• ই-পেপার

জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার কবরে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির শ্রদ্ধা

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সাবেক রাষ্ট্রপতি আইন অনুযায়ী সব সুবিধা পাবেন

অনলাইন ডেস্ক
সাবেক রাষ্ট্রপতি আইন অনুযায়ী সব সুবিধা পাবেন
সংগৃহীত ছবি

সদ্যবিদায়ি রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন একজন সাবেক রাষ্ট্রপতি হিসেবে আইন অনুযায়ী সব সুবিধা পাবেন বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

তিনি বলেন, 'রাষ্ট্রপতি স্বৈরাচারের শেষ দিকে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় এবং বর্তমান সরকারের এই সময়টুকু সাংবিধানিকভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বিধিবিধান অনুযায়ী করেছেন। আমরা রাষ্ট্রপতির সহযোগিতা পেয়েছি।'

আজ রবিবার দুপুরে সচিবালয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

রাষ্ট্রপতি পদত্যাগের পর তার বিরুদ্ধে কিছু অভিযোগ তুলেছেন জামায়াত-এনসিপি নেতারা। তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, 'আমরা আমলে নেওয়ার মত কোনো বক্তব্য ওখানে নেই।'

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, 'রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনের সময়টায় সংবিধান অনুসারে তিনি প্রিভিলেজড এবং ইমিউনিটি আছে। ফৌজদারি অপরাধ বা অন্য বিষয়ে আদালতে তার (রাষ্ট্রপ্রতির) বিরুদ্ধে মামলা করা যায় না।'

সাবেক রাষ্ট্রপতি হিসেবে মো. সাহাবুদ্দিন আইন অনুযায়ী সব সুযোগ পাবেন জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, 'বিধি অনুযায়ী তিনি (সদ্যবিদায়ি রাষ্ট্রপতি) সব সুযোগ পাবেন। প্রটেকশনের ৬ মাসের বিধান আছে এছাড়া পুলিশ এবং অন্য সংস্থার পক্ষ থেকে তার নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।'

স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে ২৪ জুলাই মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর সংবিধান অনুযায়ী ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল নিয়ে ভুল তথ্য না ছড়ানোর আহ্বান বেবিচকের

অনলাইন ডেস্ক
বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল নিয়ে ভুল তথ্য না ছড়ানোর আহ্বান বেবিচকের
সংগৃহীত ছবি

ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল প্রকল্প নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত কিছু প্রতিবেদনে অসম্পূর্ণ ও প্রেক্ষাপটবিহীন তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)।

সংস্থাটির মতে, বস্তুনিষ্ঠতাহীন এসব তথ্য জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করছে। একই সঙ্গে আগামী বছরের পরিবর্তে চলতি ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যেই থার্ড টার্মিনালটির বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করার লক্ষ্যে চূড়ান্ত প্রস্তুতি চলছে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।

আজ রবিবার (২৬ জুলাই) বেবিচকের পক্ষ থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমে থার্ড টার্মিনাল প্রকল্পের মোট ব্যয়, ভেরিয়েশন কার্যক্রম, চুক্তি বাস্তবায়ন এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। তবে বেশ কয়েকটি প্রতিবেদনে প্রকল্পের প্রকৃত বাস্তব অবস্থা, অনুমোদিত নথি, চুক্তির শর্তাবলী এবং বাস্তবায়নের পদ্ধতি না বুঝে আংশিক ও অসম্পূর্ণ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

বেবিচক জানায়, থার্ড টার্মিনালের মূল অবকাঠামোগত নির্মাণকাজ প্রায় দুই বছর আগেই শেষ হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী অপারেশনাল রেডিনেস, জটিল কারিগরি ও পরিচালনাগত কাজ সম্পন্ন করা এবং বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে সমন্বয়ের জন্য বাড়তি সময় লেগেছে।

বেবিচক আরো জানায়, বর্তমানে চূড়ান্ত ধাপের কাজগুলো দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে এবং নির্ধারিত ডিসেম্বরের মধ্যেই এটি যাত্রী চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করার লক্ষ্য স্থির রয়েছে।

