• ই-পেপার

টঙ্গীতে মাদকবিরোধী অভিযানে আটক ২০, ছত্রভঙ্গ করতে সাউন্ড গ্রেনেড

চট্টগ্রামে সাপের কামড়ে আহত অন্তত ৭৫ জন

অনলাইন ডেস্ক
চট্টগ্রামে সাপের কামড়ে আহত অন্তত ৭৫ জন

টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামের দুর্গত এলাকায় সাপের উপদ্রব বেড়েছে। এ কয়েক দিনে সাপের কামড়ে অন্তত ৭৫ জন আহত হয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।

রবিবার (১২ জুলাই) বিকেলে জেলা সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম এ তথ্য জানান। উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সগুলোয় অ্যান্টিভেনমসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

জেলা সিভিল সার্জন আরো জানান, বন্যাদুর্গত এলাকায় বিশেষ মেডিক্যাল টিম কাজ করছে। এসব দল দুর্গত এলাকায় গিয়ে চিকিৎসাসেবা, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও খাবার স্যালাইন বিতরণ করছে। পাশাপাশি অন্তঃসত্ত্বা নারী ও অসুস্থ শিশুদের দ্রুত নৌকাযোগে হাসপাতালে নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এদিকে চট্টগ্রামের পাঁচ জেলায় বন্যা ও পাহাড়ধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫১ জনে দাঁড়িয়েছে। মৃতদের মধ্যে রাঙ্গামাটিতে তিনজন, বান্দরবানে ছয়জন, কক্সবাজারে ২৮ জন, চট্টগ্রামে ১৩ জন ও মৌলভীবাজারে একজন রয়েছেন। এ ছাড়া আহত হয়েছেন ৩৯ জন। তাদের মধ্যে খাগড়াছড়িতে একজন, বান্দরবানে দুজন, কক্সবাজারে ২৪ জন ও চট্টগ্রামে ১২ জন।

পরিচয় মিলল লাকসামে ট্রেনে কাটা পড়ে নিহত সেই অজ্ঞাত ব্যক্তির

লাকসাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
পরিচয় মিলল লাকসামে ট্রেনে কাটা পড়ে নিহত সেই অজ্ঞাত ব্যক্তির

অবশেষে জানা গেল কুমিল্লার লাকসাম রেলওয়ে জংশনে ট্রেনে কাটা পড়ে নিহত সেই অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির প্রকৃত পরিচয়। নিহত ওই ব্যক্তির নাম রফিকুল ইসলাম (৫২)। তিনি লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর উপজেলার পূর্ব সাগরদী গ্রামের মৃত ওয়ালীউল্লাহর ছেলে।

শনিবার (১১ জুলাই) রাতে ‘লাকসামে ট্রেনে কাটা পড়ে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির মৃত্যু’ শিরোনামে কালের কণ্ঠ’র অনলাইন সংস্করণে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। ওই সংবাদের প্রেক্ষিতে রবিবার (১২ জুলাই) দুপুরে লাকসাম রেলওয়ে থানায় (জিআরপি) এসে নিহতের স্ত্রী ফাতেমা বেগম মরদেহটি তাঁর স্বামীর বলে শনাক্ত করেন।

লাকসাম রেলওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জসিম উদ্দিন খোন্দকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

লাকসাম রেলওয়ে থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আগেরদিন শনিবার (১১ জুলাই) সন্ধ্যায় লাকসাম রেলওয়ে জংশন এলাকায় একটি মালবাহী ট্রেনে কাটা পড়ে ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়। সংবাদ পেয়ে রেলওয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে। ঘটনার সময় তার পরনে নীল রংয়ের হাফপ্যান্ট, লাল-সাদা রঙের টি-শার্ট এবং নীল রঙের কাপড়ের জুতা ছিল। তাৎক্ষণিক নিহতের পরিচয় না পাওয়ায় তাঁকে অজ্ঞাত হিসেবে রেলওয়ে থানায় রাখা হয়।

নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, কিছুদিন আগে রফিকুল ইসলাম ব্রেনস্ট্রোকে আক্রান্ত হন। এরপর থেকেই তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েন। তিনি অনেক সময় একাকি বাড়ি থেকে বের হয়ে যেতেন। ফলে পরিবারের লোকজন তাকে ঘরের ভেতরে রেখে বাইরে দরজা আটকিয়ে দিতেন। কিন্তু ঘটনার দিন ভুলক্রমে ঘরের দরজা লাগাতে পরিবারের লোকজন ভুলে য়ায়। তিনি কোনো এক ফাঁকে সবার অলক্ষ্যে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। পরে পরিবারের লোকজন আশপাশের বিভিন্ন জায়গায় অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পয়নি। পরবর্তীতে লাকসাম রেলওয়ে জংশনে ট্রেনে কাটা পড়ে ৫০ বছর বয়সী অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির মৃত্যুর সংবাদ জানতে পারেন এবং লাকসাম রেলওয়ে থানায় এসে মরদেহ শনাক্ত করেন।

