• ই-পেপার

ডিএমপির ২৪ ঘণ্টার অভিযানে গ্রেপ্তার ৩৭০, মামলা ৪০

১ হাজার টাকার জন্য ভাড়াটিয়াকে হত্যা, আটক ২

নিজস্ব প্রতিবেদক
১ হাজার টাকার জন্য ভাড়াটিয়াকে হত্যা, আটক ২

রাজধানীর লালবাগ থানার আজিমপুর মেডিক্যাল স্টাফ কোয়ার্টারে বাসা ভাড়ার পাওনা ১ হাজার টাকাকে কেন্দ্র করে স্বপন (৬০) নামে এক বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে মূল অভিযুক্ত রিজভী ও তার চাচাতো ভাই রোহানকে আটক করেছে পুলিশ। বর্তমানে তারা পুলিশ হেফাজতে রয়েছে।

সোমবার (১৩ জুলাই) ভোর ৪টার দিকে স্টাফ কোয়ার্টারের ৪ নম্বর ভবনের ৮১ নম্বর ফ্ল্যাটের সামনে ও সংলগ্ন মাঠে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত স্বপন মাদারীপুর জেলার শিবচর থানার তাহের ফকিরকান্দি গ্রামের বাসিন্দা। তার পিতার নাম মৃত আব্দুল মান্নান। তিনি পেশায় একজন কসমেটিকস ব্যবসায়ী। বর্তমানে তিনি ও তার ভাই রাজা মোহাম্মদ সেলিম আজিমপুর মেডিক্যাল স্টাফ কোয়ার্টারের নিচতলার একটি কক্ষে ৬ হাজার টাকা ভাড়ায় বসবাস করছিলেন।

নিহতের ভাই রাজা মোহাম্মদ সেলিম জানান, আমার ভাই স্বপন অত্যন্ত শান্ত প্রকৃতির মানুষ ছিলেন। কারো সঙ্গে কখনো কোনো বিরোধে জড়াতেন না। আমরা দুই ভাই এখানে সাবলেটে (ভাড়ায়) থাকতাম। অভিযুক্ত রিজভী মাস শেষ হওয়ার আগেই আমাদের কাছে ভাড়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করতেন। চলতি মাসের ভাড়ার মধ্যে মাত্র ১ হাজার টাকা বকেয়া ছিল। রাতে রিজভী ওই টাকা চাইলে আমরা বলি, দু-এক দিনের মধ্যে পরিশোধ করে দেব। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে রিজভী আমাদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং দেখে নেওয়ার হুমকি দেয়। আজ ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে রিজভী এবং তার চাচাতো ভাই রোহান তাদের রুমের সামনে এসে চড়াও হয়। কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে বাধা দিতে গেলে তারা সেলিমকে লাথি মেরে ফেলে দেয়। এরপর বৃদ্ধ স্বপনকে জোরপূর্বক টেনে-হিঁচড়ে স্টাফ কোয়ার্টারের সামনের একটি মাঠে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে এলোপাতাড়ি লাথি ও বুকে উপর্যুপরি কিল-ঘুষি মেরে গুরুতর জখম করা হয়।

মারধরের একপর্যায়ে স্বপন অচেতন ও মুমূর্ষু হয়ে পড়লে অভিযুক্তরা তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলে ঘটনাস্থল থেকে সটকে পড়ার চেষ্টা করে। পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে ভোর ৫টার দিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিলে চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. ফারুক মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বর্তমানে ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মর্গে রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।

ঘটনার পরপরই তৎপরতা চালিয়ে অভিযুক্ত দুই আসামিকে আটক করা হয়েছে। বিষয়টি লালবাগ থানায় জানানো হয়েছে এবং এ বিষয়ে একটি হত্যা মামলার প্রক্রিয়া চলমান।

রাজধানীর সড়কে জলাবদ্ধতা, সময় নিয়ে বের হতে পুলিশের অনুরোধ

অনলাইন ডেস্ক
রাজধানীর সড়কে জলাবদ্ধতা, সময় নিয়ে বের হতে পুলিশের অনুরোধ

রাজধানীতে গত কয়েক দিন ধরে বৃষ্টি ঝরছে। এতে সড়কগুলোতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। আজ সোমবারও সকাল থেকেই বৃষ্টি হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে গন্তেব্যে যাওয়ার জন্য হাতে পর্যাপ্ত সময় নিয়ে বের হওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে পুলিশ।

