• ই-পেপার

পুরান ঢাকায় ভবনে আগুন, একজনের মরদেহ উদ্ধার

তমার চুক্তি বাতিল, নতুন উদ্যোগে সচল হচ্ছে ২০ তলা ঢাকা জেলা পরিষদ

নিজস্ব প্রতিবেদক
তমার চুক্তি বাতিল, নতুন উদ্যোগে সচল হচ্ছে ২০ তলা ঢাকা জেলা পরিষদ

রাজধানীর জনসন রোডে ঢাকা জেলা পরিষদের ২০ তলা বাণিজ্যিক টাওয়ার নির্মাণকাজের দীর্ঘ ১৪ বছরের অচলাবস্থার অবসান ঘটতে যাচ্ছে। 

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ঢাকা জেলা পরিষদের প্রশাসক ইয়াছিন ফেরদৌস মোরাদ স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। 

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে না পারায় এবং দীর্ঘমেয়াদি স্থবিরতার কারণে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘তমা কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড কোং লিমিটেড’-এর সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তি বাতিল করেছে ঢাকা জেলা পরিষদ। জনস্বার্থ এবং সরকারি সম্পদের সুরক্ষা বিবেচনায় প্রচলিত আইন ও সরকারি ক্রয়বিধি অনুসরণ করে এই চুক্তি বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে আধুনিক ও কার্যকর বাস্তবায়ন পদ্ধতিতে প্রকল্পের অবশিষ্ট কাজ দ্রুত শেষ করতে নতুন ঠিকাদার নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

​ঢাকা জেলা পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, পরিষদের স্থায়ী রাজস্ব আয় বৃদ্ধি এবং রাজধানীতে একটি আধুনিক সরকারি বাণিজ্যিক কমপ্লেক্স প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এই টাওয়ার নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০১২ সালে প্রায় ১৬০ কোটি ২৬ লাখ টাকা ব্যয়ে তমা কনস্ট্রাকশনের সঙ্গে নির্মাণ চুক্তি সম্পাদিত হয়। চুক্তি অনুযায়ী ২০১৫ সালের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও পরবর্তীতে সময় বাড়িয়ে ২০১৬ সালের শেষ নাগাদ করা হয়। তবে বর্ধিত সময়েও প্রকল্পটির মাত্র ৩৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয় এবং ২০১৭ সাল থেকে নির্মাণকাজ কার্যত বন্ধ হয়ে থাকে। ফলে দীর্ঘ বছর ধরে এই সরকারি সম্পদটি অসমাপ্ত অবস্থায় পড়ে থাকায় জেলা পরিষদ বিপুল পরিমাণ সম্ভাব্য রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়।

​সম্প্রতি ঢাকা জেলা পরিষদের বর্তমান প্রশাসক ইয়াছিন ফেরদৌস মোরাদ দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রকল্পটির সার্বিক অবস্থা পর্যালোচনা করেন। ভবনের কাঠামোগত নিরাপত্তা ও নির্মাণমান নির্ধারণে বুয়েটের বিশেষজ্ঞদের মতামত এবং সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠকের পর তমা কনস্ট্রাকশনের সঙ্গে চুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

​এ বিষয়ে ঢাকা জেলা পরিষদের প্রশাসক ইয়াছিন ফেরদৌস মোরাদ বলেন, “ঢাকা জেলা পরিষদ টাওয়ার শুধু একটি ভবন নয়; এটা ঢাকা জেলা পরিষদের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক শক্তি, আধুনিক নগর উন্নয়ন এবং সরকারি সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহারের প্রতীক। দীর্ঘদিন ধরে স্থবির থাকা এই প্রকল্পকে আমরা আর বালুচরে হারিয়ে যেতে দেব না। জনগণের স্বার্থে এবং সরকারি সম্পদের সুরক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”

