• ই-পেপার

৪৫০০ পিস ইয়াবাসহ বদির ফুফাতো বোনের জামাই আটক

শিগগিরই গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হবে : জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী

বাসস
শিগগিরই গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হবে : জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, কারিগরি ত্রুটির কারণে জাতীয় গ্যাস গ্রিডে গ্যাস সরবরাহে যে সাময়িক সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে, তা দ্রুততম সময়ের মধ্যে সমাধানের জন্য সর্বশক্তি নিয়োগ করা হয়েছে। তিনি বলেন, অচিরেই গ্যাস সরবরাহ সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হবে এবং পাওয়ার প্ল্যান্ট, শিল্পকারখানা, বাসাবাড়ি ও সিএনজি স্টেশনে গ্যাসের চাপ আগের মতো ফিরে আসবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেছেন।

শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে যশোরের জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ও অপতথ্য প্রতিরোধ’ শীর্ষক মতবিনিময়সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

গ্যাস সরবরাহের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, ‘দেশের দুটি এফএসআরইউ বা ফ্লোটিং স্টোরেজ অ্যান্ড রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিটের মাধ্যমে আমদানিকৃত এলএনজি গ্যাসে রূপান্তর করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয়। এই গ্যাসের ওপর ভিত্তি করেই বিদ্যুৎকেন্দ্র ও শিল্পকারখানা সচল থাকে এবং রাজধানীতে গৃহস্থালির রান্নার কাজ চলে।’

বর্তমানে একটি এফএসআরইউতে কারিগরি সমস্যা দেখা দিয়েছে উল্লেখ করে তিনি জানান, এটি মেরামতের জন্য একটি বেসরকারি কম্পানি ও পেট্রোবাংলা একযোগে কাজ করছে এবং সরকারের জ্বালানি বিভাগ সার্বক্ষণিক তদারকি করছে।

মতবিনিময়সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব প্রতিরোধে নৈতিক শিক্ষার প্রসারের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, নৈতিক মূল্যবোধের অভাব থেকেই রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে একশ্রেণির মানুষ গুজব ও অপতথ্য ছড়াচ্ছে। এই ধরনের অপপ্রচার রোধ করতে সমাজে নৈতিক শিক্ষার চর্চা বাড়াতে হবে।

প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, অতীতে সমাজে নৈতিক শিক্ষার যে শক্তিশালী ভিত ছিল, বর্তমানে প্রাতিষ্ঠানিক ও বৈষয়িক অগ্রগতি হলেও সেই মূল্যবোধের জায়গায় কিছুটা ঘাটতি দেখা দিয়েছে। সমাজের সেই নৈতিক মূল্যবোধের জায়গাটি পুনরুদ্ধার করতে হবে। এ সময় তিনি প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নৈতিক শিক্ষায় গড়ে তুলতে শিক্ষকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান এবং সমাজের বিভিন্ন স্তরে দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে সচেতনতা তৈরির তাগিদ দেন।

নাগরিক সচেতনতাই পরিচ্ছন্ন নগর গড়ার মূল শক্তি : চসিক মেয়র

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
নাগরিক সচেতনতাই পরিচ্ছন্ন নগর গড়ার মূল শক্তি : চসিক মেয়র

সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি প্রতিটি নাগরিকের সচেতনতা, দায়িত্ববোধ ও সক্রিয় অংশগ্রহণই একটি পরিচ্ছন্ন, ডেঙ্গুমুক্ত, সবুজ ও নান্দনিক চট্টগ্রাম গড়ে তোলার মূল শক্তি বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। 

তিনি বলেন, `পরিচ্ছন্নতা কোনো এক দিনের কর্মসূচি নয়; এটি একটি জীবনাচরণ। তাই প্রতি শনিবার নিজের বাসা, ছাদ, আঙিনা ও আশপাশ পরিষ্কার রাখার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে এবং পরিচ্ছন্নতার সংস্কৃতি পরিবার ও বিদ্যালয় থেকেই শুরু করতে হবে।'

