• ই-পেপার

চার বছরের শিশুকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে অটোরিকশা চালক আটক

কুমিল্লা সীমান্তে প্রায় আড়াই কোটি টাকার ভারতীয় শাড়ি জব্দ

কুমিল্লা প্রতিনিধি
কুমিল্লা সীমান্তে প্রায় আড়াই কোটি টাকার ভারতীয় শাড়ি জব্দ
সংগৃহীত ছবি

কুমিল্লা সীমান্তে পৃথক অভিযানে প্রায় আড়াই কোটি টাকার ভারতীয় শাড়ি জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ সময় মালিকবিহীন অবস্থায় দুটি যানবাহনও জব্দ করা হয়।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ভোরে অভিযান চালিয়ে এসব মালামাল জব্দ করা হয়। বিষয়টি সন্ধ্যায় নিশ্চিত করেন কুমিল্লা-১০ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মীর আলী এজাজ।

বিজিবি সূত্র জানায়, সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান প্রতিরোধ ও আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমনে নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে কুমিল্লা-১০ বিজিবির আওতাধীন ফেনী সদর উপজেলার গীতাবাড়ি বিওপি এবং ফুলগাজী উপজেলার কমুয়া বিওপি পৃথক মাদক ও চোরাচালানবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে।

অভিযান চলাকালে সীমান্তের ৪০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে কামাল্লা এবং ১০০ গজ অভ্যন্তরে পৈথরা এলাকায় মালিকবিহীন অবস্থায় দুটি যানবাহন এবং বিপুল পরিমাণ ভারতীয় শাড়ি জব্দ করা হয়। জব্দ করা শাড়িগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য ২ কোটি ৩৮ লাখ ৭০ হাজার টাকা।

কুমিল্লা-১০ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মীর আলী এজাজ বলেন, ‘জব্দ করা মালামাল বিধি অনুযায়ী কাস্টমস কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে। কুমিল্লা সীমান্তে চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

প্রতারণা মামলায় সেই হরিদাস কারাগারে

নিজস্ব প্রতিবেদক ও ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
প্রতারণা মামলায় সেই হরিদাস কারাগারে
ছবি: কালের কণ্ঠ

প্রতারণার মামলায় হরিদাস চন্দ্র তরণীকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ময়মনসিংহ জেলা যুগ্ম দায়রা জজ আদালতের (অর্থ ও ঋণ) বিচারক শ্যোন অ্যারেস্ট দেখিয়ে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

ময়মনসিংহ যুগ্ম দায়রা জজ আদালতের (অর্থ ও ঋণ) পিপি মো. আনোয়ার আজিজ টুটুল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ঢাকা জেলার একটি মামলায় হরিদাস চন্দ্র তরণীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে ফুলবাড়িয়া থানা পুলিশ একটি প্রতারণার মামলায় সাজাপ্রাপ্ত গ্রেপ্তারি পরোয়ানায় ময়মনসিংহ যুগ্ম দায়রা জজ (অর্থ ও ঋণ) আদালতে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানোর আবেদন করেন। সেই আবেদনের প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) তাকে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখিয়ে আদালতে তোলা হয়।

টুটুল আরো বলেন, তার বিরুদ্ধে কোতোয়ালি সিআর মামলা নম্বর ১৪৯১/২০১২ সাল এনআইএক্ট ১৩৮ ধারা এই মামলার করা হয়। পরে আদালত মামলা হিসেবে গ্রহণ করে এবং ৩২১৮-২০২৩ বিচারকার্য সমাপ্ত করে। ওই মামলায় হরিদাস চন্দ্র তরণীর এক বছর সাজার রায় হয়। কিন্তু হরিদাস চন্দ্র তরণী পলাতক ছিল। সম্প্রতি অন্য মামলায় হরিদাস চন্দ্র তরণীকে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার হয়। সেই মামলা থেকে একটি সিআর মামলা সাজাপ্রাপ্ত আসামি হিসাবে সেখান থেকে নিয়ে এসে ময়মনসিংহ আদালতে তোলা হয়। পরে বিচারক তাকে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের জুন মাসে গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে দেশের বৃহত্তম ৮১ ফুট উচ্চতার ‘রামমূর্তি’ স্থাপনের ঘোষণা দিয়ে আলোচনায় আসেন হরিদাস। তবে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার স্বার্থে জুনের শেষভাগে এই মূর্তি নির্মাণকাজ স্থগিতের ঘোষণা দেয় স্থানীয় ‘শ্রী রাধা গোবিন্দ ও কালী মন্দির’ কমিটি। 

এদিকে গত ১২ জুলাই রাতে সিআইডি অর্থ পাচার মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করে। তার ব্যাংক হিসাবে ৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকার বেশি সন্দেহজনক লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। ৪ দিনের রিমান্ড শেষে তাকে ১৬ জুলাই কারাগারে পাঠানো হয়।

কর্মসূচিতে বিশৃঙ্খলা-মারামারি

এনসিপি নেতা আকবরকে সাময়িক অব্যাহতি, সজিবকে শোকজ

ফেনী প্রতিনিধি
এনসিপি নেতা আকবরকে সাময়িক অব্যাহতি, সজিবকে শোকজ
এনসিপির নেতা সুজা উদ্দিন সজিব ও আকবর হোসেন। ছবি : সংগৃহীত

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কর্মসূচিতে কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতিতে বিশৃঙ্খলা ও মারামারির ঘটনায় ফেনী জেলা আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম সদস্যসচিব আকবর হোসেনকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই ঘটনায় জেলা এনসিপির সাংগঠনিক সম্পাদক সুজা উদ্দিন সজিবকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) পাঠিয়েছে দলটির কেন্দ্রীয় কমিটি।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১০ জুলাই ফেনীর সোনাগাজীতে এনসিপির ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে দলের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান চলাকালীন স্থানীয় নেতাদের মধ্যে মঞ্চেই হাতাহাতি ও মারামারির ঘটনা ঘটে, যা প্রকাশ্যে এনসিপির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে।

