• ই-পেপার

নিহতের মরদেহ উদ্ধার করতে গিয়ে পুলিশ সদস্য পেলেন নিজ ছেলের লাশ

জয়পুরহাটে কৃষিপণ্য রপ্তানি অঞ্চল স্থাপনে সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শনে খাদ্য প্রতিমন্ত্রী

কালাই (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি
জয়পুরহাটে কৃষিপণ্য রপ্তানি অঞ্চল স্থাপনে সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শনে খাদ্য প্রতিমন্ত্রী
ছবি: কালের কণ্ঠ

জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় কৃষিপণ্য রপ্তানি অঞ্চল স্থাপনের সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শন করেছেন জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী এবং কৃষি সচিব ড. রফিকুল-ই-মোহাম্মদ।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) সকালে কালাই উপজেলার আহম্মেদাবাদ ইউনিয়নের বামনাহানি মৌজায় জয়পুরহাট-বগুড়া মহাসড়কের উত্তর পাশে সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শন করেন তারা।

কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, প্রায় ১০০ একর (প্রায় ৩০০ বিঘা) জমির ওপর আধুনিক কৃষিপণ্য রপ্তানি অঞ্চল গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

স্থানীয় কৃষকদের আশা, এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি নতুন শিল্প ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। একই সঙ্গে হিমাগারনির্ভরতা কমে কৃষিপণ্য সরাসরি রপ্তানির পথও সহজ হবে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক এ কে এম সাদিকুল ইসলাম বলেন, সরকারের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে উত্তরাঞ্চলের কৃষি অর্থনীতিতে নতুন দিগন্তের সূচনা হবে। বিশেষ করে আলুভিত্তিক রপ্তানি অঞ্চল গড়ে উঠলে কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পাবেন, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং সরকারও উল্লেখযোগ্য রাজস্ব অর্জন করবে।

মাঠ পরিদর্শনে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মোহাম্মদ আতিকুর রহমান, জয়পুরহাটের জেলা প্রশাসক আল মামুন মিয়া, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বগুড়া অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ আব্দুল ওয়াদুদ, উপপরিচালক এ কে এম সাদিকুল ইসলাম, কালাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) আব্দুল্লাহ আল মাহবুব এবং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ হারুনুর রশিদ উপস্থিত ছিলেন।

নারী চিকিৎসককে কুপ্রস্তাব

বরগুনা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা

বরগুনা প্রতিনিধি
বরগুনা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা
সংগৃহীত ছবি

নারী চিকিৎসককে কুপ্রস্তাবের অভিযোগে বরগুনা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. রেজওয়ানুর আলমের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করেছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হবে না কেন, তা জানতে চেয়ে ১০ কার্যদিবসের মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

গত ২২ জুলাই স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব (শৃঙ্খলা-২ শাখা) কামরুজ্জামান চৌধুরীর সই করা প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে যোগ দেওয়ার পর থেকেই তত্ত্বাবধায়ক ডা. রেজওয়ানুর আলম সুযোগ পেলেই কোনো প্রয়োজন ছাড়াই আবাসিক সার্জন ডা. লুৎফুন্নাহার লনীকে নিজের দপ্তরে ডেকে পাঠাতেন এবং তাকে অনৈতিক প্রস্তাব ও অশালীন ইঙ্গিত করতেন। এ ধরনের আচরণ সরকারি চাকরি (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর বিধি ৩(খ) অনুযায়ী অসদাচরণ হিসেবে গণ্য হওয়ায় তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।

একই সঙ্গে প্রজ্ঞাপনে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়ে জানতে চাওয়া হয়েছে, কেন তার বিরুদ্ধে সরকারি চাকরি থেকে বরখাস্তসহ উপযুক্ত বিভাগীয় শাস্তি দেওয়া হবে না। নোটিশ পাওয়ার ১০ কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে এবং ব্যক্তিগত শুনানি চাইলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা জানাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ জুলাই স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন বরগুনা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক সার্জন ডা. লুৎফুন্নাহার লনী।

অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, চলতি বছরের ৬ জুন হাসপাতালে যোগ দেওয়ার পর থেকেই তত্ত্বাবধায়ক তাকে বিভিন্ন সময় অফিসকক্ষে ডেকে মানসিকভাবে হয়রানি করতেন এবং কুরুচিপূর্ণ ইঙ্গিত দিতেন। এ ছাড়া ১৩ জুলাই সকালে হোয়াটসঅ্যাপে কল করে নিজের ডরমিটরি কক্ষে একসঙ্গে সময় কাটানোর অনৈতিক প্রস্তাব দেন। এতে রাজি না হওয়ায় পরদিন হাসপাতালের দায়িত্ব পালনকালে স্টাফ ও নার্সদের সামনে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। নিজেকে নিরাপত্তাহীন দাবি করে তিনি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানান।

পরবর্তী সময়ে ২১ জুলাই হাসপাতালের কয়েকজন সিনিয়র চিকিৎসকের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকের পর ডা. লনী স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিবের কাছে অভিযোগ প্রত্যাহারের আবেদন করেন। তবে পরদিন, ২২ জুলাই দেওয়া আরেকটি আবেদনে তিনি অভিযোগ করেন, ভয়ভীতি ও চাকরিগত ক্ষতির আশঙ্কা দেখিয়ে তাকে অভিযোগ প্রত্যাহারে বাধ্য করা হয়েছিল। 