সংস্থাটির মতে, দেশের অন্যতম বৃহৎ এই মেগাপ্রকল্পের বিষয়ে তথ্য যাচাই ছাড়া বিভ্রান্তিকর রিপোর্ট প্রকাশ করা হলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভুল ধারণা তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে এটি বৈশ্বিক অংশীদারদের আস্থা ক্ষুণ্ণ করা ছাড়াও নির্ধারিত সময়ে টার্মিনাল চালু করার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। যার চূড়ান্ত নেতিবাচক প্রভাব পড়বে রাষ্ট্রীয় রাজস্ব আহরণ এবং সামগ্রিক অ্যাভিয়েশন খাতের ওপর।

বিজ্ঞপ্তিতে বেবিচক স্পষ্ট করে যে, দায়িত্বশীল ও তথ্যভিত্তিক সাংবাদিকতা জনস্বার্থ রক্ষার অন্যতম প্রধান শর্ত। তাই এ সংক্রান্ত যেকোনো সংবাদ প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট সঠিক তথ্য যাচাই করে বস্তুনিষ্ঠ প্রতিবেদন পরিবেশনের অনুরোধ জানানো হয়েছে। পাশাপাশি দেশের প্রধান অ্যাভিয়েশন হাবকেন্দ্রিক যেকোনো গুজব ও অপপ্রচার রুখতে সংশ্লিষ্ট সবার সচেতন সহযোগিতা কামনা করেছে বেবিচক।

সাগরে লঘুচাপ, ঝড়ের শঙ্কায় বন্দরে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত

নিজস্ব প্রতিবেদক
সাগরে লঘুচাপ, ঝড়ের শঙ্কায় বন্দরে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত
প্রতীকী ছবি

বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ উপকূলীয় এলাকায় লঘুচাপটি ঘনীভূত হয়ে সুস্পষ্ট লঘুচাপ আকারে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন ওড়িশা-পশ্চিমবঙ্গ উপকূলে অবস্থান করছে। এটি আরো ঘনীভূত হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, সুস্পষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে সমুদ্রবন্দরসমূহ, উত্তর বঙ্গোপসাগর এবং তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকার ওপর দিয়ে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

এ কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অফিস। আজ সোমবার দেশের সমুদ্রবন্দরসমূহের জন্য জারি করা বিশেষ আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে আরো বলা হয়, উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর আরেক বুলেটিনে জানিয়েছে, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজার অঞ্চলসমূহের ওপর দিয়ে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫-৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত এসব এলাকার নদীবন্দরসমূহকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনে চীনের আগ্রহ, সমঝোতার চেষ্টা সামিটের

অনলাইন ডেস্ক
ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনে চীনের আগ্রহ, সমঝোতার চেষ্টা সামিটের

দেশের দুই ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের (এফএসআরইউ) একটিতে কারিগরি ত্রুটি দেখা দেওয়ায় সারা দেশে তীব্র গ্যাস সংকট চলছে। এ পরিস্থিতির মধ্যেই তৃতীয় একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনকে ঘিরে নতুন করে তৎপরতা শুরু হয়েছে। জ্বালানি বিভাগের পাশাপাশি দেশি-বিদেশি একাধিক প্রতিষ্ঠান এ প্রকল্পে আগ্রহ দেখাচ্ছে। আলোচনায় রয়েছে চীনের চায়না ন্যাশনাল এনার্জি ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেড (সিএনইই) এবং দেশের সামিট গ্রুপ।

যুগান্তর এক প্রতিবেদনে জানায়, তৃতীয় এফএসআরইউ স্থাপনের আগ্রহ নিয়ে সিএনইইর একটি প্রতিনিধিদল বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছে। চলতি সপ্তাহেই তারা জ্বালানি বিভাগের সঙ্গে এ বিষয়ে বৈঠক করবে। একই সময়ে সামিট গ্রুপও বাতিল হওয়া চুক্তি পুনর্বহালের লক্ষ্যে সরকারের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা শুরু করেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রচলিত প্রক্রিয়ার বাইরে বিলিয়ন ডলারের এই প্রকল্প বাস্তবায়নের সুযোগ পেতে দেশি-বিদেশি কম্পানিগুলোর মধ্যে জোর তৎপরতা চলছে।

