• ই-পেপার

সেই সুমি এখন সিনেমার 'নায়িকা'

মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের শেষ সিনেমা নিয়ে যা বলছেন দর্শক

বিনোদন ডেস্ক
মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের শেষ সিনেমা নিয়ে যা বলছেন দর্শক
সংগৃহীত ছবি

প্রায় সাত মাসের দীর্ঘ প্রতীক্ষা এবং নানা জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেল তামিল সুপারস্টার বিজয়ের বহুল আলোচিত সিনেমা ‘জন নায়গন’। তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে পুরোদস্তুর আত্মপ্রকাশের আগে অভিনয়জীবনের শেষ চলচ্চিত্র হওয়ায় এটিকে ঘিরে দর্শকমহলে তৈরি হয়েছিল উন্মাদনা। বিশ্বজুড়ে ২৩ জুলাই মুক্তির পর প্রথম দিনেই সিনেমাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এসেছে তুমুল প্রতিক্রিয়া। বিজয়ের রাজকীয় উপস্থিতি ও অনিরুদ্ধের সংগীত প্রশংসা কুড়ালেও, চিত্রনাট্যের দুর্বলতা ও দীর্ঘ সময়সীমা নিয়ে তৈরি হয়েছে দর্শকদের মতভেদ।

নন্দমুরি বালাকৃষ্ণের তেলুগু হিট ‘ভগবন্ত কেসারি’ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন এইচ বিনোথ। গল্প পুরনো ধাঁচের হলেও প্রথমার্ধে বিজয়ের চেনা ‘ম্যাস’ অবতার ও টাইটেল এন্ট্রি ভক্তদের আশাহত করেনি। বিশেষ করে অনিরুদ্ধ রবিচন্দরের ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক এবং মামিথা বাইজুর সঙ্গে বিজয়ের আবেগঘন রসায়ন সিনেমাটিকে বেশ গতি দিয়েছে।

তবে প্রায় তিন ঘণ্টার দীর্ঘ সময়সীমা নিয়ে আপত্তি তুলেছেন অনেক সাধারণ দর্শক। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে এক দর্শক লিখেছেন, প্রথমার্ধ জমজমাট হলেও দ্বিতীয়ার্থে এসে ছবির গতি কিছুটা কমে যায়। ববি দেওলের মতো শক্ত খলনায়ক চরিত্রকে সঠিকভাবে ব্যবহার করা হয়নি। অপর এক দর্শক ৫-এর মধ্যে ৩.২৫ রেটিং দিয়ে জানান, ছবিটি বিনোদনমূলক, তবে সম্পাদনা আরেকটু শক্ত হলে ভালো হতো। তা সত্ত্বেও বড় পর্দায় বিজয়ের বিদায়ী উদযাপন দেখতে যাওয়া যায়।

সিনেমাটির অন্যতম উল্লেখযোগ্য অংশ এর প্রায় ৪৫ মিনিটের দীর্ঘ ফ্ল্যাশব্যাক অধ্যায়, যেখানে সরাসরি রাজনৈতিক বার্তার ছাপ স্পষ্ট। সিনেমাবোদ্ধাদের মতে, এই অংশটির মাধ্যমে বিজয় মূলত বাস্তব রাজনীতির ময়দানে তার নতুন পথচলারই ইঙ্গিত দিয়েছেন।

পূজা হেগড়ে, প্রকাশ রাজ, প্রিয়ামণি ও গৌতম বাসুদেব মেননের মতো শক্তিশালী তারকা বহর নিয়ে তৈরি ‘জন নায়গন’ বিজয়ের বর্ণাঢ্য রূপালী পর্দার ইতি টানার পাশাপাশি সূচনা করলো তার রাজনৈতিক জীবনের নতুন অধ্যায়। এখন থেকে ভক্তরা তাদের প্রিয় ‘থালাপতি’কে আর ক্যানভাস বা রুপালি পর্দায় নয়, দেখতে পাবেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রশাসনিক দায়িত্বে।

৩ হাজার বছর পেরিয়েও কেন মানুষের হৃদয়ে ‘দি ওডিসি’?

বিনোদন ডেস্ক
৩ হাজার বছর পেরিয়েও কেন মানুষের হৃদয়ে ‘দি ওডিসি’?
সংগৃহীত ছবি

ক্রিস্টোফার নোলানের নতুন সিনেমা ‘দি ওডিসি’ মুক্তির পর আবারও আলোচনায় এসেছে বিশ্বের সবচেয়ে বিখ্যাত মহাকাব্যগুলোর একটি। প্রায় তিন হাজার বছর আগে লেখা এই গল্প আজও বই, নাটক, সিনেমা ও সাহিত্যে সমান জনপ্রিয়। প্রশ্ন হলো, এত পুরনো একটি গল্প এখনো কেন মানুষের মন ছুঁয়ে যায়?