​ঢাকা জেলা পরিষদ জানিয়েছে, ভবনটি দ্রুত ব্যবহার উপযোগী করতে আন্তর্জাতিক মানের অগ্নি-নিরাপত্তা, বৈদ্যুতিক ও যান্ত্রিক ব্যবস্থা সংযোজন করা হবে। অবশিষ্ট কাজ সম্পন্ন করতে আধুনিক প্রকৌশল পদ্ধতি এবং সরকারি ক্রয়বিধি অনুসরণ করে নতুন বাস্তবায়ন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। প্রকল্পটি পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে ঢাকা জেলা পরিষদের নিজস্ব রাজস্ব উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার আর্থিক সক্ষমতা আরো সুদৃঢ় হবে, শত শত মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং রাজধানীতে একটি আধুনিক সরকারি বাণিজ্যিক কেন্দ্র গড়ে উঠবে।

​প্রশাসক ইয়াছিন ফেরদৌস মোরাদ আশাবাদ ব্যক্ত করে আরো বলেন, সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং গুণগত মান নিশ্চিত করে দ্রুত নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা হবে, যা ঢাকা জেলা পরিষদের আর্থিক স্বনির্ভরতার নতুন অধ্যায় রচনা করবে। এই বহু প্রতীক্ষিত প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়নে তিনি সংশ্লিষ্ট সকল মন্ত্রণালয়, বিশেষজ্ঞ প্রতিষ্ঠান এবং গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

বায়রার নির্বাচন আগামী ১৪ নভেম্বর

নিজস্ব প্রতিবেদক
বায়রার নির্বাচন আগামী ১৪ নভেম্বর
সংগৃহীত ছবি

জনশক্তি রপ্তানিকারকদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিজ (বায়রা)-এর ২০২৬ থেকে ২০২৮ মেয়াদের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী ১৪ নভেম্বর এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। 

আজ বৃহস্পতিবার নির্বাচন বোর্ডের চেয়ারম্যান ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব ফিরোজ আল মামুন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। 

নির্বাচনী তফসিলে বলা হয়েছে, আগামী মেয়াদে সংগঠনের ২৭ সদস্যবিশিষ্ট পরিচালনা পর্ষদ গঠনের লক্ষ্যে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। পর্ষদের মধ্যে রয়েছেন একজন প্রেসিডেন্ট, একজন সিনিয়র ভাইস-প্রেসিডেন্ট, তিনজন ভাইস-প্রেসিডেন্ট, একজন সেক্রেটারি জেনারেল, তিনজন জয়েন্ট সেক্রেটারি জেনারেল, একজন ফাইন্যান্স সেক্রেটারি, একজন স্পোর্টস, রিক্রিয়েশন অ্যান্ড কালচারাল সেক্রেটারি, একজন পাবলিক রিলেশনস সেক্রেটারি, একজন মেম্বার্স ওয়েলফেয়ার সেক্রেটারি এবং ১৪ জন সাধারণ সদস্য।

তফসিলে বলা হয়েছে, নির্বাচনে ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য ভোটারদের আগামী ১৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বার্ষিক চাঁদা ও অন্যান্য বকেয়া পরিশোধ করতে হবে। একই তারিখে বিকেল ৫টার মধ্যে ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির আবেদন দাখিল করতে হবে।

আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর প্রাথমিক ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে। প্রাথমিক বায়রার ভোটার তালিকার ওপর ২৫ থেকে ২৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আপত্তি দাখিল করা যাবে। ২৮ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আপিল বোর্ড তা শুনানি শেষে নিষ্পত্তি করবে। এরপর ১ থেকে ২ অক্টোবরের মধ্যে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করবে নির্বাচন বোর্ড।

মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও দাখিল : আগ্রহী প্রার্থীরা আগামী ২ থেকে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টার মধ্যে নির্ধারিত কাগজপত্রসহ মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও দাখিল করতে পারবেন।

বাছাই ও চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা : ৯ থেকে ১৫ অক্টোবর মনোনয়নপত্র পরীক্ষা শেষে প্রাথমিক প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে। ২১ অক্টোবর বৈধ প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর ২২ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সুযোগ থাকবে। এরপর ২৪ অক্টোবর চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে।

তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১৪ নভেম্বর সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোট গ্রহণ চলবে এবং ভোট গণনা শেষে ওই দিনই নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণা করা হবে। নির্বাচনের চূড়ান্ত ভোট কেন্দ্র ভোটগ্রহণের আগে জানিয়ে দেওয়া হবে।

নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়ে কোনো আপত্তি থাকলে নির্দিষ্ট ফি ও সময়সীমা মেনে ১৫ নভেম্বর থেকে আবেদন করা যাবে। ১৬ ও ১৭ নভেম্বর শুনানি শেষে ১৮ নভেম্বর নির্বাচন বোর্ড চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করবে। ফলাফল নিয়ে কোনো আপত্তি থাকলে ১৯ থেকে ২১ নভেম্বর বিকাল ৬টার মধ্যে পৃথক ধাপে নির্বাচন আপিল বোর্ডের কাছে আবেদন করা যাবে।

২২ থেকে ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত সকল আইনি প্রক্রিয়া ও শুনানি সম্পন্ন করে ২৫ নভেম্বর সংশোধিত (যদি প্রয়োজন হয়) চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করবে নির্বাচন বোর্ড। নির্বাচন বোর্ড জানিয়েছে, বিশেষ প্রয়োজনে এই তফসিল পরিবর্তন, পরিমার্জন বা সংশোধন করার সম্পূর্ণ এখতিয়ার তারা সংরক্ষণ করে।

গর্ভাবস্থায় এন্ডোক্রাইন রোগ ব্যবস্থাপনায় সমন্বিত চিকিৎসার ওপর জোর

নিজস্ব প্রতিবেদক
গর্ভাবস্থায় এন্ডোক্রাইন রোগ ব্যবস্থাপনায় সমন্বিত চিকিৎসার ওপর জোর

গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস, থাইরয়েড, অ্যাড্রিনালসহ বিভিন্ন এন্ডোক্রাইন রোগ মা ও অনাগত শিশুর জন্য গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এসব রোগের আধুনিক ব্যবস্থাপনা এবং চিকিৎসকদের সর্বশেষ বৈজ্ঞানিক জ্ঞান সমৃদ্ধ করতে বাংলাদেশ এন্ডোক্রাইন সোসাইটির (বিইএস) উইমেনস হেলথ টাস্ক ফোর্সের উদ্যোগে ‘প্রেগন্যান্সি অ্যান্ড কমন এন্ডোক্রাইন ডিসওর্ডার’ শীর্ষক একটি বৈজ্ঞানিক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (৯ জুলাই) রাজধানীর ঢাকা ক্লাবে অনুষ্ঠিত সেমিনারের বৈজ্ঞানিক অংশীদার ছিল পপুলার ফার্মাসিউটিক্যালস। এতে দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ ও বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের এন্ডোক্রাইনোলজিস্ট, স্ত্রীরোগ ও প্রসূতিবিদ, মেডিসিন বিশেষজ্ঞ এবং অন্যান্য চিকিৎসকেরা অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের স্ত্রী ও প্রসূতিবিদ্যা বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. মালিহা রশিদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন বাংলাদেশ এন্ডোক্রাইন সোসাইটির প্রধান পৃষ্ঠপোষক অধ্যাপক ডা. মো. ফারুক পাঠান। সভাপতিত্ব করেন সোসাইটির সভাপতি ডা. ফারিয়া আফসানা। স্বাগত বক্তব্য দেন উইমেনস হেলথ টাস্ক ফোর্সের কনভেনর ও গ্রিন লাইফ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. তানজিনা হোসেন। অনুষ্ঠানে সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক ডা. এম সাইফুদ্দিনসহ নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং পপুলার ফার্মাসিউটিক্যালস পিএলসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও ছিলেন।