লাকসাম রেলওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জসিম উদ্দিন খোন্দকার জানান, গতকাল রবিবার আইনি প্রক্রিয়ার পর ময়নাতদন্ত শেষে বিকেলে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

২৫ বছর পর খুঁজে পাওয়া সেই ববির কবর জিয়ারত করলেন স্বজনরা

রায়পুরা (নরসিংদী) প্রতিনিধি
২৫ বছর পর খুঁজে পাওয়া সেই ববির কবর জিয়ারত করলেন স্বজনরা
রায়পুরার নুরপুরে ববি বেগমে কবর জিয়ারত করছেন তার স্বজনরা। ছবি: কালের কণ্ঠ

নরসিংদীর রায়পুরার মেথিকান্দা রেলস্টেশনে ছিনতাইকারীদের হামলায় নিহত পরিচ্ছন্নতা কর্মী ও বাকপ্রতিবন্ধী ববি বেগমের কবর জিয়ারত করেছেন ২৫ বছর পর তাকে খুঁজে পাওয়া তার ভাই-বোন, ভাগ্নে-ভাগ্নিসহ পরিবারের ১৪ সদস্য।

রবিবার (১২ জুলাই) দুপুরে বগুড়া থেকে একটি মাইক্রোবাসে করে তারা রায়পুরায় এসে উপজেলার নুরপুর কবরস্থানে ববি বেগমের কবর জিয়ারত করেন। এসময় তারা তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করেন এবং কান্নায় ভেঙে পড়েন।

উপস্থিত ছিলেন ববি বেগমের বাকপ্রতিবন্ধী দুই বোন ফাতেমা বেগম ও রবি বেগম, বাকপ্রতিবন্ধী ভাই আনছর আলী প্রামাণিক, ভাগ্নি গোলাপি বেগম, ভাগ্নির স্বামী সৈকত ইসলামসহ পরিবারের ১৪ সদস্য।

জানা যায়, বগুড়ার গাবতলী উপজেলার ঘশাখাটিয়া গ্রামের মৃত রহিম উদ্দিন প্রামাণিকের বড় মেয়ে ছিলেন  ওয়াহিদা বেগম ওরফে ববি বেগম (৭০)। চার ছেলে ও চার মেয়ের মধ্যে বড় ছেলে ছাড়া প্রায় সবাই বাকপ্রতিবন্ধী ছিলেন। বর্তমানে দুই ভাই ও তিন বোন জীবিত আছেন। ববি বেগম ও দুই ভাই ইতিমধ্যে মারা গেছেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বিয়ের পর ববি বেগমের একটি কন্যাসন্তান জন্ম নেয়। তবে জন্মের কিছুদিন পরই শিশুটি মারা যায়। এর কিছুদিনের মধ্যে স্বামীরও মৃত্যু হয়। স্বামী ও সন্তানের মৃত্যুতে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন তিনি। পরে ছোট বোন ফাতেমা বেগমের সঙ্গে বসবাস করতেন। একদিন বোনের সঙ্গে অভিমান করে বাড়ি ছেড়ে ট্রেনে অজানা গন্তব্যে চলে যান। সেই যাত্রায় এসে পৌঁছান রায়পুরার মেথিকান্দা রেলস্টেশনে। বাকপ্রতিবন্ধী হওয়ায় নিজের পরিচয় জানাতে না পারায় স্টেশনের তৎকালীন স্টেশন মাস্টার তার নাম রাখেন ববি বেগম। এরপর থেকেই স্টেশনের একটি কক্ষে বসবাস শুরু করেন তিনি। স্টেশনের শৌচাগার, বিশ্রামাগার ও প্ল্যাটফর্ম পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করে যাত্রীদের দেওয়া অর্থেই চলত তার জীবন। দীর্ঘ ২৫ বছরে তিলে তিলে সঞ্চয় করেছিলেন প্রায় ২০ হাজার টাকা।

গত ৪ জুলাই ওই সঞ্চিত টাকা লুট করতে দুর্বৃত্তরা তার কক্ষে ঢুকে ববি বেগমের ওপর নৃশংস হামলা চালায়। হামলায় তার চোখ, মুখ, হাত ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত লাগে। পরদিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে আবার স্টেশনে ফিরিয়ে আনা হয়। পরে ৭ জুলাই রাতে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতালে নেওয়ার পথে অ্যাম্বুলেন্সেই তার মৃত্যু হয়।