একাধিক স্থানীয় নেতা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, এই ঘটনার মূল হোতা ছিলেন আকবর হোসেন। এ ঘটনার পর ১৯ জুলাই এনসিপির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম ও সদস্যসচিব আখতার হোসেনের নির্দেশক্রমে আকবর হোসেনকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়।

দলটির কেন্দ্রীয় দপ্তর সেলের সদস্য সাদিয়া ফারজানা দিনা সই করা চিঠিতে জানানো হয়, দলীয় গঠনতন্ত্র ও শৃঙ্খলাবিধি লঙ্ঘনের দায়ে কেন তার বিরুদ্ধে চূড়ান্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে না-তা নোটিশ প্রাপ্তির তিন কার্যদিবসের মধ্যে কেন্দ্রীয় শৃঙ্খলা কমিটির নিকট লিখিতভাবে ব্যাখ্যা করতে বলা হয়েছে।

চিঠির বিষয়ে জেলা এনসিপির সাংগঠনিক সম্পাদক সুজা উদ্দিন সজিব কালের কণ্ঠকে বলেন, আমি ওই কর্মসূচির মূল আয়োজক ছিলাম। সেখানে একটি অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। শৃঙ্খলা রক্ষায় ত্রুটি থাকার কারণেই হয়তো কেন্দ্র থেকে আমাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে আকবর হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, আমাকে অন্যায়ভাবে ফাঁসানো হয়েছে। আমি বিশৃঙ্খলার সঙ্গে সম্পৃক্ত নই। যারা প্রকৃতপক্ষে ঘটনাটি ঘটিয়েছে, তারা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে।

 

‘আমাদের চট্টগ্রাম’ অ্যাপে ৩ দিনেই ৮০ নাগরিক সমস্যার সমাধান

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
‘আমাদের চট্টগ্রাম’ অ্যাপে ৩ দিনেই ৮০ নাগরিক সমস্যার সমাধান
সংগৃহীত ছবি

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) প্রযুক্তিনির্ভর নাগরিক সেবা প্ল্যাটফর্ম ‘আমাদের চট্টগ্রাম’ অ্যাপ চালুর মাত্র তিন দিনের মধ্যেই ৮০টি সমস্যার সমাধান করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, অভিযোগ দ্রুত গ্রহণ, যাচাই ও নিষ্পত্তির ফলে অ্যাপটি নগরবাসীর মধ্যে ইতিমধ্যেই ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

চসিক সূত্র জানায়, মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টা ৪৭ মিনিট পর্যন্ত অ্যাপটির ড্যাশবোর্ডে মোট ৫৩৬টি অভিযোগ ও আবেদন জমা পড়েছে। এর মধ্যে ৮০টি সমস্যার সমাধান করা হয়েছে। আরো ৯৪টি অভিযোগ গ্রহণ করে সমাধানের কাজ চলছে। এছাড়া ২৪টি অভিযোগ তদন্তাধীন রয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে ২২টি অভিযোগ ভিত্তিহীন এবং একটি অভিযোগ অগ্রহণযোগ্য হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। বাকি অভিযোগগুলোও সংশ্লিষ্ট বিভাগ পর্যায়ক্রমে নিষ্পত্তির কাজ করছে।

চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘আমাদের চট্টগ্রাম’ অ্যাপ চালুর পর অল্প সময়ের মধ্যেই নাগরিকদের ব্যাপক সাড়া পাওয়া গেছে। মাত্র তিন দিনের মধ্যে ৮০টি সমস্যার সমাধান হওয়া প্রমাণ করে, প্রযুক্তিনির্ভর নাগরিক সেবাই ভবিষ্যতের পথ। আমরা চাই নাগরিকদের প্রতিটি যৌক্তিক অভিযোগ দ্রুততম সময়ে নিষ্পত্তি হোক এবং তারা ঘরে বসেই সেবার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করতে পারেন।’

তিনি আরো জানান, ভবিষ্যতে এই প্ল্যাটফর্মে হোল্ডিং ট্যাক্স, ট্রেড লাইসেন্স, বিভিন্ন সনদের জন্য অনলাইন আবেদন, জরুরি সেবা এবং মেয়রের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুবিধাসহ আরো বিভিন্ন সেবা যুক্ত করা হবে। পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে নগরের বিভিন্ন সমস্যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত ও সমাধানের ব্যবস্থাও চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ১৮ জুলাই চট্টগ্রাম ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন আনুষ্ঠানিকভাবে ‘আমাদের চট্টগ্রাম’ ওয়ান-স্টপ সিটিজেন সার্ভিস মোবাইল ও ওয়েব অ্যাপের উদ্বোধন করেন।

অ্যাপটির মাধ্যমে নগরবাসী ঘরে বসেই রাস্তা, জলাবদ্ধতা, ড্রেনেজ, বর্জ্য অপসারণ, মশার প্রজননস্থল, সড়কবাতি ও পরিচ্ছন্নতাসহ বিভিন্ন নাগরিক সমস্যা ছবি ও জিপিএস লোকেশনসহ সরাসরি চসিককে জানাতে পারছেন। একই সঙ্গে লাইভ ট্র্যাকিং ও পারফরম্যান্স ম্যাপ সুবিধার মাধ্যমে অভিযোগের বর্তমান অবস্থা এবং সমাধানের অগ্রগতিও তাৎক্ষণিকভাবে দেখা যাচ্ছে, যা নাগরিক সেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করছে।