সূত্র বলছে, তৃতীয় এফএসআরইউ নিয়ে আগের চুক্তি বাতিলের পর সরকারকে সমঝোতার প্রস্তাব দিয়েছে সামিট গ্রুপ। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, অন্তর্বর্তী সরকার তাদের সঙ্গে করা চুক্তি বাতিল করায় তারা বিষয়টি হাইকোর্টে চ্যালেঞ্জ করেছে এবং মামলাটি এখনো বিচারাধীন। সামিটের ঘনিষ্ঠরা মনে করছেন, বিএনপি সরকার চাইলে আদালতের বাইরে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান সম্ভব। তবে জ্বালানি বিভাগের পক্ষ থেকে এ প্রস্তাবে এখন পর্যন্ত তেমন আগ্রহ দেখা যায়নি।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, দেশের গ্যাস সংকট মোকাবেলায় গত চার বছর ধরে তৃতীয় ভাসমান টার্মিনাল স্থাপনের উদ্যোগ চলছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সামিটের চুক্তি বাতিলের পাশাপাশি সৌদি আরামকোর সঙ্গে চলমান আলোচনা বন্ধ হয়ে যায়। পরে চলতি জুলাইয়ে সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) ভিত্তিতে ১২টি দেশ ও প্রতিষ্ঠানের কাছে রিকোয়েস্ট ফর প্রপোজাল (আরএফপি) পাঠানো হলেও অজ্ঞাত কারণে সেই প্রক্রিয়াও বাতিল করা হয়। এর মধ্যেই সিএনইইর প্রতিনিধিদলের ঢাকা সফর এবং সামিটের সমঝোতা প্রস্তাব নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

জানা গেছে, চীনের সিএমসি গ্রুপের মাধ্যমে সিএনইই বাংলাদেশে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। সরকারের এক শীর্ষ পর্যায়ের নীতিনির্ধারকও প্রতিষ্ঠানটির প্রতি আগ্রহী বলে জানা যায়। খুব শিগগিরই সিএনইই জ্বালানি বিভাগের কাছে তাদের প্রস্তাব উপস্থাপন করতে পারে। ওই উপস্থাপনায় জ্বালানি বিভাগের নীতিনির্ধারকেরা উপস্থিত থাকবেন। এরপরই পরিষ্কার হবে প্রতিষ্ঠানটি কী ধরনের প্রস্তাব নিয়ে প্রকল্পে অংশ নিতে চায়। তবে আরএফপি প্রক্রিয়া বাতিলের পর সরাসরি এ উদ্যোগ কেন নেওয়া হচ্ছে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

চলতি মাসে সামিট এলএনজি টার্মিনাল কোম্পানি পেট্রোবাংলাকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছে, সরকার চাইলে সমঝোতার ভিত্তিতে তারা আবারও তৃতীয় এফএসআরইউ প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রস্তুত। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, বাতিল হওয়া চুক্তি পুনর্বহাল করা হলে মাত্র ১৮ মাসের মধ্যে নতুন টার্মিনাল চালু করা সম্ভব। সমঝোতা হলে তারা হাইকোর্টে চলমান মামলাও প্রত্যাহার করে নেবে।

২০২৪ সালের ৩০ মার্চ বিশেষ আইনের আওতায় সামিটকে তৃতীয় ভাসমান টার্মিনাল নির্মাণের কাজ দেয় তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার। পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৬ সালের নভেম্বরে টার্মিনালটি চালু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে ২০২৪ সালের ৭ নভেম্বর অন্তর্বর্তী সরকারের সময় পেট্রোবাংলা সেই চুক্তি বাতিল করে। পরে বিষয়টি আদালতে নিয়ে যায় সামিট গ্রুপ।

