• ই-পেপার

ট্রাকচালক হোসেন হত্যা

শেখ হাসিনাসহ ৩৪ জনের বিরুদ্ধে চার্জ শুনানি ১৩ আগস্ট

‘৯৮ মামলায় ৯৯ দিন রিমান্ডে ছিলাম’

নিজস্ব প্রতিবেদক
‘৯৮ মামলায় ৯৯ দিন রিমান্ডে ছিলাম’
ছবি : কালের কণ্ঠ

জুলাই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানায় দায়ের করা ট্রাকচালক মো. হোসেন হত্যা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকসহ ৩৪ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি পিছিয়েছে। আগামী ১৩ আগস্ট এ বিষয়ে শুনানির দিন ধার্য করেছেন আদালত।

রবিবার (২৬ জুলাই) ঢাকার চার নম্বর বিশেষ জজ আদালত-৪-এর বিচারক রবিউল আলম শুনানি শেষে এ তারিখ নির্ধারণ করেন।

এদিন মামলার আসামি জুনাইদ আহমেদ পলককে আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় এজলাসে দাঁড়িয়ে তিনি আদালতের কাছে আইনজীবীদের সঙ্গে বিশেষ সাক্ষাতের অনুমতি চান।

পলক আদালতকে বলেন, ‘আমার ঘাড়ে আঘাতের কারণে চিকিৎসক হেলমেট না পরানোর নির্দেশনা দিয়েছেন। ৯৮টি মামলায় ৯৯ দিন রিমান্ডে ছিলাম। প্রতিটি মামলার বিচার চলছে, আইসিটি মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে। এ অবস্থায় ১৫ দিনে পরিবারের সঙ্গে মাত্র আধাঘণ্টা সাক্ষাতের সুযোগ পাই।’

তিনি আরো বলেন, ‘মামলাসংক্রান্ত বিষয়ে আইনজীবীদের সঙ্গে প্রিভিলেজড কমিউনিকেশনের জন্য অন্তত দুই সপ্তাহে দুই দিন তিন ঘণ্টা করে সাক্ষাতের অনুমতি দেওয়ার আবেদন করছি।’

পরে আদালত শুনানি শেষে কারাবিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

আসামিপক্ষের আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখী জানান, মামলার আসামি ফোরকান আদালতে উপস্থিত না থাকায় রাষ্ট্রপক্ষ অভিযোগ গঠনের শুনানি পেছানোর আবেদন করে। একই সঙ্গে আসামিপক্ষের আইনজীবীরাও সময় আবেদন করেন। আদালত আবেদন মঞ্জুর করে আগামী ১৩ আগস্ট শুনানির দিন ধার্য করেন।

তিনি জানান, মামলার ৩৪ আসামির মধ্যে এদিন কারাগার থেকে চারজনকে আদালতে হাজির করা হয়। এ ছাড়া জামিনে থাকা আটজন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। অন্য আসামিরা পলাতক রয়েছেন।

মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই মোহাম্মদপুরের চাঁদ উদ্যান এলাকায় গুলিতে নিহত হন ট্রাকচালক মো. হোসেন। ওই দিন গাবতলীতে ট্রাক রেখে বাসায় ফেরার পথে তিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান।

এ ঘটনায় নিহতের মা রীনা বেগম বাদী হয়ে ২০২৪ সালের ৩১ আগস্ট মোহাম্মদপুর থানায় হত্যা মামলা করেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদপুর থানার উপপরিদর্শক আকরামুজ্জামান ২০২৫ সালের ২৩ নভেম্বর আদালতে শেখ হাসিনাসহ ৩৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাসান মাহমুদ, সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকসহ অনেকে।

আসামিদের মধ্যে জুনাইদ আহমেদ পলক, সাদেক খান, ফোরকান হোসেন ও শাহজাহান খান বর্তমানে কারাগারে আটক রয়েছেন।

ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে সাংবাদিক আশরাফ কায়সারের সাক্ষ্যগ্রহণ আজ

অনলাইন ডেস্ক
ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে সাংবাদিক আশরাফ কায়সারের সাক্ষ্যগ্রহণ আজ
আদালতে সাংবাদিক আশরাফ কায়সার। ছবি : সংগৃহীত

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে আজ রবিবার সাংবাদিক আশরাফ কায়সারের সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