সম্প্রতি দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর এক প্রতিবেদন এ তথ্য দেয়।

কী এই ‘দি ওডিসি’?

‘দি ওডিসি’ প্রাচীন গ্রিক কবি হোমারের রচনা। ধারণা করা হয়, এটি খ্রিস্টপূর্ব অষ্টম শতকে লেখা হয়েছিল। এটি হোমারের দ্বিতীয় মহাকাব্য। প্রথমটি ছিল ‘দি ইলিয়াড’।

‘ইলিয়াড’ যেখানে ট্রয় যুদ্ধের কাহিনি বলে, সেখানে ‘দ্য ওডিসি’ শুরু হয় সেই যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর। যুদ্ধ জয়ের পরও কেন একজন বীর ১০ বছর ধরে ঘরে ফিরতে পারেননি—সেই গল্পই উঠে এসেছে এই মহাকাব্যে।

ট্রয় যুদ্ধ কেন হয়েছিল?

গ্রিক পুরাণে বলা হয়, স্পার্টার রাজা মেনেলাউসের স্ত্রী ছিলেন সুন্দরী হেলেন। ট্রয়ের রাজপুত্র প্যারিস তাকে ট্রয়ে নিয়ে যান। কেউ বলেন, তিনি অপহৃত হয়েছিলেন। আবার কেউ বলেন, তিনি স্বেচ্ছায় গিয়েছিলেন।

এরপর মেনেলাউস অন্য গ্রিক রাজাদের সাহায্য চান। সেই ডাকে সাড়া দেন ওডিসিউসসহ অনেক বীর যোদ্ধা। শুরু হয় দীর্ঘ ট্রয় যুদ্ধ, যা টানা ১০ বছর চলে। এই যুদ্ধের কাহিনি রয়েছে ‘দ্য ইলিয়াড’-এ।

ওডিসিউসের দীর্ঘ পথচলা

যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর ওডিসিউস নিজের রাজ্য ইথাকায় ফিরতে চান। কিন্তু সেই পথ মোটেও সহজ ছিল না।

এক সময় তিনি একচোখা দানব পলিফেমাসকে অন্ধ করে পালিয়ে যান। পলিফেমাস ছিলেন সমুদ্রের দেবতা পোসেইডনের ছেলে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে পোসেইডন ওডিসিউসকে অভিশাপ দেন। সেই অভিশাপের কারণেই তার ঘরে ফিরতে লেগে যায় আরও ১০ বছর।

এই দীর্ঘ যাত্রায় ওডিসিউসের সামনে আসে একের পর এক বিপদ। তিনি জাদুকরী সার্সির মুখোমুখি হন। ভয়ংকর সাইরেনদের মায়াবী গান থেকে নিজেকে রক্ষা করেন। স্কিলা ও ক্যারিবডিস নামে দুই ভয়ংকর সমুদ্রদানবের মাঝ দিয়ে জাহাজ চালিয়ে যেতে হয় তাকে। আবার ক্যালিপসো নামে এক অপ্সরা তাকে অমরত্বের প্রলোভন দেখিয়ে নিজের কাছে আটকে রাখতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ওডিসিউসের একটাই ইচ্ছা ছিল—নিজের পরিবার ও দেশে ফিরে যাওয়া।

ইথাকায় কী ঘটছিল?

ওডিসিউসের অনুপস্থিতিতে সবাই ধরে নিয়েছিল তিনি আর বেঁচে নেই।

তার স্ত্রী পেনেলোপিকে বিয়ে করতে শতাধিক পাত্র রাজপ্রাসাদে ভিড় জমায়। তারা রাজপরিবারের সম্পদও ভোগ করতে থাকে।

অন্যদিকে ছেলে টেলেমাকাস বাবার স্মৃতি নিয়েই বড় হয়। পরে সে বাবার খোঁজে বের হয়। আর পেনেলোপি বছরের পর বছর ধৈর্য ধরে স্বামীর ফেরার অপেক্ষা করেন। এই অপেক্ষাই মহাকাব্যটিকে আরও আবেগময় করে তুলেছে।

শুধু যুদ্ধ নয়, এটি ঘরে ফেরার গল্প

'দ্য ইলিয়াড' যুদ্ধের বীরত্বের গল্প। কিন্তু 'দ্য ওডিসি' যুদ্ধের পর মানুষের জীবনের গল্প।

এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো 'নোস্তোস', যার অর্থ ঘরে ফেরা। ওডিসিউস যুদ্ধ জিতে নতুন রাজ্য চাননি। তিনি চেয়েছিলেন শুধু নিজের পরিবার, নিজের মানুষ আর নিজের ঘরে ফিরতে।

এই কারণেই হাজার বছর পরও গল্পটি মানুষের কাছে আপন মনে হয়।

শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে নতুন রূপ

'দ্য ওডিসি' শুধু বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ থাকেনি। বিশ্বের অনেক লেখক ও নির্মাতা এই গল্পকে নতুনভাবে তুলে ধরেছেন।

