• ই-পেপার

শুধু চাকরি নয়, কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তোলার আহ্বান স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর

তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন মেনে চলচ্চিত্র নির্মাণের আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক
তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন মেনে চলচ্চিত্র নির্মাণের আহ্বান
ছবি : কালের কণ্ঠ

সংশোধিত ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন-২০০৫’ মেনে চলচ্চিত্র নির্মাণ ও প্রচারের আহ্বান জানিয়েছেন চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা।

তারা বলেছেন, চলচ্চিত্রে তামাক ও মাদকের নেতিবাচক উপস্থাপন তরুণ সমাজের ওপর খারাপ প্রভাব ফেলছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুরক্ষিত রাখতে চলচ্চিত্রে তামাকের ব্যবহার পরিহার এবং আইন বাস্তবায়নে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

রবিবার (২৬ জুলাই) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। ‘চলচ্চিত্রে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের বাস্তবায়ন: পরিচালক ও সংশ্লিষ্টদের করণীয়’ শীর্ষক আলোচনাসভায় এসব কথা বলেন বক্তারা।

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএফডিসি) জহির রায়হান অডিটরিয়ামে এ সভার আয়োজন করে মাদকদ্রব্য ও নেশা নিরোধ সংস্থা (মানস) এবং বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতি।

চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সভাপতি শাহিন সুমনের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আবদুল জলিল, বিএফডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুমা রহমান তানি, মানসের সভাপতি অধ্যাপক ড. অরূপরতন চৌধুরীসহ চলচ্চিত্র অঙ্গনের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

সভায় অধ্যাপক ড. অরূপরতন চৌধুরী বলেন, তামাকের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে মানুষ সচেতন হলেও তামাক কম্পানিগুলোর বিভিন্ন প্রচারণা তামাক নিয়ন্ত্রণে বাধা সৃষ্টি করছে। বিশেষ করে কিশোর ও তরুণদের আকৃষ্ট করতে নানা কৌশল ব্যবহার করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, নাটক ও চলচ্চিত্র নির্মাতা, শিল্পীসহ সমাজের সবাইকে সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে তামাকবিরোধী সচেতনতা তৈরিতে ভূমিকা রাখতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে শাহীন সুমন বলেন, অনেক চলচ্চিত্রে নেতিবাচক চরিত্র দেখানোর ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয়ভাবে ধূমপান ও মাদক সেবনের দৃশ্য রাখা হয়, যা তরুণদের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নে পরিচালক সমিতির সদস্যদের সচেতন করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বক্তারা জানান, সংশোধিত আইনে সিনেমা, নাটক ও প্রামাণ্যচিত্রে তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহারের দৃশ্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে। চলচ্চিত্রে সুস্থ বিনোদনের মাধ্যমে তামাকের ক্ষতিকর দিক তুলে ধরতে হবে।

তারা আরো বলেন, নায়ক বা কেন্দ্রীয় চরিত্রের আচরণ দর্শকদের, বিশেষ করে তরুণদের ওপর প্রভাব ফেলে। তাই ধূমপান ও মাদকের দৃশ্য পরিহার করে মানসম্মত চলচ্চিত্র নির্মাণের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির ৩০ জনের বেশি পরিচালক এবং বিভিন্ন তামাক নিয়ন্ত্রণ ও উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

১৫ বছরের কমবয়সী ও দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্তরা হজে যেতে পারবেন না

অনলাইন ডেস্ক
১৫ বছরের কমবয়সী ও দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্তরা হজে যেতে পারবেন না
সংগৃহীত ছবি

১৫ বছরের কমবয়সী ও দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্তদের হজে না যেতে নির্দেশনা জারি করেছে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়। আজ রবিবার (২৬ জুলাই) গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এতে বলা হয়, ২৭ জুলাই থেকে ২০২৭ সালের হজের প্রাথমিক নিবন্ধন শুরু হচ্ছে। এ বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে এ নিবন্ধন কার্যক্রম। এ সময়ের মধ্যেই হজে গমনেচ্ছু ব্যক্তিদের প্রাথমিক নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে।

সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় কর্তৃক ঘোষিত হজ কার্যক্রমের রোডম্যাপ অনুযায়ী এই সময়সূচি ঘোষণা করেছে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরো জানানো হয়, সাড়ে তিন লাখ টাকা জমা দিয়ে সরকারি ও বেসরকারি যেকোনো মাধ্যমে হজের প্রাথমিক নিবন্ধন করা যাবে। প্রাথমিক নিবন্ধিত ব্যক্তিদেরকে চলতি বছরের ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে প্যাকেজ মূল্যের বাকি টাকা পরিশোধ করে চূড়ান্ত নিবন্ধন করতে হবে।

প্রাথমিক নিবন্ধনের পূর্বে হজযাত্রীদের আবশ্যিকভাবে ৩০ হাজার টাকা দিয়ে প্রাক-নিবন্ধন করতে হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

সরকারি মাধ্যমে ই-হজ সিস্টেমে (hajj.gov.bd) ইউজার তৈরি করে যেকেউ নিজেই নিবন্ধন করতে পারবেন। এ ছাড়া ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়, জেলা ও উপজেলা মডেল মসজিদ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বায়তুল মোকাররম অফিস ও ঢাকা হজ অফিসে হজের নিবন্ধন করা যাবে।

সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজে গমনেচ্ছু ব্যক্তিদের সোনালী ব্যাংকের যেকোনো শাখায় ভাউচারের মাধ্যমে টাকা জমা দিয়ে প্রাথমিক নিবন্ধন করতে হবে। তবে, বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজযাত্রীদেরকে হজ কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে এজেন্সির নির্ধারিত হিসাবে টাকা জমা দিতে হবে। এজেন্সির ব্যাংক হিসাবের তথ্য হজ পোর্টালে সংশ্লিষ্ট এজেন্সির প্রোফাইলে পাওয়া যাবে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ১৫ বছরের কম বয়সী কেউ হজে যেতে পারবে না। এ ছাড়া দুরারোগ্য ব্যাধি যেমন—হৃদযন্ত্র, ফুসফুস, লিভার বা কিডনি রোগ, স্নায়ুবিক বা মানসিক ব্যাধিতে আক্রান্ত ও ডিমেনশিয়া রোগী, কেমোথেরাপি বা বায়োলজিক্যাল থেরাপি বা রেডিওথেরাপি নিচ্ছেন—এমন ক্যান্সার আক্রান্ত রোগী হজে যেতে পারবে না।

এ ছাড়া জনস্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলে এমন সক্রিয় সংক্রামক রোগ যেমন—যক্ষ্মা ও হেমোরেজিক ফিভারে আক্রান্ত ব্যক্তি হজে যেতে পারবে না। গর্ভাবস্থার শেষ দুই মাস ও ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভাবস্থায় কোনো মহিলা হজযাত্রী ফিটনেস সনদ পাবে না।

প্রাথমিক নিবন্ধনের সময় হজযাত্রীদেরকে আবশ্যিকভাবে প্রশিক্ষণ ও টিকা গ্রহণের জেলা, হজের ধরন ও হজ প্যাকেজ নির্বাচন করতে হবে। এ ছাড়া ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মেয়াদ সম্বলিত পাসপোর্ট প্রয়োজন হবে।

কোথায় আটকে আছে পে স্কেল, বাস্তবায়নের আশ্বাস অর্থমন্ত্রীর

অনলাইন ডেস্ক
কোথায় আটকে আছে পে স্কেল, বাস্তবায়নের আশ্বাস অর্থমন্ত্রীর
সংগৃহীত ছবি

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো জুলাই থেকে কার্যকরের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। তবে এখন পর্যন্ত প্রজ্ঞাপন জারি হয়নি। নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের রূপরেখা কেমন হবে, তা নিয়ে চলছে পর্যালোচনা। প্রজ্ঞাপন না হওয়ায় সরকারি চাকরিজীবীরা পে স্কেল নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো সচিব কমিটির পর্যালোচনা ও সুপারিশ চূড়ান্ত করা।

তবে দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় এটি একবারে নয়, বরং ধাপে ধাপে কার্যকর করা হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। এটি ধাপে ধাপে বা ক্রমান্বয়ে বাস্তবায়ন করা হবে।’

সম্প্রতি একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দেশের অর্থনীতি, সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা এবং নতুন পে স্কেল নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি এ তথ্য জানান।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘পে স্কেল বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত আমরা নিয়েছি। এটি অবশ্যই বাস্তবায়ন করা হবে। তবে বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং দেশের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় আমরা এটি ক্রমান্বয়ে বাস্তবায়ন করব।’

তিনি বলেন, ‘দেশ বর্তমানে একটি চ্যালেঞ্জিং অর্থনৈতিক সময় অতিক্রম করছে। তাই নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এমন একটি পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে, যাতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সুবিধা পান, আবার একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় অর্থনীতির ওপর অতিরিক্ত চাপও সৃষ্টি না হয়।’

অর্থমন্ত্রী জানান, সরকার নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে টেকসই আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে ধাপে ধাপে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।

এদিকে সরকারি কর্মচারীদের নতুন পে স্কেল জুলাই থেকে কার্যকরের ঘোষণা থাকলেও কীভাবে এটি বাস্তবায়ন হবে সে বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত করতে পারেনি এ বিষয়ে গঠিত উচ্চপর্যায়ের সচিব কমিটি। মূল বেতন, ভাতা এবং অন্যান্য সুবিধা কত ধাপে বাস্তবায়ন হবে ও সফটওয়্যার ইস্যুসহ প্রশাসনিক পর্যালোচনার বৃত্তেই আটকে আছে পে স্কেল চূড়ান্তকরণ প্রক্রিয়া। বেতন কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনায় গঠিত সচিব কমিটি আরো দুই থেকে তিনটি সভা শেষে চূড়ান্ত সুপারিশ সরকারের কাছে জমা দিতে পারে বলে জানা গেছে। এরপর মন্ত্রিসভার অনুমোদন মিললে নতুন পে স্কেলের গেজেট প্রকাশ হতে পারে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে সরকারি চাকরিজীবীর সংখ্যা প্রায় সাড়ে ১৪ লাখ। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে তাদের বেতন ও ভাতা বাবদ প্রায় ৯০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। আর পেনশন ও গ্রাচুইটিসহ এর পরিমাণ প্রায় ১ লাখ ৪১ হাজার কোটি টাকা। নতুন পে স্কেল ও আনুষঙ্গিক খরচ মেটাতে গেলে আরো প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হবে। এই বিপুল অর্থ জোগাড় করা বর্তমান রাজস্ব আয়ের প্রেক্ষাপটে কঠিন। এটি করতে গেলে তা বর্তমান ঘাটতি বাজেটে বিশাল চাপ তৈরি করবে।

অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) মনে করে, বড় অঙ্কের বেতন বৃদ্ধি বাজারে অতিরিক্ত অর্থ প্রবাহ তৈরি করবে এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতিকে আরও উসকে দেবে। রাজস্ব আদায় প্রত্যাশা অনুযায়ী না বাড়ায় দেশি বা বিদেশি ঋণের ওপর নির্ভরতার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক আগামীদিনে আরো গভীর হবে : অর্থ উপদেষ্টা

অনলাইন ডেস্ক
চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক আগামীদিনে আরো গভীর হবে : অর্থ উপদেষ্টা

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ‘সবার আগে বাংলাদেশ’নীতির ভিত্তিতে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক আগামীদিনে আরো গভীর ও ফলপ্রসূ হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা অধ্যাপক রাশেদ আল তিতুমীর। 

উপ‌দেষ্টা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক চীন সফরের মাধ্যমে দুদেশের সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে এবং নতুন যুগে অভিন্ন ভবিষ্যতের বাংলাদেশ-চীন কমিউনিটি গঠনের ঘোষণা দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। 

রবিবার (২৬ জুলাই) বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কবিষয়ক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা ব‌লেন।

তিতুমীর বলেন, জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন, ভারসাম্যপূর্ণ ও বাস্তববাদী পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করছে। একই সঙ্গে প্রতিবেশী কূটনীতি, দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতা এবং সব অংশীদারের সঙ্গে গঠনমূলক সম্পর্ক জোরদারে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

উপদেষ্টা জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরে দুই দেশের মধ্যে কৌশলগত সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। কূটনীতি ও প্রতিরক্ষা খাতে প্রস্তাবিত ‘২+২ সংলাপ’ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের প্রথম কৌশলগত সংলাপ দ্রুত আয়োজনের বিষয়ে বাংলাদেশ আশাবাদী। 

বাংলাদেশের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা তুলে ধরে উপ‌দেষ্টা বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান অর্থনৈতিক সংকটের সময় জাতীয় স্বার্থভিত্তিক বাস্তববাদী অর্থনৈতিক কৌশল গ্রহণ করেছিলেন। পরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দারিদ্র্য হ্রাস ও অর্থনীতির কাঠামোগত পরিবর্তনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকারও সেই ধারাবাহিকতায় অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, সংস্কার ও পুনর্গঠনের মাধ্যমে ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। 

এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে উৎপাদনমুখী শিল্পায়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তি‌নি বলেন, উৎপাদন শিল্প, অর্থনৈতিক অঞ্চল ও শিল্পপার্কে চীনা বিনিয়োগকে বাংলাদেশ বিশেষভাবে স্বাগত জানায়। পাশাপাশি মোংলা বন্দর আধুনিকায়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং কানেক্টিভিটি বাড়িয়ে বাংলাদেশকে আঞ্চলিক লজিস্টিক হাবে পরিণত করার পরিকল্পনাও সরকারের রয়েছে। 

তিতুমীর বলেন, বাংলাদেশ কোনো একক অংশীদারত্বে বিশ্বাস করে না বরং অন্তর্ভুক্তিমূলক সহযোগিতার মাধ্যমে পূর্ব এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপসহ বিভিন্ন অঞ্চলের সঙ্গে অংশীদারিত্ব জোরদার করতে চায়। জাতীয় স্বার্থ, শিল্পায়ন, অর্থনৈতিক আধুনিকায়ন এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের ভিত্তিতেই বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক আগামী দিনে আরও গভীর ও শক্তিশালী হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

ঢাকায় চীন দূতাবা‌সের সংস্কৃতি বিষয়ক কাউন্সেলর লি শাও ফেং ব‌লেন, বাংলাদেশের উন্নয়নে চীনের সহযোগিতা কোনো রাজনৈতিক শর্ত বা ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থে নয় বরং পারস্পরিক সম্মান, সমতা এবং উভয়ের লাভের নীতিতে পরিচালিত হয়।

বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়নে চীন সহযোগিতা বাড়াচ্ছে উ‌ল্লেখ ক‌রে শাও ফেং ব‌লেন, চীন বাংলাদেশের সঙ্গে শিক্ষা, কারিগরি প্রশিক্ষণ, বিনিয়োগ, অবকাঠামো ও আঞ্চলিক সংযোগে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণে প্রস্তুত। এ ছাড়া আরো বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর জন্য উচ্চশিক্ষা, ভাষা শিক্ষা এবং দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ বাড়ানো হবে।