• ই-পেপার

ডিএসসিসির নির্বাহী প্রকৌশলী গোলাম কিবরিয়াকে বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার

ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে এক দিনে ডিএমপির ১৭৪৪ মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক
ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে এক দিনে ডিএমপির ১৭৪৪ মামলা
সংগৃহীত ছবি

রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে ১ হাজার ৭৪৪টি মামলা করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ। একই সঙ্গে ৫০৪টি যানবাহন ডাম্পিং এবং ২৬৫টি যানবাহন রেকার করা হয়েছে। শনিবার (২৫ জুলাই) রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।

ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, অভিযানে ট্রাফিক-রমনা বিভাগে ৮৬টি, ট্রাফিক-লালবাগ বিভাগে ১৪৩টি, ট্রাফিক-মতিঝিল বিভাগে ২৯৫টি এবং ট্রাফিক-ওয়ারী বিভাগে ১৮৭টি মামলা করা হয়েছে।

এ ছাড়া ট্রাফিক-তেজগাঁও বিভাগে ২১২টি, ট্রাফিক-মিরপুর বিভাগে সর্বোচ্চ ৩৮২টি, ট্রাফিক-উত্তরা বিভাগে ২৫০টি এবং ট্রাফিক-গুলশান বিভাগে ১৮৯টি মামলা দায়ের করা হয়।

অভিযানে বাস, ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। 

ট্রাফিক বিভাগ জানিয়েছে, রাজধানীতে সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং ট্রাফিক আইন কার্যকর করতে নিয়মিত এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

দেশের ২০ শতাংশের বেশি এলাকায় ড্রেনেজ ব্যবস্থা ভালো না : ডিএনসিসি প্রশাসক

অনলাইন ডেস্ক
দেশের ২০ শতাংশের বেশি এলাকায় ড্রেনেজ ব্যবস্থা ভালো না : ডিএনসিসি প্রশাসক
ডিএনসিসি প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান। ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান বলেছেন, বাংলাদেশে ২০ শতাংশের বেশি এলাকায় ড্রেনেজ ব্যবস্থা ভালো না। দীর্ঘ ১৮ বছরের অব্যবস্থাপনাকে একটি সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনার মধ্যে নিয়ে আসতে সরকার কাজ করছে।

আজ রবিবার (২৬ জুলাই) দুপুরে আশকোনা হাজী ক্যাম্পের পেছনের এলাকায় জলাবদ্ধতা নিরসনে সংস্কার কাজ পরিদর্শন শেষে তিনি এ কথা বলেন।

এ সময় তিনি সব রাস্তার কাজ একসঙ্গে না ধরার আহবান করেন এবং ঠিকাদারদের রাস্তার উন্নয়নকাজ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার নির্দেশ দেন।

উন্নয়নকাজ চলাকালে দুর্ভোগ কমাতে সেবাদানকারী সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার কথাও জানান উত্তরের প্রশাসক।

নিখোঁজ মেঘার সন্ধান চায় পুলিশ

অনলাইন ডেস্ক
নিখোঁজ মেঘার সন্ধান চায় পুলিশ
নিখোঁজ সোমাইয়া আক্তার মেঘা। ছবি : ডিএমপি

রাজধানীর শ্যামপুর থানা এলাকা থেকে সোমাইয়া আক্তার মেঘা নামের এক কিশোরী নিখোঁজ হয়েছে। তার বয়স ১৭ বছর। কেউ ওই কিশোরীর সন্ধান জানলে পুলিশকে জানানোর পরামর্শ দিয়েছে ডিএমপি।

পুলিশ জানিয়েছে, নিখোঁজ সোমাইয়া আক্তার মেঘার গায়ের রং শ্যামলা, উচ্চতা ৫ ফুট ২ ইঞ্চি।

