গাইবান্ধার তিস্তা নদীর চরাঞ্চলে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কাপাসিয়া ইউনিয়নের ভোরের পাখি চরে অন্তত ৭৫ ঘর-বাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।
ভাঙনের মুখ থেকে বসতঘর সরিয়ে নিতে গত বৃহস্পতিবার থেকে শনিবার পর্যন্ত উৎকণ্ঠায় সময় পার করছেন সেখানকার বাসিন্দারা।
এদিকে পানি বাড়তে থাকায় তিস্তার চরের নিচু এলাকাগুলো প্লাবিত হয়েছে। ভাঙনকবলিত এলাকায় মানবেতর জীবনযাপন করছে মানুষজন। তাদের অভিযোগ, এখন পর্যন্ত সরকারি দপ্তরের কোনো কর্মকর্তা ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেনি।
আরো পড়ুন
বছর না ঘুরতেই ইকোপার্কের ওয়াকওয়েতে ধস
স্থানীয়রা জানায়, গত বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে শনিবার বিকেল পর্যন্ত ভোরের পাখি চর এলাকায় ৭৫ বসতভিটা, স্কুল, মসজিদ, চার শতাধিক একর ফসলি জমিসহ রাস্তাঘাট নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙনের মুখে পড়েছে ৫ শতাধিক বসতভিটা, শত শত একর ফসলি জমি, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান।
অন্যদিকে উপজেলার কাপাসিয়া, হরিপুর, বেলকা, চন্ডিপুর ও শ্রীপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন চরেও ভাঙন চরম আকার ধারণ করেছে। চরাঞ্চলের ভাঙনরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কোনো মাথাব্যথা নেই। কয়েকটি স্থানে ভাঙনরোধে নামমাত্র ফেলা হচ্ছে জিও ব্যাগ।
কাপাসিয়া ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ভাঙনের মুখ থেকে বসতঘর সরিয়ে নিতে দিশেহারা চরবাসী। সরকারিভাবে নদী ভাঙনরোধে জিও ব্যাগ ও জিও টিউব ফেলা হলেও তা দিয়ে ভাঙনরোধ সম্ভব হচ্ছে না। এলাকাবাসী বৃহস্পতিবার থেকে শনিবার পর্যন্ত সারা রাত জেগে বসতভিটার, ঘরবাড়ি সরিয়ে নিতে ব্যস্ত সময় পার করেছেন।
স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নুরুল হক বলেন, অনেক আগেই তিস্তার গতিপথ পরিবর্তন হয়েছে। সেই কারণে তিস্তা অসংখ্য শাখা নদীতে রূপ নিয়েছে। যার জন্য সময় এবং অসময়ে নদী ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। স্থায়ীভাবে নদী ভাঙনরোধ করতে না পারলে চরের মানুষের কষ্ট কোনোদিন দূর হবে না।
কাপাসিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. মঞ্জু মিয়া বলেন, গত ৪৮ ঘণ্টায় কাপাসিয়া ইউনিয়নের ভোরের পাখি চরে ৭৫টি বসতভিটা, হাজারও গাছপালা, স্কুল ও মসজিদ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এ ছাড়া লালচামার, ফুলমিয়ার মোড়, উজান বোচাগাড়ি, ভাটি বোচাগাড়ি এলাকায় ব্যাপক আকারে ভাঙন দেখা দিয়েছে। মুহূর্তেই ফসলি জমি, বসতভিটা, গাছপালা ও রাস্তাঘাট নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে। সরকারিভাবে এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। নদী ভাঙনের শিকার পরিবারগুলোর কষ্টের সীমা নেই। তার ইউনিয়নের সবগুলো ওয়ার্ড নদীর চরে।
বিএনপির সাবেক উপজেলা সভাপতি মো. মোজাহারুল ইসলাম জানান, ভারি বর্ষণের কারণে তার ইউনিয়নের কানিচরিতাবাড়ি গ্রামে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। নদী খনন, ড্রেজিং, সংরক্ষণ, মেরামত এবং শাসন ছাড়া তিস্তার ভাঙনরোধ করা সম্ভাব নয়। নদী খনন ও ড্রেজিং করে নদীর গতিপথ একমুখী করলে নদীভাঙন কমে যাবে। ভাঙনরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের জিও টিউব ও জিও ব্যাগ এখন কোনো কাজে আসছে না।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মশিয়ার রহমান বলেন, ভারি বর্ষণের কারণে কাপাসিয়া, হরিপুর ইউনিয়নের কয়েকটি চরে ভাঙন দেখা দিয়েছে। চেয়াম্যানদের কাছে তালিকা চাওয়া হয়েছে। বরাদ্দ সাপেক্ষে বিতরণ করা হবে। এ ছাড়া সরকারিভাবে অন্য কোনো সহায়তার সুযোগ নেই।
এ ব্যাপারে গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, চরাঞ্চলে নদীভাঙন দেখা দিলে জিও টিউব, জিও ব্যাগ ফেলা এবং সরকারের ওপর মহলে তথ্য প্রদান ছাড়া আর কোনো কাজ নেই তাদের। নদী খনন, ড্রেজিং, শাসন এবং নদীর গতিপথ পরিবর্তন করা ছাড়া তিস্তার ভাঙনরোধ সম্ভব নয়।