সেমিনারে গর্ভাবস্থায় অ্যাড্রিনাল ইনসাফিসিয়েন্সি, থাইরয়েড ম্যালিগন্যান্সির ইতিহাস থাকা নারীদের চিকিৎসা, প্রোল্যাকটিনোমা, পলিএন্ডোক্রাইন মেটাবলিক ওভারিয়ান সিনড্রোম (পিএমওএস) এবং গ্রেভস ডিজিজের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে সাম্প্রতিক চিকিৎসা নির্দেশনা, বাস্তব অভিজ্ঞতা ও কেসভিত্তিক ব্যবস্থাপনা তুলে ধরা হয়।

বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডা. শাহিন ইবনে রহমান, ডা. আহমেদ ইফরাদ বিন রওনক, ডা. সানজিদা ইসলাম, ডা. রিফাত ফেরদৌস ও ডা. আফিয়া জয়নব তন্নি। আলোচনায় প্যানেলিস্ট হিসেবে অংশ নেন ডা. নাজমা আক্তার, ডা. মির্জা শরিফুজ্জামান, ডা. মারুফা মোস্তারী, ডা. ফৌজিয়া আনার এবং ডা. রেজওয়ানা সোবহান।

অধ্যাপক ডা. মালিহা রশিদ বলেন, গর্ভাবস্থায় এন্ডোক্রাইন রোগের প্রভাব শুধু মায়ের স্বাস্থ্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না, এটি অনাগত শিশুর সুস্থ বিকাশের সঙ্গেও নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত। তাই প্রসূতি ও এন্ডোক্রাইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বিত চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার পাশাপাশি চিকিৎসকদের নিয়মিত বৈজ্ঞানিক প্রশিক্ষণের সুযোগ বাড়ানো সময়ের দাবি।

অধ্যাপক ডা. মো. ফারুক পাঠান বলেন, চিকিৎসাবিজ্ঞানে প্রতিনিয়ত নতুন গবেষণা ও চিকিৎসা নির্দেশিকা যুক্ত হচ্ছে। এসব অগ্রগতি চিকিৎসকদের কাছে পৌঁছে দিতে এ ধরনের বৈজ্ঞানিক সেমিনার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এর মাধ্যমে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার বিনিময় শেষ পর্যন্ত রোগীদের আরো নিরাপদ ও উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।

বাংলাদেশ এন্ডোক্রাইন সোসাইটির সভাপতি ডা. ফারিয়া আফসানা বলেন, এন্ডোক্রাইন রোগের চিকিৎসায় এখন মাল্টিডিসিপ্লিনারি সমন্বয় অপরিহার্য। এ ধরনের বৈজ্ঞানিক আয়োজন চিকিৎসকদের মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং রোগীকেন্দ্রিক চিকিৎসাসেবা আরো কার্যকর করতে সহায়তা করছে।

উইমেনস হেলথ টাস্ক ফোর্সের কনভেনর অধ্যাপক ডা. তানজিনা হোসেন বলেন, গর্ভাবস্থায় এন্ডোক্রাইন রোগের সময়োপযোগী ও সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে মা ও নবজাতকের জটিলতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। এ জন্য চিকিৎসকদের সর্বশেষ বৈজ্ঞানিক তথ্য ও আন্তর্জাতিক নির্দেশনা সম্পর্কে নিয়মিত প্রশিক্ষণ জরুরি।

বাংলাদেশ এন্ডোক্রাইন সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক ডা. এম সাইফুদ্দিন বলেন, দেশে এন্ডোক্রাইন চিকিৎসার মানোন্নয়নে ধারাবাহিক বৈজ্ঞানিক শিক্ষা ও গবেষণার বিকল্প নেই। ভবিষ্যতেও চিকিৎসকদের জন্য আন্তর্জাতিক মানের বৈজ্ঞানিক কার্যক্রম আয়োজন অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

পপুলার ফার্মাসিউটিক্যালসের গ্রুপ প্রোডাক্ট ম্যানেজার (পিএমডি) শ্রীকান্ত ভট্টাচার্য বলেন, আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতি তখনই রোগীর কাছে পৌঁছায়, যখন চিকিৎসকদের জন্য নিয়মিত বৈজ্ঞানিক শিক্ষা ও জ্ঞান বিনিময়ের সুযোগ তৈরি হয়। এ ধরনের উদ্যোগের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকতে পেরে প্রতিষ্ঠানটি গর্বিত।