শ্যামপুর থানা সূত্রে জানা যায়, সোমাইয়া আক্তার মেঘা গত ১৯ জুলাই বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে শ্যামপুর থানাধীন পশ্চিম ধোলাইপাড় এলাকা থেকে নিখোঁজ হয়। এ ঘটনায় কিশোরীর বাবা মনির হোসেন শ্যামপুর থানায় জিডি করেছেন। সম্ভাব্য সকল জায়গায় খোঁজাখুঁজি করে সোমাইয়া আক্তার মেঘার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

কোনো সহৃদয় ব্যক্তি ছবিতে প্রদর্শিত নিখোঁজ কিশোরীর সন্ধান জেনে থাকলে তদন্ত কর্মকর্তা এসআই (নিরস্ত্র) রুবেল মিত্র (০১৮৭৫-১৫৩২৬৬), ডিউটি অফিসার (০১৩২০-০৪০৪৮৮) অথবা অফিসার ইনচার্জ (০১৩২০-০৪০৪৮১) নম্বরে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

একাধিক নারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক পুলিশ কর্মকর্তার, বিচার দাবি স্ত্রীর

অনলাইন ডেস্ক
একাধিক নারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক পুলিশ কর্মকর্তার, বিচার দাবি স্ত্রীর
সংগৃহীত ছবি

জয়পুরহাটে কর্মরত আরিফ হোসেন নামে এক অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের বিরুদ্ধে যৌতুক দাবি, একাধিক নারীর সঙ্গে এবং স্ত্রীকে মিথ্যা মামলায় হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। রবিবার (২৬ জুলাই) বেলা ১১ টার দিকে রাজধানীর বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্র্যাব) মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করে এসব অভিযোগ করেন ওই কর্মকর্তার স্ত্রী শামিয়া খান এশা।

লিখিত বক্তব্যে এশা জানান, ২০১৯ সালের ১৯ জুলাই ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী তার সঙ্গে মো. আরিফ হোসেনের বিয়ে হয়। বর্তমানে আরিফ হোসেন জয়পুরহাট জেলার সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বিসিএস ৩৪তম ব্যাচ) হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, বিয়ের সময় তার পরিবার সামর্থ্যের সর্বোচ্চ দিয়ে প্রায় ২০ লাখ টাকার আসবাবপত্র ও অন্যান্য উপহার দেয়। এছাড়া প্রায় ১৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণালংকার, হীরার আংটি ও মূল্যবান ঘড়িও দেওয়া হয়। বিয়ের পর প্রথমদিকে সংসার স্বাভাবিক থাকলেও পরবর্তীতে স্বামীর আচরণে পরিবর্তন লক্ষ্য করেন।

RWWRR
পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রী শামিয়া খান এশা

তার ভাষ্য অনুযায়ী, একপর্যায়ে তিনি জানতে পারেন, তার স্বামী নিয়মিত মদ্যপান ও মাদক সেবনের পাশাপাশি বিভিন্ন নারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। এমনকি তার অনুপস্থিতিতে বাসায় বিভিন্ন নারীকে এনে সময় কাটানো এবং বন্ধুদের নিয়ে মদ্যপান ও নারীসঙ্গ উপভোগ করার ঘটনাও তিনি দেখেছেন । এসব বিষয়ে প্রতিবাদ করলে তাকে নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

শামিয়া বলেন, পরে তার পুলিশ স্বামী কামরুন জাহান বিথী নামে এক নারীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন এবং তাকে বাসায় এনে সম্পর্ক অব্যাহত রাখতেন। এ বিষয়ে তিনি রামপুরা থানায় অভিযোগ করার পর নির্যাতনের মাত্রা আরও বেড়ে যায় । একইসঙ্গে তার স্বামী নিজের পেশাগত ক্ষমতার প্রভাব দেখিয়ে বিভিন্ন মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকিও দেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, একপর্যায়ে তার পরিবারের কাছে ৪০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করা হয়। সংসার টিকিয়ে রাখার আশায় তার মা-বাবা গ্রামের জমি বিক্রি করে নগদ অর্থ ও ব্যাংক চেকের মাধ্যমে ওই টাকা দেন। সেই অর্থের একটি অংশ দিয়ে একটি গাড়ি কেনা হয় এবং পূর্বাচলে জমি কেনাসহ বিলাসবহুল জীবনযাপন শুরু করেন অভিযুক্ত কর্মকর্তা। এরপরও আরো ৫০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

