উজান থেকে নেমে আসা ঢল ও ভারি বৃষ্টির কারণে সিরাজগঞ্জের কাজিপুরে যমুনা নদীতে পানি বাড়ছে হু হু করে। একই সঙ্গে শুরু হয়েছে নদীভাঙন।
স্থানীয়রা জানায়, যমুনার চরাঞ্চলে অবস্থিত চরগিরিশ ইউনিয়নের ভাঙনে দিশাহারা নদীপারের মানুষ। প্রতিদিনই নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে বসতভিটা, ফসলি জমি, সড়ক ও স্থাপনা। ভাঙনের তীব্রতায় চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে চরগিরিশ ইউনিয়নের ১৪ গ্রামের বাসিন্দা।
স্থানীয়দের দাবি, গত এক মাসে চরগিরিশ বাজার থেকে ভেটুয়া এলাকা পর্যন্ত অন্তত আড়াই শ পরিবারের বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। বর্তমানে ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে পশ্চিম চরগিরিশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কয়েকটি মসজিদ, একটি মাদরাসা ও বাজার। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে জনপদটি হারিয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা তাদের।
ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত ছকিনা বিবি নামের এক বাসিন্দা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘চোষা নাইগা আমাগোরে বাড়ির ভিটা নদীর মধ্যে গেল। খালি চায়া থাইকা দেইখলাম। এহোন কী করমু, কনে থাকমু?’
ছালাল গ্রামের বাসিন্দা কৃষক রইচ উদ্দিন বলেন, ‘এবার প্রায় দেড় মাস ধরে আমাদের এলাকায় নদীভাঙন শুরু হয়েছে। কিন্তু কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। আমাদের এমপি সেলিম রেজা ভাঙন এলাকা দেখে গেছেন। এলাকার অবশিষ্ট অংশ রক্ষার দাবি জানাই সরকারের কাছে।’
চরগিরিশ ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আল আমিন সরকার বলেন, ‘যেভাবে ভাঙন শুরু হয়েছে, তাতে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পশ্চিম চরগিরিশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে।’
বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘বিদ্যালয়ে দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। নদী এখন বিদ্যালয়ের খুব কাছাকাছি চলে এসেছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রক্ষায় স্থায়ীভাবে ভাঙন প্রতিরোধের ব্যবস্থা প্রয়োজন।’
সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান বলেন, ‘ভাঙন এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন ঠেকানোর কাজ চলছে। তবে চরাঞ্চলে ভাঙন রোধে বড় ধরনের প্রকল্প প্রয়োজন। বিষয়টি সমীক্ষা করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন পাঠানো হবে।’
কাজিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোস্তাফিজুর রহমান জানান, উপজেলা প্রশাসনের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা শাখা থেকে তিনটি বরাদ্দে ১২টি ইউনিয়নের জন্য মোট ৮৫ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বরাদ্দ চাল শিগগিরই বিতরণ করা হবে বলে জানান তিনি।