ময়নাতদন্ত শেষে মেথিকান্দা রেলস্টেশনে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে স্টেশন থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরের নুরপুর কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। এ ঘটনায় ভৈরব রেলওয়ে থানা একটি মামলা হয়। পরে জড়িত পাঁচ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এদিকে ববি বেগমের মৃত্যুর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ফেসবুক পোস্টে তার ছবি দেখে স্বজনরা তাকে শনাক্ত করেন।

নিহত ববি বেগমের ভাগ্নি গোলাপি বেগম বলেন, আমার ভগ্নিপতি সৈকত ইসলামের মাধ্যমে ফেসবুকে খালার ছবি দেখি। পরে আমাদের কাছে থাকা পুরোনো একটি ছবির সঙ্গে মিলিয়ে নিশ্চিত হই যে তিনিই আমাদের নিখোঁজ খালা।

তিনি আরো বলেন, খালা নিখোঁজ হওয়ার পর বড় মামা বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় অনেক খোঁজাখুঁজি করেছিলেন, কিন্তু তাকে আর খুঁজে পাননি। নিখোঁজ হওয়ার তিন বছর পর মামাও মারা যান। পরিবারের বাকি সদস্যদের অধিকাংশই বাকপ্রতিবন্ধী হওয়ায় আর খোঁজ চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি।

এদিকে কবর জিয়ারত শেষে পরিবারের সদস্যরা মেথিকান্দা রেলস্টেশনে যান। সেখানে ২৫ বছর ধরে ববি বেগমের বসবাস করা কক্ষ, তার ব্যবহৃত আসবাবপত্র, রান্নার চুলা, শোয়ার স্থান এবং স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম ঘুরে দেখেন। এসময় বোন ফাতেমা বেগম, রবি বেগম ও ভাই আনছর আলী প্রামাণিক আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। পরে সন্ধ্যায় তারা বগুড়ার উদ্দেশে রওনা দেন।

জানাজা শেষে ফেরার পথে ট্রাকের ধাক্কায় মোটরসাইকেল চালকের মৃত্যু

অভয়নগর (যশোর) প্রতিনিধি
জানাজা শেষে ফেরার পথে ট্রাকের ধাক্কায় মোটরসাইকেল চালকের মৃত্যু
প্রতীকী ছবি

যশোরের অভয়নগরে জানাজা নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে ট্রাকের ধাক্কায় তারেক মল্লিক (২৬) নামের এক মোটরসাইকেল চালকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় শান্ত ইসলাম (৩০) নামের নিহতের এক সহকর্মী আহত হয়েছেন।

রবিবার (১২ জুলাই) রাত ১০টার দিকে উপজেলার শ্রীধরপুর ইউনিয়নের শংকরপাশা গ্রামে শংকরপাশা জামে মসজিদের সামনের সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

তারেক মল্লিক উপজেলা চলিশিয়া ইউনিয়নের চলিশিয়া গ্রামের বাচ্চু মল্লিকের ছেলে। আহত শান্ত ইসলাম শংকরপাশা গ্রামের মোশারফ হোসেনের ছেলে। তারা দুইজন নওয়াপাড়া বাজারের একটি সার ও কয়লা আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রাত ১০টা দিকে শ্রীধরপুর ইউনিয়ন বিএনপি নেতা ইদ্রিস মোল্যার জানাজার নামাজ শেষে দুই যুবক মোটরসাইকেল চালিয়ে শংকরপাশা খেয়া ঘাটের দিকে যাচ্ছিলেন। শংকরপাশা জামে মসজিদের সামনে পৌঁছালে দ্রুত গতির একটি ট্রাক তাদের মোটরসাইকেলের পেছনে ধাক্কা মেরে পালিয়ে যায়। এসময় ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলে মোটরসাইকেল চালকের মৃত্যু হয় এবং তার সঙ্গে থাকা অন্য আরোহী যুবক আহত হন। পরে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় আহত যুবককে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

এ ব্যাপারে অভয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুজ্জামান কালের কণ্ঠকে বলেন, খবর পাওয়ার পর দুর্ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পালিয়ে যাওয়া ট্রাক আটকে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

ওসি আরো বলেন, শুনেছি স্থানীয় এক বিএনপি নেতার জানাজার নামাজ শেষে মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফেরার পথে এ দুর্ঘটনা ঘটে।