শামিয়া আরো অভিযোগ করেন, ২০২৬ সালের ৯ জানুয়ারি জয়পুরহাটের ভাড়া বাসায় যৌতুকের দাবিতে তাকে বেধড়ক মারধর করা হয়। ওই ঘটনায় তাদের সাড়ে পাঁচ বছর বয়সী কন্যাশিশুও নির্যাতনের শিকার হয়। একপর্যায়ে গভীর রাতে মা-মেয়েকে বাসা থেকে বের করে দেওয়া হয় । পরে প্রতিবেশীর বাসায় আশ্রয় নিয়ে স্থানীয় সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। এরপর পুলিশ প্রশাসনের সহায়তায় থানায় নিয়ে গিয়ে সাত দিন নিরাপত্তা দেওয়া হয় বলেও জানান তিনি। সংশ্লিষ্ট পুলিশ সুপার তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দিলেও তিনি সংসার টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে বাবার বাড়িতে চলে আসার পর থেকে তার স্বামী তাদের কোনো ভরণ-পোষণ দিচ্ছেন না এবং সন্তানেরও খোঁজখবর নিচ্ছেন না। 

শামিয়া খান এশা দাবি করেন, গত ৩০ মে ঢাকার মোহাম্মদপুরের বসিলা এলাকায় স্বামীর এক বন্ধুর বাসায় গিয়ে তিনি স্বামীকে এক নারীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পান। এ সময় প্রতিবাদ করলে তার মাথায় মোবাইল ফোন দিয়ে আঘাত করা হয়, এতে তিনি রক্তাক্ত হয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়েন। পরে ঘটনাটি গোপন রাখতে একটি ফার্মেসিতে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং প্রাণনাশ ও মিথ্যা মামলার ভয় দেখিয়ে তাকে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি জানান, এসব ঘটনার পর তিনি পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি এবং জয়পুরহাটের পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। এছাড়া গত ৫ জুলাই যৌতুক নিরোধ আইনের ৩ ধারায় ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি সিআর মামলা দায়ের করেন। তার দাবি, নির্যাতনের ছবি, অডিও, ভিডিও, মেসেজ, বিভিন্ন ডিজিটাল তথ্য-উপাত্ত আদালতে পেনড্রাইভের মাধ্যমে জমা দেওয়া হয়েছে এবং আদালত অভিযুক্তকে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করেছেন।

শামিয়ার অভিযোগ, আদালতের সমনের বিষয়টি জানার পর অভিযুক্ত কর্মকর্তা নিজ কর্মস্থলের প্রভাব খাটিয়ে জয়পুরহাট সদর থানায় তার, তার মা-বাবা এবং পরিবারের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। এরপর থেকে তাদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হচ্ছে এবং মামলার সাক্ষীদেরও মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, একজন কর্মরত পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা থাকলেও তিনি একই জেলায় দায়িত্ব পালন করায় নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার বাঁধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে  অভিযুক্ত কর্মকর্তা জেলার প্রশাসনিক কাঠামোতে প্রভাব বিস্তার করায় সাক্ষীরা ভীত এবং অনেকে সাক্ষ্য দিতে রাজি হচ্ছেন না। এমনকি আমাকে এসিড দিয়ে মুখ পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছে।

এ কারণে তিনি সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ পুলিশ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বিচার বিভাগের কাছে আবেদন জানিয়ে অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে জয়পুরহাট জেলা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করার আহ্বান জানান, যাতে তদন্ত নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়।

এসব অভিযোগের নিরেপক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে ওই পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রী।