• ই-পেপার

নিকুঞ্জ টানপাড়া কল্যাণ সোসাইটির সভাপতি জাহিদ, সম্পাদক সৈকত

পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতায় শিক্ষার্থীদের এগিয়ে আসার আহ্বান ডিএনসিসি প্রশাসকের

নিজস্ব প্রতিবেদক
পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতায় শিক্ষার্থীদের এগিয়ে আসার আহ্বান ডিএনসিসি প্রশাসকের
ছবি : কালের কণ্ঠ

রাজধানীকে পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষার্থীদের আরো বেশি সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের জনসেবামূলক ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশগ্রহণের মাধ্যমে ‘ক্লিন ঢাকা, গ্রিন ঢাকা’ বাস্তবায়ন আরো সহজ হবে।

মঙ্গলবার রাজধানীর মিরপুর-১৪ এলাকায় বাংলাদেশ নৌবাহিনীর বিএন কলেজে আয়োজিত ‘স্টার্টআপ সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং প্রোগ্রাম’-এর পুরস্কার বিতরণী ও পরিচ্ছন্নতা অভিযানের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডিএনসিসি প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একজন মানবিক মানুষ এবং এটি বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত। তার নেতৃত্বেই বাংলাদেশে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। আমরা তার সহকর্মী হিসেবে দেশ গঠনের কাজে সহযোগিতা করে যাচ্ছি।’

শিক্ষার্থীদের জনকল্যাণমূলক কাজে উৎসাহিত করার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, ভালো উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করতে এ ধরনের আয়োজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকেও উদ্বুদ্ধ করবে।

পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমকে কোনো নির্দিষ্ট দিনে সীমাবদ্ধ না রাখার কথা উল্লেখ করে ডিএনসিসি প্রশাসক জানান, ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে এই কার্যক্রম নগরীর প্রতিটি ওয়ার্ড ও মহল্লায় ছড়িয়ে দেওয়া হবে। একই সঙ্গে নাগরিকদের সচেতনতা বাড়িয়ে সিটি করপোরেশনের সেবাগুলো আরো কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

অনুষ্ঠানে নেভি কলেজের শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানভিত্তিক উদ্ভাবনী প্রকল্প ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনার প্রশংসা করে প্রশাসক বলেন, ‘চেষ্টা থাকলে সফলতা আসবেই। শিক্ষার্থীদের এসব উদ্ভাবনী ধারণা নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডে ছড়িয়ে দিয়ে পরিচ্ছন্ন নগর গঠনে কাজে লাগানো হবে।’

অনুষ্ঠান শেষে নৌবাহিনী কলেজ, ডেন্টাল কলেজ ও নেভি স্কুলের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের হয়। র‍্যালিতে আধুনিক ডাস্টবিন ব্যবহারের সঠিক পদ্ধতি প্রদর্শন করা হয় এবং শিক্ষার্থীরা সরাসরি পরিচ্ছন্নতা অভিযানে অংশ নেন।

বিএন কলেজের অধ্যক্ষ ক্যাপ্টেন এম ইসমাইল মজুমদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে ডিএনসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কমোডর হুমায়ুন কবীর, প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের বিধিমালা দ্রুত প্রণয়নের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের বিধিমালা দ্রুত প্রণয়নের দাবি

ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) আইন-২০২৬ দ্রুত কার্যকর করতে বিধিমালা প্রণয়ন এবং ই-সিগারেট, নিকোটিন পাউচসহ নতুন নিকোটিনজাত পণ্যের বিস্তার রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী কল্যাণ সমিতি।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাজধানীর অবসর ভবনে সমিতি ও ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন অব দ্য রুরাল পুওর (ডর্প)-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘তামাকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় করণীয়’ শীর্ষক মতবিনিময়সভায় এ দাবি জানানো হয়।

সভায় সমিতির প্রশাসক মো. ইসমাইল হোসেন বলেন, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও কার্যকর তামাক নিয়ন্ত্রণ বর্তমান সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার। শিশু-কিশোর ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে তামাক ও নিকোটিনজাত পণ্যের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে সুরক্ষিত রাখতে সংশোধিত আইনের দ্রুত বাস্তবায়ন জরুরি।

অবসরপ্রাপ্ত সচিব মো. শামসুল আলম খান বলেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে নিকোটিন পাউচ, নিকোটিন গ্র্যানুলস ও হিটেড টোব্যাকো প্রোডাক্টসের (এইচটিপি) ওপর কর আরোপের ফলে এসব পণ্যের বাজার সম্প্রসারণের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে নিকোটিন আসক্তি বাড়তে পারে। তাই সময়োপযোগী নীতিগত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

