• ই-পেপার

ইয়াবাসহ এনসিপি নেতা গ্রেপ্তার

শিশুদের রক্তে সিসার বিষ, সচেতনতায় র‍্যালি

অনলাইন ডেস্ক
শিশুদের রক্তে সিসার বিষ, সচেতনতায় র‍্যালি
সংগৃহীত ছবি

‘সিসা দূষণ বন্ধ করি, সুস্বাস্থ্য ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করি’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে ময়মনসিংহ ও সিলেটে সচেতনতামূলক র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা পিওর আর্থ ও ইয়াং ক্লাইমেট অ্যাকশন নেটওয়ার্ক-ইউক্যান যৌথ উদ্যোগে ১৮ জুলাই ময়মনসিংহে এবং ১৯ জুলাই সিলেটে এ র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় তাদের হাতে সিসা দূষণ বন্ধ হলে, বাড়বে শিশু বুদ্ধি-বলে’, ‘সিসামুক্ত বাংলাদেশ চাই’ এবং ‘শিশুর নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করি’ ইত্যাদি সিসা দূষণবিরোধী ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড দেখো যায়। এ ছাড়া বিভিন্ন সচেতনতামূলক স্লোগান দেন। 

আয়োজকরা জানান, বাংলাদেশ সিসা দূষণের উচ্চঝুঁকির দেশগুলোর একটি। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সাম্প্রতিক গবেষণা অনুযায়ী, পাঁচ বছরের কম বয়সী ৩৮ দশমিক ৩ শতাংশ শিশুর রক্তে সিসার মাত্রা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্ধারিত রেফারেন্স মাত্রা ৫ মাইক্রোগ্রাম পার ডেসিলিটারের বেশি। বিভাগভিত্তিক হিসাবে ঢাকায় ৬৫ শতাংশ শিশুর রক্তে উচ্চমাত্রার সিসা পাওয়া গেছে। সিলেটে এই হার ৪৬ দশমিক ৭ শতাংশ এবং চট্টগ্রামে ৪২ দশমিক ১ শতাংশ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অল্প পরিমাণ সিসাও শিশুদের জন্য ক্ষতিকর। এটি মস্তিষ্কের বিকাশে বাধা দিতে পারে। কমাতে পারে বুদ্ধিমত্তা ও শেখার সক্ষমতা। সৃষ্টি করতে পারে মনোযোগ ও আচরণগত সমস্যা।

সিসা দূষণের বিভিন্ন উৎসের মধ্যে রয়েছে– দেয়ালের রং, অ্যালুমিনিয়াম ও সিরামিকের বাসনপত্র, পানির পাইপ, মসলা, প্রসাধনী ও খেলনা। পুরোনো সিসা-অ্যাসিড ব্যাটারির অনিরাপদ ও অবৈধ পুনর্ব্যবহারও দূষণের অন্যতম বড় উৎস।

পিওর আর্থ বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়, শিশুদের সুরক্ষায় ভোগ্যপণ্যে সিসার ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। পাশাপাশি নিরাপদ ব্যাটারি পুনর্ব্যবহার ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। বাড়াতে হবে জনসচেতনতা।

ইউক্যান-এর কমিউনিকেশন অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ কো-অর্ডিনেটর আশরাফুল ইসলাম অয়ন বলেন, ‘সিসা দূষণ একটি নীরব জনস্বাস্থ্য সংকট, যা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করছে শিশুদের। তরুণদের এখন শুধু সচেতনতা তৈরিতে নয়, নিজেদের পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কমিউনিটিতে সিসার ঝুঁকি শনাক্ত ও প্রতিরোধে সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে।’

তিনি বলেন, নতুন সরকারের উচিত সিসাকে জাতীয় জনস্বাস্থ্য অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করে অবৈধ ব্যাটারি পুনর্ব্যবহার বন্ধে কঠোর অভিযান পরিচালনা, ভোগ্যপণ্যে সিসার ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর আইন বাস্তবায়ন এবং উচ্চঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নিয়মিত রক্তে সিসা পরীক্ষার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। 

কর্মসূচি শেষে আয়োজকরা পাঁচ দফা সুপারিশ তুলে ধরেন। দাবিগুলো হলো– সিসাকে বিষাক্ত রাসায়নিক দ্রব্য হিসেবে ঘোষণা করে জাতীয় কৌশল প্রণয়ন, শিশু ও গর্ভবতী নারীদের অগ্রাধিকার দিয়ে রক্তে সিসার মাত্রা পরীক্ষা, ভোগ্যপণ্যে সিসার ব্যবহার বন্ধে কঠোর মানদণ্ড প্রণয়ন এবং অবৈধ ব্যাটারি পুনর্ব্যবহার বন্ধ করা।

এ ছাড়া সিসা দূষিত এলাকা চিহ্নিত করে পরিবেশ পুনর্বাসন, গবেষণা ও নিয়মিত নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়। সিসা দূষণের ঝুঁকি ও প্রতিরোধে সরকার, শিল্পখাত, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজের সমন্বিত উদ্যোগের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বগুড়ায় শ্যালককে বাঁচাতে গিয়ে ছুরিকাঘাতে দুলাভাই নিহত

অনলাইন ডেস্ক
বগুড়ায় শ্যালককে বাঁচাতে গিয়ে ছুরিকাঘাতে দুলাভাই নিহত

বগুড়ার শাজাহানপুরে মাদকসংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে মো. রঞ্জু মিয়া (৫০) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। সোমবার (২০ জুলাই) রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার খোট্টাপাড়া ইউনিয়নের ঘাষিড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

