• ই-পেপার

কাটাছেঁড়া ছাড়াই বিনা মূল্যে ৭ শিশুর হার্টের ছিদ্র বন্ধ

যৌক্তিক স্থানে ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ উপজেলার সদর স্থাপনের দাবি, প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা

অনলাইন ডেস্ক
যৌক্তিক স্থানে ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ উপজেলার সদর স্থাপনের দাবি, প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা
সংগৃহীত ছবি

সদ্যঘোষিত চট্টগ্রামের নতুন উপজেলা ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ উপজেলার সদর স্থাপন নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। যৌক্তিক স্থানে ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ উপজেলা সদর দপ্তর স্থাপনের দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

শনিবার (১১ জুলাই) ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার সদরদপ্তর নারায়ণহাট-দাঁতমারার মধ্যবর্তী স্থানে সদরদপ্তর স্থাপনের দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধন করেন এলাকাবাসী।

মানববন্ধনের আগে জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ উপজেলার সদর নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়। এসময় যৌক্তিক স্থানে ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ উপজেলা সদর দপ্তর স্থাপনের দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী অ্যাড. মিজানুর রহমান চৌধুরী।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, উত্তর ফটিকছড়ি উপজেলার দাবি দীর্ঘদিনের। দীর্ঘদিনের আন্দোলনের পর সরকারের ১২১তম নিকার সভায় দেশের ৫০১তম উপজেলা হিসেবে উত্তর ফটিকছড়ির অনুমোদন উত্তরাঞ্চলের মানুষের ন্যায্য দাবির স্বীকৃতি। এজন্য সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।

এসময় আরো বক্তব্য দেন অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত সচিব শওকত আকবর, বিএনপি নেতা ও বিজিএমইএ পরিচালক রাকিবুল আলম চৌধুরী, বিএনপি নেতা ও হেয়াকো বনানী ডিগ্রি কলেজের সভাপতি মোজাম্মেল হায়দার বাবু, বিএনপি নেতা অ্যাড. ইউসুফ আলম মাসুদ, গণ অধিকার পরিষদের নেতা রবিউল হাসান তানজিম, ছাত্রদলের ঢাকা মহা নগর উত্তর শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, গাজী গিয়াস উদ্দিন, ইসলামী ছাত্রশিবির সহকারী দাওয়াহ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম শাফী প্রমুখ।

মন্ত্রীপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসসংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চট্টগ্রাম জেলার ফটিকছড়ি উপজেলার ৬টি ইউনিয়ন নিয়ে নতুন ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ উপজেলা গঠন করা হয়েছে। নতুন উপজেলার অন্তর্ভুক্ত ইউনিয়ন গুলো হলো বাগানবাজার, দাঁতমারা, নারায়ণহাট, ভূজপুর, হারুয়ালছড়ি ও সুয়াবিল ইউনিয়ন। এতে নতুন উপজেলার সদর দপ্তর ভূজপুর ইউনিয়নের পশ্চিম ভূজপুর মৌজায় স্থাপনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তারা জানান, শুরু থেকেই একটি মহল ভুজপুর থানাকে উপজেলায় রূপান্তরের চেষ্টা করেছিল। কিন্তু আন্দোলনের কারণে নতুন উপজেলার নাম রাখা হয় ‘উত্তর ফটিকছড়ি’। এখন একই মহল নতুন করে সদর দপ্তর ভুজপুরে নেওয়ার চেষ্টা করছে।

বক্তারা বলেন, ২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী সুয়াবিল ইউনিয়নের জনসংখ্যা মাত্র ১৮ হাজার ৮৮৪ জন। এই ইউনিয়নকে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্দেশ্য ছিল মানচিত্রে ভুজপুরকে উত্তরাঞ্চলের মাঝামাঝি অবস্থানে দেখানো। অথচ উত্তরাঞ্চলের তিন ইউনিয়নের ভৌগোলিক বিস্তৃতি ও জনসংখ্যা অনেক বেশি। তাদের ভাষ্য, শুধু একটি ইউনিয়নের আয়তনই প্রায় ১৯১ বর্গকিলোমিটার।

তারা অভিযোগ করেন, উপজেলা প্রশাসন চারটি ইউনিয়নের জনসংখ্যা ও প্রশাসনিক বাস্তবতার ভিত্তিতে যে প্রতিবেদন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছিল, পরবর্তীতে তা পরিবর্তন করা হয়েছে। কারা এবং কী কারণে সেই পরিবর্তন করেছে, তা তদন্ত করে প্রকাশ করার দাবি জানান তারা।