১৯২২ সালে আইরিশ লেখক জেমস জয়েস তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস 'ইউলিসিস'-এ ওডিসিউসের যাত্রাকে আধুনিক ডাবলিন শহরের এক দিনের গল্পে রূপ দেন।

২০০০ সালে মুক্তি পাওয়া 'ও ব্রাদার, হোয়ার আর্ট দাউ?' সিনেমাতেও এই মহাকাব্যের ছায়া দেখা যায়।

২০১৭ সালে অনুবাদক এমিলি উইলসন প্রথম নারী হিসেবে 'দ্য ওডিসি'র ইংরেজি অনুবাদ প্রকাশ করেন। তার অনুবাদ নতুন প্রজন্মের পাঠকদের কাছে মহাকাব্যটিকে আরও সহজ করে তোলে।

এর এক বছর পর লেখক ম্যাডেলিন মিলার তাঁর উপন্যাস 'সার্সি'-তে ওডিসিউসের গল্পকে জাদুকরী সার্সির চোখ দিয়ে নতুনভাবে তুলে ধরেন।

আজও কেন এত জনপ্রিয়?

বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘দি ওডিসি'র জনপ্রিয়তার কারণ এর চিরন্তন মানবিক গল্প।

আজও পৃথিবীর কোটি কোটি মানুষ যুদ্ধ, সহিংসতা বা নানা কারণে নিজের ঘর ছাড়তে বাধ্য হন। অনেকেই দীর্ঘ সময় পর ফিরে এসে দেখেন, সবকিছু বদলে গেছে।

ওডিসিউসের গল্পও সেই অভিজ্ঞতার কথা বলে। দীর্ঘ যাত্রা শুধু মানুষকে বদলে দেয় না, বদলে দেয় তার ঘর, পরিবার এবং চারপাশকেও।

নোলানের হাত ধরে নতুন প্রজন্মের সামনে

হলিউড নির্মাতা ক্রিস্টোফার নোলান এবার এই প্রাচীন মহাকাব্যকে বড় পর্দায় নতুনভাবে তুলে এনেছেন। আধুনিক প্রযুক্তি, আইম্যাক্স নির্মাণশৈলী এবং তারকাবহুল অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি প্রায় তিন হাজার বছরের পুরোনো গল্পকে নতুন প্রজন্মের দর্শকের কাছে পৌঁছে দিচ্ছেন।

শেষকথা

'দ্য ওডিসি' শুধু একজন বীর যোদ্ধার গল্প নয়। এটি পরিবার, ভালোবাসা, ধৈর্য, হারিয়ে যাওয়া, ফিরে আসা এবং নিজের জায়গা খুঁজে পাওয়ার গল্প।

তাই সময় বদলালেও এই মহাকাব্যের আবেদন কমেনি। প্রায় তিন হাজার বছর পরও 'দি ওডিসি' আমাদের মনে করিয়ে দেয়—পৃথিবীর সবচেয়ে দীর্ঘ যাত্রাও শেষ পর্যন্ত মানুষকে নিজের ঘরেই ফিরতে শেখায়।

গানের ভেতরেই বেঁচে আছেন ফকির আলমগীর, আজ তার ৫ম মৃত্যুবার্ষিকী

বিনোদন ডেস্ক
গানের ভেতরেই বেঁচে আছেন ফকির আলমগীর, আজ তার ৫ম মৃত্যুবার্ষিকী
সংগৃহীত ছবি

বাংলাদেশের প্রখ্যাত গণসংগীতশিল্পী, মুক্তিযুদ্ধের শব্দসৈনিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ফকির আলমগীরের ৫ম মৃত্যুবার্ষিকী আজ (২৩ জুলাই)। ২০২১ সালের এই দিনে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

গানে, সংগ্রামে এবং মানুষের অধিকারের পক্ষে আজীবন সোচ্চার থাকা এই শিল্পীকে আজ শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছেন তার পরিবার, সহকর্মী, ভক্ত-শ্রোতা ও দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের মানুষ।

১৯৫০ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার কালামৃধা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন ফকির আলমগীর। জগন্নাথ কলেজ থেকে স্নাতক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন তিনি।

ষাটের দশক থেকেই তিনি গণসংগীতের সঙ্গে যুক্ত হন। পরে ক্রান্তি শিল্পীগোষ্ঠী ও গণশিল্পীগোষ্ঠীর সদস্য হিসেবে বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে গান গেয়ে মানুষের মধ্যে সাহস ও প্রেরণা জুগিয়েছেন।

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্রে শব্দসৈনিক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। মুক্তিযুদ্ধ, গণ-অভ্যুত্থান এবং স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনসহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তার গান মানুষকে অনুপ্রাণিত করেছে।

