• ই-পেপার

আ. লীগের পথে হাঁটলে মানুষ আমাদের বিশ্বাস করবে না : পানিসম্পদ মন্ত্রী

গণভোটের রায় না মানলে বিএনপিকে ক্ষমতাচ্যুত করা হবে : নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারী

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ
গণভোটের রায় না মানলে বিএনপিকে ক্ষমতাচ্যুত করা হবে : নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারী
ছবি : কালের কণ্ঠ

গণভোটের রায় না মানলে বিএনপিকে ক্ষমতাচ্যুত করা হবে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মূখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি বলেন, ‘গণভোটে গৃহীত সংস্কার প্রস্তাব কোনো রাজনৈতিক দল বা সরকার বাস্তবায়ন না করলে জনগণই তাদের ক্ষমতাচ্যুত করবে।’

রবিবার (২৬ জুলাই) বিকেলে ময়মনসিংহের তারাকান্দায় আয়োজিত পথসভায় এ কথা বলেন তিনি। এনসিপির তারাকান্দা উপজেলা শাখা এ পথসভার আয়োজন করে।

নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, রাষ্ট্র সংস্কার এখন সময়ের দাবি। জনগণের মতামতের ভিত্তিতে গণভোটের মাধ্যমে যে সিদ্ধান্ত হবে, তা বাস্তবায়নে কোনো ধরনের আপস করা হবে না। জনগণের রায়ের ঊর্ধ্বে কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দল নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

পথসভায় এনসিপির উত্তরাঞ্চলের সমন্বয়ক সারজিস আলম বলেন, নতুন বাংলাদেশ গড়তে হলে দুর্নীতি, দখলদারত্ব ও দলীয়করণের রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। তরুণদের নেতৃত্বেই রাষ্ট্র সংস্কারের আন্দোলন সফল হবে।

কুড়িগ্রাম-২ আসনের সংসদ সদস্য আতিক মোজাহিদ বলেন, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং একটি জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গঠনে এনসিপি কাজ করছে। দেশের মানুষ পরিবর্তন চায়, আর সেই পরিবর্তনের নেতৃত্ব দেবে জনগণই।

তারাকান্দা উপজেলা এনসিপির সমন্বয়ক শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে পথসভায় জেলা ও উপজেলা এনসিপি, যুবশক্তি এবং ছাত্রশক্তির নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন। 

কিশোরগঞ্জে পিকআপের ধাক্কায় সাইকেল আরোহী নিহত

কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি
কিশোরগঞ্জে পিকআপের ধাক্কায় সাইকেল আরোহী নিহত
সংগৃহীত ছবি

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী-ভৈরব সড়কের গজারিয়া বাজারসংলগ্ন এলাকায় মাছবাহী একটি পিকআপের ধাক্কায় হাসিম মিয়া (৫৫) নামের এক সাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। রবিবার (২৬ জুলাই) বিকেলে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত হাসিম মিয়া কটিয়াদী উপজেলার উত্তর লোহাজুরী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত রুসমত আলীর ছেলে। তিনি পেশায় জাল বোনার কারিগর ছিলেন।

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পল্লী চিকিৎসক হেলাল উদ্দিন জুয়েল জানান, গ্রামের সংযোগ সড়ক থেকে সাইকেল নিয়ে মূল সড়কে ওঠার সময় দ্রুতগতির একটি মাছবাহী পিকআপ সাইকেলটিকে ধাক্কা দেয়। এতে হাসিম মিয়া সড়কে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

কটিয়াদী সরকারি হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. গোলাম কিবরিয়া জানান, হাসপাতালে আনার আগেই ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছিল।

কটিয়াদী হাইওয়ে পুলিশের ইনচার্জ এবিএম মেহেদী মাসুদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, দুর্ঘটনায় জড়িত পিকআপটি জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

গ্যারেজে হঠাৎ আগুন, পুড়ল অর্ধশতাধিক অটোরিকশা

কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি
গ্যারেজে হঠাৎ আগুন, পুড়ল অর্ধশতাধিক অটোরিকশা
সংগৃহীত ছবি

ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের আগানগর এলাকায় একটি গ্যারেজে আগুনে লেগে প্রায় অর্ধশতাধিক আটোরিকশা পুড়ে গেছে। রবিবার (২৬ জুলাই) দুপুর ১টার দিকে ওই এলাকার বাবুবাজার ব্রিজের নিচে গড়ে ওঠা গ্যারেজে এ ঘটনা ঘটে।  

গ্যারেজে দুপুরের খাবার খেতে আসা ড্রাইভাররা জানান, তারা গাড়ি বন্ধ করে খাবারের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। এমন সময় হঠাৎ দাউ দাউ করে আগুন জ্বলে ওঠে। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই ২-৩ মিনিটের মধ্যে আগুন পুরো গ্যারেজে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে কেরানীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে এসে আধাঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। 

অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত চালক ও মালিকরা জানান, অনেকেই ঋণ নিয়ে অটোরিকশা কিনেছিলেন। এসব অটোরিকশাই ছিল তাদের পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস। আগুনে সব পুড়ে যাওয়ায় তারা চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন।

ক্ষতিগ্রস্ত এক রিকশাচালক বলেন, গ্রাম থেকে ঋণ নিয়ে অটোরিকশা কিনেছিলাম। এই গাড়ি চালিয়েই ছেলে-মেয়ের লেখাপড়ার খরচ ও সংসার চালাতাম। দুপুরে গ্যারেজে গাড়ি চার্জ দিয়ে খাবার খেতে গিয়েছিলাম। এসে দেখি সব পুড়ে গেছে। এখন ঋণের টাকা কিভাবে শোধ করব, সেটাই বুঝতে পারছি না। 