বক্তারা বলেন, প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে জনগণের দোরগোড়ায় সরকারি সেবা পৌঁছে দেওয়া। সদর দপ্তর যদি উত্তরাঞ্চলের পরিবর্তে দক্ষিণাংশের কাছাকাছি নির্ধারণ করা হয়, তাহলে উত্তরাঞ্চলের মানুষের জন্য উপজেলা প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যই ব্যাহত হবে।

তারা আরো বলেন, উত্তর ফটিকছড়ি এলাকায় দেশের বৃহত্তম রাবার বাগান, সাতটি চা বাগান, শিলুয়া গ্যাসক্ষেত্রসহ গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সম্পদ রয়েছে। এসব এলাকার মানুষ রাষ্ট্রের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও প্রশাসনিক সুবিধা থেকে দীর্ঘদিন বঞ্চিত। সীমান্তবর্তী হওয়ায় এলাকাটির কৌশলগত গুরুত্বও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা দাবি করেন, উত্তর ফটিকছড়ির তিন ইউনিয়নে ফটিকছড়ি উপজেলার মোট ভোটারের প্রায় ২৩ শতাংশ বাস করেন। অতীতে এবং সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচনে এসব এলাকা থেকে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী বড় ব্যবধানে ভোট পেয়েছেন। এরপরও ওই জনগোষ্ঠীর যৌক্তিক দাবি উপেক্ষিত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা।

বক্তারা আরো বলেন, ২০০৬ সালে ভুজপুর থানা প্রতিষ্ঠার সময়ও তারা এর অবস্থান নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন এবং আন্দোলন করেছিলেন। তাদের দাবি, সেই সময়ের প্রশাসনিক বৈষম্য এখন নতুন উপজেলা গঠনের ক্ষেত্রেও বহাল রাখার চেষ্টা চলছে।

তারা অভিযোগ করেন, ফ্যাসিবাদী আমলের কিছু প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ও ব্যক্তির প্রভাব এখনো রয়ে গেছে। নতুন উপজেলা গঠনের প্রস্তাবে সেই প্রভাব কাজ করেছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানান।

বক্তারা সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, উত্তর ফটিকছড়ির শুরু থেকে বাগানবাজার পর্যন্ত পুরো এলাকা সরেজমিন পরিদর্শন করে ভৌগোলিক অবস্থান, জনসংখ্যা, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং প্রশাসনিক সুবিধার বিষয় বিবেচনা করে সদর দপ্তরের স্থান পুনর্নির্ধারণ করা হোক।

তারা বলেন, আমাদের দাবি কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা নির্দিষ্ট এলাকার স্বার্থে নয়; বরং উত্তরাঞ্চলের মানুষের ন্যায্য অধিকার ও প্রশাসনিক সুবিধা নিশ্চিত করার জন্য।

যৌক্তিক স্থানে ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ উপজেলা সদর দপ্তর স্থাপনের দাবিতে চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে ঢাকা-খাগড়াছড়ি ও খাগড়াছড়ি-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে স্থানে সড়ক অবরোধ, টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ এবং মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।

সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলনের নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ন্যায্য স্থানে উত্তর ফটিকছড়ি উপজেলার সদর দপ্তর নির্ধারণ না করা পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে। নতুন প্রজন্ম কোনো ধরনের আশ্বাসে আন্দোলন থেকে সরে আসবে না।

এসময় তারা প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের প্রতি দ্রুত উচ্চপর্যায়ের তদন্তের মাধ্যমে বিষয়টি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান।

উত্তরায় শিশু যৌন নির্যাতনের অভিযোগে বৃদ্ধ গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক
উত্তরায় শিশু যৌন নির্যাতনের অভিযোগে বৃদ্ধ গ্রেপ্তার
সংগৃহীত ছবি

রাজধানীর উত্তরায় ১০ বছরের এক শিশুকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে আব্দুল মান্নান (৬০) নামের এক বৃদ্ধকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার বিকেলে ভুক্তভোগী শিশুটিকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. ফারুক। তিনি জানান, বিকেলে শিশুটিকে হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়েছে।

জানা গেছে, বেশ কিছুদিন আগে ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার গ্রামের বাড়ি থেকে পূর্বপরিচিত মান্নান ও তার স্ত্রী বেড়ানোর কথা বলে শিশুটিকে ঢাকায় নিয়ে আসেন। এর মাসখানেক পর, গত ৭ জুলাই মান্নান শিশুটির পরিবারকে ফোন করে জানান যে মেয়েটি অসুস্থ হয়ে পড়েছে এবং তাকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

খবর পেয়ে শিশুটির মামা ঢাকায় এসে হাসপাতালে ভাগ্নির সঙ্গে কথা বলেন। তখন শিশুটি জানায়, তাকে বিভিন্ন সময় যৌন নির্যাতন করা হয়েছে। পরে বিষয়টি উত্তরা পূর্ব থানা পুলিশকে জানানো হলে পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত মান্নানকে গ্রেপ্তার করে।