সোমবার সকালে ট্রাফিক পুলিশের গুলশান বিভাগের ফেসবুক পেজে এ অনুরোধ জানানো হয়।

বার্তায় বলা হয়, গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিপাতের কারণে বিভিন্ন সড়কের নিচু স্থানসমূহে জলাবদ্ধতার কারণে যান চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে। আজকেও সকাল থেকেই বৃষ্টি ঝরছে।

এতে জানানো হয়, বনানী কবরস্থানের কাছে ঢাকা গেট সংলগ্ন মূল সড়কের ইনকামিং এবং আউটগোয়িং উভয় দিকেই  কিছুটা জলাবদ্ধতা রয়েছে। যান চলাচল কিছুটা বিঘ্নিত হচ্ছে।

বনানী/কাকলী অ্যালিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নামার র‍্যাম্প প্রান্তে  হালকা পানি জমেছে। যান চলাচল কিছুটা ধীর। ইসিবি এলাকায় ক্যান্টনমেন্ট গার্লস স্কুলের সামনে পানি জমে রয়েছে। ফলে মিরপুর ডিওএইচএস এবং কালশী হতে ইসিবি হয়ে মাটিকাটা ফ্লাইওভারগামী যানবাহন ধীরগতিতে চলাচল করতে পারছে।

যমুনা ফিউচার পার্কের সামনের সড়কে বৃষ্টির পানি জমার কারণে এবং ঢাকা ওয়াসার পাইপলাইনিং কাজের জন্য যান চলাচলে ধীরগতি রয়েছে।

পুলিশের বার্তায় বলা হয়, সকাল থেকেই বৃষ্টিপাত হচ্ছে। যার ফলে উল্লিখিত সড়কে জলাবদ্ধতার কারণে যান চলাচল বিঘ্নিত হতে পারে। এমতাবস্থায় সম্ভব হলে বিকল্প সড়ক ব্যবহার করা এবং হাতে পর্যাপ্ত সময় নিয়ে চলাচল করার জন্য অনুরোধ করা হলো।

ঢাকায় হঠাৎ কেন এতো বৃষ্টি

অনলাইন ডেস্ক
ঢাকায় হঠাৎ কেন এতো বৃষ্টি
টানা বৃষ্টিতে গতকাল রবিবার রাজধানীর অনেক সড়ক তলিয়ে যায়। গ্রিন রোড থেকে তোলা। ছবি : শেখ হাসান

রাজধানী ঢাকায় মাত্র ৯ ঘণ্টায় ৯৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। তার আগের ২৪ ঘণ্টায় হয়েছিল আরও ৯৭ মিলিমিটার। অর্থাৎ মাত্র ৩৩ ঘণ্টায় ঢাকায় ১৯২ মিলিমিটার বৃষ্টি, যা পুরো জুলাই মাসের স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের অর্ধেকেরও বেশি। 

আবহাওয়াবিদদের বরাতে বাংলাদেশ প্রতিদিনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, এটি স্বাভাবিক মৌসুমি বৃষ্টিপাত নয়; বরং সক্রিয় মৌসুমি বায়ু ও পশ্চিমা লঘুচাপের বিরল সমন্বয়ে তৈরি হয়েছে এমন পরিস্থিতি। এর প্রভাবেই দেশজুড়ে অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাত, উজান থেকে পাহাড়ি ঢল এবং দ্রুত বাড়ছে নদনদীর পানি। ফলে আগামী ২৪ ঘণ্টায় উত্তর, উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের আরও বিস্তীর্ণ এলাকা নতুন করে বন্যাকবলিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সেই সঙ্গে ভূমি ধসের ঝুঁকি বাড়ছে। তবে সপ্তাহের শেষ দিকে বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা কমতে পারে বলে আশা করছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

কেন এমন অস্বাভাবিক বৃষ্টি হচ্ছে—তার ব্যাখ্যা দিয়েছেন আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক। তিনি বলেন, বর্তমানে মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর অত্যন্ত সক্রিয়। একই সময়ে পশ্চিমা লঘুচাপও প্রভাব বিস্তার করছে। পূর্ব দিক থেকে আসা আর্দ্র মৌসুমি বায়ু এবং পশ্চিম দিক থেকে আসা লঘুচাপজনিত বায়ুপ্রবাহ পরস্পরের সঙ্গে সংঘর্ষে ব্যাপক মেঘমালা সৃষ্টি করছে। এর ফলেই দেশজুড়ে দীর্ঘস্থায়ী ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। পাশাপাশি সিলেট ও চট্টগ্রামের পাহাড়ে আর্দ্র বাতাস বাধাপ্রাপ্ত হওয়ায় সেখানে আরও বেশি বৃষ্টিপাত হচ্ছে এবং পাহাড়ি ঢল সৃষ্টি হচ্ছে।