রিকশাচালক মিলন জানান, দুপুরে আমরা কয়েকজন খেতে আইছিলাম। এমন সময় গ্যারেজের ভেতর থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখে আমরা চমকে যাই। কিছু বুঝে ওঠার আগেই আগুন দাউ দাউ করে জ্বলে উঠে। তখন আমরা প্রাণ বাঁচানোর জন্য দৌড়ে গ্যারেজ থেকে বের হয়ে যাই।

কেরানীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন ইনচার্জ আনোয়ার হোসেন জানান, খবর পেয়ে আমাদের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে। গ্যারেজটিতে ঝুঁকিপূর্ণ বৈদ্যুতিক সংযোগ ছিল। এ ছাড়াও অগ্নিনির্বাপণের তেমন কোনো ব্যবস্থা ছিল না। অগ্নিকাণ্ডের কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তদন্ত শেষে জানানো যাবে।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে কেরানীগঞ্জ দক্ষিণ সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাজিদ-উল-মাহমুদ জানান, ফায়ার সার্ভিস ও প্রশাসনের পৃথক তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ঘটনার পর থেকেই গ্যারেজের ম্যানেজার বাদশা ও ইনচার্জ দুলাল পলাতক থাকায় তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। 

চা শ্রমিকদের ভূমির অধিকার ও ইউনিয়ন নির্বাচনের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
চা শ্রমিকদের ভূমির অধিকার ও ইউনিয়ন নির্বাচনের দাবি
সংগৃহীত ছবি

দৈনিক মজুরি ৬০০ টাকা নির্ধারণ, চা শ্রমিকদের ভূমির অধিকার নিশ্চিত করা এবং দীর্ঘ আট বছর ধরে স্থগিত থাকা চা শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন আয়োজনের দাবিতে সিলেটে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন চা শ্রমিকরা। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল শহীদ মিনার থেকে বের হয়ে আম্বরখানা পয়েন্টে গিয়ে শেষ হয়।

শনিবার (২৬ জুলাই) বিকেল ৪টায় সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে চা শ্রমিক ঐক্য কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। চা শ্রমিক ঐক্য কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি অজিত রায় বাড়াইকের সভাপতিত্বে এবং সাংগঠনিক সম্পাদক অধীর বাউরীর পরিচালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন বাসদ (মার্কসবাদী) সিলেট জেলা সাংগঠনিক কমিটির সমন্বয়ক সঞ্জয় কান্ত দাস, লাক্কাতুরা চা বাগানের শ্রমিক নেতা রঘু দাস, কালগুল চা বাগানের যুব নেতা রবি ছত্রী, হিলুয়াছড়া চা বাগানের রবি মাল, কেওয়াছড়া চা বাগানের সঞ্জীব কুর্মি এবং মালনীছড়া চা বাগানের পঞ্চায়েত সদস্য মালতি যাদব প্রমুখ।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে চা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ৬০০ টাকা করার দাবিতে আন্দোলন চলছে। সম্প্রতি জাতীয় সংসদে চা শ্রমিকদের মজুরি ৫০০ টাকা নির্ধারণের একটি বিল নিয়ে আলোচনা হলেও শ্রমমন্ত্রীর ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে বিষয়টি আলোচনার আশ্বাসের পর বিলটি প্রত্যাহার করা হয়। পরে এক সাক্ষাৎকারে শ্রমমন্ত্রী চা শ্রমিকরা মজুরির পাশাপাশি বাসস্থান, রেশন, চিকিৎসা ও অন্যান্য সুবিধা পান বলে যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা বাস্তবতার সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ।

বক্তারা বলেন, বর্তমানে একজন চা শ্রমিকের দৈনিক মজুরি মাত্র ১৮৭ টাকা। এ মজুরিতে একটি পরিবারের ন্যূনতম খাদ্য চাহিদাও পূরণ সম্ভব নয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের তথ্য তুলে ধরে তারা বলেন, পাঁচ সদস্যের একটি চা শ্রমিক পরিবারের শুধু খাদ্য ব্যয় মেটাতেই প্রতিদিন সাড়ে ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা প্রয়োজন। ফলে ৬০০ টাকার মজুরির দাবি বিলাসিতা নয়, বরং ন্যূনতম জীবনধারণের দাবি।

সমাবেশে মালিকপক্ষের মজুরি সংক্রান্ত দাবির সমালোচনা করে বলা হয়, বাসাভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা কিংবা বসতভিটায় উৎপাদিত ফলমূলের মূল্যকে মজুরির অংশ হিসেবে দেখানো শ্রম আইনসম্মত নয়। শ্রম আইন অনুযায়ী বাসস্থান, চিকিৎসা, অবসরভাতা ও অন্যান্য কল্যাণমূলক সুবিধা মজুরির অন্তর্ভুক্ত নয়। তাই এসব খাতকে মজুরির অংশ হিসেবে উপস্থাপন করা শ্রমিকদের সঙ্গে প্রহসনের শামিল। দাবি বাস্তবায়নে  দ্রুত উদ্যোগ না নিলে দেশের সব চা বাগানের শ্রমিক, ছাত্র-যুবক এবং গণতান্ত্রিক শক্তিকে সঙ্গে নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলার ঘোষণা দেন বক্তারা।