শিশুটির মামা বলেন, ‘ওরা আমাদের পরিচিত হওয়ায় বিশ্বাস করে পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু এসে শুনি আমার ভাগ্নির ওপর এই অত্যাচার করা হয়েছে। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই।’

উত্তরা পূর্ব থানা পুলিশ জানায়, এই ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় একটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

রাজধানীতে পুরুষাঙ্গ কর্তন ও ছুরিকাঘাতে রেল কর্মকর্তাকে হত্যা, প্রেমিকা আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীতে পুরুষাঙ্গ কর্তন ও ছুরিকাঘাতে রেল কর্মকর্তাকে হত্যা, প্রেমিকা আটক
ফাইল ছবি

রাজধানীর মহাখালীতে পরকীয়ার জেরে প্রেমিকার ছুরিকাঘাতে মামুন ভূঁইয়া (২৮) নামের বাংলাদেশ রেলওয়ের এক কর্মকর্তা খুন হয়েছেন। শনিবার (১১ জুলাই) দুপুরে মহাখালী টিবি গেট এলাকার একটি ভাড়া বাসায় এই ঘটনা ঘটে।

গুরুতর আহত অবস্থায় মামুনকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্ধ্যা ৭টার দিকে তার মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় অভিযুক্ত প্রেমিকা বিউটি আক্তারকে আটক করেছে পুলিশ।

জানা গেছে, শনিবার দুপুরে মহাখালী টিবি গেট এলাকায় বিউটি আক্তারের ভাড়া বাসায় যান মামুন। সেখানে পরকীয়া প্রেমের জেরে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও মনোমালিন্য হয়। এক পর্যায়ে বিউটি ধারালো ছুরি দিয়ে মামুনের বুক ও পেটে আঘাত করেন এবং তার পুরুষাঙ্গ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

বাড়ির মালিক সুমন মাহমুদ জানান, শুক্রবার (১০ জুলাই) বিউটি আক্তার বাসাটি ভাড়া নেন। শনিবার দুপুরে মামুন ওই রুমে আসার পর দুজনের মধ্যে তীব্র ঝগড়া হয়। পরে মামুনের চিৎকার শুনে বাড়ির লোকজন ছুটে গিয়ে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন। তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে বনানী থানা পুলিশ এসে বিউটি আক্তারকে আটক করে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বনানী থানার উপপরিদর্শক মো. তারেক হাসান বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত প্রেমিকা বিউটি আক্তারকে আটক করেছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। এই বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।’

নিহতের চাচা মোকসেদ আলী ভূঁইয়া জানান, মামুন ময়মনসিংহ জেলার ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার মালিয়াটি গ্রামের বাবুল ভূঁইয়ার ছেলে। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে মামুন ছিলেন মেজো। মাত্র পাঁচ মাস আগে বাংলাদেশ রেলওয়েতে তার চাকরি হয় এবং মাসখানেক আগে তিনি কর্মস্থলে যোগদান করেছিলেন।

তিনি আরো জানান, পাঁচ বছর আগে জান্নাত নামের এক নারীর সঙ্গে মামুনের বিয়ে হয়। তার স্ত্রী বর্তমানে অন্তঃসত্ত্বা এবং তিনি গ্রামের বাড়িতে থাকেন।

শ্রমবিধি সংস্কারে শ্রমিকের আইনি অধিকার খর্ব না করার আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক
শ্রমবিধি সংস্কারে শ্রমিকের আইনি অধিকার খর্ব না করার আহ্বান

সম্প্রতি সংশোধিত বাংলাদেশ শ্রম আইনে নিশ্চিত করা শ্রমিকদের অধিকার কোনোভাবেই সীমিত বা খর্ব না করে শ্রম বিধিমালার সামঞ্জস্যপূর্ণ সংশোধনের আহ্বান জানিয়েছেন শ্রম অধিকার বিশেষজ্ঞরা।

শনিবার (১১ জুলাই) রাজধানীর একটি হোটেলে সলিডারিটি সেন্টার আয়োজিত ‘বাংলাদেশ শ্রম বিধিমালা, ২০১৫ পর্যালোচনা এবং বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর সঙ্গে সামঞ্জস্য বিধানে সুপারিশ’ শীর্ষক অংশীজন সভায় বক্তারা এ আহ্বান জানান।

তারা বলেন, শ্রম বিধিমালা এমনভাবে সংশোধন করতে হবে, যাতে তা শ্রম আইনের সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় এবং শ্রমিকদের অধিকার বাস্তবায়ন আরো কার্যকর করে।

সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সলিডারিটি সেন্টারের কান্ট্রি প্রোগ্রাম ডিরেক্টর একেএম নাসিম। তিনি বলেন, শ্রম আইনের সর্বশেষ সংশোধনের পর শ্রম বিধিমালা হালনাগাদের উদ্যোগ বিদ্যমান অসামঞ্জস্য দূর করার পাশাপাশি নতুন অধিকার বাস্তবায়নের গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ সৃষ্টি করেছে। তার মতে, শ্রম বিধিমালা শ্রম আইন বাস্তবায়নে সহায়ক হওয়া উচিত, কোনোভাবেই তা সীমিত করার উপায় নয়।

মূল প্রবন্ধে শ্রম বিধিমালার ১৮টি বিষয়ে সংশোধনের সুপারিশ করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে অস্থায়ী শ্রমিকের শ্রেণিবিন্যাস, ছাঁটাইয়ের পর নোটিশের পরিবর্তে অর্থ প্রদান, চাকরি-সংক্রান্ত নিবন্ধনে শ্রমিকদের প্রবেশাধিকার, বিভাগীয় তদন্তের সময়সীমা এবং গ্রীষ্মকালে নিরাপদ ঠান্ডা পানীয় জলের ব্যবস্থা।

এতে আরো বলা হয়, ২০২৬ সালের শ্রম আইন সংশোধনের মাধ্যমে অন্তর্ভুক্ত নতুন অধিকারগুলো বাস্তবায়নে বিস্তারিত বিধিমালা প্রণয়ন প্রয়োজন। এসব অধিকারের মধ্যে রয়েছে অনিরাপদ কাজ প্রত্যাখ্যানের অধিকার, কর্মক্ষেত্রে বৈষম্য, সহিংসতা ও হয়রানি থেকে সুরক্ষা এবং গৃহকর্মী ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মভিত্তিক শ্রমিকদের শ্রম অধিকার নিশ্চিত করা।

প্রবন্ধে ট্রেড ইউনিয়ন নিবন্ধন ও নির্বাচন, অসৎ শ্রম অনুশীলনের বিরুদ্ধে সুরক্ষা, সমমূল্যের কাজের জন্য সমান মজুরি এবং বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি কর্তৃপক্ষের কার্যকর বাস্তবায়নে প্রক্রিয়াগত সুরক্ষা জোরদারের সুপারিশ করা হয়। একই সঙ্গে শ্রম আইনের ১৮৮(৫) ধারার খসড়াগত অসামঞ্জস্যও তুলে ধরা হয়।

সংযোজনীতে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে প্রথমবারের মতো ‘তাপজনিত আঘাত ও অসুস্থতা প্রতিরোধ’ বিষয়ে একটি খসড়া বিধিমালা উপস্থাপন করা হয়। এতে অতিরিক্ত তাপমাত্রায় কর্মরত শ্রমিকদের সুরক্ষায় বাধ্যতামূলক তাপমাত্রা পর্যবেক্ষণ, নির্ধারিত বিরতি, নিরাপদ পানীয় জল, ধাপে ধাপে কর্মপরিবেশের সঙ্গে অভিযোজন এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার সুস্পষ্ট নির্দেশনার সুপারিশ করা হয়।

আলোচনায় বক্তারা শ্রম আদালতে মামলার দীর্ঘসূত্রতা কমানো, ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণ, বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা এবং শ্রমিকদের অধিকার কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

শ্রম সংস্কার কমিশনের প্রধান সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহম্মেদ বলেন, শ্রম বিধিমালার বিদ্যমান সমস্যাগুলো সমাধানে ধৈর্য ও অংশীজনভিত্তিক সংলাপ প্রয়োজন। তৃণমূলের শ্রমিক নেতা, আইনবিদ ও সরকারি কর্মকর্তাদের সম্পৃক্ত করে আন্তর্জাতিক শ্রম মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ সংস্কার নিশ্চিত করতে হবে এবং পুরো প্রক্রিয়ার কেন্দ্রবিন্দুতে শ্রমিকদের মৌলিক অধিকার ও সুস্থ শিল্প সম্পর্ককে রাখতে হবে।

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) কান্ট্রি ডিরেক্টর ম্যাক্স ট্যুনিয়ন বলেন, আগামী বছরের মার্চের মধ্যে বাংলাদেশকে প্রতিশ্রুত আইএলও রোডম্যাপ বাস্তবায়ন করতে হবে। এজন্য আরো বেশি সংলাপ এবং ত্রিপক্ষীয় পরামর্শ কমিটিতে শ্রমিক সংগঠনগুলোর মতামতের যথাযথ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে তিনি বলেন, শ্রমিকদের মৌলিক অধিকারের প্রশ্নে কোনো আপস করা যাবে না।