আবহাওয়াবিদ খন্দকার হাফিজুর রহমান বলেন, আগামী দুই থেকে তিন দিন পর বৃষ্টিপাতের তীব্রতা কমতে পারে। সপ্তাহের শেষ দিকে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে পুরো জুলাই মাসেই থেমে থেমে বৃষ্টির প্রবণতা থাকতে পারে। চলতি বছরে কেন বৃষ্টিপাত স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হচ্ছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত হতে আরও কিছুদিন পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন। 

তিনি বলেন, ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে বন্যা ও পাহাড়ি এলাকায় ভূমি ধসের আশঙ্কা রয়েছে। এজন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের জন্য বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রকে আগাম সতর্ক করা হয়েছে।

এদিকে টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে চট্টগ্রাম, বান্দরবান, কক্সবাজার, সিলেট ও পার্বত্য অঞ্চলে ভূমি ধসের ঝুঁকি বেড়েছে। একই সঙ্গে রাজধানীসহ বিভিন্ন শহরে জলাবদ্ধতা, যানজট, সড়ক যোগাযোগে বিঘ্ন এবং নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কাও বাড়ছে।

১৭ বছরে ঢাকায় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বৃষ্টি, আরো পাঁচ দিন ভারি বর্ষণের শঙ্কা

অনলাইন ডেস্ক
১৭ বছরে ঢাকায় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বৃষ্টি, আরো পাঁচ দিন ভারি বর্ষণের শঙ্কা
ছবি: লুৎফর রহমান

রাজধানী ঢাকায় ২৪ ঘণ্টায় ১৭৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এটি গত ১৭ বছরে দ্বিতীয় সবোর্চ্চ। এর আগে ২০০৯ সালের ২৪ ঘণ্টায় ঢাকায় সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছিল ৩৩৩ মিলিমিটার।

আবহাওয়াবিদ একেএম নাজমুল হক জানান, রবিবার ২০০৯ সালের পর সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর সক্রিয় থাকায় এমন বৃষ্টিপাত হচ্ছে। তবে বর্ষায় বৃষ্টি বেশি হবে, এটাই স্বাভাবিক। 

তিনি বলেন, চট্টগ্রামে ১৬০ মিলিমিটার, কক্সবাজারে ১১৩ মিলিমিটার, আমবাগানে ১৪০ মিলিমিটার, ফরিদপুরে ১১১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

নাজমুল হক জানান, মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর সক্রিয় থাকায় আগামী পাঁচ দিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। বিশেষ করে রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে।
 
১৩ জুলাইয়ের পূর্বাভাসে রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও খুলনা বিভাগের অধিকাংশ স্থানে এবং ঢাকা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক স্থানে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এ সময় কয়েকটি এলাকায় ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণ হতে পারে। দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়লেও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

১৪ জুলাই রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের অনেক স্থানে এবং দেশের অন্যান্য বিভাগের কিছু কিছু স্থানে বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের কোথাও কোথাও ভারি বর্ষণ হতে পারে। দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে।

১৫ ও ১৬ জুলাই খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক স্থানে এবং দেশের অন্যান্য বিভাগের কিছু কিছু স্থানে বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে এসব বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে ভারি বর্ষণ হতে পারে। এ সময় দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

এদিকে চট্টগ্রামের পাঁচ জেলায় বন্যা ও পাহাড়ধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫১ জনে দাঁড়িয়েছে। মৃতদের মধ্যে রাঙ্গামাটিতে তিনজন, বান্দরবানে ছয়জন, কক্সবাজারে ২৮ জন, চট্টগ্রামে ১৩ জন ও মৌলভীবাজারে একজন রয়েছেন। এ ছাড়া আহত হয়েছেন ৩৯ জন। তাদের মধ্যে খাগড়াছড়িতে একজন, বান্দরবানে দুজন, কক্সবাজারে ২৪ জন ও চট্টগ্রামে ১২ জন।