• ই-পেপার

ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে সাংবাদিক আশরাফ কায়সারের সাক্ষ্যগ্রহণ আজ

ট্রাকচালক হোসেন হত্যা

শেখ হাসিনাসহ ৩৪ জনের বিরুদ্ধে চার্জ শুনানি ১৩ আগস্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক
শেখ হাসিনাসহ ৩৪ জনের বিরুদ্ধে চার্জ শুনানি ১৩ আগস্ট
সংগৃহীত ছবি

জুলাই আন্দোলনে রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানা এলাকায় মো. হোসেন নামে এক ট্রাকচালক হত্যা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৩৪ জনের বিরুদ্ধে চার্জগঠনের শুনানির তারিখ পিছিয়ে আগামী ১৩ আগস্ট নির্ধারণ করা হয়েছে।

রবিবার (২৬ জুলাই) শুনানি শেষে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪ এর বিচারক রবিউল আলমের আদালত এই তারিখ নির্ধারণ করেন।

আসামি পক্ষের আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখী এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, এই মামলায় গ্রেপ্তার আসামিদের মধ্যে ফোরকান নামে এক আসামি আদালতে উপস্থিত না থাকায় রাষ্ট্রপক্ষ থেকে চার্জগঠন শুনানি পেছানোর জন্য সময়ের আবেদন করেন। একই সঙ্গে আসামি পক্ষ থেকেও আইনজীবীরা সময়ের আবেদন করেন। আবেদনের প্রেক্ষিতে বিচারক আগামী ১৩ আগস্ট তারিখ নির্ধারণ করেছেন। 

তিনি আরো বলেন, এই মামলায় মোট ৩৪ জন আসামির মধ্যে আজকে ৪ জনকে কারাগারে থেকে আদালতে হাজির করা হয়। এ ছাড়া জামিনে থাকা ৮ জন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। অন্যান্য আসামিরা পলাতক রয়েছেন।

মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই মোহাম্মদপুরের চাঁদ উদ্যান এলাকায় গুলিতে নিহত হন মো. হোসেন। তিনি সেদিন তিনি গাবতলীতে ট্রাক রেখে বাসায় ফিরছিলেন। চাঁদ উদ্যান এলাকায় তিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলে মারা যান। এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ৩১ আগস্ট নিহত ব্যক্তির মা রীনা বেগম বাদী হয়ে মোহাম্মদপুর থানায় হত্যা মামলা করেন। 

২০২৫ সালের ২৩ নভেম্বর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মোহাম্মদপুর থানার উপপরিদর্শক আকরামুজ্জামান আদালতে শেখ হাসিনাসহ ৩৪ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন—আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাসান মাহমুদ, সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, সাবেক সংসদ সদস্য সাদেক খান, নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালি আসিফ ইনান, আসিফ আহম্মেদ, তারেকুজ্জামান রাজিব, শেখ বজলুর রহমান, নুর মোহাম্মদ সেন্টু, তোফায়েল সিদ্দিক ওরফে তুহিন, রহমান মিয়া ওরফে এ কে এম অহিদুর রহমান, পলাশ, ওলিউর রহমান, খলিলুর রহমান, ইমন, এস এম রিয়াজুল হক তামিম, মাসুদুর রহমান বিপ্লব, আব্দুস সাত্তার ভূইয়া ওরফে এম এ সাত্তার, পারভেজ ওরফে গোল্ডেন পারভেজ, সুমন মিয়া ওরফে কাইল্লা সুমন, মিলন হোসেন, সোহেল ওরফে ভূইয়া সোহেল ওরফে বুনিয়া সোহেল, সলিম উল্লাহ সলু, ইরফান, মুহাম্মদ বদিউল আলম ওরফে বদিউজ্জামান, ফুরকান হোসেন, শাহজাহান খান, সাজ্জাদ হোসেন, ফারুক হোসেন অভি, নাইমুল হাসান রাসেল।

আসামিদের মধ্যে পলক, সাদেক, ফুরকান ও শাহজাহান কারাগারে আটক রয়েছেন।

কাউন্সিলর একরাম হত্যা

শেখ হাসিনাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল

অনলাইন ডেস্ক
শেখ হাসিনাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল

কক্সবাজারের টেকনাফ পৌরসভার কাউন্সিলর একরামুল হক হত্যা মামলায় শেখ হাসিনাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। রোববার (২৬ জুলাই) সকালে এ প্রতিবেদন দাখিল করা হয়।

২০১৮ সালের ২৬ মে রাতে র‍্যাবের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন একরামুল। এ বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড দেশজুড়ে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করে, যার সঙ্গে ফাঁস হওয়া একটি ফোনালাপ এবং আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জড়িত।

একরামুল হক টেকনাফ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ছিলেন। তিনি ১২ বছর টেকনাফ উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ছিলেন।

এর আগে কক্সবাজারের টেকনাফ পৌরসভার কাউন্সিলর একরামুল হক হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদিকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এরপর ২০২৫ সালের ২০ জুলাই তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

শীর্ষ সন্ত্রাসী বাপ্পি সহযোগীসহ রিমান্ড শেষে কারাগারে

নিজস্ব প্রতিবেদক
শীর্ষ সন্ত্রাসী বাপ্পি সহযোগীসহ রিমান্ড শেষে কারাগারে
ছবি: কালের কণ্ঠ

