলেছিলেন, যখন এ ধারার সংগীতকে অনেকেই সন্দেহের চোখে দেখতেন।

আরো পড়ুন
যুক্তরাজ্যে ২৩ বছরের দীর্ঘ বিবাহবিচ্ছেদ মামলায় জিতলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত নারী

যুক্তরাজ্যে ২৩ বছরের দীর্ঘ বিবাহবিচ্ছেদ মামলায় জিতলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত নারী

 

সংগীতজীবনে তিনি দেশ-বিদেশে অসংখ্য সম্মাননা লাভ করেন। নব্বইয়ের দশকের শুরুতে কিংবদন্তি ব্যান্ড সোলস-এর ২০ বছরপূর্তি অনুষ্ঠানে তাকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়। পরবর্তীতে চ্যানেলে আই মিউজিক অ্যাওয়ার্ড-এ তাকে আজীবন সম্মাননায় ভূষিত করা হয়। বাংলাদেশ সরকার তার অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ মরণোত্তরভাবে দেশের সর্বোচ্চ দুই রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রদান করে—একুশে পদক (২০১৯) এবং স্বাধীনতা পদক (২০২৫)।

দীর্ঘদিন ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করার পর ২০১১ সালের ৫ জুন তিনি মৃত্যুবরণ করেন। কিন্তু তার গান, দর্শন, সংগ্রাম এবং সাংস্কৃতিক আন্দোলন আজও বেঁচে আছে লাখো মানুষের হৃদয়ে।