কুষ্টিয়ার কোর্ট রেলওয়ে স্টেশনে ট্রেনে ওঠাকে কেন্দ্র করে কথা-কাটাকাটির জেরে ঢাকা থেকে খুলনাগামী সুন্দরবন এক্সপ্রেসের এক টিটিইর ছুরিকাঘাতে বাবা-ছেলে আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ যাত্রী ও স্বজনরা ট্রেনটি প্রায় দুই ঘণ্টা আটকে রাখেন। পরে প্রশাসনের আশ্বাসে অবরোধ তুলে নিলে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে কুষ্টিয়া কোর্ট রেলওয়ে স্টেশনে এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন চুয়াডাঙ্গা জেলার বাসিন্দা শফিউল আওয়াল সুমন (৪২) ও তার বাবা আব্দুর রহিম (৬৫)। তাদের কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আহত শফিউল আওয়াল সুমনের দাবি, তিনি অসুস্থ মাকে নিয়ে কোর্ট স্টেশন থেকে সুন্দরবন এক্সপ্রেসে ওঠার সময় ট্রেনের এক টিটিই তাদের বাধা দেন। এ নিয়ে বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে ওই টিটিই তাকে ও তার বাবাকে ছুরিকাঘাত করেন।
ঘটনার পর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আহতদের স্বজন ও স্থানীয়রা স্টেশনের রেলগেটে ট্রেনটি আটকে বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় ট্রেনের চালক ও অভিযুক্ত টিটিই ঘটনাস্থল থেকে সরে যান বলে অভিযোগ ওঠে। ফলে প্রায় দুই ঘণ্টা ট্রেনটি আটকে থাকে এবং শহরে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে দুপুর ২টা ১৫ মিনিটের দিকে ট্রেনটি গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়।
কুষ্টিয়া কোর্ট স্টেশনের ইনচার্জ ইতি খানম বলেন, অফিসে অবস্থানকালে তারা জানতে পারেন ট্রেনের এক টিটিইর হাতে দুই যাত্রী ছুরিকাহত হয়েছেন। পরে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়।
কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. ইকবাল হাসান জানান, আহত দুজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের অবস্থা আশঙ্কামুক্ত।
এদিকে ট্রেনের এক কর্মচারী জানান, দুই যাত্রী ‘খ’ বগি দিয়ে ট্রেনে ওঠার চেষ্টা করলে ভেতরে থাকা কর্মচারীদের সঙ্গে তাদের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ট্রেনের এক কর্মচারী ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাদের আঘাত করে পালিয়ে যান।
খবর পেয়ে কুষ্টিয়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হারুন অর রশিদ ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) প্রণব কুমার সরকার ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে বিক্ষোভকারীরা অবরোধ প্রত্যাহার করেন।
ইউএনও হারুন অর রশিদ বলেন, ‘আহতরা থানায় অভিযোগ দিলে বিষয়টি তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’