এদিন সকালে সাক্ষ্য দিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আসেন তিনি।

এ মামলায় পলাতক আসামিরা হলেন—কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান।

এর আগে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সূচনা বক্তব্যের মাধ্যমে আলোচিত এ মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়। ওইদিন প্রথম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন শহিদ আসিফ ইকবালের বাবা এমএ রাজ্জাক।

গত ২২ জানুয়ারি তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। তারও আগে ২০২৫ সালের ১৮ ডিসেম্বর প্রসিকিউশনের দেওয়া ফরমাল চার্জ বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেওয়া হয়।

কাউন্সিলর একরাম হত্যা

শেখ হাসিনাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল

অনলাইন ডেস্ক
শেখ হাসিনাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল

কক্সবাজারের টেকনাফ পৌরসভার কাউন্সিলর একরামুল হক হত্যা মামলায় শেখ হাসিনাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। রোববার (২৬ জুলাই) সকালে এ প্রতিবেদন দাখিল করা হয়।

২০১৮ সালের ২৬ মে রাতে র‍্যাবের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন একরামুল। এ বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড দেশজুড়ে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করে, যার সঙ্গে ফাঁস হওয়া একটি ফোনালাপ এবং আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জড়িত।

একরামুল হক টেকনাফ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ছিলেন। তিনি ১২ বছর টেকনাফ উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ছিলেন।

এর আগে কক্সবাজারের টেকনাফ পৌরসভার কাউন্সিলর একরামুল হক হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদিকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এরপর ২০২৫ সালের ২০ জুলাই তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

শীর্ষ সন্ত্রাসী বাপ্পি সহযোগীসহ রিমান্ড শেষে কারাগারে

নিজস্ব প্রতিবেদক
শীর্ষ সন্ত্রাসী বাপ্পি সহযোগীসহ রিমান্ড শেষে কারাগারে
ছবি: কালের কণ্ঠ

ব্যবসায়ীর কাছে চাঁদা দাবির মামলায় সাত দিনের রিমান্ড শেষে মতিঝিল এলাকার কথিত শীর্ষ সন্ত্রাসী তানিম রেজা বাপ্পি ও তার সহযোগী রাকিবুল ইসলাম ভূঁইয়াকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

শনিবার (২৫ জুলাই) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদ এ আদেশ দেন।

এদিন দুই আসামিকে আদালতে হাজির করে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও মতিঝিল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোমিনুর রহমান তাদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত আবেদন মঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এর আগে গত ১৭ জুলাই সকালে হোটেল পূর্বাণী সংলগ্ন এলাকা থেকে তানিম রেজা বাপ্পিকে এবং একই দিন দুপুরে উত্তর কমলাপুর এলাকা থেকে রাকিবুল ইসলাম ভূঁইয়াকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন ১৮ জুলাই আদালত তাদের সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বাদী ইসমাইল হোসেন একজন ব্যবসায়ী। পাশাপাশি তিনি মতিঝিল থানাধীন ব্রাদার্স ইউনিয়ন ক্লাবসংলগ্ন কোরবানির অস্থায়ী গরুর হাটের ইজারাদার।

এজাহারে বলা হয়, গত ১৫ মে রাত সাড়ে ১১টার দিকে মতিঝিলের এজিবি কলোনি এলাকায় অবস্থানকালে ইসমাইল হোসেনের মোবাইল ফোনে হোয়াটসঅ্যাপে কল আসে। কল রিসিভ করার পর আসামিরা গরুর হাটে তাদের মনোনীত ব্যক্তিকে অংশীদার হিসেবে রাখার জন্য চাপ দেন এবং ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। দাবি অনুযায়ী টাকা না দিলে এবং তাদের মনোনীত ব্যক্তিকে অংশীদার না করলে তাকে গুলি করে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়।

পরে গত ১৯ মে সকাল ১০টার দিকে কোরবানির পশুর হাটসংক্রান্ত এক সভায় থাকা অবস্থায় ইসমাইল হোসেন তার ভাগনে হৃদয়ের মাধ্যমে জানতে পারেন, ভোরে দুর্বৃত্তরা তার অফিসে গুলি চালিয়েছে। এ ঘটনায় পরদিন ২০ মে তিনি বাদী হয়ে মতিঝিল থানায় চাঁদাবাজির মামলা করেন।