রাজধানীর জনসন রোডে ঢাকা জেলা পরিষদের ২০ তলা বাণিজ্যিক টাওয়ার নির্মাণকাজের দীর্ঘ ১৪ বছরের অচলাবস্থার অবসান ঘটতে যাচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ঢাকা জেলা পরিষদের প্রশাসক ইয়াছিন ফেরদৌস মোরাদ স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে না পারায় এবং দীর্ঘমেয়াদি স্থবিরতার কারণে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘তমা কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড কোং লিমিটেড’-এর সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তি বাতিল করেছে ঢাকা জেলা পরিষদ। জনস্বার্থ এবং সরকারি সম্পদের সুরক্ষা বিবেচনায় প্রচলিত আইন ও সরকারি ক্রয়বিধি অনুসরণ করে এই চুক্তি বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে আধুনিক ও কার্যকর বাস্তবায়ন পদ্ধতিতে প্রকল্পের অবশিষ্ট কাজ দ্রুত শেষ করতে নতুন ঠিকাদার নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ঢাকা জেলা পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, পরিষদের স্থায়ী রাজস্ব আয় বৃদ্ধি এবং রাজধানীতে একটি আধুনিক সরকারি বাণিজ্যিক কমপ্লেক্স প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এই টাওয়ার নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০১২ সালে প্রায় ১৬০ কোটি ২৬ লাখ টাকা ব্যয়ে তমা কনস্ট্রাকশনের সঙ্গে নির্মাণ চুক্তি সম্পাদিত হয়। চুক্তি অনুযায়ী ২০১৫ সালের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও পরবর্তীতে সময় বাড়িয়ে ২০১৬ সালের শেষ নাগাদ করা হয়। তবে বর্ধিত সময়েও প্রকল্পটির মাত্র ৩৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয় এবং ২০১৭ সাল থেকে নির্মাণকাজ কার্যত বন্ধ হয়ে থাকে। ফলে দীর্ঘ বছর ধরে এই সরকারি সম্পদটি অসমাপ্ত অবস্থায় পড়ে থাকায় জেলা পরিষদ বিপুল পরিমাণ সম্ভাব্য রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়।
সম্প্রতি ঢাকা জেলা পরিষদের বর্তমান প্রশাসক ইয়াছিন ফেরদৌস মোরাদ দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রকল্পটির সার্বিক অবস্থা পর্যালোচনা করেন। ভবনের কাঠামোগত নিরাপত্তা ও নির্মাণমান নির্ধারণে বুয়েটের বিশেষজ্ঞদের মতামত এবং সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠকের পর তমা কনস্ট্রাকশনের সঙ্গে চুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এ বিষয়ে ঢাকা জেলা পরিষদের প্রশাসক ইয়াছিন ফেরদৌস মোরাদ বলেন, “ঢাকা জেলা পরিষদ টাওয়ার শুধু একটি ভবন নয়; এটা ঢাকা জেলা পরিষদের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক শক্তি, আধুনিক নগর উন্নয়ন এবং সরকারি সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহারের প্রতীক। দীর্ঘদিন ধরে স্থবির থাকা এই প্রকল্পকে আমরা আর বালুচরে হারিয়ে যেতে দেব না। জনগণের স্বার্থে এবং সরকারি সম্পদের সুরক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”
ঢাকা জেলা পরিষদ জানিয়েছে, ভবনটি দ্রুত ব্যবহার উপযোগী করতে আন্তর্জাতিক মানের অগ্নি-নিরাপত্তা, বৈদ্যুতিক ও যান্ত্রিক ব্যবস্থা সংযোজন করা হবে। অবশিষ্ট কাজ সম্পন্ন করতে আধুনিক প্রকৌশল পদ্ধতি এবং সরকারি ক্রয়বিধি অনুসরণ করে নতুন বাস্তবায়ন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। প্রকল্পটি পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে ঢাকা জেলা পরিষদের নিজস্ব রাজস্ব উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার আর্থিক সক্ষমতা আরো সুদৃঢ় হবে, শত শত মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং রাজধানীতে একটি আধুনিক সরকারি বাণিজ্যিক কেন্দ্র গড়ে উঠবে।
প্রশাসক ইয়াছিন ফেরদৌস মোরাদ আশাবাদ ব্যক্ত করে আরো বলেন, সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং গুণগত মান নিশ্চিত করে দ্রুত নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা হবে, যা ঢাকা জেলা পরিষদের আর্থিক স্বনির্ভরতার নতুন অধ্যায় রচনা করবে। এই বহু প্রতীক্ষিত প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়নে তিনি সংশ্লিষ্ট সকল মন্ত্রণালয়, বিশেষজ্ঞ প্রতিষ্ঠান এবং গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করেছেন।