সমিতির পরিচালক মোহাম্মদ আলী বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশে তামাক ব্যবহারের হার সবচেয়ে বেশি—৩৫ দশমিক ৩ শতাংশ। তামাকজনিত রোগে দেশে প্রতিবছর প্রায় দুই লাখ মানুষের অকালমৃত্যু হয়। ২০২৪ সালে তামাকের কারণে স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ক্ষতির পরিমাণ ছিল প্রায় ৮৭ হাজার কোটি টাকা, যা এ খাত থেকে আদায় হওয়া রাজস্বের দ্বিগুণেরও বেশি। তাই সংশোধিত আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়নের পাশাপাশি নতুন নিকোটিনজাত পণ্যের বিস্তার রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সভায় বক্তারা সংশোধিত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন প্রণয়নের জন্য সরকারকে ধন্যবাদ জানান এবং দ্রুত বিধিমালা প্রণয়ন করে আইনটি বাস্তবায়নের দাবি জানান। একই সঙ্গে তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গঠনে অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী কল্যাণ সমিতির পক্ষ থেকে সক্রিয় ভূমিকা রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।

রাজধানীর লালবাগ থেকে ৪ কোটি টাকার নিষিদ্ধ পলিথিন জব্দ

নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীর লালবাগ থেকে ৪ কোটি টাকার নিষিদ্ধ পলিথিন জব্দ
সংগৃহীত ছবি

রাজধানীর লালবাগে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের অভিযানে প্রায় ৪ কোটি ৮ লাখ টাকা মূল্যের ২৪ হাজার কেজি নিষিদ্ধ পলিথিন জব্দ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিকেলে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।

তিনি জানান, মঙ্গলবার ভোরে লালবাগ থানার বুড়িগঙ্গা নদীর লোহার ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালায় পাগলা কোস্ট গার্ড স্টেশন। অভিযান চলাকালে একটি সন্দেহভাজন ট্রাকে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ২৪ হাজার কেজি নিষিদ্ধ পলিথিন জব্দ করা হয়, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৪ কোটি ৮ লাখ টাকা।

অভিযান শেষে জব্দ করা পলিথিন ধ্বংসের জন্য নারায়ণগঞ্জ পরিবেশ অধিদপ্তরের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ সময় ট্রাকের চালক ও হেল্পারের কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে ট্রাকটি ছেড়ে দেওয়া হয়।

লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বলেন, পরিবেশ রক্ষায় বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রাখবে।

ভোক্তার জানার অধিকার নিশ্চিতে গণমাধ্যমের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক
ভোক্তার জানার অধিকার নিশ্চিতে গণমাধ্যমের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ

নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে সরকারের পাশাপাশি গণমাধ্যমের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে মত দিয়েছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। গণমাধ্যমের সক্রিয় ভূমিকা ছাড়া নিরাপদ খাদ্য ও অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনা সম্ভব নয় বলে মনে করেন তারা।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাজধানীর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সেক্টরের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এক কর্মশালায় বক্তারা এ তাগিদ দেন।

খাদ্যপণ্যের প্যাকেটে কী আছে, তা জানার অধিকার প্রতিটি ভোক্তার। কিন্তু পেছনে ছোট ছোট অক্ষরে লেখা তথ্য অনেকের পক্ষেই বোঝা সম্ভব হয় না। তাই ভোক্তাকে সচেতন করতে এবং অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে প্যাকেটজাত খাদ্যের সামনের অংশে ‘ফ্রন্ট অব প্যাক লেবেলিং’ বাধ্যতামূলক করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

কর্মশালায় বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, স্থূলতা ও কিডনি রোগ উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, দেশে মোট মৃত্যুর প্রায় ৭০ শতাংশই এসব প্রতিরোধযোগ্য অসংক্রামক রোগে ঘটে। অতিরিক্ত চিনি, লবণ ও ট্রান্সফ্যাটযুক্ত প্রক্রিয়াজাত খাদ্য এ পরিস্থিতির অন্যতম কারণ।

বক্তারা বলেন, খাদ্যপণ্যের সামনের অংশে সহজ ও স্পষ্ট সতর্কবার্তা থাকলে ভোক্তা কয়েক সেকেন্ডেই স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে ধারণা পাবেন। এতে স্বাস্থ্যকর খাদ্য বেছে নেওয়া সহজ হবে এবং উৎপাদক প্রতিষ্ঠানগুলোও তুলনামূলক নিরাপদ পণ্য বাজারজাত করতে উৎসাহিত হবে।

বিশেষজ্ঞরা জানান, চিলি ও মেক্সিকোসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাধ্যতামূলক এফওপিএল চালুর ইতিবাচক ফল মিলেছে। বাংলাদেশেও দ্রুত এ নীতি বাস্তবায়ন করা গেলে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি সম্ভব।

কর্মশালায় অংশ নেওয়া বক্তারা বলেন, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে সরকার, খাদ্য শিল্প, গবেষক, ভোক্তা অধিকার সংগঠন ও গণমাধ্যমকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন বাধ্যতামূলক ফ্রন্ট অব প্যাক লেবেলিং (এফওপিএল) দ্রুত বাস্তবায়নের তাগিদ দেন তারা।