তিনি দাবি করেন, কয়েকজন চিকিৎসক তাকে বিভিন্ন ফেসবুক পোস্ট ও সংবাদ দেখিয়ে আতঙ্কিত করেন এবং তত্ত্বাবধায়কের কক্ষে সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে মূল ঘটনা গোপন রেখে বক্তব্য দিতেও বাধ্য করা হয়।

নতুন আবেদনে তিনি আরো উল্লেখ করেন, জেলার স্বাস্থ্যসেবার স্বার্থ বিবেচনায় সাময়িকভাবে অভিযোগ প্রত্যাহারের আবেদন করলেও তার মূল অভিযোগের বিষয়ে তিনি এখনও অনড় রয়েছেন। অভিযোগের পক্ষে প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ তার কাছে রয়েছে বলেও উল্লেখ করে আগের অভিযোগের ভিত্তিতে নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

ডা. লুৎফুন্নাহার লনী বলেন, আমি কোনো আপস করিনি এবং আমার সিদ্ধান্তে অটল আছি।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বরগুনা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. রেজওয়ানুর আলম। তিনি বলেন, ডা. লুৎফুন্নাহার লনী আবাসিক সার্জন হিসেবে যোগদানের পর সপ্তাহে তিন দিন অফিস করেন, বাকি তিন দিন ভোলায় চেম্বার করেন। নিয়মিত অফিস করার জন্য আমি তাকে তাগাদা দিয়েছি। নিয়মিত উপস্থিত না থাকায় বাধ্য হয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছি। এরপরই তিনি আমার বিরুদ্ধে অসত্য, মনগড়া ও ভিত্তিহীন অভিযোগ করেছেন।
 

কিশোরগঞ্জে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় স্কুলছাত্রসহ নিহত ২

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
কিশোরগঞ্জে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় স্কুলছাত্রসহ নিহত ২

কিশোরগঞ্জে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় স্কুলছাত্রসহ দুজন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে সদর উপজেলায় সিমেন্টবোঝাই ট্রাকের চাপায় এক স্কুলছাত্র এবং পাকুন্দিয়া উপজেলায় বাস-মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে মাইক্রোবাস চালক নিহত হন।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) সকাল ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে এসব দুর্ঘটনা ঘটে।

কিশোরগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল কালাম ভূঞা এবং পাকুন্দিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম আরিফুর রহমান এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ জানায়, শুক্রবার সকাল সোয়া ১০টার দিকে কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের গাইটাল এলাকার বাসা থেকে চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী তুহিন (১০) সাইকেল নিয়ে জনতা স্কুল রোড এলাকায় বের হয়। এ সময় একটি সিমেন্টবোঝাই ট্রাক তাকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

নিহত তুহিন কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানায় কর্মরত পুলিশ সদস্য সামছুলের ছেলে।

অন্যদিকে, সকাল ১১টার দিকে পাকুন্দিয়া উপজেলার চিলকারা এলাকায় কিশোরগঞ্জ-ঢাকা আঞ্চলিক সড়কে কিশোরগঞ্জ থেকে ছেড়ে যাওয়া অনন্যা ক্লাসিক পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে ঢাকা থেকে নিকলী হাওরের উদ্দেশে যাওয়া একটি মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।

সংঘর্ষের পর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাস ও মাইক্রোবাস দুটিই সড়কের পাশের খাদে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই মাইক্রোবাস চালক নিহত হন। তার পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা করছে পুলিশ।

এ ঘটনায় অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন। তাদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

পুলিশ জানিয়েছে, নিহতদের মরদেহ কিশোরগঞ্জ জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এসব ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

ভৈরব নদ থেকে অজ্ঞাত যুবকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার

অভয়নগর (যশোর) প্রতিনিধি
ভৈরব নদ থেকে অজ্ঞাত যুবকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার
প্রতীকী ছবি

যশোরের অভয়নগরে ভৈরব নদ থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক যুবকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে নৌ পুলিশ। শুক্রবার (২৪ জুলাই) দুপুরে উপজেলার শ্রীধরপুর ইউনিয়নের দেয়াপাড়া গ্রামের পূর্বাঞ্চল খেয়াঘাট এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয়রা জানান, শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ভৈরব নদের জোয়ারের পানিতে কচুরিপানার মধ্যে একটি মরদেহ ভাসতে দেখা যায়। পরে খবর পেয়ে নওয়াপাড়া নৌ পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে।

নওয়াপাড়া নৌপুলিশের ইনচার্জ এসআই রনজিৎ সেন বলেন, ভৈরব নদের পূর্বাঞ্চল খেয়াঘাট এলাকা থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক যুবকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, জোয়ারের পানিতে মরদেহটি ভেসে এসেছে। দীর্ঘদিন পানিতে থাকায় চেহারা বিকৃত হয়ে গেছে।

তিনি আরো জানান, নিহত যুবকের বয়স আনুমানিক ৩৫ থেকে ৪০ বছর। তার পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।