রঞ্জু মিয়া শাজাহানপুর উপজেলার ঘাষিড়া এলাকার ফজলাল মিয়ার ছেলে। এ ঘটনায় রঞ্জু মিয়ার ছেলে মো. জুবায়ের (২৫) ও শ্যালক খোরশেদ আলম (৪০) আহত হয়েছেন। তাদের উদ্ধার করে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, সোমবার রাতে স্থানীয় একটি ইটভাটার ভেতরে মাদকসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে খোরশেদ আলমের সঙ্গে স্থানীয় কয়েকজনের বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে প্রতিপক্ষের লোকজন খোরশেদকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। খবর পেয়ে তাকে রক্ষা করতে তার দুলাভাই রঞ্জু মিয়া ও ছেলে জুবায়ের এগিয়ে যান।

এ সময় দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাদের তিনজনকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে রঞ্জু মিয়া গুরুতর আহত হন এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলে তার মৃত্যু হয়। পরে স্থানীয়রা আহত খোরশেদ ও জুবায়েরকে উদ্ধার করে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। বর্তমানে তারা চিকিৎসাধীন।

শাজাহানপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশিক ইকবাল বলেন, ‘হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।’

জামায়াতের এমপির ভাইরাল ভিডিও নিয়ে যা জানা যাচ্ছে

অনলাইন ডেস্ক
জামায়াতের এমপির ভাইরাল ভিডিও নিয়ে যা জানা যাচ্ছে
ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া।

সাতক্ষীরা-৪ আসনের এমপি গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে এক নারীর ব্যক্তিগত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সোমবার রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিওটি ভাইরাল হয়। তবে এই ভিডিওর সত্যতা যাচাই করতে পারেনি কালের কণ্ঠ। 

কেউ কেউ দাবি করছেন, ভিডিওটি আসল। আবার কেউ বলছেন, কৃত্রিম বৃদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে ভিডিওটি বানানো হয়েছে। 

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর কয়েকটি অংশে দেখা যায়, নারীসহ এমপি গাজী নজরুল ইসলাম একটি কক্ষে অবস্থান করছেন। কোনোটিতে দেখা যাচ্ছে ওই নারী অবস্থান করছেন, নজরুল ইসলাম ফোনে কথা বলছেন। আবার কোনোটিতে তাদের অন্তরঙ্গ অবস্থায় বসে থাকতে দেখা গেছে। 

এ বিষয়ে জানতে সাতক্ষীরা-৪ আসনের এমপি গাজী নজরুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। এছাড়া ভিডিও নিয়ে জেলা জামায়াতের পক্ষ থেকেও কোনো তথ্য জানায়নি। এ বিষয়ে গাজী নজরুল ইসলামের বক্তব্য পাওয়া গেলে, কালের কণ্ঠে প্রকাশ করা হবে। 

নারায়ণগঞ্জে আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ, আহত ৮

অনলাইন ডেস্ক
নারায়ণগঞ্জে আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ, আহত ৮

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় হামলা, বাড়িঘর ভাঙচুর ও বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের নারী-পুরুষসহ অন্তত আটজন আহত হয়েছেন। 

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাত ১০টায় ফতুল্লার হাজীগঞ্জ ঈদগাহ সড়কে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় জানান, হাজিগঞ্জ ঈদগাহ সড়ক এলাকার বাসিন্দা ফারুক মিয়ার ছেলে অপূর্ব ব্রাজিল সমর্থক। তার সঙ্গে ওই এলাকার আরো অর্ধশত ব্রাজিল সমর্থক রয়েছে। একই এলাকার জাহাঙ্গীর মিয়ার ছেলে হাবিব (২০) আর্জেন্টিনার সমর্থক। তার সঙ্গেও প্রায় অর্ধশত আর্জেন্টিনার সমর্থক রয়েছে। ব্রাজিল হেরে যাওয়ায় তখন আর্জেন্টিনার সমর্থক হাবিব ও তার সঙ্গে লোকজন আনন্দ উল্লাস করেন। এতে ব্রাজিলের সমর্থক অপূর্ব ও তার লোকজন তাদের মাইন্ডে রাখেন।

সোমবার আর্জেন্টিনা হেরে যাওয়ায় অপূর্ব ও তার লোকজনও আনন্দ উল্লাস করেন। এতে হাবিব ও তার লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে ব্রাজিল সমর্থকদের ধাওয়া দেয়। এরপর ব্রাজিল সমর্থকরা দলবল বাড়িয়ে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের বাড়িঘর ভাঙচুর করে ব্যাপক লুটপাট চালায় এবং নারীসহ কয়েকজনকে মারধর করে। এরপর যাওয়ার সময় কয়েকটি হাত বোমার বিস্ফোরণ ঘটনায়। তখন আর্জেন্টিনার সমর্থকদের সঙ্গে এলাকাবাসী যোগ দিয়ে ব্রাজিলের বেশ কয়জন সমর্থকদের মারধর করেন।

এ বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানার কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলম জানান, বিশ্বকাপ খেলা নিয়ে যারা সংঘর্ষে জড়িয়েছে তারা সবাই কিশোর বয়সের। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি এবং উভয় গ্রুপের লোকজনকে গ্রেফতারের চেষ্টা করেছি। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে উভয় গ্রুপের লোকজন পালিয়েছে।