হলিউড ও বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় তারকা দম্পতি প্রিয়াঙ্কা চোপড়া ও নিক জোনাসের প্রেমের গল্প বরাবরই ভক্তদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে। কিভাবে তাঁদের সম্পর্কের শুরু হয়েছিল, সেই প্রশ্নের উত্তর মিলল এবার নিক জোনাসের মুখেই।
প্রায় এক দশক আগে প্রিয়াঙ্কাকে পাঠানো প্রথম ব্যক্তিগত বার্তার স্ক্রিনশট প্রকাশ করে সেই স্মৃতি ভাগ করে নিয়েছেন তিনি।
সম্প্রতি জোনাস ব্রাদার্সের পডকাস্ট ‘হে জোনাস!’-এ অতিথি হয়ে হাজির হন প্রিয়াঙ্কা ও নিক। সেখানেই তাঁরা জানান, তাঁদের প্রেমের শুরু হয়েছিল এক্সে (তৎকালীন টুইটার) পাঠানো একটি সরাসরি বার্তা দিয়ে।
নিক জানান, তাঁর ভাই কেভিন জোনাসই প্রথম তাঁকে প্রিয়াঙ্কার অভিনীত মার্কিন টেলিভিশন সিরিজ ‘কোয়ান্টিকো’র কথা বলেছিলেন। পরে লস অ্যাঞ্জেলেসের সানসেট বুলেভার্ডে সিরিজটির বিশাল একটি বিলবোর্ড দেখে কৌতূহলী হয়ে এক্সে প্রিয়াঙ্কার প্রোফাইল খুঁজে দেখেন তিনি।
পডকাস্টে সেই মুহূর্তের স্মৃতিচারণা করে নিক বলেন, ‘কেভিন আমাকে বলেছিল, তুমি এবিসির ‘কোয়ান্টিকো’ সিরিজটা দেখেছ? আমি বললাম, না দেখিনি। এরপর ও যখন সিরিজটির কথা বলছিল, তখন আমি সানসেট বুলেভার্ডে তাকিয়ে দেখি, তোমার মুখের একটি বিশাল বিলবোর্ড। তখন আমি ভাবলাম, টুইটারে (বর্তমানে এক্স) গিয়ে দেখি তো ও আমাকে ফলো করে কি না। দেখলাম, তুমি আমাকে ফলো করো। এরপরই আমি তোমাকে সরাসরি একটি বার্তা পাঠাই।’
প্রিয়াঙ্কা জানান, ঘটনাটি ছিল নিছকই এক সুন্দর কাকতালীয়। তাঁর ভাষায়, ‘এটা সত্যিই দারুণ এক কাকতালীয় ঘটনা। কারণ, কেভিন আর আমি একই ধরনের শো পছন্দ করি, কিন্তু নিক আর আমার পছন্দের শো কখনোই এক হয় না।’
পডকাস্টে তাঁদের প্রথম কথোপকথনের স্ক্রিনশটও দেখানো হয়। সেখানে নিকের প্রথম বার্তা ছিল, ‘হ্যালো। কয়েকজন আমাকে বলেছেন, আমাদের দেখা করা উচিত। আমিও তাঁদের সঙ্গে একমত। তুমি কি শিগগিরই লস অ্যাঞ্জেলেসে আসছ?’
জবাবে প্রিয়াঙ্কা লিখেছিলেন, ‘হাই...গ্রাহাম (রজার্স) তোমার সম্পর্কে আমাকে অনেক কিছু বলেছে। চলো টেক্সটে আলাদাভাবে কথা বলি। ওটা আরো ব্যক্তিগত হবে। আমার টিম এই অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করতে পারে।’
প্রথম দিকের আরেকটি মজার ঘটনার কথাও জানান প্রিয়াঙ্কা। তিনি বলেন, ‘ও নিশ্চিত হতে চেয়েছিল যে এটি আসলেই আমি কি না। তাই ও আমার কাছে টাইম স্ট্যাম্প ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে থাকা মুহূর্তের একটি ছবি চেয়েছিল। আমারও ওর এই বুদ্ধিটা ভালো লেগেছিল। ওটা ছিল একটা ফ্যাশন শোর পরের ঘটনা। সেদিন আমাকে বেশ মিষ্টি লাগছিল।’
এরপরই শুরু হয় নিয়মিত বার্তা আদান-প্রদান। সেই স্মৃতি মনে করে নিক বলেন, ‘তাই আমরা টেক্সট করা শুরু করলাম। এর প্রায় দেড় বছর পর আমরা ডেটিং শুরু করি এবং অবশেষে আমাদের বাগ্দান সম্পন্ন হয়।’
আড্ডায় উঠে আসে আরেকটি মজার বিষয়ও। প্রিয়াঙ্কার দাবি, বলিউডের গসিপ সম্পর্কে তিনিই নন, বরং তাঁর স্বামী নিক বেশি আপডেট থাকেন।
এ প্রসঙ্গে নিক বলেন, ‘এই আট বছরে আমি সবচেয়ে বেশি যা উপভোগ করেছি, তা হলো বলিউডের গসিপ।’
হেসে প্রিয়াঙ্কা যোগ করেন, ‘এটা কিন্তু একেবারে সত্যি। এমনকি কারো ব্রেকআপ হয়েছে কি না, তা আমি না জানলেও ও ঠিকই জানে। সাধারণত এমনটা ঘটে যখন আমি কাউকে মেসেজ করতে গিয়ে বলি, ‘আরে, ওদের আমার ভালোবাসা জানিও’, তখন ও সঙ্গে সঙ্গে বলে ওঠে, ‘না, ওদের ব্রেকআপ হয়ে গেছে।’
নিক আরো জানান, ‘ইনস্টাগ্রামে এমন কয়েকটি অ্যাকাউন্ট আছে, যেগুলো আমি গোপনে ফলো করি। সেখানে দারুণ সব মুখরোচক গল্প থাকে। সব সময়ই এমন কিছু গল্প বা ঘটনা চলতে থাকে, যেগুলোর আপডেট অনুসরণ করতেই হয়।’
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে প্রিয়াঙ্কাকে প্রথম ব্যক্তিগত বার্তা পাঠিয়েছিলেন নিক জোনাস। ২০১৭ সালে ভ্যানিটি ফেয়ার অস্কার-পরবর্তী আয়োজনে প্রথমবার মুখোমুখি দেখা হয় তাঁদের। ২০১৮ সালে শুরু হয় প্রেম, একই বছরের জুলাইয়ে গ্রিস সফরে গিয়ে প্রিয়াঙ্কাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন নিক।
এরপর ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে ভারতের যোধপুরের উমেদ ভবন প্যালেসে হিন্দু ও খ্রিন—দুই ধর্মীয় রীতিতেই বিয়ে করেন এই তারকা জুটি। ২০২২ সালের জানুয়ারিতে সারোগেসির মাধ্যমে তাঁদের কন্যাসন্তান মালতী মেরি চোপড়া জোনাসের জন্ম হয়। বর্তমানে পরিবার ও কর্মজীবন—দুই ক্ষেত্রেই ব্যস্ত সময় পার করছেন তাঁরা।