 

গণসংগীতের পাশাপাশি পপ, লোক ও আধুনিক গানেও তিনি সমান জনপ্রিয় ছিলেন। তার গাওয়া ‘ও সখিনা’, ‘সান্তাহার জংশনে দেখা’, ‘বনমালী তুমি’, ‘মায়ের একধার দুধের দাম’, ‘কালো কালো মানুষের দেশে’ ও **‘আহা রে কাল্লু মাতব্বর’সহ অসংখ্য গান আজও শ্রোতাদের হৃদয়ে জায়গা করে আছে।

 

গান ছাড়াও তিনি ছিলেন লেখক ও সংগঠক। তার লেখা ‘মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ও বিজয়ের গান’, ‘গণসংগীতের অতীত ও বর্তমান’, ‘আমার কথা’ ও ‘যাঁরা আছেন হৃদয়পটে’সহ বেশ কয়েকটি বই প্রকাশিত হয়েছে। তিনি প্রতিষ্ঠা করেন সাংস্কৃতিক সংগঠন ঋষিজ শিল্পীগোষ্ঠী এবং বাংলাদেশ গণসংগীত সমন্বয় পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

সংগীত ও সংস্কৃতিতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ফকির আলমগীর একুশে পদক, বাংলা একাডেমি সম্মানসূচক ফেলোশিপসহ দেশ-বিদেশের বহু পুরস্কার ও সম্মাননা লাভ করেন।

মৃত্যুর পরও প্রতিবছর তার স্মরণে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন ও পরিবার নানা কর্মসূচি পালন করে। তার কণ্ঠে গাওয়া মানবতা, প্রতিবাদ ও দেশপ্রেমের গান আজও নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করে চলেছে। তার সৃষ্টি ও আদর্শের মধ্য দিয়েই তিনি বেঁচে থাকবেন বাংলা গানের ইতিহাসে।

সালমান শাহ হত্যা মামলার তদন্তে নতুন তারিখ ৩০ আগস্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক
সালমান শাহ হত্যা মামলার তদন্তে নতুন তারিখ ৩০ আগস্ট
সংগৃহীত ছবি

চিত্রনায়ক মোহাম্মদ শাহরিয়ার (ইমন) ওরফে সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৩০ আগস্ট দিন ধার্য করেছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য ছিল। তবে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক জিয়াউল মোর্শেদ নির্ধারিত দিনে প্রতিবেদন দাখিল করতে না পারায় ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা নতুন এ তারিখ নির্ধারণ করেন।

প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) শাহ আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে, গত ২০ মে সালমান শাহর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনের লক্ষ্যে তার মরদেহ কবর থেকে উত্তোলনের অনুমতি চেয়ে আদালতে আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। ২৪ মে আদালত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে মরদেহ উত্তোলন, সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত এবং ময়নাতদন্তের অনুমতি দেন। পরে ওই আদেশ বাতিল চেয়ে বাদীপক্ষ আবেদন করলে আদালত আবেদনটি নথিভুক্ত করেন।

পরে গত ২২ জুন সালমান শাহর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ণয়ে তার দেহাবশেষ উত্তোলনের প্রক্রিয়ায় সিলেট জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কার্যালয়ের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পিংকি সাহাকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এ-সংক্রান্ত অফিস আদেশের অনুলিপি ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হলে তা নথিভুক্ত করা হয়।

১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মারা যান জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সালমান শাহ। ওই সময় তার বাবা প্রয়াত কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী রমনা থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করেন। পরে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে অভিযোগ তুলে মামলাটিকে হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের আবেদন জানান তিনি। আদালতের নির্দেশে অপমৃত্যুর মামলার সঙ্গে হত্যার অভিযোগও তদন্ত করে সিআইডি। ১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর সংস্থাটি আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদনে সালমান শাহর মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে উল্লেখ করে। ওই বছরের ২৫ নভেম্বর আদালত সেই চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করেন।

তবে সিআইডির প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে সালমান শাহর বাবা রিভিশন মামলা করেন। তার মৃত্যুর পর মামলাটি পরিচালনা করেন সালমান শাহর মামা মোহাম্মদ আলমগীর। সবশেষ আদালত বাদীপক্ষের রিভিশন মঞ্জুর করে ঘটনাটি হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন।

এর পরিপ্রেক্ষিতে রাজধানীর রমনা থানায় সালমান শাহর স্ত্রী সামীরা হক, তার মা লতিফা হক লিও (লুসি), অভিনেতা আশরাফুল হক ডন, শিল্পপতি ও সাবেক চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাইসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় তাদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। বর্তমানে মামলাটির তদন্ত করছে সিআইডি।

সেই সুমি এখন সিনেমার 'নায়িকা' | কালের কণ্ঠ