দুই জেলার দুই উপজেলার দুই ইউনিয়ন। দুই ইউনিয়নের মাঝে খাল। শিক্ষা, চিকিৎসা, কর্মস্থলে যাওয়াসহ নানা কারণে দুই পারের মানুষকে প্রতিদিনই খাল পার হতে হয়। খালের ওপর সাঁকো নির্মাণ করে এলাকাবাসী সেই প্রয়োজন মেটালেও তা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় একটি সেতুর দাবি তাদের দীর্ঘদিনের।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার চর দরবেশ ইউনিয়নের আদর্শগ্রাম এবং নোয়াখালী কোম্পানিগঞ্জ মুছাপুর ইউনিয়নের আদর্শগ্রামের সংযোগস্থলটি দুই এলাকার মানুষের যোগাযোগের একমাত্র সহজ মাধ্যম। সেতু না থাকায় বর্ষাকালে যাতায়াত একপ্রকার বন্ধ থাকে। শুকনো মৌসুমে মানুষ কোনোমতে সাঁকো বা খাল পার হয়ে যাতায়াত করে। কিন্তু বর্ষাকালে সেই উপায় থাকে না।
এ সময় কৃষিপণ্য আনা-নেওয়া থেকে শুরু করে দৈনন্দিন প্রয়োজনে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় স্থানীয়দের। একটি সেতুর অভাবে দুই ইউনিয়নের মেলবন্ধন যেমন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, তেমনি থমকে আছে এলাকার অর্থনৈতিক উন্নয়নও।
সূত্র জানায়, খালসংলগ্ন মুছাপুর অংশে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নেই। অপর পাশ সোনাগাজীর চর দরবেশ আদর্শগ্রামে একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। কিন্তু সেতু না থাকায় বর্ষা মৌসুমে শিক্ষার্থীরা নিয়মিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে পারে না। অনেক অভিভাবক দুর্ঘটনার ভয়ে সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠানো বন্ধ করে দেন। সবচেয়ে ভয়াবহ সংকটে পড়তে হয় মুমূর্ষু রোগী ও গর্ভবতী মায়েদের নিয়ে।
স্থানীয় বাসিন্দা আকমল হোসেন বলেন, ‘আমাদের কষ্টের শেষ নেই। একটা ব্রিজের জন্য কত বছর ধরে আমরা অপেক্ষা করছি। কত সরকার এলোগেলো, আমাদের দুঃখের শেষ হলো না। আমরা আর কতদিন অবহেলিত জনপদের বাসিন্দা হিসেবে বেঁচে থাকব। অন্তত আমার জীবদ্দশায় এখানে যেন একটা সেতু দেখে যেতে পারি, সরকারের কাছে এই দাবি জানাচ্ছি।’
এলাকার মাদরাসা শিক্ষার্থী সিফাত বলেন, ‘জোয়ার এলে এখান দিয়ে পানি উঠে যায়। আমরা মাদরাসায় যেতে পারি না। আমাদের অনেক কষ্ট হয়। একটা সেতু হলে আমাদের অনেক উপকার হতো।’
ইকবাল হোসেন হেলাল নামের এক বাসিন্দা জানান, মুছাপুরে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান না থাকায় এই এলাকার শিক্ষার্থীরা আমাদের এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যায়। এখানে সীমান্তবর্তী খালে সেতু না থাকায় শিক্ষার্থীদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে অনেক কষ্ট হয়। তাই একটি সেতু নির্মাণের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাজে জোর দাবি জানাচ্ছি।
আদর্শগ্রাম দারুল উলুম মাদরাসা ও এতিমখানার প্রিন্সিপ্যাল মাওলানা আবু তৈয়ব বলেন, সীমান্তবর্তী এলাকার খালের ওপর সেতু নেই। এতে বর্ষাকালে শিক্ষার্থীরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত উপস্থিত থাকতে পারে না। এতে দিন দিন ঝরে পড়া ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা বাড়ছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, যেন তারা একটি সেতু নির্মাণের জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নেন।
চর দরবেশ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ বলেন, এ খালটি সোনাগাজী ও কোম্পানিগঞ্জ উপজেলার সীমান্ত। একটি সেতু হলে দুই উপজেলার মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি হবে। সেতু না থাকায় শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে।
সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আরো বলেন, মুছাপুর গ্রামে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান না থাকায় এ এলাকার শিক্ষার্থীরা আদর্শগ্রাম গিয়ে পড়ালেখা করছে। সেতুর অভাবে তারা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। এদিকে, প্রতিষ্ঠানগুলোতে পর্যাপ্ত শিক্ষার্থী না হওয়ায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সংকটে পড়ার উপক্রম। তাই দুই উপজেলার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি তারা যেন দ্রুত সেতু নির্মাণের পদক্ষেপ নেন।
এ ব্যাপারে ফেনীর সোনাগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিগ্যান চাকমা কালের কণ্ঠকে বলেন, আমরা বিস্তারিত খোঁজখবর নেব। সরকারি বরাদ্দ পেলে ওই স্থানে দ্রুত সেতু নির্মাণে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।