আজ শনিবার চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ‘পরিচ্ছন্ন করি নগর-গ্রাম, গড়ি নান্দনিক চট্টগ্রাম’ প্রতিপাদ্যে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আয়োজিত বর্ণাঢ্য র‌্যালিতে তিনি এসব কথা বলেন।

চসিক মেয়র বলেন, একটি সমাজ বা রাষ্ট্রের ইতিবাচক পরিবর্তন শুরু হয় ব্যক্তি ও পরিবার থেকে। তাই প্রতিটি
নাগরিক যদি সপ্তাহে অন্তত একদিন নিজের বাসা, আঙিনা, ছাদ ও আশপাশ পরিষ্কার রাখার অভ্যাস গড়ে তোলেন, তাহলে পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর নগর গড়ে তোলা অনেক সহজ হবে।

তিনি বলেন, সরকারি সংস্থার একার পক্ষে নগরকে পরিচ্ছন্ন রাখা সম্ভব নয়; এ জন্য প্রয়োজন সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে মেয়র বলেন, এডিস মশার লার্ভা জন্ম নিতে মাত্র ২ থেকে ৩ মিলিলিটার স্বচ্ছ পানিই যথেষ্ট। তাই ছাদ, ফুলের টব, ডাবের খোসা, পরিত্যক্ত পাত্র কিংবা যেকোনো স্থানে তিন দিনের বেশি পানি জমে থাকতে দেওয়া যাবে না।

বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নের বিষয়ে তিনি বলেন, বর্জ্য থেকে বায়োগ্যাস, বিদ্যুৎ ও গ্রিন ডিজেল উৎপাদনের লক্ষ্যে কোরিয়া, চীন, যুক্তরাজ্য ও জাপানসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একাধিক প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ এগিয়ে চলছে। এ ছাড়া হালিশহর ও আরেফিন নগরের ল্যান্ডফিলকে পরিবেশবান্ধব রূপ দিতে প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। পরীক্ষামূলকভাবে নগরের ২০টি ওয়ার্ডে বিনামূল্যে ডোর-টু-ডোর বর্জ্য সংগ্রহ কার্যক্রম চালুর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

মাদক ও কিশোর গ্যাং সামাজিক ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে : পরিবেশমন্ত্রী

জেলা প্রতিনিধি, ফেনী
মাদক ও কিশোর গ্যাং সামাজিক ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে : পরিবেশমন্ত্রী
সংগৃহীত ছবি

মাদক ও কিশোর গ্যাং সারা দেশে সামাজিক ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু। তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী ইতিমধ্যে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস শুরু করেছেন। খেলাধুলার মাধ্যমে ছেলে-মেয়েদের শারীরিক ও মনস্তাত্ত্বিক বিকাশে ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি মাদক ও কিশোর গ্যাং থেকেও তাদের দূরে রাখা যাবে।

শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে ফেনী শহরের একটি কনভেনশন হলে চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির শপথ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
 
ব্যবসা-বাণিজ্য প্রসারের বিষয়ে তিনি বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্য প্রসারের জন্য অনুকূল আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। এগুলো ভালো না হলে কোনো কিছুই ভালো হবে না। দেশকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নেওয়ার জন্য আমাদের প্রধানমন্ত্রীর চেষ্টার কোনো ত্রুটি নেই।


তিনি বলেন, একটি দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও সম্পদ বৃদ্ধি হয় একমাত্র ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগের মাধ্যমে হয়। সম্পদের ভাগ-বাটোয়ারা বা বিলি বণ্টন করা যায়, কিন্তু দারিদ্র্যের এমন বণ্টন করা সম্ভব নয়। একটি দেশ ও সমাজের জন্য সম্পদ সৃষ্টি অত্যন্ত জরুরি। এজন্য ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগের প্রসার ঘটাতে হবে। 