প্লাস্টিক দূষণ কমাতে ২৫ উদ্যোক্তাকে ৫৪ লাখ টাকার পুরস্কার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্লাস্টিক দূষণ কমাতে ২৫ উদ্যোক্তাকে ৫৪ লাখ টাকার পুরস্কার

প্লাস্টিক দূষণ কমাতে উদ্ভাবনী ব্যবসায়িক পরিকল্পনা তৈরিতে ২৫ জন উদ্যোক্তাকে মোট ৫৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা পুরস্কার দিয়েছে জাতিসংঘ শিল্প উন্নয়ন সংস্থা (ইউনিডো) ও এসএমই ফাউন্ডেশন। পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি, সার্কুলার অর্থনীতি এবং টেকসই উদ্যোক্তা উন্নয়নে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাজধানীর সোবহানবাগে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট (বিআইএম) মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ক্লিনটেক অ্যাকসেলারেটর অ্যান্ড কমার্শিয়ালাইজেশন প্রোগ্রামের আওতায় সারা দেশ থেকে ৬৪১ জন উদ্যোক্তা আবেদন করেন। যাচাই-বাছাই শেষে ৩০ জনকে চূড়ান্ত পর্বে নেওয়া হয়। সেখান থেকে ২৫ জন উদ্যোক্তা পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত হন। প্রথম তিনজনকে ৫ লাখ টাকা, পরবর্তী সাতজনকে ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং পরবর্তী ১৫ জনকে ১ লাখ টাকা করে পুরস্কার দেওয়া হয়।

পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, উৎপাদন ও ভোগের প্রতিটি ধাপে সম্পদের দক্ষ ব্যবহার নিশ্চিত, পুনঃব্যবহার ও পুনর্ব্যবহার বাড়ানো এবং বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তর করা গেলে একই সঙ্গে পরিবেশ সুরক্ষা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব হবে।

এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ার হোসেন চৌধুরী বলেন, দেশে প্লাস্টিকের ব্যবহার ও বর্জ্য প্রতিনিয়ত বাড়ছে। বিশ্বব্যাংকের ২০২০ সালের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে বছরে প্রায় ৯ লাখ ৭৭ হাজার টন প্লাস্টিক বর্জ্য তৈরি হলেও পুনর্ব্যবহার হয় মাত্র ৩১ শতাংশ। শুধু ঢাকায় প্রতিদিন ৬৪৬ টন প্লাস্টিক বর্জ্য উৎপন্ন হয়, যার পুনর্ব্যবহার হয় মাত্র ৩৭ শতাংশ।

তিনি জানান, সরকারের জাতীয় কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে প্লাস্টিকের ব্যবহার অর্ধেকে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ধরনের উদ্যোগ সেই লক্ষ্য অর্জনের পাশাপাশি জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) ৯ ও ১২ বাস্তবায়নে সহায়ক হবে।

অনুষ্ঠানে আরো জানানো হয়, বর্তমানে দেশের অর্থনীতিতে এসএমই খাতের অবদান প্রায় ৩০ শতাংশ। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ২০২৪ সালের অর্থনৈতিক সমীক্ষা অনুযায়ী, দেশের প্রায় ১ কোটি ১৭ লাখ শিল্প প্রতিষ্ঠানের ৯৯ শতাংশই কুটির, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (সিএমএসএমই)। শিল্প খাতের মোট কর্মসংস্থানের প্রায় ৮৫ শতাংশ এই খাতের ওপর নির্ভরশীল এবং এতে কর্মরত রয়েছেন ৩ কোটির বেশি মানুষ।

২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন এসএমই ফাউন্ডেশনের বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে প্রায় ২২ লাখ ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা সুবিধা পেয়েছেন, যাদের মধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশ নারী উদ্যোক্তা।

পুরান ঢাকায় ভবনে আগুন, একজনের মরদেহ উদ্ধার | কালের কণ্ঠ