গত ১৩ জুলাই মামলার শুনানিতে সামিট আদালতের কাছে পেট্রোবাংলার সঙ্গে সমঝোতার সুযোগ চাইলেও হাইকোর্ট সেই আবেদন গ্রহণ করেননি। মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী আগস্টের মাঝামাঝি নির্ধারিত রয়েছে।

সামিট এলএনজি কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সায়েদুল আলম সমঝোতার প্রস্তাব দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, আদালতের বাইরে সরকারের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং এতে মামলার কোনো আইনি জটিলতা সৃষ্টি হবে না। অন্যদিকে পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা জানান, সামিটের প্রস্তাবের বিষয়ে মতামত জানতে জ্বালানি বিভাগে চিঠি পাঠানো হয়েছে, তবে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সরকারি কর্মকর্তা দাবি করেন, সামিট গ্রুপ অতীত সরকারের সময় জ্বালানি খাতে সবচেয়ে বেশি সুবিধা পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি। তাদের ভাষ্য, বিশেষ আইনের আওতায় একাধিক বিদ্যুৎ প্রকল্পসহ নানা সুবিধা পেয়েছিল সামিট। একই সময়ে প্রতিষ্ঠানটি তাদের প্রধান কার্যালয় সিঙ্গাপুরে স্থানান্তর করলেও ব্যবসা পরিচালনা করে বাংলাদেশে। এসব কারণে বর্তমান সরকারের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটির প্রস্তাব নিয়ে খুব বেশি আগ্রহ নেই বলে তারা জানান।

অন্তর্বর্তী সরকার চলতি বছরের শুরুতে সৌদি আরামকোর সঙ্গে এফএসআরইউ প্রকল্প নিয়ে সমঝোতার উদ্যোগ নিলেও জাতীয় নির্বাচনের কারণ দেখিয়ে প্রতিষ্ঠানটি তখন চুক্তি করতে রাজি হয়নি। পরে বুয়েটের উপাচার্যের নেতৃত্বে গঠিত একটি কমিটি প্রকল্পটি পর্যালোচনা করে। কমিটির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, আরামকো প্রায় দেড় বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগের বিপরীতে কঠোর শর্ত দিয়েছে। ১৮ মাসে প্রকল্প শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিলেও পরে তারা ৩০ মাস সময় লাগবে বলে জানায়। এ কারণে আরামকোর সঙ্গে আলোচনা বাতিল করে নতুন করে জি-টু-জি পদ্ধতিতে প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করার সুপারিশ করা হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় গত মাসে জ্বালানি বিভাগ ওমান, সৌদি আরব, আজারবাইজান, যুক্তরাষ্ট্র, সংযুক্ত আরব আমিরাত, চীন, কাজাখস্তানসহ বিভিন্ন দেশের ১২টি প্রতিষ্ঠানকে আরএফপি পাঠায়। পাশাপাশি ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের দূতাবাসসহ সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক মিশনগুলোকেও চিঠি দেওয়া হয়। তবে পরে পুরো প্রক্রিয়া বাতিল করা হয়। বর্তমানে চীনের সিএনইইর সম্ভাব্য প্রস্তাব নিয়েই বেশি আলোচনা চলছে।

বর্তমানে দেশে প্রতিদিন প্রায় ৪০০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা রয়েছে। বিপরীতে সরবরাহ করা হচ্ছে মাত্র ২৬০ থেকে ২৬৫ কোটি ঘনফুট। এর মধ্যে দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকেই আসে প্রায় ১১০ কোটি ঘনফুট গ্যাস। এ অবস্থায় একটি টার্মিনালে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় সংকট আরও প্রকট হয়েছে।

এদিকে নতুন গ্যাস সংযোগের জন্য সরকারের কাছে ১ হাজার ৮৫৭টি আবেদন জমা রয়েছে। এর মধ্যে ৫৫০টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান ডিমান্ড নোটের অর্থ জমা দেওয়ার চার বছর পরও গ্যাস সংযোগ পায়নি।