ব্যবসায়ীর কাছে চাঁদা দাবির মামলায় সাত দিনের রিমান্ড শেষে মতিঝিল এলাকার কথিত শীর্ষ সন্ত্রাসী তানিম রেজা বাপ্পি ও তার সহযোগী রাকিবুল ইসলাম ভূঁইয়াকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

শনিবার (২৫ জুলাই) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদ এ আদেশ দেন।

এদিন দুই আসামিকে আদালতে হাজির করে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও মতিঝিল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোমিনুর রহমান তাদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত আবেদন মঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এর আগে গত ১৭ জুলাই সকালে হোটেল পূর্বাণী সংলগ্ন এলাকা থেকে তানিম রেজা বাপ্পিকে এবং একই দিন দুপুরে উত্তর কমলাপুর এলাকা থেকে রাকিবুল ইসলাম ভূঁইয়াকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন ১৮ জুলাই আদালত তাদের সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বাদী ইসমাইল হোসেন একজন ব্যবসায়ী। পাশাপাশি তিনি মতিঝিল থানাধীন ব্রাদার্স ইউনিয়ন ক্লাবসংলগ্ন কোরবানির অস্থায়ী গরুর হাটের ইজারাদার।

এজাহারে বলা হয়, গত ১৫ মে রাত সাড়ে ১১টার দিকে মতিঝিলের এজিবি কলোনি এলাকায় অবস্থানকালে ইসমাইল হোসেনের মোবাইল ফোনে হোয়াটসঅ্যাপে কল আসে। কল রিসিভ করার পর আসামিরা গরুর হাটে তাদের মনোনীত ব্যক্তিকে অংশীদার হিসেবে রাখার জন্য চাপ দেন এবং ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। দাবি অনুযায়ী টাকা না দিলে এবং তাদের মনোনীত ব্যক্তিকে অংশীদার না করলে তাকে গুলি করে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়।

পরে গত ১৯ মে সকাল ১০টার দিকে কোরবানির পশুর হাটসংক্রান্ত এক সভায় থাকা অবস্থায় ইসমাইল হোসেন তার ভাগনে হৃদয়ের মাধ্যমে জানতে পারেন, ভোরে দুর্বৃত্তরা তার অফিসে গুলি চালিয়েছে। এ ঘটনায় পরদিন ২০ মে তিনি বাদী হয়ে মতিঝিল থানায় চাঁদাবাজির মামলা করেন।

কাফরুলে যুবদলকর্মীকে গুলি করে হত্যা : শ্যুটার চঞ্চল ৩ দিনের রিমান্ডে

নিজস্ব প্রতিবেদক
কাফরুলে যুবদলকর্মীকে গুলি করে হত্যা : শ্যুটার চঞ্চল ৩ দিনের রিমান্ডে

রাজধানীর কাফরুল থানা এলাকায় যুবদলকর্মী ইউসুফ আলী ওরফে পারভেজকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার শ্যুটার মো. চঞ্চল মোল্যাকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়েছে।

শনিবার (২৫ জুলাই) বিকেলে কাফরুল থানার অস্ত্র আইনের মামলায় তদন্ত কর্মকর্তার রিমান্ড আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদ এ রিমান্ডের আদেশ দেন।

এদিন আসামি চঞ্চল মোল্যাকে আদালতে হাজির করা হয়। এরপর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও কাফরুল থানার উপপরিদর্শক ইউসুফ আলী ভূইয়া তার ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। তবে এ সময় আসামিপক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, শুক্রবার রাত ১১টার দিকে কাফরুল থানাধীন এলাকায় একই থানার বিএনপির সদস্যসচিব মো. হাফিজুল ইসলাম বাবু ও ভিকটিম ইউসুফসহ অন্যান্য লোকজন নিজেদের মধ্যে কথাবার্তা বলছিলেন। এ সময় আসামি চঞ্চল ও তার সহযোগী পলাতক অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী পূর্বপরিকল্পিতভাবে ইউসুফকে লক্ষ্য করে গুলি করেন।

গুলিটি ইউসুফের বুকের ডান পাশে লেগে পিঠ দিয়ে বের হয়ে যায়। তিনি মাটিতে পড়ে গেলে লোকজন আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে ছোটাছুটি শুরু করলে আসামিরা এলোপাতাড়ি গুলি চালাতে থাকেন। এলোপাতাড়ি গুলিতে সবজি বিক্রেতা নালাম সরদার ও পথচারী মো. মনির হোসেন গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। উপস্থিত লোকজন গুলিবিদ্ধ ইউসুফ, নালাম সরদার ও মনিরকে চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে ইউসুফ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

এ সময় পালাতে গেলে কাফরুল থানাধীন একটি দোকানের সামনে আসামি চঞ্চল মোল্যাকে উপস্থিত লোকজন অস্ত্র-গুলিসহ আটক করে গণপিটুনি দেয়। পরে পুলিশ গিয়ে তাকে হেফাজতে নেয়। তার দেহ তল্লাশি করে বিদেশি পিস্তল ও চার রাউন্ড গুলি জব্দ করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে আসামি চঞ্চল নিজের পরিচয় জানান। পাশাপাশি জিহাদ মোল্লা, মো. জিয়ারুল, হাসানসহ অজ্ঞাতদের নাম প্রকাশ করেন। এ ঘটনায় কাফরুল থানায় অস্ত্র আইনে মামলা করা হয়।