পরিবেশমন্ত্রী বলেন, সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা সমন্বয় না হলে কোনো সমাজ উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সম্ভব না। যখন ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে তখন সামাজিক বৈষম্যও কমে যাবে। বাড়িতে বসে থাকলে কর্মসংস্থান হবে না। সেজন্য ব্যবসা-বাণিজ্য প্রসারে ব্যবসায়ীদের ব্যবসার কাজটি করতে দিতে হবে। 

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক জয়নাল আবেদিন, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু, জেলা প্রশাসক মনিরা হক, পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদার, জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক এম এ খালেক প্রমুখ। এ ছাড়া বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধি, রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীসহ সংশ্লিষ্ট সংগঠনের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। 

ছাতকে অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযোগে ১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা

ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি
ছাতকে অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযোগে ১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা
সংগৃহীত ছবি

সুনামগঞ্জের ছাতকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগে ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরো ৪-৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা রেবুল কুমার দাস বাদী হয়ে জুলাই ছাতক থানায় এজাহার দাখিল করেছেন। পরে পুলিশ বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০-এর ১৫(১) ধারা অনুযায়ী মামলাটি রুজু করা হয়। 

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ছাতক থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি) তদন্ত ঝলক মোহন্ত।

এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ২২ জুলাই বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোজাহিদুল ইসলাম ছাতক থানা পুলিশ ও নৌ-পুলিশের সহযোগিতায় উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের রহমতপুর উত্তরপাড়া সংলগ্ন ইজারা বহির্ভূত নদীপথে অবৈধ বালু উত্তোলনবিরোধী অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানকালে অবৈধ বালু উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত একটি এক্সকাভেটর ও একটি হুইল লোডার জব্দ করা হয়।

মামলার এজাহারে আরো উল্লেখ করা হয়, জব্দকৃত যন্ত্রপাতির কোনো বৈধ মালিক বা দাবিদার ঘটনাস্থলে উপস্থিত না থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা সম্ভব হয়নি। পরে জব্দকৃত আলামত ব্যবহারকারীদের পরিচয় শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়।

অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে ইজারা বহির্ভূত নদীপথ থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে এলাকার ভূ-প্রকৃতি ও পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতিসাধন করে আসছিলেন এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলার আসামিরা হলেন রহমতপুর গ্রামের ছালিম উদ্দিনের ছেলে আমির আলী (৩৮), জমির আলী (৩৫),  একই গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে আবুল বশর (৬০), আলমপুর গ্রামের আলতাবুর রহমানের ছেলে আতাউর (৪০), সোনাফর আলীর ছেলে চমক আলী (৬০),  নজির আলী (৫৫), সোনাপুর গ্রামের সুনু মিয়ার ছেলে ধন মিয়া (৬২) জিয়াদ আলীর ছেলে মোহাম্মদ আলী (৫২) ও গাংপাড় নোয়াকুট গ্রামের সোনা মিয়ার ছেলে কামরুল (৩৮)।

এ ছাড়া বৈশাকান্দি (বাহাদুরপুর) গ্রামের আব্দুল হাসিমের ছেলে রফিক (৫৫) জয়নাল (৪৬), একই গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে এবাদুল্লাহ (৫৪), জাইদুল (৪২), শারফিন পাড়া গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে আতাউর (৪৮) ও চাটিবহর গ্রামের তৈমুজ আলীর ছেলে সুজন (৪৬), থানা-কোম্পানীগঞ্জ।

বাদী রেবুল কুমার দাস বলেন, ‘সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগে অভিযান পরিচালনা করা হয়। জব্দকৃত আলামত ও প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।’

সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোজাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পরিবেশ ও নদী রক্ষায় এ ধরনের অভিযান নিয়মিত পরিচালিত হবে। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ছাতক থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি) তদন্ত ঝলক মোহন্ত বলেন, ‘মামলাটি রুজু করা হয়েছে। মামলাটির তদন্ত করবে নৌ পুলিশ। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’